কলেজ রোডের জার্নাল- ১॥ মামুন মুস্তাফা



সেদিন কি বার কিংবা কোন তারিখ ছিল মনে পড়ে না। এতটাই ছোট ছিলাম যে সবকিছু স্মৃতিতে ধরে রাখারও কথা নয়। কেননা তখনও আমি কিংবা আমার বোন কেউই স্কুলে ভর্তি হইনি। থাকি ছোট মফস্বল শহর বাগেরহাটে। তখনও বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন, আমরা উঠে এলাম বর্তমান সরকারি পি সি কলেজের শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারে। অথচ সে সময় এটি ছিল একটি বেসরকারি কলেজ। বাগেরহাটের সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে সেই বেসরকারি পি সি কলেজের গাছগাছালির ছায়াঘেরা বিস্তৃত সীমানা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কলেজের বিরাট খেলার মাঠ, কলেজের মিঠা পানির পুকুর, সুখসরোবর, মাঠগোলা পুকুর আর আদিগন্ত নীল আকাশের নিচে রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়ার বিশালত্ব কত সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে তা বলার নেই। বৈষ্ণব পদাবলিতে এই রাধাচূড়া আর কৃষ্ণচূড়া আজ ইতিহাস। একটা সময় এই দুই গাছের নিচে বসে কেটে গেছে অনেক প্রহর। ওখানে জড়িয়ে আছে আমাদের জনকজননীর পরিশ্রমের ঘাম, দীর্ঘশ্বাস, শূন্যতা, হাহাকার আর সন্তানদের নিয়ে মুঠোভর্তি আশার স্বপ্ন Ñ এ সবই পি সি কলেজের ‘এক শিক্ষক পরিবার’-এর গল্প। ওসব পুঁজি করে ছুটে চলা উত্তর বংশজাত আজ ধূসর, ধূসরতর থেকে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’। ঐ পাণ্ডুলিপির খোদিত চিত্রপটে রচিত এই ‘কলেজ রোডের জার্নাল’।

কলেজ কোয়ার্টারে আমরা যে বাসায় উঠে এলাম, তা ছিল দুই রুমের একটি বাসা। বাড়িটি ছিল ছয় রুমের একটি দালান। দুই পাশেই প্রশ্বস্ত বারান্দা। এই দুই পাশের বারান্দায় পার্টিশন দিয়ে শিক্ষকদের জন্য দুই রুমের তিনটি কোয়ার্টার তৈরি করা হলো। আমরা উঠে এলাম পশ্চিমের কোয়ার্টারটিতে। আমাদের বাসার পাশেই ছিল বাগেরহাট-রূপসাগামী রেললাইন। প্রথম যেদিন উঠে এলাম বাসাটিতে সেদিনই প্রথম খুব কাছ থেকে রেলগাড়ি দেখে আমি আর আমার বোন বিস্মিত হলাম। তার হুইশেল আর ঝিক ঝিক শব্দ তুলে ছুটে চলা রেলগাড়িটিকে ছুঁয়ে দেখতে জানালার লোহার শিক গলিয়ে হাত বাড়িয়ে দিতাম অবুঝের মতো। সেই উন্মাদনা শিহরণ জাগাতো শরীরে। আজ মনে হয়, অপু এবং দুর্গার রেলগাড়ি দেখার সেই বিস্ময় ভর করেছিল আমার আর আমার বোনের ভেতরে। বিভুতিভূষণের ‘পথের প্যাঁচালী’র অংশীজন তো আমরাও!

