উৎপলকুমার বসু : কবিতার কারিগর ॥ শিবশঙ্কর পাল



পঞ্চাশের এক ‘সদা ভ্রাম্যমাণ’ পথিক কবি উৎপলকুমার বসু। ‘পুরীসিরিজ’ এর সমুদ্র তীর থেকে সে পথ চলে এসেছিল ‘হাঁস চলার পথ’ অবদি। লিপ্তপদের মতো সেই পা-চালনায় লেগেছিল সমাজ সংসার সময়ের নানা ঘটনা, নানা দৃশ্যমানতা, মানস অভিক্ষেপের নানা ভাব-ভাবনা। ‘স্থুল সাংবাদিকতার বোধ’ এ কবিতার চোখে দেখা ছবিকে মেলে ধরেছিলেন তাঁর সমগ্র কাব্যময়- চলমানতায় ছিল হাঁটা পথ থেকে আকাশের পরিসর- “যে পাখি দৌড়ায় শুধু মেঘ ভরে আছে তার ছুটন্ত ডানায়।” পথের প্রান্তে, পথের মাঝে, পথের চলমানতায়- চোখে দেখা বিষয়কে তিনি করে তুলতেন কবিতা। এই কবিতার ভিতরে প্রবেশ করার আগে আমরাও দেখে নিতে পারি তাঁর কবিতায় পথের প্রসঙ্গ-
“আমি শুধু পথের কথায় বলতে এসেছি, অন্য কিছু নয়-” (২১নং কবিতা, সুখ-দুঃখের সাথী )
“সেদিন সুরেন ব্যানার্জী রোডে নির্জনতার সঙ্গে দেখা হল” ( রাক্ষস, লোচনদাস কারিগর)
“মাতালদের সাথে ধুলোর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া অপরাহ্নে বেশ্যা পাড়ার দিকে আমাকে ক্রমশ তন্দ্রাচ্ছন্ন করে তোলে…” (রা-রা-রা ডিমোক্রেসি, আবার পুরীসিরিজ)
“একদিন সকালে, ছুটির দিন-আমি, সহকারী, অনাদনাদ রায় এবং তাঁর স্ত্রী সুচারু পাহাড়ে বেড়াতে বের লাম।” (শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকা : ১)
“চলো মর্মর সাথী, চলো ভ্রমণে, কান্তারে,…”( ১৮নং কবিতা, সুখ-দুঃখের সাথী)
অর্থাৎ মাননীয় বসুর কবিতায় পথ, কবিতায় একটা বিশেষ ক্ষেত্র রচনা করে।কবিতা রচনার পরিপ্রেক্ষিত, তার উপাদান তিনি পথ থেকেই তুলে নেন। এই পথ চলতে গিয়েই তো কবির চোখে লেগে যায় বিবিধ দৃশ্য গ্রাহ্যতা, স্মৃতি আর সত্তার চত্তর থেকে উঠে আসে কবিতার শরীর। নিম্নে আলোচিত ‘সুখ-দুঃখের সাথী’ কাব্যের ৩০নং কবিতাটিতে সেই পথ চলার বর্ণনা, তার সাথে কবির ভাবনা জারিত হতে দেখা যায়। কবিতাটির পটভূমি রঘুনাথপুর থেকে ঝালদা যাওয়ার পথ, দূরত্ব ৫৭ কিমি। যদিও এ পথ যাত্রার মধ্য পর্যায়, সমাপ্তি অংশ কবি বর্ণনা করেননি, এখানে শুধু যাত্রার সূচনা অংশ বর্ণিত হয়েছে-হয়তো এই সূচনা অংশটি কবির মনে এতই প্রভাব ফেলেছিল যে ,কবি সারাটা পথ এই ভাবনা দ্বারাই তাড়িত হয়েছিলেন, তাই মধ্যপর্যায় ও শেষপর্যায় বর্ণনা করাতে তিনি ইচ্ছুক ছিলেন না, কেননা কিছু কিছু ভাব আমাদের বহুদূর পথ চলতে সাহায্য করে। এখানেও সেরকম কিছু একটা হয়ে থাকবে। কবিতাটিকে