কলেজ রোডের জার্নাল-১৩ ॥ মামুন মুস্তাফা


‘মামুন, তুমি যাও, আমি দরজাটা বন্ধ করে দিচ্ছি’। এভাবেই তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের এপারের সব দরজা বন্ধ করে দিলেন। সেদিন ছিল ১৪ মে। আমার মায়ের মৃত্যু ঠিক এক মাস আট দিনের মধ্যে আমাকে আরও একটি শোকের মুখোমুখি হতে হলো। তিনি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। রাজধানীর বিবর্তনময় দ্বন্দ্ব-সংঘাতমুখর মহানগরীর বুকে তিনি আমাকে পিতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন।

তাঁর সঙ্গে যোগসূত্রটা যশস্বী কবি আবুবকর সিদ্দিকের হাত ধরেই। তিনিই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আনিসুজ্জামান স্যারের সঙ্গে। তখন নিজের মতো করে প্রবন্ধ লিখছি। কবিতায় বুঁদ হয়ে থাকা আমি তখন পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশি- এমনকি আমার সময়কাল নব্বইয়ের দশকের কবি ও কবিতা নিয়ে গদ্য লিখে চলেছি অবিরাম। কখনো নস্ট্যালজিয়া নিয়ে, কখনো চিত্রকল্প নিয়ে, আবার কখনো প্রথিতযশা কবিদের নিয়ে। সেসব ঢাউস আকারের প্রবন্ধ ছাপাবার জায়গা দৈনিকের কাগজগুলোতে অপ্রতুল। ঠিক ওই সময়ে যাত্রা শুরু করেছিল সাহিত্য-সংস্কৃতির মাসিক ম্যাগাজিন ‘কালি ও কলম’। আর এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। কবি আবুবকর সিদ্দিকের সূত্র ধরে এক সন্ধ্যায় পৌঁছে গেলাম গুলশান ১-এ আনিসুজ্জামান স্যারের বাসায়। আমার হাতে ধরা তখন ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতা’ এবং ‘বাংলাদেশের কবিতায় নস্ট্যালজিয়া’ শীর্ষক গদ্য দুটি। আনিসুজ্জামান স্যার তাঁর সহজাত ঋজু ভঙিমায় এলেন আমার সামনে। ব্যক্তিত্বের পুরোধাকে দেখছি যেন। তাঁর প্রথম কথাই ছিল- ‘তুমি আমাদের ছাত্র’?

আনিসুজ্জামান স্যার জেনেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমি, কিন্তু কোন বিভাগের তা জানতেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও এমন লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছি, এতে তিনি খুশিই হলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন আমার স্বভাব ছিল, যেহেতু লিখি, তাই প্রথিতযশা লিখিয়ে অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। যদিও আমি বরাবরই চাপা এবং অন্তর্মুখি স্বভাবের, তথাপি ভীরু বক্ষে অপরিচিত সে-সব স্যারদের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতাম। সাহস সঞ্চয় করে ঢুকে পড়েছিলাম বাংলা বিভাগের মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এবং ইংরেজি বিভাগের সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের কক্ষে। সেই থেকে তাঁদের সঙ্গেও একটি হার্দিক বাঁধন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনিসুজ্জামান স্যারের চলাফেরায় তাঁকে রাশভারী মানুষ মনে হতো। তাই কখনো সাহস করিনি তাঁর সামনে যেতে। অথচ প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে তিনিই হয়ে উঠলেন আমার খুব কাছের মানুষ, প্রিয়জন।

প্রথম পরিচয়েই আনিসুজ্জামান স্যারের ভেতরের কোমল মানুষটিকে আমি আবিষ্কার করলাম। স্যার আমাকে বললেন, ‘তোমার লেখা দুটো আমরা পড়ি, তারপরে তোমাকে জানাব’। স্যারের বাসা থেকে মিস্টি, চা খেয়ে বিদায় নিলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে স্যার ফোন দিয়ে জানালেন, তোমার ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতা’টি ছাপা হবে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। এই গদ্যটি ছাপার কিছুদিন পর স্যার আবারও ফোন দিয়ে জানালেন, ‘মামুন তোমার দ্বিতীয়টিও আমরা ছেপে দিচ্ছি’। স্যারের এই কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ বরাবরই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ঘড়ির কাঁটায় মেপে তাঁর জীবন চলতো, অথবা তিনি নিজেকেই চালাতেন।