আমাদের এ বাড়ির সামনে-পেছনে বিস্তৃত খোলা মাঠ। বাড়ির সামনে ও পেছনের বেশকিছুটা সীমানা বাঁশ এবং গোলপাতার বেড়া দিয়ে কোয়ার্টারের অংশ করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষকরা সবজি ও ফুলের বাগান করতেন। আমাদের বাসার পাশেই ছিল ছোট একটি নালার মতো। বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকতো। শুকনোর সময়ে আমরা ওখান দিয়েই দৌড়ে রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে উঠে যেতাম। রেলপথ ধরে হেঁটে গেছি কতদিন কতদূর জানা নেই। তবে আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন এই রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখেছি সাপের মতো বেঁকে যাওয়া রেলগাড়ির ছুটে চলা দৃশ্য! কখনো কুড়াতাম রেল লাইনের নুড়িপাথর, আবার কখনো কান পেতে দিতাম রেলের চাকা গড়িয়ে যাওয়া রেলপাতে। সেও এক খেলা ছিল আমাদের। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম আসা-যাওয়ার পথের ধারে যাত্রীদের টিকিট কাটা, রেল কর্মচারীর ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজানো। কয়লার ট্রেন তার ঐতিহ্য নিয়ে ঝিক ঝিক শব্দ তুলে আসে আর যায়। কোন্ কোন্ পথে সে দাঁড়ায়? বিস্ময় আর বিস্ময়াভিভূত দৃষ্টি নিয়ে আমাদের অপেক্ষা। বড়দের কাছ থেকে বাগেরহাট-রূপসাগামী কয়লার ট্রেনের যাত্রাপথের দশটি স্টেশনের নাম বন্ধুরা মিলে মুখস্ত করতামÑ ষাটগম্বুজ, যাত্রাপুর, সামন্তসেনা, কর্ণপুরসহ আরও কত নাম। আবার প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েই কত হতভাগ্য লোকের কাটাপরা দেহ দেখেছি। কখনো বীভৎস সে চেহারা, কখনো শান্ত। নীরব আত্মঘাতি হয়েছে সে! সংসারের মায়া তাকে বাঁধতে পারেনি। এ জগতসংসার কখনো কখনো এমনি নির্মম! প্রিয় কবি জীবনান্দ দাশের ট্রামের নিচে পড়ে যাওয়া, হাসপাতালে যুদ্ধ করে মৃত্যুÑ এসব আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সেও কী আত্মহননেরই গল্প? জানা নেই, জানবে না কেউ কখনো। পরবর্তী ট্রেনের হুইশলে ঢাকা পড়ে যায় এসব মর্মন্তুদ কাহিনি। ফিরে আসি সাঁঝবেলার বাতির নিচে। মনের ভেতরে ঘুড়ি ওড়ে। বন্ধুদের অপূর্ণ স্বপ্নবাসনার কোন্ পথে পা পড়েনি? বাকিটুকু যেতে হবে আগামীকাল। ভোরের সূর্যোদয়ে কয়লার ট্রেনের প্রথম হুইশেলে ঘুম ভাঙবে রেল স্টেশনের। টি-স্টলে চায়ের কাপে টুং-টাং আওয়াজ। প্রথম কোন্্ যাত্রী কাটবে টিকিট? দুঃখের না সুখের সে যাত্রা? আমাদের হারানো সে শৈশবে আজ মৃত ওই রেল স্টেশন। এখন সমান-সমান্তরাল পীচ ঢালা পথে চাপা পড়ে গেছে তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, আনন্দ-বেদনার কাব্য। জীবনে কবি হওয়ার প্রত্যুষে আমিও তো লিখেছিলাম ‘রেলগাড়ি’। অথচ তার সমাধিস্তবকে আজ লিখিÑ ‘ভূতুড়ে স্টেশন,/ভাঙা চালার নিচে মৃত টি-স্টল/ছেঁড়া স্যান্ডেল, চিকণ পায়ের ছাপ/মেঘবাতাসে ওড়ে ঘুণে ধরা ধুলোবালি।’