আরও কেন্দ্রীভূত করার জন্য শুধু বাসস্ট্যান্ডের চত্তরকে কবি বেছে নিলেন। দূরত্ব প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার, কিন্তু তার সূচকও কেন্দ্রিক স্থান ‘বাসস্ট্যান্ড’. সেখানে কী এমন হল যে কবিতাকেই কবিতা করে তুললেন? বাসস্ট্যান্ডের জনবহুল স্থানে বহু ঘটনা ঘটে যায়, বিবিধ চরিত্ররা-বিবিধ কর্মকাণ্ড যায়, দেখার চোখ থাকলে আর ভাবনার বিস্তার ঘটালে পারলে সেখান থেকেই কবিতার উপাদান সংগ্রহ করা যায়। উৎপল বাবুও তাই করেছেন। সামান্য এক মানুষের প্রদেয় পরিষেবা দেখে তাঁকে কবির ‘পথের দেবতা’ বলে মনে হয়েছে।তাঁর সেই পরিষেবাকে কবি কবিতা করে তুলেছেন। পথ চলতি বাসস্ট্যান্ডগুলোতে এমন কিছু মানুষ থাকে, যাঁরা বাসস্ট্যান্ড পরিষেবা সংস্থার তরফে টিকিট কেটে দেন, বসার সিটটি দেখিয়ে দেন, প্রয়োজনে মালপত্র অধিক থাকলে সে সবকেও বাসে তুলে দিতে সাহায্য করেন-যাঁরা সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে যাত্রীদের পরিষেবায় নিয়োজিত। সেরকমই একজনকে কবির পথের দেবতা বলে মনে হয়েছে, যাঁর সেবার আয়োজন দেখে কবি অভিভূত। কবিতাটি লেখার এই একটিই কারন- একটিই কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাহলে দেখে নেওয়া যাক সেই ‘পথের দেবতা’র পরিষেবা-
“বেশ শীত-শীত করছে, রঘুনাথ পুর থেকে
ঝালদা যাওয়ার দিন বাসস্ট্যান্ডে পথের দেবতাকে
দেখি যাত্রীদের গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন আর কুশল
জিজ্ঞেস করছেন প্রত্যেককে- কী খবর, সব ভালতো;
এক মহিলাকে (শিশু সমেত) বললেন-হ্যাঁ, প্রথম দুটো সিট
আপনাদের; কয়েকজন স্কুলের ছাত্রকে বললেন-বারো থেকে
বাইশ তোদের, সামনের সিরিজে ইন্ডিয়া ভালো খেলবেই,
বৃষ্টি হবে না, বাজি রইল; এক বৃদ্ধাকে হাত ধরে
তুলে দিলেন ঐ এক্সপ্রেস বাসে, ড্রাইভারের সঙ্গে
হ্যাণ্ডশেক করলেন আর কী নিয়ে যেন (উভয়ের মধ্যে)
একটু হাসাহাসি হল; জনৈক মাঝবয়েসি লোককে বললেন-
তাড়া নেই, সিগারেটটা শেষ করে উঠুন; আমাকে দেখে
বললেন- ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে, গায়ে জড়ানোর মতো
চাদর ব্যাগে আছে নিশ্চয়ই; আশ্চর্য, এটাও তো ওঁর
জানবার কথা নয়; বাস (ঠিক সাড়ে আটটায়)
ছাড়ল, রোদ উঠছে, উনি নেমে গিয়ে আমাদের
বিদায় জানালেন; শুনলাম সামনের সিটের
ঐ ভদ্রমহিলা শিশুটিকে বলছেন – ওঁকে বাই বাই করো,
ওঁকে বাই বাই করে দাও।

