উপহার ॥ সোনালী ইসলাম



আমার স্বামীকে একজন উপহার পাঠিয়েছেন, একটা রঙচঙে খামে ক্রেডিট কার্ডের মতন চারটে কার্ড। আমি পুরনো আমলের মানুষ, বুঝে উঠতে পারছিলাম না যে ব্যাপারটা কি। স্বামীর ব্যাখ্যা থেকে জানলাম, এটা আড়ংয়ের গিফট ক্রেডিট ভাউচার, এটা নিয়ে গিয়ে আড়ং থেকে পছন্দ মতো কুড়িহাজার টাকার বাজার করা যাবে। খুশী হবার বদলে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এটাকে কি উপহার বলা যায়?

আমাদের কালে উপহার কথাটার অন্যরকম রঙ আর আলো ছিলো।একালের মতন গিফট ভাউচার নয়, সত্যিকারের উপহার। যার জন্য কেনা হচ্ছে তার পছন্দ অপছন্দ বা ইচ্ছার কথা মনে রেখে সংগ্রহ করা উপহার। তারপর সেটা প্রাপকের হাতে তুলে দেবার প্রস্তুতি।রঙিন কাগজে মুড়ে সোনালী জরির ফিতে দিয়ে বেঁধে। এবং তা অবশ্যই করবেন যিনি উপহার দিচ্ছেন তিনি নিজেই। আমরা সাধারণত, উপহার পেতাম বছরে দুইবার। দুই ঈদে নতুন জামা মা-বাবার কাছ থেকে, খুব দরদী মামা চাচা থাকলে হয়তো আরও একটা জামা পাওয়া যেতো। যারা একটু এলিট সোসাইটির তাঁরা ছেলেমেয়েদের জন্মদিন পালন করতেন। তখন দেয়া হতো রঙপেন্সিলের বাক্স বা বই।

উপহারে বইয়ের ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। তখনকার কালে, সেই পঞ্চাশের দশকে বই ছাপা হতো কম, তাও আবার শিশুতোষ বই তবুও খুঁজে পেতে বইই দেয়া হতো। কখনো রেক্সিন বাঁধাই সোনার জলে নাম লেখা বিদেশী ইংরেজি বই, কখনোবা মকসুদুল মুমেনীন। নতুন বিয়েতে ধর্মীয় বই নেয়ামুল কোরান বা কোরান শরিফ দেবার রেওয়াজ ছিলো। সেই সাথে কিছু বড়দের উপন্যাস। স্কুলে রেজাল্ট ভালো করলে প্রথম তিনজনকে বই উপহার দিতেন শিক্ষকেরা। তখন দেয়া হতো ‌’উন্নত জীবন’, ‌’মহৎ জীবন’ নামের বইয়ের সিরিজ। এছাড়া ছিলো ডেল কার্নেগীর বই।

কিশোরী বেলায় লুকিয়ে পাওয়া উপহার বেশির ভাগই ছিল কার্ড। কাঁচা হাতে ছবি আঁকা। প্রেরক খুব সাহসী হলে ভেতরে দুলাইন কবিতা আর একটু পারফিউম মাখানো। সে আবার বড় লুকিয়ে রাখা উপহার। মুরুব্বিরা দেখলে খবর হয়ে যেতো। বই ছিলো সবচাইতে নিরাপদ। মনে আছে, যখন অনার্স পড়ি, তখন এক বেকুব আমাকে এনে দিয়েছিলো ফেসপাউডার আর লিপস্টিক। তৎক্ষনাৎ ফেরত দিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ বিয়ে হবার আগে পর্যন্ত মেক আপ করা আমাদের কালে নিষিদ্ধ ছিলো।

বিয়ের দিন উপহার হিসেবে মা-বাবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া যেত সোনার গয়না। এছাড়া শাড়ি আর পেতলের কলসিও ছিল উপহারের তালিকায়। কিন্তু, উপহার কি শুধু মাত্র পার্থিব জিনিসেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ভরা বর্ষায় ক্লাস করতে যেয়ে ভিজে গেছি, যে বন্ধুটি এককাপ গরম চা এনে দিতো,বিনিময়ে কিছুই না পেয়ে, সেটাও তো অনন্য উপহার। আমাদের একজন স্যার ছিলেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে জ্ঞানী। ক্লাস নিতেন, প্রশ্ন করতেন সবই মাথার তিনহাত উপর দিয়ে চলে যেত। আমরা যারা এলেবেলে টাইপ ছাত্রছাত্রী তারা একটুও পছন্দ করতাম না।
যাই হোক পাশ করে বেরিয়েছি। স্বামী গরবে গরবিনী। একদিন শুনলাম স্যার নাকি রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি। আমি দেখতে গেলাম, আর পুরোনো দিনের শোধ নেবার জন্য স্বামীর দাপট দেখিয়ে তৎক্ষণাৎ কেবিনে শিফট করালাম, জুনিয়র ডাক্তারদের ধমকালাম, নার্সকে নির্দেশ দিলাম ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে। মনে হচ্ছিলো, আমি জ্ঞানী না হতে পারি, কাজের বটে। তখন খুব লোডশেডিং হতো বলে আমার ব্যাগে একটা টর্চ থাকতো, সেটা স্যারকে দিয়ে এলাম। আসলে সবটাই ছিলো আমার লোক দেখানো বাহুল্য। কিন্তু, পরে শুনেছি স্যার সবাইকে বলেছেন, “সোনালী আমার অনেক যত্ন করেছে, এমনকি একটা টর্চও দিয়ে এসেছে”। তখন খুবই লজ্জা পেয়েছিলাম। উপহার ছিলো না সেটা, কিন্তু স্যার সেটাকে উপহারের মর্যাদা দিয়েছিলেন।

