ঋণ ও অন্যান্য ॥ অলোক সেন

ওহ! অতীত

রোস;
গামছা আর জল আনি

এই চোখে ছানি,
মনে পড়ল এতদিনে।
না কি দেখলে শব্দের হাতছানি।

তোমাকে তোয়াজ চার দিকে
কত লেখালিখি,
খুব চলছে দাকের গহনা।

এ কেমন ধারা
সিন্ধু, গ্রীস, মায়ামাখা পথ
বহু ভাঙচুর,
খুঁড়ে চলি ধুলোপথ, বিখণ্ড সময়।


সস

প্রণয় ঘেঁটেছে সসে
অথচ,
গরম ছিল চিকন কাটলেট।

লোকে জানে আছে রসেবশে
লেপ্টে ইলিশে মাগুরে।

তারপর, তারপর! ঝড়।

সাঁতারে নামেনি কেউ,
সদানন্দ এলো আর,
ছায়ারা দু-দিন ছিল নগরের উপকূলে।

ট্রলার ফিরেছে শূন্য
মেছুনীরা হা-হুতাশ
সাটার টেনেছে।


গুণধর

সফুর্তি মহা’
গুণধর শব্দের পিছনে
ধোঁয়া এসে লাগে।

প্রবেশ অসাধ্য ব্যূহ
তবুও ভেঙেছে কোলাহল—
যেন কতদিন পরে উঠেছে নিষেধ

তরলে ডুবিয়ে মিখ পথভোলা কবি।

মৌসুম

কলম টানছে বড়
টীকাভাষ্যে তাকে আর শহিদ কোর না,

ধোঁয়ার আড়ালে গ্লাস
মাথা ভরা খেয়ালি কুসুম,
নৌকাতে যে দড়ি বাঁধা

এখনও নির্গুণ ।


ঋণ

বেলাদির কথা ধার নিয়ে
বলেছি কৃতিকে –
মৃত সঞ্জীবনী ।

স্বেদে বহমান
স্বাদেও অপরিসীম দাহ—

সে শুধু, অ-ঋণী।


দাহ

খালি পেট হে বাৎস্যায়ন,
দেহপটে যদিও বেজেছে সানাই
তোমার লিখন পাঠে – দিশাহারা।

সংলাপ সংক্ষেপ রেখে
স্তবে ও স্তুতিতে রমণ সার্থক
বাসি ফুল তবু তাজা, মন্ত্রগুণে ;
বুকের ওপরে তার দেবী বেশ।

কিঞ্চিৎ ছিল যে ফাঁক
সেই পথে সব্জিওয়ালা বলেছে গোপনে—
সে হোটেলে মাছভাজা ভালো।

আগুন নিয়েছে বুকে সে জা ভালোবাসে।


চারণ ক্ষেত্র

একদিকে পুষ্পক্ষেত্র, অন্যদিকে আনাজের ভূমি
মাঝখানে মৃদু পদপাত
হে রঙিন, বড় তৃনহীন
কোথায় চরাবে ধেনু কালের রাখাল!

গোধন ব্যাকুল চরে, নিরুপায়
দেহটি দুর্বল, সময় প্রার্থনাহীন
কিভাবে যে কাটায় ক্ষুধা-কাল,

দুন্দুভিতে সে ডেকেছে আয়।