আমার অলোকদা ॥ সুশীল সাহা



যাঁর কথা শুনতে শুনতে একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেতাম, যাঁর ভাষণে ঝলসে উঠত বৈদগ্ধ আর সহজ সরল অনাড়ম্বর এক দীপ্তি সেই মানুষটাও একদিন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। সুদূর জার্মানির এক নিভৃত আশ্রয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন পাঁচ দশক। তবে তাঁর প্রাণের শহর কলকাতাকে ভোলেননি কখনও। তাই তো প্রতি বছর চলে আসতেন। তাঁর বাড়ি গমগম করত নানা মানুষের আগমনে। তাঁরা মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে শুনতে পেতেন একজন নিরহং মানুষের অলৌকিক মাধুর্যে ভরা অপরূপ সৌন্দর্যদীপ্ত কথামালা। তিনি যেন সারাক্ষণ কবিতার মধ্যেই ডুবে থাকতেন। তাঁর কাব্যময় লেখমালার মতো তাঁর কথার মধ্যেও মিশে থাকত অনন্ত নক্ষত্রবীথির মমতাময় পেলব স্পর্শ।

এই মানুষটার নাম অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। বছর চল্লিশেক আগে তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা কলকাতার ম্যাক্সমুলার ভবনে। আর প্রথম দেখাতেই পেলাম যেন আপনজনের ছোঁয়া। এমন আন্তরিক প্রীতিস্পর্শ আজকাল তো একান্তই দুর্লভ। তাই ওই সাক্ষাতের পরে অনতিবিলম্বে তাঁর বাড়িতে যাবার সাহসে এক দুর্মর আকাঙ্ক্ষা মনের মধ্যে বাসা বুনল এবং সাহসে ভর করে একদিন চলেও গেলাম। গিয়ে দেখি, তাঁকে ঘিরে রয়েছেন কয়েকজন। তারই মধ্যে এককোণে নিজের ঠাঁই খুঁজে নিলাম। কোনওরকম হীনমন্যতার সুযোগ না দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে কথা বললেন। পরিচয় করিয়ে দিলেন ওখানে উপস্থিত সবার সঙ্গে। তাঁর সেই মায়াবী কথনের মধ্যে ছিল এক অভূতপুর্ব আন্তরিকতা। তাঁর সেদিনের বিশেষভাবে বিশেষায়িত পরিচয় জ্ঞাপনের মধ্যে যে ভাষার যাদুস্পর্শ ছিল তাতে যেন আমি লজ্জায় মাটিতে মিশে গেলাম। অচিরেই পেলাম তাঁর অসামান্য স্মরণশক্তির পরিচয়। ইতঃমধ্যে নানা সূত্রে নানাজনের কাছ থেকে আমার সম্পর্কে যতটুকু শুনেছেন সেটুকুই উজাড় করে দিলেন তার সুসংবদ্ধ সংলাপিকায়। কথার পর কথা সাজিয়ে সে এক অদ্ভুত নির্মাণ। সেখানে উপস্থিত আরো অনেকের মধ্যে আমাকেও এককোণে সরিয়ে দিলেন না, বরং সকলের মধ্যে একেবারে মধ্যমণি হয়ে তিনি রচনা করলেন এক অভূতপূর্ব আলাপচারিতা। এমন স্নিগ্ধ সমাবেশকে ‘আড্ডা’ বলে আখ্যা দিতে দ্বিধা হয়। সেদিন ওখান থেকে চলে আসতে আসতে মনে হল যেন ঝোলাভর্তি বিপুর সম্ভার বিনি পয়সার সওদা করে ঘরে ফিরছি। সেদিনই প্রথম মনে এল এমন মানুষ এই পৃথিবী একবারই পায়। হয়ত দৈববলেই আমাদের মধ্যে বিচরণ করছে্ন, খেলা শেষ হলেই ফিরে যাবেন। অথচ তাঁর চলন বলনে ছিল না কোনও কৃত্রিম লিবাস, সাধারণের মধ্যে এতটাই অসাধারণ ছিলেন তিনি।
সেই থেকে অলোকদার সঙ্গে এক অনন্য প্রীতি সংস্পর্শে বাঁধা পড়ে গেলাম। একসময় তিনি তাঁর কর্মস্থলে ফিরে গেলেন। কিন্তু যোগাযোগটা রয়ে গেল। মাঝে মাঝেই তাঁর ফোন আসত, অপূর্ব সেই কণ্ঠস্বরের মধুরিমা। সবরকম খোঁজখবর নিতেন, ব্যক্তিগত কুশল বার্তা বিনিময়ের পরেই তিনি দেশ ও দুনিয়ার নানারকম খবর নিয়ে তাঁর নিজের মতামত দিতেন। সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে যে ধ্বংসযজ্ঞ, মানবতার অপমান – তারই প্রেক্ষিতে তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠত উদবেগ ও আশংকা। সেই সঙ্গে তাঁর হাল্কা আলাপনের মহিমায় আমাকে প্রায় বাকরুদ্ধ করে দিতেন। পুনর্বার ফোন কল পাবার আশায় থাকতাম। চিঠি লিখতেন ফ্যাক্সে, ওতে লেখাও পাঠাতেন। নানা কাজের মধ্যেও তিনি এইভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমন কর্মনিষ্ঠ মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। দেখা হত বছরশেষে। কখনও তাঁর সেই অবস্থান দু’আড়াই মাসও হয়ে যেত। এলেই খবর পাঠাতেন। এক অপ্রতিরোধ্যে আকর্ষণে তাঁর কাছে যেতাম, ফিরে আসতাম অপূর্ব এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিয়ে।

