একটা ছেলে-ভোলানো গল্প ॥ অরুণ কর




কথা হচ্ছিল আমার বছর পাঁচেকের বালক পুত্রের সঙ্গে। প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে ফিরে তার সঙ্গে নানারকম কথা হয়। সব শেষে অবধারিতভাবে যে প্রশ্নটা করে, আমি তার উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করি, সেটা হল, সে বড় হয়ে কী হতে চায়? এই প্রশ্নের উত্তরে সে প্রতিদিনই খুব মজার মজার ইচ্ছের কথা বলে।কোনদিন হয়ত সে বলল, বাস-কন্ডাক্টর হবে। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে, কন্ডাক্টর কাকুদের কী মজা, বাসে চড়তে পয়সা লাগে না, অথচ ব্যাগ-ভর্তি পয়সা এবং হাত-ভর্তি টিকিট।
পরের দিনই সে তেলে-ভাজা কিংবা ফুচকাওয়ালা হতে চায়। তাহলে নাকি বিনিপয়সায় যত খুশি খাওয়া যায়।
আমি ওর বৈষয়িক প্রজ্ঞা দেখে প্রতিদিনই চমৎকৃত হই।

সেদিনও টিভিতে খবরের সঙ্গে বাপ-বেটার সান্ধ্য কথোপকথন চলছিল। হঠাৎ সে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসল, আচ্ছা বাবা, তুমি ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলে?
প্রশ্নটা শুনে একটু ঘাবড়ে গেলাম। ছোটবেলায় আমি কি সত্যিই কোন কিছু হতে চেয়েছিলাম? মনের আনাচে-কানাচে আঁতিপাঁতি করে খুঁজতে খুঁজতে শৈশবের কিছু এলোমেলো স্মৃতি আমার মনের পর্দায় ভেসে উঠল।
আসলে ছোটবেলা থেকে চোর এবং ভিখিরি- এই দু’ধরণের পেশার প্রতি আমার ছিল প্রবল আগ্রহ। আর এই আগ্রহ আমার মধ্যে যিনি চারিত করেছিলেন, তাঁর কাছে আমার অ আ ক খ-য়েরও হাতেখড়ি।
ভদ্রলোকের নাম ছিল সুধাময় বোস। আমরা ডাকতাম ধলাদাদু। অসম্ভব ফর্সা গায়ের রঙ, ঘাড় পর্যন্ত একমাথা সাদা ধবধবে কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, চোখে চৌকো মোটা কালো ফ্রেমের হাই-পাওয়ারের চশমা। সাদা ধুতি আর হাফহাতা ফতুয়া পরে বাঁশের হাতলের রঙচটা জীর্ণ একখানা ছাতা বগলদাবা করে তিনি আমাদের পড়াতে আসতেন। শুনতাম, আমার বাবা-পিসিদেরও পড়াশুনোর প্রথম পাঠ তাঁর কাছেই। আমার বাবা-মা তাঁকে ডাকতেন ‘কাকাবাবু’।

অসম্ভব আত্মসম্মানবোধ ছিল ভদ্রলোকের। দেশে থাকতে ধলাদাদুদের নাকি এত বিষয়-সম্পত্তি ছিল যে নিজে গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করলেও কখনো বেতন নেননি। দেশভাগের পর সর্বস্ব খুইয়ে অসীম দুর্দশার মধ্যে কাটালেও কখনো কারো অনুগ্রহ নিতেন না।
শেষজীবনে কপর্দকহীন এবং অপরিমেয় দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থাতেও তাঁর কাছে একদা ঋণী কেউ কোনকিছু দিতে চাইলে জিজ্ঞেস করতেন, সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু আগে বল, তার জন্যে আমাকে কী করতে হবে।
আমার বাবা অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাঁকে আমাদের বাল্যশিক্ষার ভার নিতে রাজি করিয়েছিলেন, যাতে আমাদের কঠোর বিদ্যাভ্যাস করানোর বিনিময়ে তিনি আমাদের বাড়িতে রাতের আতিথ্যটুকু নিতে সম্মত হন।
বাবা বলতেন, শিক্ষার সঙ্গে চরিত্র গঠন না হলে মানুষ এবং পশুতে ভেদ থাকে না।
কিন্তু সমস্যা দেখা দিল আমাকে নিয়ে। জ্ঞানোন্মেষের পর থেকে প্রবল বিদ্যানুরাগের কারণে ধলাদাদু এলেই আমি হয় শোওয়ার ঘরের চৌকির তলায় নয়ত নাপিতদের কয়েতবেল গাছের মগডালে চড়ে আত্মগোপন করতাম। কোনদিন নিতান্ত ধরা পড়ে গেলে তখনি আমার প্রবল ‘বড় বাইরে’ পেত, নয়ত আছাড়ি বিছাড়ি পেট কামড়াত।

