একটি গাছের কথা ও অন্যান্য ॥ সৈয়দ নৌসাদ আলী


একটি গাছের কথা

এসো আজ একটা গাছের কথা বলি
যতবার সেই গাছের কাছে দাঁড়াই
সে বলে ভালোবাসা দিতে এসেছো?

সে আমার ডাকনাম জানতে চাইলো
আমি বললাম ভালোবাসা
সে আমার ঠিকানা জানতে চাইলো
আমি বললাম ভালোবাসা
সে আমার স্বপ্ন জানতে চাইলো
আমি বললাম ভালোবাসা।

গাছ বলল, তুমি কি শূন্যতার মধ্যে হাঁটতে জানো?
তুমি কি মানুষের ক্ষয় দেখেছো?
মানুষের বেঁচে থাকা কিভাবে সমুদ্রকে
মৃত্যুর চিঠি লেখে?
তুমি কখনো পাপকে ছুঁয়ে দেখেছো?
যদি না ছুঁয়ে থাকো তাহলে
তুমি ভালোবাসা হতে পারো না।
যে ভালোবাসার বুক পাপের কষ্টে ভেজেনি
তার ঠিকানা ভালোবাসা হতে পারে না
ঠিকানা তো তাকেই বলে যেখানে একজন অন্ধ গায়ক
তার দো-তারায় সমস্ত বিষ ঢেলে দিচ্ছে।


বাবার শরীরে ছিল নীল ঘাম

বাবা, এই শব্দটি আমার কাছে এক সুদীর্ঘ পর্বত
এক বিরাট ল্যান্ডস্কেপ। অন্ধকার টানেল পার হওয়ার এক
বাদামি ঘোড়া।

বাবার শরীরে কখনো ঘুণ ধরেনি। শরীরে ছিল নীল লবণ।
ছোটবেলায় বাবা বলত, শরীরে কখনও ঘুণ ধরতে দেবে না।
শরীরে ধারণ করবে নীল লবণ। বুকের বিছানায় কখনও
জলন্ত হারিকেন রাখবে না।
আমি এসব তখন কিছুই বুঝতাম না।

একদিন বাবা বলল, শোনো খোকা, আলো দেখে উচ্ছ্বসিত
হবে না। আলোয় উচ্ছ্বসিত হওয়ার আগে অন্ধকারকে চিনতে
শিখবে। আমি আজও অন্ধকারকে চিনতে শিখলাম না।
হোঁচট খাই প্রতি পদে পদে।
তবে রুখে দাঁড়াতে শিখেছি বাবার কাছেই।

বাবা ছিলো বয়কটের দলে। বাবার তেমন কিছু ছিল না।
বৃষ্টির ফোঁটার মত এক নিঃস্ব মানুষ। তবে সে জীবন খুলতে
পারতো। তার ভেতরে ছিল এক গভীর শেকড়।
সেই শেকড় বিস্তার পেয়েছিল সূর্যের চোখের বারান্দা পর্যন্ত।

বাবার নখে ছিল আগুনের দরজা। বুকে ছিল এক ফাঁকা মাঠ
ও বেহালার কান্না। সেই ফাঁকা মাঠে দৌড়াত এক বাদামি
ঘোড়া। ঘোড়ার খুর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসত হাস্নাহেনার গন্ধ।


পতনের সংকলন ও পেনসিলের কালো দাগ

অন্ধচুমু নোনা জলে ভিজে যায়
তুমি হয়ত জানোনা তোমার প্রতিদিনের নগ্নতায়
একটি করে মৃত্যু লেখা থাকে।
কবরের ফুটো থেকে যতদূর চোখ যায়
আকাশটা বারবার খুন হতে দেখি।
জানি পাখিদের সর্বনাশের অ্যালবাম নেই
রাখতে চায়ও না
তবে তারা মিথও হতে পারে না।

অন্ধদের শোক আটকে থাকে অন্ধুচুমুতে
বুকে জন্ম নেয় ক্যাকটাস
সেখানে জীবিত নাবিকরা পতনের সংকলন লেখে
আর হাঁটু থেকে বেরিয়ে আসে পেন্সিলের কালো দাগ।