রেল স্টেশনের পাশে আমাদের প্রথম কোয়ার্টারবাসের টুকরো টুকরো স্মৃতি ব্যাপক ও বহুল। এই বাড়িটির বন্দনা আমার নিজের কাছেই নানাভাবে প্রতিফলিত হতে দেখি। প্রথমত আমাদের দু’কামরার এই বাসার একটি ঘরে ছাদ, অন্যটিতে টিনের চাল। একই ভাবে দু’পাশের বারান্দার সামনেরটিতে ছাদ এবং পেছন বারান্দা টিন দিয়ে ছাওয়া। সবচেয়ে মজার বিষয় এই টিনের কোথাও কোথাও ছিদ্র ছিল। ফলে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হলে টিনের চালের ওই ছিদ্র থেকে পানি পড়তো। অন্যরকম আনন্দ নিয়ে আমি আর আমার বোন হাড়ি-পাতিল দিয়ে ওই পানি ধরতাম, যেন ঘর ভেসে না যায়। কিন্তু কোনো দুঃখবোধ কাজ করেনি কখনো। এই বাড়িতেই আমার কবি হয়ে ওঠার প্রস্তুতি। প্রস্তুতিপর্বটি ছিল নাটক দিয়ে, নাম ‘চলো দরগায় যাই’। কিন্তু পিতার কণ্ঠে বাংলা ও ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি, তাঁর বক্তৃতা ও কলেজের ক্রীড়া অনুষ্ঠানের ধারাভাষ্য শুনে এবং পিতার উৎসাহে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলোতে কবিতা পাঠ আমাকে পরবর্তীতে কবিতার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের বাসায় ওমর খৈয়ামের কবিতার অনুবাদ ছিল। ছোট ছোট চার লাইনের কবিতাগুলো নিজে একটি খাতায় লিখে ভাবতাম এই তো আমার লেখা! কিছুদিন যেতেই আমার এ ভুল ভাঙলো। একদিন ভর দুপুরে লিখে ফেললাম প্রথম কবিতা ‘শালিক ভাই’। এরপর ‘রেলগাড়ি’, ‘মা’ প্রভৃতি।

এখানে বলা আবশ্যক, এই বাগেরহাটেরই কীর্তিমান পুরুষ এবং এক সময়ের পি সি কলেজের ছাত্র ও শিক্ষক বাংলাদেশের যশস্বী কবি আবুবকর সিদ্দিক আমার পিতার অগ্রজ বন্ধু। ওই সময়ে তাঁর সান্নিধ্য আমাকে কবি ও কবিতার প্রতি আকৃষ্ট করে বেশি। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু বাগেরহাটে এলেই তিনি আমাদের বাসায় আসতেন এবং অনেক সময় আমাদের বাসাতেই রাত্রিযাপন করতেন। সে সময় থেকেই তাঁর সান্নিধ্য আমার কাব্যলক্ষ্মীর দরজা খুলে দেয়। এরপর যখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন কবি আবুবকর সিদ্দিকের হাত ধরেই আমার বেশকিছু কবিতা রাজশাহীর ‘দৈনিক বার্তা’, ‘নবারুণ’ ও ‘কিশোর কথা’য় প্রকাশ পায়।

পি সি কলেজের মাঠগোলা পুকুর আর সুখসরোবরের কথা চলে আসে প্রসঙ্গক্রমে। কলেজের প্রকৃতিতে এগুলোর অবদানও কম নয়। মাঠগোলা পুকুরটি ছিল কলেজ হোস্টেলের পেছনে। রেল স্টেশনের পাশে আমাদের যে বাসা, তার সামনেই কলেজের মুসলিম ও হিন্দু হোস্টেল। আর তার ঠিক পেছন অংশেই ছিল মাঠগোলা পুকুর। আমরা বড় ভাই কিংবা চাচাÑ এমন মুরুব্বীদের সাথেই সেখানে স্নান সারতে যেতাম। ওই হোস্টেল কিংবা মাঠগোলা পুকুরের পাশ দিয়ে হরিণখানা গ্রামে প্রবেশের ইট-বিছানো, মেঠো সরু রাস্তা ছিল। আমরা বহুবার সে পথে গিয়েছি। ওখানেই এক তালগাছে বাবুই পাখির বাসা দেখেছি। সেও এক নতুন আবিষ্কারÑ বালকবয়সে ভাল লাগার, মনে রাখার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে সে। অন্যদিকে সুখসরোবরের সঙ্গে বাগেরহাটের কীর্তিমান নদী দড়াটানার সংযোগ কীভাবে তৈরি হলো জানি না। একটি প্রশ্বস্ত নালা দিয়ে ওই পুকুরে প্রবেশ করতো জোয়ারভাটার পানি। এখানেই অধিকাংশ কলেজ শিক্ষক ও তাদের সন্তানেরা স্নান সারতো। সুখসরোবর ছিল কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও কলা ভবনের পেছনে এবং সুখসরোবরের পাশেই ছিল কলেজ শিক্ষকদের তিনটি কোয়ার্টার। পরবর্তীতে ওই কোয়ার্টারের একটিতে আমরাও উঠে এসেছিলাম। মূলত তখনই আমার সাঁতার শেখা।