এই মানুষটার কাছ থেকে কোনওদিন শূন্য হাতে ফিরিনি। কেমন যেন মনের কথা বুঝতে পারতেন। লেখা চাইলেই দিতেন। হয়ত একটা কবিতা চেয়েছি, দিয়ে দিলেন তিনটে কবিতা। একটা ছোট্ট নাট্যদলের স্যুভেনিরের জন্যে লেখা চাইলাম (এখন মনে হয়, কেন চাইলাম! যা কিনা দুশো কপি মাত্র ছাপা হবে), প্রায় সঙ্গে পাঠিয়ে দিলেন সুন্দর একটি কবিতা। ‘ধারাভাষ্য’ নামে একটা ছোট পত্রিকার প্রথম সংখ্যার জন্যে লেখা চাইলাম, পাঠিয়ে দিলেন চমৎকার একটি কবিতা। বলাবাহুল্য ওটাই ছিল ওই পত্রিকার শেষ সংখ্যা। সেই অসামান্য কবিতাটি সবার জ্ঞাতার্থে এখানে উল্লেখ করতে চাই-

কলেজ স্ট্রিটের পথ দিয়ে যেতে যেতে
চোখে বিঁধে যায় ভবঘুরেদের মুখ,
আসলে তাদের জ্ঞানযোগী বলা যায়
বই-টই নিয়ে জানতেই উৎসুক।
ডিরোজিও আর হাতের কাছে তো নেই
যে বলে দেবে ‘পড়ুন রামমোহন,
আজ কী কোথায় এসব জানতে গেলে
উল্টিয়ে নিন সমাচার দর্পণ’।
মাথার ওপর তবুও শঙ্খ ঘোষ
-সমান দক্ষ গদ্য ও কবিতায়
তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেই
কী হচ্ছে-হবে সবকিছু জানা যায়।
আমাদের এই পত্রিকা প্রকাশ্যে
আমরা সে সব রানিং কমেন্টারি টুকে
রেখে দিই, যাকে বলে ধারাভাষ্য
সত্যি বলতে বাংলা শব্দ তারই।
এসো ভবঘুরে, শরণার্থীরা এসো
এসো প্রেমিকেরা, ঢেলে দাও প্রাণমন,
সারা দেশ ধরে তাহলে জমে উঠুক
পুথিপত্রের পবিত্র পার্বণ।
(ধারাভাষ্য : অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত)


আগামীদিনের পাঠকদের জন্যে পুরো কবিতাটাই রইল। আমি নিশ্চিত জানি যে তাঁর এমন অসংখ্য কবিতা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একজন ক্রান্তদর্শী কবির এমন সব অসামান্য সৃষ্টি কালের প্রবাহে হারিয়ে যেতে দেওয়াও যে এক ধরনের ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

আমার সঙ্গে তাঁর মূলত যোগাযোগ ছিল দূরাভাষে। কখনও কখনও সেই আলাপন ত্রিশ চল্লিশ মিনিটও হয়ে যেত। তখন যেসব প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হত, তার অনেককিছুই তাঁর লেখায় জায়গা করে নিয়েছে। আমার মেয়ে রাকার বেড়াল প্রীতি নিয়ে ‘আপদ বালাই’ নামে গোটা একটা গল্পই লিখে ফেলেছিলেন তিনি। আর কবিতায় নানাসময়ে আমাদের নানান কথোপকথনের বিষয় নিয়ে এসেছেন তিনি। ছোট ছোট ঘটনাকে তিনি তাঁর লেখায় মহিমান্বিত করে গেছেন। তার মধ্য থেকে আরেকটি উল্লেখ এখানে না করলেই নয়। আমার শৈশবকালের বন্ধু আনোয়ারের কথা তাঁকে অনেকবার বলেছি। কিভাবে তাকে বহুদিন বাদে খুঁজে পেয়েছিলাম তার আনুপূর্বিক বিবরণ দেবার সময় তাঁর কান্নাভেজা কণ্ঠস্বর শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। আমাদের দুই বন্ধুর সেই মিলনগাথা তিনি লিখেছিলেন এইভাবে-,