বিয়ের পর প্রথম প্রথম স্বামী উপহার এনে দিতেন। তখনো তিনি বিরাট বড় ডাক্তার হয়ে ওঠেন নি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আসার পথে একটা আমড়া, এক ঠোঙা বাদাম বা একটা ক্যাডবেরি চকলেট নিয়ে আসতেন। তার এই জেসচার আমাকে অসীম আনন্দ দিতো।
তাঁর আনা আমড়া পেয়ে আমার অতিরিক্ত খুশি দেখে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, আমি ভান করছি কি না। না আমি মোটেই ভান করিনি। উনিশ শ’ বিরাশি সালে টানাটানির সংসারে আমার জন্য “মনে করে” একটা আমড়া আনাই আমার কাছে অনেক দামি মনে হতো। সে সময়, আমাদের তখনো বাচ্চাকাচ্চা হয়নি।একটা পোস্টারে ছোট্ট মুরগীর বাচ্চা দেখে খুব ভালো লেগেছিলো। কিন্তু সেই সময়ে ষাট টাকা আমার জন্য বিলাসিতা। আমার স্বামী কি করে জানি আমার জন্মদিনে সেই পোস্টারটা কিনে বাঁধাই করে দিয়েছিলেন। আমার এখনো মনে হয় সেটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। কি যে খুশি হয়েছিলাম।

কি জানি, হয়তো এখনকার আমল হলে এসব ইমোশন ইগনোর করতে পারতাম। এরপর ধিরে ধিরে বয়স বেড়েছে, আমি নিজে বদলে গেছি আর কখন যেন বদলে গেছে চারিপাশ। একসময় আমরা দেশের বাইরে চলে যাই। সেখানে একা বসে নানান রকম হাতের সেলাই করতাম উল বুনতাম। দেশে বেড়াতে এসে উপহার দিতাম সেই সব বোনা সোয়েটার আর শাল। কিন্তু ততোদিনে বাংলাদেশে গার্মেন্টস বিপ্লব ঘটেছে, আর হাতে বোনা সোয়েটারের কদর-সন্মান নেই। বিদেশ থেকে ফিরলে সবাই উপহার হিসেবে পছন্দ করে শ্যাম্পু বা লোশনের বোতল। আমি বোকা ছিলাম। তখনো কাছের এক আত্মীয়ের ছেলের জন্য নানান ডিজাইন দিয়ে সোয়েটার বুনে এনেছিলাম নিজের হাতে। বিদেশে ফিরে যাবার আগেই দেখি সেই সোয়েটার সে বাড়ির কাজের ছেলের গায়ে। তখন বুঝলাম উপহার কাকে দিচ্ছি সেটাও বিশেষ ভাবে বিবেচনা করা উচিৎ। আমি যাকে যা দেব সে সেটা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে কি না।

তবে এখনো বিদেশের বিদেশী বন্ধু বান্ধবীরা আমার হাতের সুঁই সূতার কাজ বা উলের স্কার্ফ মাফলার খুবই আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে। এখনো আমার দাদাই বা নিম্মির জন্য আমি প্রতি বছর হাতের কাজের উলের ব্ল্যানকেট বা সোয়েটার বুনি। তারা এখনো বড় হয়ে ওঠেনি তাই উপহারের মর্যাদা দিচ্ছে। এখনও আমি অবসরে উল বুনি বা সেলাই করি। আর যদি কেউ ভালোবেসে চায় তাকে দিয়ে নিজেই খুশী হই।এখানে নিজেই নিজের একটু প্রশংসা করে নেই। আমার হাতের সেলাই করা ওয়াল হ্যাংগিংগুলোর একটা প্রদর্শনী হয়েছিলো, আর সেগুলো বেশ চড়া দামেই বিকিয়েছিলো। অবশ্য কয়েকজন বন্ধু ও শ্রদ্ধেয় মানুষকে আমি উপহারও দিয়েছিলাম (যারা খুব বেশি প্রশংসা করেছিলেন)।