আমাদের বাড়ির সামনে যে মুসলিম হোস্টেল, তার কোনো কোনো ছাত্রের সঙ্গে আমার সখ্য হলো বন্ধুর মতো। এই হোস্টেলে দেখভালের দায়িত্বও পড়লো আমার পিতার উপর। যাকে বলে সুপারিন্টেন্ডেড। হোস্টেলের সামনে আমাদের বাসা হওয়ায় হলের ছাত্ররাও আব্বার ভয়ে তটস্থ থাকতো। হোস্টেলের দুজন ছাত্র মোসলেম ভাই ও বাদশা ভাইয়ের কথা বলতে হয়। মোসলেম ভাইর বাড়ি খুলনার পাইকগাছা। দীর্ঘদিন তিনি কলেজে পড়েছেন, অনেকটা আদু ভাইয়ের মতো। কিন্তু আমার প্রতি তার ভালবাসার কমতি ছিল না কখনো। অনেক বিকেল কেটেছে তার সাথে। রাতে আব্বা-মা কোথাও গেলে আমাদের পাহারায় তাকে বাসায় রেখে যাওয়া হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে শেষবারের মতো তার সাথে দেখা হয়েছিল একবার সূর্যসেন হলের করিডোরে। এরপর তিনি কোথায়, জানি না। আর বাদশা ভাইয়ের সাথে সখ্য মূলত কলেজ থেকে মোসলেম ভাইয়ের বিদায়ের পরে। কিন্তু তার বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানা নেই। সম্ভবত বাগেরহাটেরই কোনো থানা, তবে ফকিরহাট আর মংলা বাদে। এক রাতে এই বাদশা ভাইয়ের একটি চোখ ব্যথা করে ডাক দিয়ে ওঠে। পরদিন দেখা যায় তার এক বন্ধু রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে তাকে নিয়ে হাঁটছে। এরপর আর কোনো হদিছ পাওয়া যায় না। বেশ কিছুকাল পর তিনি আমাদের বাসায় আসেন। চোখে কালো চশমা, পরনে পাজামা-পাঞ্জাবী, মুখভর্তি দাড়ি। তার সে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, পাথুরে চোখ সেখানে বসানো। কলেজের পাঠ চুকিয়ে এখন সে গ্রামে, আল্লাহর পথে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। বিধাতার কাছে সমর্পণ ছাড়া মানুষের কিছু করার থাকে না। সেই অজ্ঞাত ইশারা মানুষের জীবনে চলতে থাকে প্রতিনিয়ত। সেই বন্ধন ছিন্ন করার উপায় নেই কারো! আর তাই বুছি আমার কবি হওয়ার পেছনে অলখ্যে থেকে হেসেছেন বিধাতা।

কথাটি বলছি এ কারণে যে, একটি তৃতীয় বিশ্বের তৃতীয় দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ কি চান তার সন্তান লেখক, চিত্রকর, অভিনেতা হোক! তবে একটি সংস্কৃতমনা পরিবার হওয়ায় আমার ক্ষেত্রে বাধা প্রকট হয়ে ওঠেনি কখনো। তবে শাসন ছিল বেশ। এ কথা অনস্বীকার্য যে, মফস্বল শহর বাগেরহাটের তৎকালীন প্রফুল্লচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আমার কচি বয়সের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গোটা বাগেরহাট শহরে উন্মাদনা কাজ করতো, বাঁধ বাঙা স্রোত দেখা দিত সেদিন কলেজের মাঠ ঘিরে। আমার পিতার ধারাভাষ্য মানুষের মুখে মুখে ফিরতো তখন। পিতা ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক, ওই কচি বয়সে আমার সঙ্গে তাঁর কবিতা ও কবিদের নিয়ে আলোচনা এবং কলেজের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলÑ আমার ভেতরে জন্ম দিল সাহিত্য রসবোধ। কলেজের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান কিংবা রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়ও ছোটদের কোনো অনুষ্ঠানে আমার কবিতা পাঠ অথবা নাটকে ছোটদের চরিত্রে আমার অভিনয় ছিল নিয়মিত। এ সবই আমাকে কবিতা ও নাটকের প্রতি আকৃষ্ট করে ধীরে ধীরে। আমার সাহিত্য রচনার প্রেক্ষাপট শুরু হতে থাকে তখন থেকেই।