সময়টা শীতকাল- ‘বেশ শীত-শীত করছে’. আর এই শীতের মাঝেই তিনি পরিষেবকের ভূমিকায় নিয়োজিত। অপরের শীত নিবারণের বিষয়েও সচেতন- “গায়ে জড়ানোর মতো চাদর ব্যাগে আছে নিশ্চয়ই;”, এই ‘নিশ্চয়ই’ শব্দটি উক্ত ব্যক্তির দীর্ঘদিনের পরিষেবক হিসাবে অভিজ্ঞতাও মানুষ হিসাবে আরেক মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতির পরিচায়ক-যাক বিকে আশ্চর্য চকিত করেছে- “আশ্চর্য, এটাও তো ওঁর জানবার কথা নয়;”. তাইতো কবি আগাগোড়া এই সামান্য কর্মজীবী মানুষটিকে ‘পথেরদেবতা’ বলেছেন। সেই দেবতাকেই কবি ‘দিচ্ছেন’, ‘জিজ্ঞেস করছেন’, ‘এক মহিলাকে বললেন’, ‘এক বৃদ্ধাকে হাত ধরে তুলে দিলেন’, ‘হ্যাণ্ডশেক করলেন’, ‘উনি নেমে গিয়ে আমাদের বিদায় জানালেন’-প্রভৃতি আপনি/আজ্ঞা মূলক শব্দের দ্বারা সম্মান প্রদর্শন করলেন। সমভাবেও ইক্রিয়ামূলক পদগুলি দিয়ে সেই ব্যক্তির বিবিধ কর্মকাণ্ডের নমুনা তুলে ধরলেন। কী কী সেই কর্ম, যা এই সামান্য উপার্জনের মানুষটি করে থাকেন, নিঃশর্তে -ভালবাসায়-মানবিকতায়! তিনি প্রত্যেক যাত্রীর কুশল জিজ্ঞেস করেন, সিটের ব্যবস্থা করেন, বৃদ্ধাকে এক্সপ্রেস বাসে তুলে দেন, পরিচিত এক্সপ্রেস ড্রাইভারের সাথে হ্যাণ্ডশেক করেন, জনৈক মাঝবয়েসি লোকটির না শেষ হওয়া সিগারেটেরও খেয়াল রাখেন, কবির কাছে শীতের চাদর থাকার বিষয়টিও খোলসা করেন। এমন কী স্কুলগামী ছাত্রদের সাথেও সমান সখ্যতা দেখান-হাল হকিকতের খরব রাখেন, ইন্ডিয়া যে ক্রিকেট সিরিজে এবার ভাল খেলবে সে ভরসাও দেন-বৃষ্টির কারনে খেলা যে পণ্ড হবে না, ওই কচি কাঁচাগুলোকে আবহাওয়ারও পূর্বাভাস দেন। সুখ-দুঃখের সাথী কাব্যের প্রকাশকাল ২০০৬, এর রচনাকাল ২০০৬ এর পূর্বের কয়েক বছর, সে সময় পর্বে ভারত রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ক্রিকেট খেলছে, পথের দেবতা সে খবর নিশ্চয় রাখেন। তিনি ক্রিকেটপ্রেমী ও বাৎসল পরায়ন। সেই দেবতার পরিষেবার সাথেই তাঁর আন্তরিক ব্যবহার কবিসহ আমাদেরও আকর্ষণ করে। কচি কাঁচা, মহিলা, মাঝবয়েসি লোক, বৃদ্ধা, এমনকী কবির সাথেও তাঁর আন্তরিক ব্যবহার-বাক্যালাপ-পরিষেবা। একই ব্যক্তি বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মানুষের সাথে তাদের সমপর্যায়ে গিয়ে নিজেকে মেলে ধরছেন। এটাই পথ চলতে গিয়ে উৎপলকুমার বসুর প্রাপ্তি-যা তাঁর ভাবনাকে তাড়িত করেছে। পথ চলতে গিয়ে তিনি ভিখিরিকে দেখতে পান, হাবা যুবকের হাসি নিয়ে আসেন, লোকাল ট্রেনে হকারদের ডাকে জেগে ওঠেন, পথের যত্রতত্র সুরসুন্দরীদের দেখেন যাঁরা আদতে ভিখিরি যাঁরা সামান্য খাবারের জন্য কুকুরের দলে মিশে যান, খাবার হোটেলে এক কিশোরকে খাবার পরিবেশন করতে দেখেন।বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়-কবির চেতনার স্পর্শে কবিতায় স্থান করে নেয়-যাদের আবেদন যথেষ্ট মানবিক। সেই নিম্নবিত্ত জীবীদেরই একপ্রতিনিধি এই পথের দেবতা, যেমন হকার বা হোটেলের বয়টি।

কবিতার গঠনগত দিক থেকে এটি একটি লাইনের কবিতা, যার বাক্যাংশ উনিশটি।যেখানে ৫টি হাইফেন পথের দেবতার বক্তব্যকে কোটেশন ছাড়াই তুলে ধরেছে, হাইফেনকে এভাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উৎপল অনবদ্য। শেষের হাইফেনটি শিশু সমেত ঐ ভদ্রমহিলার। এবং আধুনিককালের বিদায় সূচক আলাপনের কাজ করেছে, ‘ঐ ভদ্রমহিলা শিশুটিকে বলছেন– ওঁকে বাই বাই করো,’ হাইফেনের পূর্বের অংশ কবিকৃত বর্ণনা/ পথের দেবতার কাজের বিবরণ। হাইফেনের পরের অংশগুলি ঐ দেবতার স্ব-উচ্চারিত আন্তরিক বাক্য ব্যায়। সবশেষেরটি শিশুমাতার।বর্ণনা ও ডায়লগের এ যেন এক সুচারু মেলবন্ধন। আবার গদ্য ও কবিতার একত্র সমাবেশ। আবার সেমিকোলনের ব্যবহার দেখুন! সেটি ঐ দেবতার ডায়লগ ও কবির বর্ণনার সংযোজক চিহ্ন যেন-
“ হ্যাঁ, প্রথম দুটো সিট আপনাদের; কয়েকজন স্কুলের ছাত্রকে বললেন-”
“বৃষ্টি হবে না, বাজি রইল; এক বৃদ্ধাকে হাত ধরে তুলে দিলেন”
আবার এই সেমিকোলন ব্যবহারের মাঝেও ভ্যারাইটি আছে, কাজে লাগিয়েছেন কমা চিহ্নকেও। কমা চিহ্ন ব্যবহার করেই সেমিকোলনের মাধ্যমে ডায়লগ ও বর্ণনার বিবিধ তারে খেলেছেন উৎপলকুমার বসু। মোট আটটি সেমিকোলনের ব্যবহারও আমরা দেখে নিতে পারি-
১ম সেমিকোলনের পূর্ব ও উত্তর অংশ:- (কী খবর, সব ভালো তো; এক মহিলাকে (শিশুসমেত) বললেন) =পথের দেবতার ডায়লগ; কবির বর্ণনা
২য় : -(প্রথম দুটো সিট আপনাদের; কয়েকজন স্কুলের ছাত্রকে বললেন) = ডায়লগ; বর্ণনা
৩য় :- (বৃষ্টি হবেনা, বাজি রইল; এক বৃদ্ধাকে হাত ধরে তুলে দিলেন) = ডায়লগ; বর্ণনা
৪য় :- (একটু হাসাহাসি হল; জনৈক মাঝ বয়েসি লোককে বললেন) = বর্ণনা; ডায়লগ
৫র্থ :- (সিগারেটটা শেষ করে উঠুন ; আমাকে দেখে বললেন) = ডায়লগ; বর্ণনা
৬ম:- (চাদর ব্যাগে আছে নিশ্চয়; আশ্চর্য, এটাও তো ওঁর )= ডায়লগ; বর্ণনা
৭ষ্ঠ:- (জানবার কথা নয়; বাস (ঠিক সাড়ে আটটায়) ছাড়ল= বর্ণনা; বর্ণনা
