একাকিত্বের মানব সাগরে ॥ বিশ্বজিৎ কর্মকার


আমার মতো থাকতে চাই

একটা জনপ্রিয় বাংলা গানে বলা হল, ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ সর্বত্র গানটি শোনা গেল। শুনতে শুনতে মনে একটা প্রশ্ন এসে হাজির হল, আমাদের বাঙালিদের চরিত্র কি পাল্টে গেল? আমরা তো জানি, বাঙালিরা আড্ডা দিতে বা গল্প করতে খুব ভালোবাসি, সকলের মাঝে থাকতে চাই, সকলের হতে চাই। তাহলে কি বিশ্বায়নের প্রভাবে আমরা পাল্টে গেলাম খুব সহজে? আমাদের আর মোড়ের মাথায় আড্ডা দেওয়া হবে না? কোথাও কোন সাহিত্যের আড্ডা হবে না? তাহলে কি আমরা আর সেরকম কোন পছন্দের মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না, যার সঙ্গে সময় অতিবাহিত করতে পারি বা আমরা কি আর কোন পছন্দমতো সুন্দর পরিবেশ বা স্থান খুঁজে পাচ্ছি না যেখানে আমরা নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি? তানসেন যেমন নির্জনে বসে গান করতেন তার ঈশ্বরকে শোনানোর জন্য, সেরকম।


এতদিনে বুঝতে পারলাম আমরা বাঙালিরা ক্ষয়ে গেছি মনে মনে। সকলের মাঝে থেকেও সকলের সঙ্গে আর কোন সম্পর্ক রাখতে পারছি না বা সম্পর্ক রাখতে চাইছি না। শামুকের মতো করে এরকম গুটিয়ে নেয়া তো এক রকমের রোগ। আমাদের মনে যখন অবসাদ এসে গ্রাস করতে থাকে, তখন আমাদের মন থেকে অনুভূতি ক্রমশ দূরে চলে যেতে থাকে, শরীর নামক বাইরের যে আবরণ সেটাও তো শামুকের মতোই হয়ে যেতে থাকে। অথচ এই শরীরও মনকে বেশ কিছুটা চালিত করে। কেন এরকমটি হল?
এরকম তো একদিনের ব্যাপার নয়। নিশ্চিত করে বলা যায় আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে গেছে। কেউ আর কাউকে খুব ভালোবাসে না, ‘সকলেই সকলকে আড় চোখে দেখে’। আমরা অবিশ্বাস নিয়ে দিনের পর দিন একই বাড়িতে থাকি, একটা কৃত্রিম সম্পর্ক তৈরি করি। এই সম্পর্কে আর যাই হোক বিশ্বাস বা ভালোবাসা থাকে না। পাশাপাশি থেকেও, একই ছাদের নিচে থেকেও, একার মত করে বাঁচতে চায় মানুষ। শরীরি ভাবে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিতির বেড়াজালে ক্রমশ জড়িয়ে থাকে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা ভীষণ ভাবে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছি। আর সেই জন্যই বিছানায় আমাকে সাধের শরীর ছড়িয়ে দিয়ে ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ শুনতে শুনতে গানের ভেতরে হারিয়ে যাই, এই গানের ভেতরে যেন আমরা আমাদের আবিষ্কারে নিয়ত নিয়োজিত থাকি। এভাবে থাকাটাই তো সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। একা হয়ে গেলে এত বড় মানব সাগরে হারিয়ে যাবার সম্ভবনা প্রবল। মেনে নিয়ে এবং মানিয়ে নিয়ে চলাটাই তো মানুষের ধর্ম। মানুষ তো কখনই পশু হতে পারে না, সাময়িক ভাবে মনের মধ্যে পাশবিক শক্তি ত্যাগ করতে পারলেই উপলব্ধি করতে পারা যাবে, পাঁকে পদ্ম ফুলের জন্ম হয়। সূর্য একা চাঁদও একা, কিন্তু একাকিত্ব তাদের কখনই গ্রাস করতে পারেনি। কারণ,তারা কখনই লক্ষ্যচ্যুত হয়নি। প্রকৃতি থেকেই তো আমরা সব থেকে বেশি শিক্ষা অর্জন করি, একা থাকার মানে লক্ষ্যচ্যুত হওয়া নয়।

