আজিজ কাজলের কবিতা

বাঁশ-খড়মের ঝুল

এই নিপুণ জলডাঙা বেশে তোমার কঙ্কাল নিয়ে বসে আছি
ভেষজ-বিষের আদরে তুমিও লাল বউ সেজে আছো

তুমিতো আরো আরো চলে যাচ্ছো ইতিহাসের গভীরে;
আমি মিথের হারানো পায়ে বাঁধিবো ঘর
অসূচী আর অবাধ্য লতায় পড়াবো বাঁশ-খড়মের ঝুল—

গুল্মলতার তিল আর সোনালু মূল্যবোধের পায়ে দেবো চতুষ্পদী-ঘা’র শ্বাস।

শ্যাওলার কাঁটাহত শরীরে এখনো পড়ে আছে মান ভাষার করোটি,
এত্তো-নজর আগে দেখিনি! তুমিও হারানো পায়ে দৃশ্য-সুন্দরে শিথিল করেছো অবগাহন।

ভিমরুলের চোখেও ভাষা আছে, তাদের হুলের ফোঁড়ে মাখা বিষগঙ্গার টোনা
আদি মুখের নির্বাণ। এইসব কিংবদন্তি গাথা নিয়েই বসে আছি তোমার পায়ে।
ছোট্ট ছাউনি-পাতা ঘর, ভেষজলতার দরোজায় গলা পৃথিবী আদি-এনাটমির পিঙ্গল।


ব্যাঙ গান

নবজাতকের পছন্দ সুস্থ মাতৃ-জরায়ু
ব্যাঙাচিদের পছন্দ সুস্থ জলাশয়-জরায়ু

বিশুদ্ধ জলাশয়ের জরায়ু-জলে সাঁতার কাটে না ব্যাঙাচি-ফুল
সুস্থ মায়ের জরায়ু-জলে সাঁতার কাটে না নব-জাতক

ব্যাঙাচি আর শুক্রাণু দুটোই আকাশ-বুলেট পাড়ি দেয়
প্রত্যেকেই চিতার দৌঁড়ে এগিয়ে নিচ্ছে পৃথিবী

উভয়ের পৃথিবীতে এখন মহা সংকট…



ফুল-সকিনার দুল

ছাদের গায়ে পড়শি-সকিনার চাঁদ
বাতাসের ছেনি চুলের বেণি কাটছে

রুই কাতল বোয়াল শুলে, সকিনাফুলের পদ্মছিপ
ধরে ধরে টানে, মাছের মুকুলেরাও কম যায় না।

ছাদের গায়ে পড়শি-সকিনার চাঁদ
বাতাসের ছেনি চুলের বেণি কাটছে—
নগর মাদল লম্বা করে ঢোল মারে, চিনি তারে!