কালি ও কলম একটি কবিতাবিষয়ক বিশেষ সংখ্যা করেছিল। সেই সংখ্যায় এর কর্তৃপক্ষ আমাকে দিয়ে সত্তর থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত কবিতা নিয়ে একটি দীর্ঘ গদ্যও লিখিয়ে নিয়েছিলেন। তারা এতটাই আমার গদ্য পছন্দ করেছিলেন যে, এর সম্পাদক প্রয়াত আবুল হাসনাত ভাই আমার বাসায় লোক মারফত চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন। আনিসুজ্জামান স্যার বারবার আমাকে ফোন দিয়ে লেখায় অনুপ্রাণিত করতেন। কালি ও কলম-এ প্রকাশিত আমার সে-সব প্রবন্ধ নিয়ে আমার প্রথম গদ্যগ্রন্থ ‘এই বদ্বীপের কবিতাকৃতি’ বলাকা প্রকাশন থেকে ২০০৯ সালে বের হয়। বইটি উৎসর্গ করি আনিসুজ্জামান স্যারকে। আর আমার বড়ো প্রাপ্তি এই বইয়ের জন্যই ২০১১ সালে ‘চিহ্ন’ ছোটকাগজ তাদের যুগপূর্তি উৎসবে আমাকে মননশীল শাখায় ‘চিহ্নসম্মাননা ২০১১’ প্রদান করে। এ সংবাদে স্যার এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। স্যারের সেই উষ্ণতা আজও আমি অনুভব করি। কালি ও কলম অফিসে স্যারের কারণেই মাঝে-মধ্যে গিয়েছি। যখনই গিয়েছি, স্যার নিজ উদ্যোগে পুরনো লেখার বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। পিতৃতুল্য এই শিক্ষক নিজ সন্তানের মতো স্নেহের পরশে আমাকে শান্ত করেছেন, সে তো ভোলার নয়। কিংবা আমিই কি সেই বন্ধনসূত্র আজ ছিঁড়ে যেতে পারি? হয় না কখনো।

স্যারের সঙ্গে এই যে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক, সে তো তাঁর কারণেই সম্ভব হয়েছিল। এত বড়ো মহীরুহের চলাফেরা ছিল শাদামাটা। কোনো অহংবোধ তাঁর ভেতরে কাজ করেনি। তাই তো তিনি আমার সবকিছুতেই সাড়া দিয়েছেন পিতৃবৎ স্নেহে। ২০০৭ সালের একুশের বইমেলায় আমার তৃতীয় কাব্য আদর্শলিপি : পুনর্লিখন-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আরও ছিলেন কবি আবুবকর সিদ্দিক ও সৈয়দ হায়দার এবং রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এক সময় প্রাথমিক স্তরের (প্রাইমারী) আমি একটি স্কুল খুললাম। তাঁর কার্যকরী কমিটির সভাপতি করলাম আনিসুজ্জামান স্যারকে। স্যার বিনাবাক্যে রাজি হয়ে গেলেন। এলেন উদ্বোধনী দিনে। কার্যকরী কমিটির অনেক মিটিং মাইনুটস-এ তিনি স্বাক্ষর করেছেন। শিক্ষকদের নিয়োগপত্রে তাঁর স্বাক্ষর ছিল। শিক্ষকরাও খুশি এমন একজন ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এসে। কিন্তু বিধি বাম! প্রচলিত সমাজ-রাজনীতির কাছে হার মেনে স্কুলের সমাপ্তি টানতে হয়েছে আমাকে।

আমার বন্ধু প্রাবন্ধিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক শহীদ ইকবাল সম্পাদিত ছোটকাগজ চিহ্ন উৎসবের উদ্বোধক হিশেবে স্যারকে অনুরোধ করতেই স্যার রাজি হয়ে গেলেন। স্যারকে নিয়ে গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রকৃতির মাঝে। আবার আমার কর্মক্ষেত্র ‘দৈনিক বাংলাদেশের খবর’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধক হিশেবেও স্যারকে অনুরোধ করতেই স্যার সম্মতি জানালেন। এমনকি, আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ লেখমালা’র প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হতেও তিনি এক মুহূর্ত চিন্তা করেননি। হয়তো স্যার আমাকে তাঁর খুব গভীরে স্থান দিয়েছিলেন, তাই কখনো আমাকে ফিরিয়ে দেননি। আনিসুজ্জামান, এই মহীরুহের সঙ্গে আমার জীবন এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, তিনি আমার পরিবারেরই অংশ হয়ে উঠেছিলেন। আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গেও তিনি নিজ পরিবারের সদস্যদের মতোই আচরণ করেছেন। পুত্রবধূর মতোই দেখেছেন আমার স্ত্রীকে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে, খবর নিতেন তার চাকরির বিষয়ে, সংসার জীবন সম্পর্কে। তাঁর এই কৃপাটুকু আমার সারা জীবনের সঞ্চয়।

বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি? অবশ্যই তার বাঙালিত্ব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এই বাঙালি জাতীয়তা বোধটি সমগ্র বাঙালির মধ্যে জাগ্রত হয়েছিল মূলত ’৪৭-উত্তর ধর্মভিত্তিক দেশভাগের ফলে পশ্চিম পাকিস্তানের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শোষণ-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে।পাশ্চাত্যে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব, রুশ বিপ্লব এবং ফরাসি বিপ্লবের মতো তখন আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরাও এগিয়ে এলেন বাঙালির স্বাধীকার তথা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। ওইসব অগ্রগণ্য বুদ্ধিজীবীদের পুরোধা ব্যক্তিত্বের একজন ছিলেন আনিসুজ্জামান।

পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিন্তায় ও মননে দূরদর্শী একজন। প্রায় চব্বিশ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে জাতির সকল ক্রান্তিলগ্নে একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী হিশেবে তিনি জাতিকে দেখিয়েছেন আশার আলো। বাঙালির ইহজাগতিকার ক্ষেত্রে তার যে সংস্কৃতি অন্যতম একটি মৌল উপাদান, তাকে প্রকৃষ্ট করে তোলেন আনিসুজ্জামান। আর তাকে প্রত্যক্ষ করেন বাঙালির স্বরূপ-সন্ধানের আত্ম-আবিষ্কারের ভেতরে।

পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ছাত্রাবস্থায় অসাম্প্রাদয়িক সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা, পরবর্তীতে সাহিত্য-সংস্কৃতির হাত ধরে ভাষা আন্দোলন ও ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে জড়িত হওয়া- এ যেন ইতিহাসের পথ বেয়ে এগিয়ে চলা। আনিসুজ্জামানের ভাষায়, ‘ইতিহাস আমাকে আনুকূল্য করেছে’। হ্যাঁ, আনুকূল্যই বটে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- বাঙালির জাতিসত্তার সংকটকালে তিনি রাজনৈতিক কর্মীর মতো লিখেছেন সব ইশতেহার, শিক্ষক হয়ে দেখিয়েছেন স্বাধীকার আন্দোলনের উজ্জ্বল পথ, আবার প্রায় চব্বিশ বছরের পাকিস্তানের যাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানেও রয়েছে তাঁর স্পর্শ। এমনকি যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে সঠিক পথে ত্বরান্বিত করতে সব ধরনের ভয়কে তুড়ি মেরে সাক্ষী হিশেবে দাঁড়িয়েছেন আদালতের কাঠগড়ায়। বলা যায়, আমাদের জাতীয় সংকট মুহূর্তে সাহসী আর গর্বের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। আনিসুজ্জামান- এই নামটি হয়ে উঠেছে বাঙালি জাতির বাতিঘর।

আনিসুজ্জামান স্যারের আশি বছর পূর্ণতায় আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ লেখমালা তাঁর ওপরে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। লেখমালা’র সেই সংখ্যাটি হাতে পেয়ে স্যারের বিনয় ও লাজুক স্বভাব দেখে আমি নিজেই বিব্রত বোধ করি। স্যার বলেন, “তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। তুমি আরও দূর এগিয়ে যাও, এই কামনা করি।” স্যারের এই দোয়াটুকু সঙ্গী করে আজ পথ চলছি। দুর্ভাগ্য স্যারের শেষ যাত্রায় থাকতে পারিনি। স্যারের মৃত্যুর ঠিক এক মাসে আগে আমার মা ইহধাম ত্যাগ করেন। তখন করোনা মহামারী জেঁকে বসেছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আমি তখন আমার দেশের বড়ি মাগুরাতে অবস্থান করছি। মানসিক ভাবে আমিও ভালো নেই। এরই মাঝে আমার মায়ের মৃত্যু সংবাদ দিতে গিয়ে জানলাম স্যার হাসপাতালে ভর্তি। নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখছি স্যারের খবর জানতে। ১৪ মে অলস দুপুরে প্রথম খবরটি দিল অনুজ প্রিয়ভাজন কবি তুষার প্রসূন। মায়ের শোক না কাটাতেই আনিসুজ্জামান স্যারের মৃত্যুসংবাদ আমাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেল। ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় স্যারের শেষ যাত্রায় থাকতে না পারার বেদনা আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। আমাকে ক্ষমা করবেন স্যার, আমার এ অনিচ্ছাকৃত অপরাধের জন্য। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আপনার অন্তিম মুহূর্তে আপনি যাদেরকে স্মরণ করবার চেষ্টা করেছেন, তাদের একজন আমিও ছিলাম। নতুবা আপনার মৃত্যুদিনের ভোর রাতে সস্ত্রীক আপনার বাসায় আমার গমন, আপনার দর্শন- এমন স্বপ্ন অলক্ষে থেকে বিধাতা কেন আমাকে দেখাবেন?

কথা শেষ করে আমরা বেরিয়ে এসেছি। আপনি তখনও অসুস্থ। বাথরুমে গেলেন। সদর দরজা খোলা। আমি বাইরের সড়কে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে রেখে আবার ফেরত এলাম। বলছি, স্যার দরজা খোলা। আপনি বেরিয়ে এসে বললেন, ‘মামুন তুমি যাও, আমি দরজা বন্ধ করছি’। পার্থিব জীবনের সব যোগাযোগ আপনি ছিন্ন করলেন ওই দরজা বন্ধের ভেতর দিয়ে। ওপারে যে দরজা খুলেছেন, সেখানে কি আপনার সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে আমাদের অতৃপ্ত আত্মার চাহনি টের পান?