দেখা হোক বা না হোক হৃদয়বীণার তার
ছিঁড়ে যায় না, দুদিক থেকে হাত বাড়িয়ে হাসে
আবহমান দুজন বন্ধু সুশীল আনোয়ার।
আগে আন্ধার পাছে আন্ধার মাঝখানে ধানক্ষেত
কেউ বলেছে যোজন যোজন আঁধার নিশুইত-ঢালা
কেউ বলেছে তারই মধ্যে জোনাকির সঙ্কেত
কেউ বলেছে ‘পারবি কি তুই কান্দাতে আমায়’?

এরই মধ্যে শ্রবণাতারা ফুটল সন্ধ্যাকাশে,
আরণ্যকে ছুটির ঘন্টা, শারোৎসবের
মহড়া শুরু হবার আগে সুযোগসন্ধানীরা
সীমান্তে ওই মশাল নিয়ে, সুশীল আনোয়ার
তবুও গান জুড়েছে ‘ঐ মহামানব আসে’।
(দুই বন্ধু : অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত)

তিনি খুব গান ভালবাসতেন। নিজে নানারকম গান গাইতেন, সাঁওতালি থেকে রবীন্দ্রসংগীত, কীর্তন ভজন থেকে পঞ্চাশ ষাট দশকের হিন্দি গান তিনি অবলীলায় গাইতে পারতেন। নানাসময়ে তাঁর পছন্দের অনেক হিন্দি গান আমাকে গেয়ে শোনাতে হত। একবার কী খেয়াল হল, অনেকগুলো রবীন্দ্রসংগীত হিন্দিতে অনুবাদ করে তাঁকে শুনিয়েছিলাম। তিনি খুব পছন্দ করেছিলেন। সেই সময় লক্ষ করেছিলাম রবীন্দ্রনাথের অনেক গানে তৎসম শব্দের এত প্রয়োগ হয়েছে যে অনেক গান শুধু হিন্দি উচ্চারণের অনুষঙ্গে গাইলেই হয়ে যেত। এর একটা বড় উদাহরণ, ‘বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা’। গান নিয়ে আমার এই খেয়ালী অনুষঙ্গের কথা তিনি আমার সামনেই অনেককে বলেছেন। এমনকি এই প্রসঙ্গটা এসে গেছে তাঁর কবিতার মধ্যে। আসলে আমার শিক্ষাগুরু মুহম্মদ কায়কোবাদ ও তাঁর স্ত্রী মুক্তি মজুমদারের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য স্মারকের জন্যে তাঁর কাছে লেখা চেয়েছিলাম। তিনি তো ওঁদের কখনও চোখে দেখেননি। শুনেছেন অনেক কথা ঠিকই। আমার উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা আমাকে দিলেন, যার শুরু হয়েছে এইভাবে-

“তাঁর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ পাঠ নেবার সুযোগ
আমার ঘটেনি এবং সেজন্য
আক্ষেপও জাগেনি মনে। তার কারণ তাঁর ছাত্র
সুশীলের চলন বলনের
ভেতর দিয়ে তিনি আমার স্নায়ব মননে সঞ্চারিত
হয়ে গিয়েছেন।”

আপাতদৃষ্টিতে এটিকে একটি ব্যক্তিগত কবিতা মনে হলেও এটি ব্যক্তি ছাড়িয়ে নৈর্ব্যক্তিক এক অনুভব সঞ্চারী। অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় তাঁর অনুভূতিগুলো তিনি পরপর সাজিয়ে দিয়েছেন। আমাকে সামনে রেখে আমার মাস্টারমশাইকে জানিয়েছেন শ্রদ্ধা। একজন কবিই হয়ত পারেন এমন কল্পনার ডানায় উড়াল দিয়ে এক স্বর্গীয় অনুভবের জন্ম দিতে।