নতুন করে পাব বলে

আমরা একটা অদ্ভুত আধুনিকতার মধ্যে এসে পৌঁছেছি। সকলেই প্রথম হতে চায়, সকলেই নতুন কিছু করে সবাইকে চমকে দিতে চায়, সকলেই নতুন ডিজাইনের পোশাক পড়তে চায়। মানে অমিলে অমিলে একাকারে সাজিয়ে তুলতে চায় এই পৃথিবী। মাঝে মধ্যে বেশ মজা লাগে, একই ক্লাসের একশ’জন ছাত্রছাত্রী সবাই যদি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে আমাকে ফার্স্ট করে দাও, তাহলে তিনি কাকে ফার্স্ট করবেন! দেবতার বিপদে পড়ার প্রচুর সম্ভবনা।


এরকম একটা বিষয় থেকে সমস্যা হতে থাকে। মা-বাবা ছোট বেলা থেকে তার ছেলে বা মেয়েকে বোঝায় ক্লাসে নাম্বার ওয়ান হতে হবে। ‘ওয়ান’ একটাই হয়, বেজোড় সংখ্যা, সে কারো সঙ্গে মেশে না। ওই সংখ্যার মতোই একা হতে থাকে এই ছোট্ট ছেলে বা মেয়েটি। সে ছোটবেলা থেকেই আত্মকেন্দ্রিক হতে থাকে। নিজেকে ছাড়া কাউকে বোঝে না বা কাউকে বোঝার চষ্টা করে না। একসময় তার বাবা-মাকেও সে বুঝতে পারে না, তারা কি চায়, কেন চায়। সে একসময় হয়ত ভালো ছাত্র হয়ে বড় চাকরি করে বাবা-মাকে নির্দিধায় ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। তাকে তো অনুভূতি শূন্য করে ফেলেছে ওর বাবা-মা। কেউবা ব্যর্থ হয়ে বিপন্নতা বোধ করে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে। বেছে নিতে পারে অপরাধের পথ, নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্বের পথ।


বর্তমান প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা তীব্র। কিন্তু জীবন বোধ ক্রমশ লঘু থেকে লঘুতর হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবী এখন হাতের মুঠোর মধ্যে। যে কোন মুহূর্তে আমি মনে মনে বিশ্বের যে কোন স্থানের নাগরিক হয়ে যেতে পারি। আমাদের মন সব সময় আকর্ষণীয় কিছুর দিকে দৌড়াতে চায়। এই দৌড় এরকম একবার শুরু করলে আর থামা যায় না। চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান ঘটে থাকে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যোগ্যতার অভাব অবশ্যই। নিজের সীমার কথা বেশিরভাগ ছেলে বা মেয়ে মনে রাখতে পারে না। আকাশে উড়তে চায় ঘুড়ির মতো, অবশেষে সুতা কাটা ঘুড়ির মতো দলছুট হয়ে গিয়ে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে কোথায় যেন মিলিয়ে যায়, তার আর কোন খোঁজ থাকে না। এভাবে গগন চুম্বি বাসনার স্বপ্ন দেখতে দেখতে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকতে পারে। এই ভাবে হারিয়ে গিয়ে একেবারে একা হয়ে যাবার সম্ভবনাও প্রবল।

এই প্রজন্মের মূল্যবোধহীন আকাঙ্ক্ষা যেমন তীব্র, কেবল নিজের সীমার মধ্যে সে সহসা আটকে থাকতে চায়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চায়। নিজের সুখ, ভোগ, লালসা বা বাসনার মধ্যেই জীবনের নির্বাণ দেখে সব সময়। নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। মুখোমুখি বন্ধুদের সঙ্গে বা চেনাজানা মানুষের সঙ্গে গল্প করতে ভাল লাগে না, তাই খুঁজে নিতে হয় মিথ্যের আবরণ, সেখানে নিজেকে মিথ্যে করে সাজিয়ে তোলা যায়। ঘরের এক কোণে বসে দেশপ্রেম দেখানো সহজ, কিন্তু এরা কখনই রাস্তায় নেমে এসে দেশপ্রেম দেখাবে না। যে কোন ঘটনাতে দার্শনিক বাণী পোস্ট করতে পারে, কিন্তু সে হয়তো কোনদিন দর্শনের কোন বই খুলেও দেখেনি। মুখোমুখি বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে যেতে পারে, আবার ফেসবুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতে পারে সেই মানুষটি। এ এক নতুন বিপ্লব, নতুন ধ্বংস। একটা পরিবারের সবাই যদি সারাদিন পর বাড়ি ফিরে এসেই আবার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সম্পর্ক কী আর টিকে থাকবে। আমরা কী যান্ত্রিকতার মধ্যে নিজেকে গুঁজে দেব, আমাদের কি গ্রাস করে নেবে আমাদের সাধের যন্ত্র? আমরা কি আমাদের পছন্দ করা যন্ত্রের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইব, একা হতে চাইব। নাকি ঝলমলে সূর্যের আলোতে যে প্রভাতের সূচনা হয়, পাখিদের কলরব শুনতে চাইব, আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইব নতুন আলোর উত্তাপ, সেসব বিচার করবে আগামী প্রজন্ম।