ধলাদাদু ভবিষ্যদ্বাণী করে আমার মাকে প্রায়ই বলতেন, বৌমা, বড় হয়ে তোমার ছেলে নির্ঘাত চোর হবে।
তারপর তিনি এক তস্কর গুরু এবং তস্য শিষ্যের গল্প ফেঁদে বসতেন। তস্কর চূড়ামণি গুরুদেব দীর্ঘ তালিমের পর শিষ্য চুরিবিদ্যায় কতটা সড়গড় হল তা পরীক্ষা করার জন্যে তাকে নিয়ে হাজির হলেন এক ঝাঁকড়া গাবগাছের তলায়। গুরু আগেই দেখে রেখেছেন, ঐ গাবগাছের মগডালে এক ঘুঘু দম্পতি ডিম পেড়ে পালা করে তা দিচ্ছে। তিনি সশিষ্য গাছে উঠলেন ঘুঘুর পেটের তলা থেকে ডিম চুরি করতে। প্রথমে গুরুদেব একটা ডিম চুরি করবেন, তারপর অবশিষ্ট ডিমটি হস্তগত করার দায়িত্ব শিষ্যের। শর্ত একটাই। ঘুঘু যেন তস্করদের উপস্থিতি টের পেয়ে উড়ে না পালায়।
যথাসময়ে শিষ্যসহ সডিম্ব গুরুদেব গাছ থেকে অবতরণ করলেন। শুন্যনীড়ে ঘুঘু তখনো তা দিয়ে চলেছে। নিচে নেমে শিষ্যের কাছে তিনি ডিম দেখতে চাইলেন। শিষ্য তার ট্যাঁক থেকে একটা ডিম বের করে দেখাতে গুরুদেব খুব খুশি। এবার তিনি নিজের হাতের কাজ দেখাবার জন্যে ট্যাঁক হাতড়াতে লাগলেন। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন, সেখানে ডিম নেই। অথচ তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, একটু আগেই তিনি ঘুঘুর পেটের নিচ থেকে ডিম চুরি করে ঐ ট্যাঁকে রেখেছেন। শিষ্যের কাছে বেইজ্জতির একশেষ।
এবার সলাজ শিষ্য তার ট্যাঁক থেকে আরেকটা ডিম বের করে গুরুদেবের পায়ের কাছে রেখে বেয়াদপির জন্যে ক্ষমা চাইল।

-বুঝলে দাদুভাই, একেই বলে গুরুমারা বিদ্যে।
গল্প শেষ করে বাড়ি কাঁপিয়ে হো হো করে হাসতেন ধলাদাদু।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলতেন, অমন কঠিন চুরিবিদ্যার চাইতে পড়াশুনো ঢের সহজ, তাই না দাদুভাই?
কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। বিদ্যাভ্যাসের প্রতি আমার প্রীতি ক্রমশ এমন বাড়তে শুরু করল যে, আমি কখনো স্লেট ভেঙে ফেলি তো কখনো বই ছিঁড়ে ফেলি। এর সঙ্গে পালা করে পালানো তো আছেই। ধলাদাদুর ভবিষ্যদ্বাণীকে অভ্রান্ত প্রমাণ করার তাগিদে আমি স্কুল-পালিয়ে গাছে গাছে ঘুঘুর বাসা খুঁজে ফিরি। কিন্তু বিস্তর খোঁজাখুঁজি করে দু’একটা চড়ুই কিংবা শালিখের বাসা যদিও বা পেলাম, ঘুঘুর বাসার হদিশ মিলল না।
শেষমেশ নিরুপায় হয়ে ভাবলাম, আপাতত শালিখ দিয়ে হাতেখড়ি হোক। পরে না হয় ঘুঘুর উপর বিদ্যে ফলানো যাবে।
কিন্তু চড়ুই হোক কিংবা শালিখ, বাসার দিকে এগোলেই তারা ফুড়ুৎ, ডিম চুরি তো অনেক দূরের ব্যাপার। শেষে একপ্রকার মরিয়া হয়ে পাখি ছেড়ে জীবনের প্রথম চুরিটা করে ফেললাম, বাবার পকেট থেকে, গোটা একখানা এক টাকার নোট। তবে সেই চুরির পেছনে কতটা ধলাদাদুর অনুপ্রেরণা আর কতটা আইসক্রিম নামক

