ও ভাষা, ও বর্ণমালা এবং অন্যান্য ॥ অদ্বৈত মারুত





ও ভাষা, ও বর্ণমালা

সতত নদী নিরবধি ঢেউ তোলা গান সারাবেলা
সতেজ সবুজপাতা-পাখি ডাকাডাকি পুষ্পমেলা।
দুলে ওঠে সর্ষেপাতা, ধুলো- ও মন হাওয়া
ফুসফুস আমার বাংলা ভাষা, রক্তদাগে পাওয়া।

ও দুখিনী বর্ণমালা, বিশুদ্ধ প্রেম; ঝিঁঝিপোকা
দুলে ওঠা স্বপ্ন- নরম রোদে শিশির গন্ধ শোঁকা
মায়ের কোমল মুখখানা আর বোনের কানের দুল
জ্যোৎস্নাদেয়াল রোজ জ্বালাতে ফোটে রঙিন ফুল।

ও আমার বর্ণমালা রক্তজবা, কৃষ্ণচূড়া ফুলের ভেলা
ফাগুনদিনে আগুন তবু মিষ্টি বুলি কী সুরেলা!
এ দুচোখে বিষণ্ন রাত; সূর্যমিনার উঠলে ডোবে
একা হলে বুকটা ক্ষোভে জ্বলে ওঠে খুব নীরবে।

ও ভাষা-মা, বর্ণমালা
তোমার মনে অপরিসীম দুঃখ জমা
ভুল নদীমুখ ভুলের অসুখ-
করিও ক্ষমা, করিও ক্ষমা, করিও ক্ষমা
ও বর্ণ, ভাষা ও-মা।

নেই, কেউ নেই

কেউ আমাকে ঘা দিল খুব জোরে
করল আঘাত কেউ আবার সজোরে।
গা কেটে কেউ রক্তে খেলে হলি
ভাঙা পায়ে বন্ধ চলাচলি।

চোখ দুটো নেই চোখের কোঠরেতে
মুখ থাকে রোজ খোলামেলা- তেতে
হৃদয়ও নেই হৃদ-সাগরে মোটে
হাসি কী আর আস্ত থাকে ঠোঁটে?

পথ আছে আজ কাঁটার জামা পরে
কথা হারায় কথার মতান্তরে
বেগ-বিবেকও লুকালো কই যেন
একতরফাই হচ্ছে লেন আর দেনও।

শীতমাখা ঘুম, আয় ছুটে এই চোখে
যেমন আসিস আমার সকল শোকে।
আয় ছুটে আয়, দে চোখে ঘুম গাঢ়
আমি তো নই এই পৃথিবীর কারো।


ভালোবাসি বলে মনে থাকো আজও

তোমাকে এখনো মনে পড়ে যায় বলে ভাবি,
ভালোবাসা বুঝি মরে না কখনই
না মরার ভেতর দিয়ে বারে বারে
ফিরে আসে ভালোবাসা আজও।

অথচ গভীর ক্ষত নেই দুজনের কারো
অথবা উজ্জ্বল স্মৃতি; মনে রাখবার মতো
হাত দুটো ধরে বসিনি মুখোমুখি কেউ
বলা হয়নি ভালোবাসি- কেবল তোমাকেই।

তবু মনে পড়ে যায়
তবু মনে হয় তোমাকেই ভালোবেসেছিলাম।
এত বেশি ভালোবেসেছিলাম
এত এত বেশি,
ডানা দুলে উড়ে যাওয়া পাখি ভাবি তুমি
টুপ করে পড়ে যাওয়া শিশির ভাবি তুমি
জ্বলন্ত আগুন তুমি ভেবে পুড়েছি কতবার।

নিস্তরঙ্গ হিম অন্ধকার তুমি ভেবে
কত কত বিকেলের একান্ত একাকিত্বে
কেবল তোমার ভেতরে আমি ঢুকিয়ে দিয়ে
চুপচাপ থেকেছি
ডুবোজাহাজের মতো
খুঁজেছি কিছু বেদনার দিন
ফুল; প্রজাপতির ডানা রঙিন
লাল কাঁকড়া; রিকশা- দৌড়; অমলিন…

আসলে আমাদের কোনো স্মৃতিই নেই
পরিচয়ই হয়নি সাপলুডু অথবা মনপাঠে।
তবু মনে পড়ে যায়,
তবু তোমাকে মনে পড়ে বারবার
ভালোবাসি বলেই মনে পড়ে আজও।

তোমারও কি তাই!