পিরামিডের মতো জীবন

মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, মানুষের জীবন পিরামিডের মতো। পিরামিডের নিচের অংশের মতো আমাদের ছোটবেলা, তখন আমাদের সকলেই আদর করে, কোলে তুলে নেয়, সকলের কাছেই প্রিয় থাকি। সেই জনপ্রিয়তা বা সবার ভালোবাসা কমতে থাকে, বা আমাদের পছন্দের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে এবং অন্যরা আমাদের কাছের থেকে দূরে চলে যেতে থাকে। এই ভাবে ছোটবেলা থেকে আমরা পদার্পণ করি স্কুলবেলাতে, সেখানে ছোটবেলার সব বন্ধুদের বা আত্মীয় স্বজনদের আনাগোনা কমে যেতে থাকে। এভাবেই এক সময় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে যায়, পুরনো বন্ধুরা হালকা হয়ে যেতে থাকে মনের থেকে।

নতুন বন্ধু নতুন জীবন, নতুনে নতুনে একাকার। সেখানে পুরনোদের সেভাবে স্থান থাকে না। ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়, তারা তাদের মতো করে জীবনকে চিনতে থাকে। দুই বুড়ো বুড়ি তারা তাদের মতো করে পৃথিবীতে সময় কাটাতে থাকে। এরপর তাদের একজনের মৃত্যু হলে, আরেক জন একেবারে একা হয়ে যায়। তার মত করে তাকে কেউ ভাবে না, বুঝতে চায় না। একাকিত্ব আমাদের জীবনে আসবেই, সেভাবেই প্রথম থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভাল বলেই মনে হয়, সেভাবেই ব্যস্ত থাকতে হবে নানা কাজের মধ্যে, শান্তি খুঁজে নিতে হবে নানা কিছুর মধ্যে। ব্যস্ত রাখতে হবে নিজেকে।

ব্যস্তজীবন এবং একাকিত্ব

গাড়ির গতি যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষেরা ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং একা হয়ে যাচ্ছে। যন্ত্রকে ত্যাগ করা যাবে না। সে আমাদের সব কিছুর সঙ্গে জড়িত হয়ে আছে, সুখে যেমন থাকে দুঃখেও থাকে। প্রয়োজনেও যেমন থাকে অপ্রয়োজনেও থাকে। আমাদের থেকে বেশি এগিয়ে থাকা প্রথম বিশ্বের নাগরিকেরা আমাদের থেকেও বেশি প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখে এবং সেভাবেই তারা জীবন কাটান। এভাবে তারা জীবন অতিবাহিত করতে গিয়ে আজ তারাই সব থেকে বেশি একাকিত্বে ভুগছে। ইউকে-তে দশ জন মানুষের মধ্যে একজনের কোন বন্ধু নেই, পাঁচ জন মানুষের মধ্যে একজন অনুভব করে তাকে কেউ ভালোবাসেনা। আমরা তো সেদিকেই যেতে চাইছি।


বিজ্ঞান অবশ্যই প্রয়োজন, প্রযুক্তি অবশ্যই প্রয়োজন, তবে মানুষকে ত্যাগ করে নয়। মানুষের জন্যই সব কিছু। মানুষ একা হয়ে গেলেই তো বলবে, ‘কেউ নেই কিছু নেই সূর্য নিভে গেছে’। এভাবে যদি সকলেই আমরা একাকিত্বের মধ্যে ডুবে যাই, তাহলে সব কিছুই তো থেমে যাবে, থেমে যাবে আধুনিকতার অহংকার, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। সকলেই ব্যস্ত হয়ে পড়বে নিজেকে নিঃশেষ করতে। এটা তো মানব জাতির বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। মানুষেরা তো এই গ্রহের শ্রেষ্ঠ প্রাণী, তারা যদি নিজেরাই নিজেদের কার্যাবলীর মধ্যে বলি প্রদত্ত হয়, তবে কী আর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কোন অহংকার থাকবে?


