আমার বন্ধু মামুন মুস্তাফা ॥ সুবীর সরকার




মামুন মুস্তাফা। বাংলাদেশের ঢাকায় থাকেন। সম্পাদনা করেন ভিন্ন রুচির একটি চড়ুইপত্র-‘লেখমালা’। এছাড়া ‘বাংলাদেশের খবর’ নামের একটি দৈনিকের সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করার পাশাপাশি দেখছেন দৈনিকটির সাহিত্যপাতাও। মামুন মুস্তাফা একজন শক্তিশালী কবিও বটে। গত শতকের নয়ের দশকের কবি মামুনের উচ্চারণ খুব নিবিড় আর মগ্ন। তিনি খুব নিচু সুরে কথা বলেন। জীবনের বহুরৈখিক এক ভুবনজোতের মরমী ছবি উঠে আসে মামুনের কবিতায়। পাশাপাশী গদ্য লেখাতেও মামুন সাবলীল।

সবচেয়ে বড় কথা মামুন খুব বন্ধুবৎসল। মামুন একজন স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন দেখাবার মানুষ। মামুন মুস্তাফা আমার বন্ধু। স্বজন। কাছের মানুষ। তিনি আসলে ভারি সংক্রামক এক ব্যক্তিত্ব!

দুই

মামুনের সঙ্গে আমার পরিচয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। কত কত কথা হতো আমাদের। ফেসবুকে। মেসেঞ্জারে। দু-চারবার ফোনে। আমি একটা অন্তরের টান অনুভব করেছিলাম। মামুনের সঙ্গে কথা বলে আমার ভেতর একটা অবসরের আরাম আসতো। আমি খুব ধান ও ধ্যানের ভেতর ঢুকে পড়তে থাকতাম।

মাঝে মাঝে আমি মামুনকে বিরক্ত করতাম। মাঝে মাঝে মামুন আমার থেকে তার অন্য বন্ধুদের প্রতি বেশি মনযোগ দিচ্ছে এই অভিমান আমাকে তাড়িত করতো। আসলে এই এক ধরনের অধিকারবোধ হয়তো-বা!

তিন

মামুন মুস্তাফার সঙ্গে আমার শারীরিকভাবে দেখা হয়েছে মাত্র দু’বার। রাজশাহীতে। চিহ্নমেলায়। কিছু কথালাপ সেখানেই আমাদের মধ্যে হয়েছিল। সেই স্মৃতি আমি এখনো বহন করছি।

মামুন আমার বাড়ির থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে আমার বন্ধু কবি শৌভিক দে সরকারের বাসায় ঘুরে গেছে। আমি খুব একা হতে হতে সেই ছবি দেখেছি। আর আশায় বুক বেঁধে আছি, এবার মামুন আমার বাসাতেও আসবে। তুমুল আড্ডা দেব আমরা। তীব্র নিবিড় হবো আমরা।

চার

৫০ বছরে পা দিচ্ছেন আমার বন্ধু কবি মামুন মুস্তাফা। ৫০ তো আসলে একটা সংখ্যা মাত্র। আসলে এই ৫ থেকেই নতুন এক জার্নি শুরু করবেন কবি মামুন মুস্তাফা।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা রইলো বন্ধু মামুনের জন্য।