আত্মকথা ও অন্যান্য ॥ শৈবাল নূর



আত্মকথা

একটা নির্জন গল্প বলা যেতে পারে..
শুকনো পাতার দুপুরে কবুতর উড়াউড়ি

মিহি জালে অস্পষ্ট জলে গেঁথে থাকা আমি
তুমি হয়তো ছাই-বটি নিয়ে উঠানে অপেক্ষায়

দুটো চড়ুই ঠোঁটে নারিকেল পাতার সূক্ষ সুতো
হাওয়ায় তুলো টুনটুনি সুরে মিলনপাতার প্রচ্ছদ

আলুক্ষেতে খড় ভিজলে কি শালিকপাখি কাঁদে?
পদ্মপাতায় সাদাভাত, এসব বলছো রূপকথা..!

তুমি ভাবছো হুল অথচ ফুল সব মধু দিয়ে দিলো
আমি কাচতে দিয়ে তৃণকাটবো, না আঙুল?

ঘুঘুর ডিম দেখলে ঠিক তোমার চোখ মনে হয়
শামুক কোছায় রেখে হাঁস’কে ভোলাচ্ছো?

কাক ডাকলে নাকি অলক্ষুণে কিছু ঘটে
তবু তুমি নদীতেই স্নানে যাও—

তোমার ভাতফোটার শব্দে কি জীবনানন্দ ঘুম ভাঙবে?
আমি তো বাবার খরম জাদুঘরে দেখে এলাম!

আমরা সবাই এখন নতুন পৃথিবীতে…
অথচ তুমি বলছো এটা নাকি বেঁচে থাকা না!


পৃথগন্ন

বাবার সাথে ইদানীং মতে পড়ে না—
বয়স বাড়ছে তো…
প্রেমিকার বিয়ের প্রস্তাব আসছে,
একটা চাকরি পেলে হতো,
আমার তো কোটা নাই, টাকা নাই
রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো না,

বাবার সাথে ইদানীং মতে পড়ে না–

যে সব গান শুনে পবিত্র হতাম,
এখন শুনতে গেলে হাসি পায়,
বিশ্বাস বদলে যাচ্ছে—
মাথার চুল কমে এসেছে, বয়স বাড়ছে
পাখির কলকাকলি শুনে হরিণের মতো
আর সতর্ক দাঁড়াই না
মাঝে মাঝে কান্নাই পায়, কবর চাপা দেই,
কাঁদতে পারি না।

বাবার সাথে ইদানীং মতে পড়ে না–

অগোছালো জীবন ভালোলাগে,
শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মুতি, আর
হতাশায় গালি দেই সিস্টেমকে—
একটা পার্মানেন্ট শরীর পেতে মন চায়
ধুতরা-ফুলে মন বসে না,
বাবার সাথে ইদানীং মতে পড়ে না

প্রভু, তোমার প্রতি রাগ হয়, তাই ডাকতে পারি না…।


পথে, বসন্তে

রোদে ঝলসে যাচ্ছি—
ধুলোয় মিশে যাচ্ছি—
মানুষের অপমানে ম্লান হয়ে যাচ্ছি—
অথচ শিমুল-ফুল লাল হচ্ছে শালিকের ঠোঁটে,
পলাশ রক্তিম হলো তোমার লজ্জায়,
দিগন্তের উল্লাসে সবুজ হচ্ছে মাঠ,
দিকে-দিকে আম্র-মুকুল আর অলির খুনসুটি,
কোকিলের গলায় সুরের ঝর্ণা,
তোমার কর্ণদুলের মতো ডালে ডালে সজনে-ফুল,
লেবু-ফুলের সুবাসে মাতোয়ারা মাস্টার বাড়ির উঠান,
খামারি পেয়েছে সরকারি অনুদান,
বাইরে বসন্ত নাকি!
তবু, আমি
রোদে ঝলসে যাচ্ছি–
ধুলোয় মিশে যাচ্ছি–
মানুষের অপমানে ম্লান হয়ে যাচ্ছি–
গোপনে, খুব গোপনে, নিঃসঙ্গতায়…