মানুষের জীবনের গতিময়তা কমার কোন লক্ষণ নেই, তাহলে কী একাকিত্ব আসবে অনিবার্য। এ কথার কোন নিশ্চিত উত্তর নেই, সময় এবং নতুন প্রজন্ম এর উত্তর দেবে। তবে একথা মনে হয়, একাকিত্ব এবং বিষণ্নতা গ্রাস করবে পরবর্তী পৃথিবীকে। আমরা যে কাজ করি, তার থেকে বেশি পেতে চাই সব সময়, ফাঁকি দিয়ে সকলের আগে সব কিছু পেতে চাই। এই ভাবে চললে কখনোই জীবনের পূর্ণতার সন্ধানে আমরা ছুঁতে পারবো না, যাই পেতে চাইবো, সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হবে। তখনই গ্রাস করবে বিষণ্নতা।

সৃষ্টিশীল মানুষের একাকিত্ব

সাধারণ মানুষ একা হয়ে যায়, আর একজন সৃষ্টিশীল মানুষ একা হতে চায়। সে কিন্তু প্রকৃত পক্ষে একা নয়। সে সব সময় তার কাজের মধ্যে ডুবে থাকে। সে সকলের মাঝে থেকে ‘নিজের মুদ্রা দোষে’ আলাদা হয়ে যায়। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের অনুভূতির স্তর সহজে ধরা পরে না তার পরিচিত গণ্ডির মানুষের কাছে। সাধারণ মানুষেরা যেভাবে পৃথিবী দেখে, যেমন চিন্তা ভাবনা করে, সে ভাবেই তার পাশের সৃষ্টিশীল মানুষটাকে দেখতে থাকে। এভাবে একজন সৃষ্টিশীল মানুষের পরিবারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পরিবারের মধ্যে থেকেও একটা অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে যায়। তার মনে, চিন্তায়, চেতনায় সে কাজের জগতেই থাকে। সেই জগতকে ছুঁতে পারা সাধারণ মানুষের জন্য খুব সহজ কাজ নয়। সে কিন্তু একা নয়, তার মনে অজস্র চরিত্র, ঘটনা, ঘাত-প্রতিঘাত, সুর, রঙ নানা কিছু থাকে। তাই তার সৃষ্টি আমাদের একাকিত্বের যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখে।

বাস্তব জগতে সৃষ্টিশীল মানুষ একা হতে চায়। অথচ সে বাস্তব জগৎ থেকেই তার কল্পনা, কাহিনী, সুর সৃষ্টির অবতারণা করেন। সে তাহলে মনে মনে যে কল্পলোকের জগতে বিচরণ করে, সেখানে বাস্তব এবং কল্পনা মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। সেই জগতের সব কিছু তার সঙ্গে সময় যাপন করে। যদি কোন সৃষ্টিশীল মানুষ একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে, বা সে নিজেকে একা বা অসহায় মনে করে, সেদিন থেকেই তার সৃষ্টি দুর্বল হতে থাকবে। এলোমেলো অসংযত ভাবে কোন উৎকৃষ্ট কিছু সৃষ্টি করা যায় না বলেই মনে হয়। লক্ষ্যহীন উদভ্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকা যায় হয়তো, ভালো কিছু করা যায় না। এই মানবসাগর তীরে মানুষের কথা, সমাজের কথা, পৃথিবীর কথা আমরা যদি না ভাবি, তাহলে তো পরবর্তী প্রজন্ম আরো হতাশা নিয়ে তাদের জীবন শুরু করবে। সেকথা আমাদের সব থেকে বেশি মনে রাখা বোধহয় কর্তব্য। সবার সঙ্গে সবার যোগসূত্র না থাকলে সব কিছু ধ্বংস হয়ে যেত। পৃথিবী যেমন যোগাযোগ রক্ষা করে চলে সূর্যের সঙ্গে, পৃথিবীর সঙ্গে চাঁদ, তার সঙ্গে জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, আলো-আঁধার। এবং আমাদের জীবন। আমরা তাই কোন সময়েই একা নই।