সদণ্ড রঙিন বরফের প্রতি অনুরাগ ছিল তা হলফ করে বলতে পারব না।
কিন্তু বিধি বাম। কাঁচা চুরি ধরা পড়ে গেল। এর পর বাবা-মার কাছ থেকে যৌথভাবে এমন সমাদর লাভ করেছিলাম যে আমার ঠাকুমাকে টানা এক সপ্তাহ আমার পিঠে রসুন-তেল মালিশ করতে হয়েছিল।
এহেন উদার আপ্যায়ণের পরে সবাই ভাবল, চুরির ভূতটা আমার ঘাড় থেকে বুঝি চিরতরে নেমে গেল। আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু আরেকটু বড় হওয়ার পর আমি লক্ষ্য করলাম, আমার চুরি করার সাহস চলে গেছে বটে, কিন্তু তাস্কর্যের প্রতি আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি। একান্তে কোন লোভনীয় সামগ্রী কিংবা টাকা-পয়সা নজরে এলেই আমার হাত নিসপিস করত।
আমাদের হাটে বরাবরই পকেটমারের বড় উপদ্রব ছিল। একদিন শুনলাম, একজন পকেটমারধরা পড়েছে। আমাকে আর পায় কে। জ্বলজ্যান্ত একটা পকেটমার দেখতে পাওয়া কি কম সৌভাগ্যের কথা। ওমা, গিয়ে দেখি, একটা রোগাভোগা লোক, হাটুরে কিলের ঠ্যালায় কাদার মধ্যে মুখ গুঁজড়ে পড়ে আছে। কানের পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছে, সারা গায়ে কালসিটে দাগ।

সেদিন প্রথম উপলব্ধি করলাম, আর যাই হোক, চৌর্যবৃত্তি আমার কম্মো নয়।
অথচ পড়াশুনোর প্রতি আমার অনুরাগ পূর্ববৎ। ফলে হাজের মাস্টারের প্রাইমারি স্কুলে আমার নাম লেখানো থাকলেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমি কখনো ঘোষেদের কলাবাগানে আত্মগোপন করে, কখনো বা বেনেদের কাঁঠাল গাছের খোদলে কাঠবেড়ালির ছানা খুঁজে বেড়াতে লাগলাম।
একদিন বিরক্ত হয়ে আমার মা ধলাদাদুকে বললেন, আপনি বোধ হয় ঠিক বলেননি কাকাবাবু।
ধলাদাদু একটু অবাক হলেন। বললেন, কোন কথাটা বলত বৌমা?
মা বললেন, ওর যা মতিগতি, চুরিবিদ্যে শেখার মত ধৈর্যটুকুও ওর নেই। আপনি দেখে নেবেন, ওকে শেষমেশ ভিক্ষে করে খেতে হবে।
মার কথা শুনে ধলাদাদু খুব হাসলেও বিষয়টা আমার কিন্তু খুব মনে ধরে গেল। ওসব চুরিচামারির চাইতে বরং ভিক্ষাবৃত্তিই ভাল। নির্ঝঞ্ঝাট, মারগুঁতোনের ভয় নেই।

চুরির মতলব ছেড়ে এবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভিখিরি দেখা আমার নেশা হয়ে দাঁড়াল। এ সময়ে পথেঘাটে হাটেমাঠে ভিখিরি গিস গিস করত। একে তো চতুর্দিকে ছিন্নমূল উদবাস্তুদের ভিড়, তদোপরি আমাদের গ্রামের শেষপ্রান্তে ছিল কাহারপাড়া। ওদের বেশ কিছু লোক নানা ভেক ধরে ভিক্ষে করে বেড়াত। গ্রামের সব বাড়িতেই ছিল তাদের নিত্যি গতায়াত।
ওদের মধ্যে এসেম পাগলকে আমার খুব মনে ধরে গেল। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, সে একখানা কাঁথা পরে আরেকখানা গায়ে জড়িয়ে ঘুরে বেড়াত। সেও ভিখিরি, কিন্তু তার ভিক্ষে করার ধরণটি ছিল কিছু বিচিত্র। সে বাড়িতে ঢুকত একখানা পরিপাটি করে ধোয়া আঙট কলাপাতা নিয়ে। তারপর একটু ছায়ামত জায়গা দেখে চুপচাপ বসে পড়ত। খেতে না দেওয়া পর্যন্ত সে নট নড়ন চড়ন, এমনকী স্পিকটি নট। শুধু মাঝে মাঝে আকাশের দিকে হাত-পা ছুঁড়ে কার সঙ্গে যেন ইশারায় কথা বলত।
খাওয়া হলে হাত বাড়িয়ে হুকুমের স্বরে বলত, আট আনা পয়সা দ্যাও।
তাকে যদি বলা হত, এই তো তুমি পেট ভরে খেলে, আবার পয়সা কেন?
অমনি সে খুব অবাক হয়ে বলত, ও ম্যাগো, আমি কনে যাবো। ভাত খালাম তুঙ্গা বাড়ি, একন বিড়ি-তামুকির পয়সাডা কি অন্য বাড়ি চাতি যাবো? আমার কি নাজ-নজ্জা নেই গা?
যখন বাড়িতে কেউ থাকত না, সে সময়ে আমি কাঁথা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এসেম পাগল সাজতাম। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও মুখ বন্ধ রেখে হাত-পা নেড়ে আকাশের সঙ্গে কথা বলাটা রপ্ত করতে পারতাম না।

