অদ্বৈত মারুত এর ছড়া


কী যে মজার দেশ আমাদের

কী যে মজার দেশ আমাদের, কী যে মজার দেশ
যা খুশি তাই করার পাবেন দারুণ পরিবেশ!
ইচ্ছা হলে জিনিসপাতির দামটা দেবেন বেড়ে
ইচ্ছে হলে চাটকানিতে দেবেন মাথা নেড়ে।
ইচ্ছে হলে বিদেশ যাবেন সরকারি পয়সায়
যায় খুশি তাই করে মোটেও নেবেন না তার দায়।

যা খুশি তাই করতে পারেন যখন যেমন চান
বলবে না কেউ খাওয়ার লাগাম টান রে এবার টান!
জবাবদিহির নেই প্রয়োজন কেউ দেবে না চাপ
উল্টো আরও ঘাড়টা ধরে নিজেই দেবেন লাফ।
সব সম্ভব এই দেশে আজ থাকলে খোলা চোখ
টাকার পাহাড় গড়ে মজায় করে যাবেন ভোগ।


বেশি টাকায় খাচ্ছি দেশি

বগল বাজা বগল বাজা
সবজি তাজা ফলটা তাজা
দামটা না হয় একটু বেশি,

চাল আতপের গন্ধ দারুণ
ভাত বাড়তে জলটা ঝাড়ুন
বেশি টাকায় খাবার দেশি!

পকেট ঝেড়ে চলুক বাজার
খুঁজতে গিয়ে কারণ হাজার
কার সাথে কার মেশামেশি

যায় না তাতে কারও কিছু
ভাব-ভাবনায় আমরা শিশু
বেশি টাকায় খাচ্ছি দেশি।!


মনটা থাকুক চনমনে

কার সাথে কার লেনাদেনা
কে কার চেনা, কে অচেনা
কে হাতে খায়, কে চামুচে
কে কামড়ে, কে খায় চুষে
এসব এখন ধর্তব্য না।

কে পাতক আর কে পলাতক
এই ঋষি, ফের সেই হন্তারক!
কার হাতে কার ভাগ্য খোলে
কে দুধের স্বাদ মেটায় ঘোলে
এসব এখন স্মর্তব্য না।

কার পকেট কে দেদার কেটে
কে বসে খায় রসটা চেটে
কোন বেড়ালটা খুব সেয়ানা
কার সাথে ভাব খুব দেওয়ানা
এসব জানাও কর্তব্য না।

আসুন, সবাই গল্প করি—
ভোর সকালে, জানেন, পরী
ঘুমঘোরে ইশ! ঝাপটে ধরে
যা দিল না আদর করে…!
ভাবটা এমন মনে নিয়ে
কোন নায়িকার কয়টা বিয়ে
রোনালদো না মেসি ভালো
কে কোন নেতার পিঠ চুলকালো,
গোপন খবর ফিসফিসিয়ে
একে ধরুন, ওকে নিয়ে
নানা ঢঙে রঙ মাখিয়ে
এমনভাবে বলুন গিয়ে
ওই যেন হয় মুখ্য,
চনমনে মন মেজাজ পাবেন
থাকবে না ভাব রুক্ষ!