একাকিত্ব দু-পারেই ও অন্যান্য ॥ ফিরদৌসী আলম


একাকিত্ব দু-পারেই

একাকিত্ব তো দু পারেই,
দুটো নদীর বুকে।
একাকিত্ব অনন্ত কালের নীরব বয়ে
চলায়।
কোনো ভালোবাসাই অক্ষত নয়।
প্রচ্ছন্ন মায়ায় কোনো ক্যানভাসই পূর্ণতা পায় না।
মনকে সিপাহী লষ্কর দিয়ে বেঁধে রাখা
যায় না।
তাকে শাসন করতে হয়, নিরপরাধ
ভালোবাসা দিয়েই।
আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো
আকাশের পরিচ্ছন্নতার সার্টিফিকেট।
কিন্তু কখনো কালো মেঘ এসে ঢেকে
দিলে,
এটা প্রমাণ হয় না যে, সে দিকভ্রান্ত।
এক পশলা বৃষ্টিতে সব জটিলতা ধুয়ে
যায়।
আকাশ আবার পরিষ্কার ধবধবে, জ্যোৎস্না নিয়ে ফিরে আসে।
তাই পদ্মা ডাকলে,
গঙ্গা যাবে না এটা হতে পারে না।
প্রশ্ন যতটা না ভালোবাসার;
তার থেকে বেশি সম্মানের।


ভালোবাসার চিৎকার


তোমার ব্যালকনির কোল ঘেঁষেই,
দাঁড়িয়ে ছিল আমার সূর্য।
এক চিলতে রৌদ্রের জন্যে নয়;
পুরো একটা বেলা নিয়ে।
আমার সোনালী পরাজয়ের দিগন্ত
বড় ম্রিয়মান।
কি লিখবে সেখানে,
দীর্ঘনিঃশ্বাস?
না কি আরো একটা অস্তে যাওয়া সূর্য
আমার নীরবতার শব্দ যদি সত্যিই
প্রকট হয়।
তবে সে শব্দ তোমার নীরবতায়ও
গেঁথে নাও।
তারপর দীর্ঘ সময়ের পর,
দুটো শব্দ, দুটো নীরবতা জুড়ে,
হয়তো উন্মোচিত হবে ভালোবাসার
চিৎকার।


দাঁড়িয়ে থেকো তুমি


ফেরিঘাট সাজিয়ে রেখো।
মাঝিকে গাইতে বোলো পারাপারের
গান।
পদ্মা তোমাকে পার হবো এভাবেই।
নিঃশব্দে, অন্ধকারে, চুপিসাড়ে,
কিছু গর্জন তুলে রেখো, কিছু নীরবতা
বাঁচিয়ে রেখো তোমার জোয়ার-ভাটা।
গুছিয়ে রেখো তোমার এলোমেলো
ঢেউ।
অন্ধকার ছুঁয়ে, জল ছুঁয়ে,
আসব তোমার হৃদয় নিতে।
বদলে আমার হৃদয় দিতে।
সব পারাপার থামিয়ে সেদিন,
গঙ্গা যাবে হৃদয়ের লেনদেনে।
ভেজা শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকো,
আমি ছুঁয়ে দেখব তোমার দেশ।