কাহার পাড়ার ফকিরদাসীও মাঝে মাঝে এসে আমাদের উঠোনে পাত পেড়ে বসে পড়ত। তবে সে কখনো খালিহাতে আসত না। পুকুর থেকে তুলে-আনা কলমি শাক, পদ্মা থেকে ধরা ছোট ছোট কাঁকড়া কিংবা অন্যের বাগান থেকে চুরি-করামোচা বা থোড় মাটির দাওয়ায় আলগোছে নামিয়ে রেখে সে আমার মায়ের রান্নার সুখ্যাতি শুরু করত। খুব তড়বড় করে কথা বলত ফকিরদাসী। মা’কে খুশি করতে কবে কার বাড়িতে কী খেয়েছে এবং তা আমার মায়ের রান্নার চাইতে কত নিকৃষ্ট, সবিস্তারে সেই গপ্পো ফেঁদে বসত।
আমার মা বিরক্ত হয়ে বলত, তার মানে তুই অন্যের বাড়িতে গিয়ে নিশ্চয় আমার রান্নার নিন্দে করিস?
ফকিরদাসী অমনি এক হাত জিভ বের করে বলত, মাইরি বলচি, আমার ট্যাঁপা-টেঁপির দিব্যি। বিশ্বাস কর দিদি, তোর রান্না একবার যে খেয়েচে, সারাজীবন মনে রাকপে। এট্টুও বানিয়ে বলচি নে, বিশ্বাস না হয় তুই আমার ট্যাঁপা-টেঁপিরে শুধোস।
ট্যাঁপা-টেঁপি ফকিরদাসীর ছেলে-মেয়ে। তারাও মাঝে মাঝে দুটি ভাতের আশায় আমাদের উঠোনে ঠাঁয় বসে থাকত।

কানা, খোঁড়া, নুলো, বৃদ্ধ, জোয়ান, হরেক রকমের ভিখিরি তো আসতই, কিছু কিছু পার্ট-টাইম ভিখিরিও সে সময়ে আমার পর্যবেক্ষণের বিষয় ছিল। চৈত্র মাসে দলে দলে গৃহী-সন্ন্যাসীরা এসে ‘বাবা তারকনাথের চরণের সেবা লাগি’ হাঁক পেড়ে চাল-পয়সা, কলাটা-মুলোটা নিয়ে যেত। বর্ষাকালে আসত কালো-কোলো রুগ্ন চেহারার মহিলারা, মাথায় তাদের জবজবে সিঁদু্‌র, হাতে মাটি-লেপা গোলাকার পেটির মধ্যে সবুজ কালনাগিনী। বাড়ি বাড়ি বেহুলা-লখীন্দরের গান গেয়েমা মনসার নামে ভিক্ষে চাইত।
মাঝে মাঝে পা-পর্যন্ত কালো আলখাল্লা-পরা একটা তালঢ্যাঙা লোক আসত। তার দু’চোখে সুর্মা, বুক পর্যন্ত লম্বা দাড়ি। চামর দুলিয়ে সুর করে পীরবাবার গান গাইত সে। গৃহস্তের গরু-বাছুরের মঙ্গলের জন্যে কী-সব জল-পড়া, তেল-পড়া দিয়ে পয়সা নিয়ে যেত।
আমি হতাশ হয়ে ভাবতাম, কবে যে আমার বুক-পর্যন্ত দাড়ি গজাবে।

আমাকে বহুক্ষণ নিরুত্তর দেখে আমার পুত্র যে কখন টিভির খবরে মনোনিবেশ করেছে, খেয়াল করিনি। চমক ভাঙল ওর ডাকে। তাকিয়ে দেখি, টিভির পর্দা জুড়ে গোপন ক্যামেরায় তোলা অনেক খ্যাত-কীর্তি সম্মাননীয় মানুষের উৎকোচ গ্রহণের চলমান ছবি।
আমার বালক পুত্র খুব উত্তেজিত। বলল, বাবা, দেখ কত্তো টাকা। কেমন নিয়েই লুকিয়ে ফেলছে। ওরা কারা, বাবা?
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ওরা অত্যন্ত সফল মানুষ, বাবা। আমি ছোটবেলায় যা যা হতে চেয়েও হতে পারিনি, ওরা একসঙ্গে সবই হয়েছেন।
আচমকা লোড-শেডিংয়ে ঘর অন্ধকার হয়ে গেল। সে আমার কোলে চড়ে গলা জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা ভয় করছে।
আমি ওর ছোট্ট শরীরটা আঁকড়ে ধরে বললাম, আমারও।