আমি শুধু জীবন ও অন্যান্য ॥ ফারুক আফিনদী



আমি শুধু জীবন

গাধলা… রাত-
নৈঃসঙ্গে ভরা, বারান্দা-
মনে হলো- বৃষ্টির খুব কাছাকাছি- চলে এসেছি।

বিচ্ছিন্ন ভাব :
একটু- ঘরে এসে মনে হলো- মৃত্যুর খুব কাছাকাছি।
দেখা যাচ্ছে,
বৃষ্টি=মৃত্যু
না, হলো না
বৃষ্টি=জন্ম > মৃত্যুর দিকে
মৃত্যু=ঘোররাত > সূর্যের দিকে

এইখানে– সূর্যের সাথে দেখা হলো মৃত্যুর
বৃষ্টির সাথে দেখা হয়েছিল নৈঃসঙ্গের বারান্দার।
মৃত্যু বসে আছে বারান্দায়
বৃষ্টির খুব কাছাকাছি
বৃষ্টি বসে আছে রাতের কোলে
মৃত্যুর খুব কাছাকাছি
মৃত্যু ও বৃষ্টি বসে আছে মুখোমুখি- রাতের সীমানায়– সূর্যের খুব কাছাকাছি-।
বৃষ্টি ও মৃত্যু
জন্ম ও ঘোররাত
বেছে নাও, বৃষ্টি- ঘোররাত-

জন্ম মৃত্যু (এ-ক- রুপালি পেয়ালায়)

দেখা গেলো- জন্ম যা, তাই মৃত্যু
মাঝখানে আমি- শুধু এক জীবন-।



কভিড নাইট ২০২০

ঠাণ্ডা ভিটায়- কালা বাচ্চাটার মতো- চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে পড়া রাত,
ওই পাড়ায়।

বিউগলের মতো ডাকছে সাদা কুকুরটা
পশ্চিম আকাশে মুখ তুলে
-কোটি কোটি শুকরের একটি
গায়েবি দোসর
বাতাসে আয়েশে দুলছে।

এ পাড়ায়
একা একা মরতেছে কেউ।


নির্জনতা

নির্জনতা
বুনো- ফুলের মতো ফুটেছে, সাদা-। মান্দালের ঝরা পাতা-
নগ্ন হওয়ার ধীর…; ও অধীর সময়ের মতো
খুলে খুলে দুর্বার ওপরে ছড়িয়ে
ডালে ঝুলিয়ে-
নিজেদের মধ্যে কথা বলছে।

একজন বলছে- নির্জনতা, তুমি কোথায় থাকো? –কোথায় তুমি! নির্জনতা! নির্জনতা! নির্জনতা!
–আমি- এ গাঙ্গিনার বুকের শান্তি নিয়ে উত্তুরে হাওয়ার থেকে-।
নির্জনতা– বাতাসের ব্রত নিয়ে দখিনের পথে তবু-
আরেকজন- এই যে তুমি!
–আমি এই হাওয়ার দোসর। আমাকে তুমি শোনো রোজ পাতার আড়ালে আর খোঁজো সেইসব গান যা তোমাকে নির্জন থাকতে দেয় না কখনো। তুমি এই চরাচর এফোঁড় ওফোঁড় করে বিদিগ ঘুরে বেড়াও। আমি সেই পাখির গান, যা নির্জনতায় এসে মেশে রোজ দক্ষ বাদ্যযন্ত্রীর মতো।
নির্জনতা- বলেছে শুধু এই, সরলা ভৌমিকের নগ্নতার মতো নির্জন– সাদা ফুলে জমে আছে মধু, বসন্তের স্বর- ফুটবে বলে, আর পাতার শীতল-

আর।– সবুজ সুডৌল এক আম- অদূরে যেই গড়িয়ে পড়লো
তৃণ ও ফুলের ক্ষেতে
লজ্জাবতী গাছের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিলো
নির্জনতা॥ দেখো, এখন শুয়ে আছে সে। সন্ধ্যার মতো।