অধীর কৃষ্ণ মণ্ডলের কবিতা


কোনটা তোমার আদম

তুমি তো আমার সবই জানো
তবু ফুলদানিতে খুঁজছ
কোনটা আমার জীবন।

তুমি তো আমার সবই জানো
তবু কলমদানিতে খুঁজছ
কোনটা আমার ভাষা।

তুমি তো আমার সবই জানো
তবু দেশে দেশে খুঁজছ
কোনটা আমার স্বদেশ।

তুমি তো আমার সবই জানো
তবু পাখির পাখনায় খুঁজছ
কোনটা আমার স্বরলিপি।

তুমি তো আমার সবই জানো
তবু সকল অস্তিত্বে খুঁজছ
কোনটা তোমার আদম।


এক আকাশ নজরুল মশাল

কালো শাড়ি খুলে পরেছে আলো শাড়ি
শিশু কালে বউ সেজে ঘোমটার ভেতর অরুণ হাসি।
সারাদিনের খেলনা বাটি নিয়ে বসে বারান্দায়
রাতের কোলে শিশু মনের কখন থেকে ভাতঘুম।
বালিশে তারা পদ্ম ফোটা সূর্য দেখে
জ্যান্ত মাছ লাফালাফি করে খাটের ওপর।
রান্না বাটির সৌর আঁচে জ্বলছে উনুন ভোরে
গোল হয়ে বসে সব শিশুশৈশব শীতের ওম খোঁজে।
হঠাৎ এসে রাক্ষুসে মেঘ বলে-সাবধান সাবধান!
সবাই দেখে খণ্ড খণ্ড আলো কারা চুরি করে পালাচ্ছে!
তখন চারদিকে ভীতির রাজ্য উঁকি মারে আকাশে
তারপর বেঁধে গেল মুখোমুখি যুদ্ধ মল্লে মল্লে।
পুলিশের বৈদ্যুতিক চাবুক হানে চোরের পীঠে
তখন এক আকাশব্যাপী যুদ্ধ থেকে
রক্তাক্ত শরীরে হেসে ওঠে এক আকাশ নজরুল মশাল।


আবীর জুয়েলার্স

নবমীর চাঁদ ঝুলে আছে আকাশের তারে
সন্ধ্যায় বাতি জ্বেলেছে নববধুর উপমা।
কত সময় চুরি করে জানলার ফাঁকে
চোখের পালক সাজিয়ে রেখেছো উপহার নিয়ে।
রাতের কলঙ্কের ভেতর তোমার জোনাকী বিশ্বাস আছে
সেই রোদ নিঙড়ানো বিন্দু বিন্দু সম্ভাবনা
তোমার আঁচলে জড়িয়ে টাঙিয়ে রেখেছো আকাশে।
গুহার ভেতরে সূর্য হারা দৃশ্য রাতের প্রজনন স্বীকার করে।
তাই একদিন চলে এসো পারঙ্গমা আঁধার টেবিলে
কীভাবে নীরবে মোমের শরীর নিজেকে শ্মশানবাসী করে।
তবে কোনো দিন তোমার কলঙ্কে ছুঁতে দেবে না কোনো পাপ।
তোমার জন্য আজও চাঁদ কলঙ্ক মাখে নিজের গায়ে
গভীর রাত জড়িয়ে রাখে মেঘের আকাশ।
তোমার জন্য হ্রদ হাসতে শিখেছে বলেই
সে তোমার পায়ে জল ঢেলে ধস নামায় পাহাড়
তোমার জন্য পৃথিবীর বুকে তিন ভাগ ক্রন্দনরতা সাগর
তোমার জন্য পালক খসিয়ে বৃক্ষ আজ আত্মমগ্ন
বাতাস শ্বাস রোধ করে ডুবে মরে আমফানে।
তোমার জন্য মাঠে স্বর্ণ অলংকার সাজিয়ে
বসে আছে বাংলাদেশের আবীর জুয়েলার্স।