৮ম:- (বিদায় জানালেন; শুনলাম সামনের সিটের)= বর্ণনা; বর্ণনা। মোট আটটি সেমিকোলনকে ব্যবহার করে, ডায়লগ ও বর্ণনার কবিকৃত কবিতা কারিগরি এই কবিতাটি। সেইসব সেমিকোলন কী কাজটা করল তাও একবার ভেবে দেখা যেতে পারে। সেমিকোলনের আশে পাশে, ডায়লগ ও বর্ণনা ৫ বার এসেছে, শুধু বর্ণনা ও বর্ণনা রেখেছেন ২ বার, বর্ণনা ও ডায়লগ থেকেছে ১ বার। এদের অনুপাত করলে দাঁড়ায় ৫:২:১ অর্থাৎ তিনি ‘পথের দেবতা’র ডায়লগ ও নিজের বর্ণনাকে (৫বার) বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সেই পথের দেবতার কথা বা কর্মকেও তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বর্ণনাতেও সমানভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাই ৮ বাক্যের মোট ১৬টি ডায়লগ ও বর্ণনার অনুপাত করলে আমরা দেখি সেখানে ডায়লগ অপেক্ষা বর্ণনার আধিক্য বেশী, যার ডায়লগ ও বর্ণনার অনুপাত ৬ : ১০। এই বাক্য গঠনের ধরণটাও আমাদেরকে গণিত শাস্ত্রের কাছে যেতে বাধ্য করে, নইলে কবির মনের তলকে পরিমাপ করা যায় না। যদিও গণিত শাস্ত্র সাহিত্যের ভর পরিমাপ করতে পারে না, তবুও তার কিছুটা হদিশ তো দিতে পারে। বিজ্ঞানের ছাত্র, পর্যবেক্ষক, কারিগর উৎপলের মনের ভাবকে কিছুটা হলেও তুলে ধরতে সাহায্য করে।

কবিতাটিতে আর কি কিছু আছে। রহস্যময় উৎপলে তো অনেক কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়। কবিতাটিকে একটি ছোট নাটিকা বা পথ নাটিকাও বলা যেতে পারে। যার-
পটভূমি/প্লট= বাসস্ট্যান্ড, নিত্য যাত্রার কাহিনী
কাল= শীতকাল, সকাল সাড়ে আটটা
নাটকের সূত্রধর= কবি
কেন্দ্রীয় চরিত্র= বাসস্ট্যান্ড সংস্থার পরিষেবক
অন্যান্ন চরিত্র= শিশুমাতা, স্কুলের কয়েকজন ছাত্র, একবৃদ্ধা, এক্সপ্রেস বাসের ড্রাইভার, জনৈক মাঝবয়েসি ভদ্রলোক, এবং কবি।
সংলাপ= পরিষেবক ও অন্যান্য চরিত্র (যদিও অন্যান্য চরিত্রের মুখে কবি ভাষা দেননি), পরিষেবক ও কবি।
সংগীত= ‘বাই বাই’ শব্দ চারটি যেন বিদায়ের একটা সুর সংযোজন করেছে।
নামকরণ= পথের দেবতা (কবি সেই মানুষটির আন্তরিক ব্যবহার দেখে আপ্লুত, নইলে এই রোজ দেখা, সামান্য বিষয়ের পিছনে কবি এত বাক্য ব্যায় কেন করবেন।)
উৎপলের কবিতা এরকমই, বিভিন্ন কোন থেকে দেখলে তার বিভিন্ন ধরন চোখে ঠেকে। সেখানে থাকে চোখে দেখা পথের বর্ণনা, আন্তরিক মননের ছায়াপাত আর এক স্বতন্ত্র কবির কবিতা-কারিগরী। একবার পাঠ করে তাকে ‘বাই বাই’ করতে গেলে, ওই শিশু মাতার মতই আমাদের প্রাণও সেখানে মিশে যেতে চায়, পথের দেবতার প্রতি, সদা ভ্রাম্যমান পথিক-কবির কবিতার প্রতি।