অরুণ পাঠক এর কবিতা


দৃশ্য

নিজের ভেতরে সমাহিত হলে দেখি: ব্রহ্মাণ্ড বলছে বিস্মিত হও।
সাড়া পাই। অন্ধকারের আকর থেকে সামান্য সবুজ একঘাস। তারও নীচে কণা মাত্র হয়ে গিয়ে দেখি: আশ্চর্য স্ফুরিত এক অপরাহ্ন। তুমি গা ধুয়ে উঠে এসে আলতা পরছো আর দিগন্ত লাল হয়ে যাচ্ছে। এরূপ দৃশ্যের কথা আর কারো জানা নেই।
আমি শুধু প্রতিনিধি আগুন নিভিয়ে আসি ঘরে।


সহজ

সমবেদনার মতো কাব্যভাষা আর ক’টা আছে
জন্মের দোতারা খোলো, সেখানে আকাশ
অন্ধকার রহস্যের দিকে চেয়ে আছে
আমাদের অভিশপ্ত জীবনে আলো বলতে একমাত্র গান
একমাত্র অলক্ষ্য স্বাধীন এক ধ্রুবপদ
আমাদের ঘিরে ঘিরে আছে
আকাশ অস্থির এক প্রকাশক
যা-কিছু নমুনা তার মহাজাগতিক
যেভাবে কবিতা তার অনন্ত ব্যবধান
আমাদের মৃত্যুকে সহজ করে দেয়


উৎসব

বড় এক জানালার চৌদিকে উৎসব শুরু হয়ে গেছে
নকল সম্ভার ভরা একফালি আকাশের কোণে
হৃৎপিণ্ড দখল করে আছে মানুষেরা। মৃত্যুর রং নীল
তাই অতিক্রান্ত দিনের পাহাড়ে এই সামান্য মায়াবিনী আলো দুচোখ ভরে নিতে চাইছে মানুষ আবার। তমোঘ্ন শান্তির আস্কারা নিয়ে ওই যারা নাচছে তাদের পেখম ঢাকা পোশাকে জড়িয়ে আছে দেশ। সত্যের এ হেন বিভ্রম চমৎকারিত্বের পথে খুব ভালো। তবু একাকী নৈঃশব্দ্যে আমি আজ
আলো না-জ্বালিয়ে নিজের ভেতরে জ্বলে উঠি।