আবদুস শুকুর খান এর কবিতা


সময়ের স্বর


একটা সময়ে ফিরে যেতে হবে; এই সত্য মানি।
যেভাবে ঋতুমতী মেঘ বৃষ্টি ঢেলে ফিরে যায়, এও জানি
সুন্দর আকাশ ছেড়ে ভ্রাম্যমান পাখিও আসে
তার ছোট্ট নীড়ে!

জীবন অসমাপ্ত রেখে মানুষও যায়
সব ফেলে রেখে নির্জনতম দেশে।
বিভব- বৈভব, রূপ, মোহ, মান-সম্মান, প্রতিপত্তি
অহংকার, সব ফেলে শূন্য হয়ে যায়।
প্রজন্মকে আঁধারে রেখে জীবন বয়ে যায়
চিরকালীন ঘুমে।

এই অনিবার্য নিয়মের ছেদ নেই কোনো
এসো, যতক্ষণ প্রাণে আছি ততক্ষণ থাকি কাছাকাছি।
আনন্দে-বিষাদে হাতে হাত রেখে মিটিয়ে যাই
জীবনের দেনা। এসো
মিথ্যের জীবন সময়ের যোগ্য করে তুলি। জানি না
ডাক এলে কে যে কখন উবে যাব, জানি না।
হাজার পিছু ডাকলে ফেরা যাবে না।
এসো জীবন
সব কিছুর ঊর্দ্ধে উঠে নিজেকে সুন্দরের
যোগ্য করে শাশ্বত ছুঁয়ে যাই।


ভিন্নতর খেলা

বহুদূর হাঁটা হলে মাঝেমধ্যে পেছনে তাকানো ভালো
অতিক্রান্ত পথে দৃষ্টি ফেলে জেনে নেওয়া ভালো
নিজের ভেতরের ক্ষত মুছে শুদ্ধ হওয়া ভালো।
দ্রুত বদলে যাচ্ছে সময়, বদল হচ্ছে সমাজ, সম্পর্ক।
ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে মৃত্যু।
কে যে ভ্যানিশ হয়ে যাবে, কে জানে!

সাবধানে পা মেপে মেপে পথ চলো।
যতটুকু এসেছ তার ভেতরে আছে পুনর্ভাবনার বীজ
পথের ধুলোয় আছে জন্মান্তর, শুধু
প্রথম থেকে ভেবে দ্যাখো পুনর্জন্মের শেকড় খুঁজে
পাও কিনা? যদি পারো নিজেকে আমুল বদলে নাও।

জীবনের পথ চলতে চলতে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে
নিজের গতি সম্পূর্ণভাবে বদলে নিতে পারলে
সাফল্য পৌঁছে দেবে স্বপ্ন ভুবনে।

বহুদূর পথ যেতে হলে মমনে প্রাণে শুদ্ধ হয়ে যাওয়াই ভালো।


ফেরিঘাটের শূন্যতা

পৃথিবীতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, দেখি
সূর্যাস্তের রঙ মেখে ঘাটে বসে আছে মাধু পাগলী!
তার পাশ দিয়ে খরস্রোতা নদী কী আকূল বয়ে যায়।
দুলে ওঠে নৌকা, গাধাবোট, বয়ায় বাঁধা জাহাজ
চরে নোঙর করা দাঁড়ি মাঝিহীন দেহরাখা বার্জ।
সেই দিকে চেয়ে থাকে মাধু পাগলী একমনে
কী খোঁজে সে বিবশ সন্ধ্যায়, তা সেই জানে।
উথাল পাথাল ঢেউ ভাঙে তীরে, মুহূর্তে মিলায়।

মাধু পাগলীর ছায়া ছায়া মুখ ভাসে
পরাণ মাঝি সেই যে নৌকা নিয়ে গিয়েছে সাগরে
মাস গেল, বছর গেল, নৌকা আজও ফিরল না ঘাটে
মধু পাগলী রোজ যায়, রোজ আসে, সূর্য গেলে পাটে।

কত জৌলুস ফিরে এলো দেশের
পাগলী ঘাটে বসে থাকে।
ভাবে, ফেরি নিয়ে আসবে ফিরে পরাণ চেয়েছে যাকে।



নদীর বুকে রূপালী চাঁদ


জ্যোৎস্না ছুঁলে নদীর স্রোত,নদী কখন কবিতা হয়ে যায়!
এই রহস্য বুঝিনি আগে,সেদিন যখন
চাঁদে পাওয়া নদীর ধারে তোমাকে নিয়ে বসেছি
তুমি জ্যোৎস্নার পাখি হয়ে উড়ে গেলে।
আর বিস্ময়ে দেখি-
জ্যোৎস্নার বৈভবে কবিতা হয়ে গেছে নদী।