আচ্ছা উপহার কি শুধুমাত্র দামী জিনিস কিনেই হয়? না তো।আমার মনে হয় আমি কারও জন্য একটা ভালো কিছু ভাবলাম বা তার কোন কাজের অকুন্ঠ প্রশংসা করলাম, সেটাও তো এক ধরনের উপহার তাইনা? এই যে ফেসবুকের জামানায় আমরা এতো লাইক আর কমেন্টসের বন্যার অপেক্ষায় থাকি যা নাকি “ভার্চুয়াল কোকেন” বলে নাম দিচ্ছে সবাই এটাও কি একধরনের হাওয়ায় ভাসা উপহার নয়?

কিংবা ধরুন কোন এক নতুন লেখক, তার সদ্য জন্ম নেয়া বইটাকে সন্তানের মতো বুকে নিয়ে বই মেলায় আপ্লুত হয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কোন পাঠক অথবা প্রতিষ্ঠিত লেখক যদি বইটার প্রশংসা করেন, পড়ার আগ্রহ দেখান তাহলে সেই নতুন লেখক কতটা অনুপ্রাণিত হবেন। আপনার একটা সহৃদয় কথাই তখন তার জন্য বিশেষ উপহার নয় কি?

উপহার যে শুধুমাত্রই বস্তুগত তা কিন্তু নয়। কথা, হাসি, পাশে থাকা সান্ত্বনার হাতটা পিঠে রাখাও উপহার হতে পারে। এমন কোন কথা বলা গেল যা অন্যকে খুশি করে দিল, সারাদিনের জন্য মন ভালো হয়ে গেল তার, এটাও কিন্তু এক ধরনের উপহারই বটে। সব চাইতে জরুরী ব্যাপার হলো সঠিক সময়ে সঠিক কথাটা বলে ফেলতে পারা অন্য কারো মনে কষ্ট না দিয়ে, যদি সম্ভব হয়।

আমি তখনো রাজশাহীতে থাকি। ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় আসি বইমেলায়। নানান স্টলে ঘুরে ফিরে বই কিনছি। আমার সারাবছরের খোরাক সংগ্রহ। মনে হয় সময় প্রকাশনার স্টলে দেখতে পেলাম তাঁকে। তাঁর লেখা পড়ছি কিশোরী বেলা থেকে। বিচিত্রা পত্রিকার পাতায় তাঁর লেখা পড়ার জন্য উন্মূখ হয়ে থাকতাম। ছবিতে চেহারা দেখে চিনি কিন্তু আলাপ নেই। স্বাভাবিক ভাবেই এক মফস্বলি মধ্যবয়সী মহিলাকে তিনি কোনমতেই চিনবেন না। তাঁর লেখা বই কিনে অটোগ্রাফের জন্য বাড়িয়ে দিলাম। সহাস্যে (বড় লেখকদের এমন সাজানো সহাস্য হয়ে থাকতে হয়, এটাও পাঠকদের প্রতি উপহার) সই করে বই ফেরত দিলেন। আমি বললাম, আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
– অবশ্যই বলুন।
– আপনার লেখা আমি পড়ি আমার কিশোরী বেলা থেকে, তখন আপনাকে বলার সুযোগ পাইনি, আর আজ বলতে চাচ্ছি কারণ আমারও চুল পেকে গেছে আপনারও। হয়তো আর কোন দিনও বলা হবে না । আমি আপনার লেখা পড়ে আপনার প্রেমে পড়েছিলাম। এখনো আমার সেই মুগ্ধতা কাটেনি। লেখক বিস্মিত হয়ে থমকে গেলেন। তারপর বললেন, আমি এমন কমপ্লিমেন্ট জীবনে পাইনি।

জীবনের মধ্যগগনে এসে আমার এমন একটা স্বীকারোক্তি নিশ্চয়ই লেখককে আনন্দিত করেছিলো। এতে আমার কোনই ক্ষতি হয়নি, সারাজীবন যার লেখা পড়ে সমৃদ্ধ হয়েছি তাকে এর চাইতে বেশী আর কোন উপহার কি আমি দিতে পারতাম? সঙ্গে আমার বান্ধবী ছিলো, সে তো আমার এমন আচমকা প্রেম নিবেদন মার্কা কথা শুনে ঘাবড়ে ঘেমে অস্থির। সরে এসেই চেঁচালো, তোর কি মাথা খারাপ, তুই জানিস কাকে কি বললি? উনি কতো বড় মাপের একজন মানুষ। তাঁকে তুই প্রেমের কথা বলে বসলি। কি বিপদ। সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে সমস্যা কি? আমিতো নিজের সংসার সন্তান ফেলে তার পিছনে ছুটতে আসিনি। যে কথা বলতে চেয়েছিলাম সেইই উনিশ শ’ উনসত্তর সালে। সেকথা বলার অবকাশ পেলাম এই দুইহাজার দুই সালে, মাঝখানে কেটে গেছে তেত্রিশ বছর, তাতে কি? অনুভব কি পুরনো হয়? আমি নিজে বলে ফেলে হালকা হলাম আর লেখক হয়তো আনন্দিত হলেন। বান্ধবী রেগে গিয়ে বলল, তুই বিদেশে থেকেই বিগড়ে গেছিস। যাকে ইচ্ছা তাকেই যে “আই লাভ ইউ ” বলা যায় না এটা তোর মাথায় নেই।

