করাল আয়োজন ও অন্যান্য ॥ বাবুল আনোয়ার




করাল আয়োজন

শৈশবের নদী শুঁকিয়ে মরে বুকের ভেতর
নিঃশব্দ জাগরণে জেগে আছি
স্মৃতি বিস্মৃতির অদ্ভুত অচলায়তনে
চেনা অচেনা হাজার মুখের মলাট
মজা পুকুরের উপরে হেসে ওঠে চাঁদ
আঁধারের গানে বিরুদ্ধ প্রহরে
পথ ধরে হেঁটে যাই অস্থির জোছনায়
কষ্টের বিমূর্ত কোলাহলে নিয়ত শূন্যতায়
দুঃখী জীবনের সুর বাজে নিঃশব্দ বেদনায়
এখনও অনেক রাত নির্ঘুম কাটে
এখনও অনেক স্বপ্ন ঝুলে থাকে
জননীর স্তনে মুগ্ধতার পবিত্র কোরাসে
বিছানায় শুয়ে অথবা জানালার পাশে বসে
এ রকম অনেক কিছু বিদ্ধ করে বিপন্ন হৃদয়
কখনো বা দৃশ্য-অদৃশ্যমান কাপালিক ঘোর কখনো বা আত্মাহুতির করাল আয়োজন।


চালচিত্র

সময় গিয়েছে চলে চোখ মেলে দেখার
হওয়ায় মিশে গেছে তোমার এলোচুল
চারদিক ঘিরে অনাবাদী মৌসুমী ঝড়
অনাদরে ঝরে গেছে আবেগের ফুল
যে পথে ছিল কাশবন দিগন্তের হাওয়া
খড়ের আগুনজ্বলা শৈশবের ভোর
উৎসবে ঘিরে নবান্নের খাওয়া-দাওয়া
সেই পথ দূরে গেছে সরে গেছে অসময়
প্রগাঢ় বেদনায় নুয়ে পড়ে মাধুরী হৃদয়।


হিসাবের খাতা

ভুলে যেতে পারো খুব ইচ্ছেমতো
ভুলে যেতে পারো বেদনার বাঁশি
গাঢ় নীল অন্ধকার, চোখের নিচে
কালো কালো অক্ষত দাগ
বুকের ভেতর গোপন অসুখ
খুব সহজে ভুলে যেতে পারো
দহনের সুর, যাপিত বিনাশ
তুমি ভুলে যাও সব সাড়ম্বরে-
হিসাবের খাতা রাখো না তুলে।

বিরূপ প্রত্যাবর্তন

অদূরে মাঠ জুড়ে বিবর্ণ ধূসরিত ঘাস
চিলের ডানায় ক্লান্তি মোছা ঘাম
হৃদয়ের উজানে বাউল গানের সুর
ঝুলে থাকা বোধে বিরূপের নাম
চেনা পথে স্বরূপে বৃষ্টি ভেজা রাত
বিরহ ব্যাকুল উদাস সন্ন্যাসী মন
হাঁটু জলের নদীতে বিলীন প্রপাত
বিষন্নতায় লীন নোনতা স্বাদের বেলা
পরিযায়ী দুঃখে নিয়ে ঘরে ফেরা আর
পাঁজরে ব্যথা সাথে শ্যামলীর হাওয়া
ফিরে আসি সন্ধায় নিয়ে হাহাকার
হয়নি আজো শেষ সেই আসা-যাওয়া।

ছোটবেলা

ছোট হতে হতে অনেক ছোট হয়ে গেলাম
নগরের চেয়ে যেমন ছোট হলো গ্রাম
পুকুরের চেয়ে ছোট হলো নদী
মাঠের চেয়ে দিগন্ত
মনের চেয়ে মানবিকতা
ছোট হতে হতে অনেক ছোট হয়ে গেলাম
শুধু শৈশবের ছোটবেলা খু্ঁজে পেলাম না।