“সুশীল যখন রাস্তা পার হয় তার ডৌলে থাকে ঋজুতা
আর নম্রতার সমন্বয়। চতুর্দিকের ভিড় ঠেলে সে এগিয়ে যেতে
থাকে দিনানুদিন থেকে শাশ্বতের দিকে। এক-একবার এমনও হয়েছে,
ওই চলার বেগে তার দ্বিধাসতর্ক সহযাত্রীকে ছাড়িয়ে
সে এক ফার্লঙ অগ্রবর্তী। এভাবে অনেক বন্ধুই তার সঙ্গে
তাল রাখতে না পেরে মাঝপথে সরে গেছে। সেজন্য
তার হাহাকারের অন্ত নেই। আসলে এখনও সে তার প্রকৃত
বন্ধুর জন্য অপেক্ষায়। গতি ও ধৈর্যের এই সমীকরণ তার
মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকেই পাওয়া।”

এরপরেই এসেছে আমার সেই অনুবাদ প্রসঙ্গ। তার মধ্য দিয়েও তিনি আমার মস্টারমশাইকে স্মরণ করেছেন।

“সুশীল যখন ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’
গানটাকে হিন্দি ভাষায় তর্জমা করে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে
রাষ্ট্রভাষার জঞ্জাল থেকে এক একটি বৈদূর্যমণি চয়ন
করে আনে, গুনগুনিয়ে গাইতে থাকে নির্মীয়মান ভাষ্য
আমিও সেই খেলায় যোগ দিই। সুশীলের সঙ্গে
পথ চলায় শামিল হতে না পারলেও পথ চাওয়ার
ব্রতে সতীর্থ হতে পেরেছি, এটা তার মাস্টারমশাইয়েরই দান।”
(গুরুদক্ষিণা : অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত)

কবিতাটি দীর্ঘ। শেষাংশটা তাই এখানে উহ্যই রইল। কিভাবে একজন কল্পনাপ্রবণ মানুষ একজন মানুষকেও এইভাবে মূর্ত করতে পারেন তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই কবিতা। এটা আমার জীবনেও তাই এক পরম প্রাপ্তি।

এক অনন্য প্রাণচঞ্চল মানুষ ছিলেন তিনি। কোনওদিনও তাঁকে বিষণ্ণ হতে দেখিনি। শরীরের নানারকম কষ্ট সহ্য করে তিনি সবসময় হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলতেন। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী মানুষের শিকড়হীনতার যন্ত্রণা তাঁকেও ব্যথিত করত। তাঁর কবিতায় সেই প্রসঙ্গ এসেছে নানাসময়ে। মৃত্যু নিয়ে তাঁর বেদনাবোধ ছিল, কিন্তু কখনওই তা নিয়ে আলোচনা করতে শুনিনি। সব মানুষকেই একদিন পৃথিবীর সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে, এই নির্মম সত্যিটাকে তিনি মেনে নিয়েছিলেন বলে মৃত্যুত্তীর্ণ এক অসামান্য ভূয়োদর্শন তিনি আপন দক্ষতায় অর্জন করেছিলেন। তাই হয়ত লিখতে পেরেছিলেন এমন কবিতা, যার ছত্রে ছত্রে উল্লেখিত জীবনের প্রতি ঋদ্ধ এক যৌবন বাউলের কথা-

আমার মাতামহের একটি নির্দেশ
বাড়ি করবে যখন, তখন
বাড়ির পশ্চিম দিকে বাঁশবন রেখো,
জমাট পাহারা দেবে বাঁশবন, অনিদ্রাপ্রবণ।
বাড়ির দক্ষিণে মহানিমগাছ রেখো,
যে-কোনো হাওয়ায় তার সৌহার্দ্যের সুমিত ক্ষরণ
সমস্ত দিন স্থায়ী অভিজ্ঞতার মতন।
উত্তরে, ঘরের কোলে, কৃষ্ণচূড়া রেখো,
স্যাঁতসেঁতে মাটির ঠাণ্ডা শিকড় করবে স্বীকরণ,
তার কাছে সহিষ্ণুতা শেখো।
আর পুবদিকে রেখো দিঘি, সূর্যপ্রণামের ক্ষণ
যথার্থ নিবিড় হবে অলোকরঞ্জন
দিঘির এপারে বসে থেকো।।

এমন শান্ত স্নিগ্ধ দীপ্তিময় বাক্যবন্ধ যিনি রচনা করতে পারেন, যাঁর প্রাণবন্ত সুধীর চিত্ত হৃদয় জুড়ে ছিল যে আবহমান বাংলার ঘাস ফুল মাটির গন্ধমাখা চিরায়ত প্রকৃতি, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের প্রবাসজীবনেও যিনি এক মুহূর্তের জন্যে ভোলেননি স্বদেশকে, তাঁর মতো এমন আদ্যন্ত একজন বাঙ্গালির অভাব একান্তই অপূরণীয় হয়ে থাকবে।