হয়তো তার কথাই ঠিক। কিন্তু আমি ভাবি, “আই লাভ ইউ” বলার কি কোন নির্ধারিত সীমারেখা টানা যায়? কন্যা বা কন্যা সম রা কি পিতা বা পিতৃসমদের আই লাভ ইউ বলে না? আসলেই “প্রেম” কথাটার সাথে আমরা একটা নিষিদ্ধ গন্ধ জুড়ে দিয়েছি, যতই কবি বলুন না কেন- জীবে প্রেম করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।
সত্যিকারের প্রেম যদি কেউ দেয় তার চাইতে বড় উপহার এই পৃথিবীতে কি আর আছে?

আমি এক জীবনে কম উপহার পাইনি। তা সে, বস্তুগত কিংবা স্পর্শবিহীন ছোঁয়ার মত। কত উপহার তুলে রেখেছি সযত্নে, কত উপহার রয়ে গেছে হৃদয়ের কোন এক কন্দরে।মাঝেমাঝে মনে পড়লে অস্পষ্ট মৃদু হাসি জাগে ঠোঁটের কোনায়। আমি জানি, আমি চলে গেলে এসব ছোট ছোট উপহার হারিয়ে যাবে। কারণ প্রতিটি উপহারের সাথেই জড়িয়ে থাকে এক একটা স্মৃতির গল্প।

আমার জীবনে সব চাইতে বড় উপহার আমার উপযুক্ত দুই সন্তান। তারা তাদের কার্যক্ষেত্রে আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের জীবন সঙ্গীরাও তাদের মতোই, সুযোগ্য। এমনটা পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। এছাড়া আমার মতো একজন পিতৃহীন মানুষ ঠিকঠাক মতো বড় হয়েছি, পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছি, বিদ্বান স্বামী ও সুচারু সংসার পেয়েছি, এগুলোও তো ঈশ্বরের উপহার। একজীবনে স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখলাম। দেশ স্বাধীন হতে দেখলাম। সেই যুদ্ধে অক্ষত ও নিরাপদ থাকতে পারলাম এটাই বা কম কি।

পায়ে পায়ে হেঁটে হেঁটে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দেখছি সারা বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯ এর তান্ডব। এও এক বিরল অভিজ্ঞতা । বদলে যাওয়া দিনে বদলে যাওয়া মানুষ চিনতে পারলাম, কাছের জন দুরের হলো দূরের মানুষ কাছের। এটাও অভিজ্ঞতার উপহার।

সেদিন খবরে দেখলাম, ইতালির এক শহরে, তিরানব্বই বছর বয়সী এক বৃদ্ধ তিনদিন লাইফ সাপোর্টে থেকে বেঁচে উঠেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার সময় তার বিল এসেছে পাঁচ হাজার ইউরো। বৃদ্ধ বিল হাতে পেয়ে কেঁদে ফেললেন। ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বিল দিতে অপারগ, তাহলে আমরা সোশ্যাল সিকিউরিটির সাথে কথা বলব যাতে তারা আপনার বিল পরিশোধ করে দেয়।
বৃদ্ধ আকুল হয়ে কেঁদে বললেন, না, সোশ্যাল সিকিউরিটিকে খবর দিতে হবে না। আমি যথেষ্ট ধনী। পাঁচ হাজার ইউরো আমি দিতে পারব। কিন্তু আমি কাঁদছি এই ভেবে যে, মাত্র তিনদিনের অক্সিজেনের দাম পাঁচ হাজার ইউরো, আর আমি তিরানব্বই বছর প্রতিদিন ঈশ্বরের দেওয়া অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে আছি, আমার না জানি কতো ইউরো দেনা হয়েছে ঈশ্বরের দরবারে।

লেখাটা পড়ে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম।এই মাটি পানি বাতাস প্রকৃতি থেকে আমরা প্রতিমূহুর্তে ঈশ্বরের যে উপহার গ্রহণ করে চলেছি, তার জন্য কতবার তাঁকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কয়বার বলছি, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। হে প্রভু! যে উপহার তুমি আমাকে প্রতিনিয়ত দিচ্ছ তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।