কলেজ রোডের জার্নাল-১৪ ॥ মামুন মুস্তাফা




অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক ও কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কবি আল মুজাহিদী, কবি শিহাব সরকার, কবি সৈয়দ হায়দার প্রমুখের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গাঢ় হয়ে উঠেছিল যাঁর কারণে, তিনি যশস্বী অধ্যাপক, প্রথিতযশা কবি, অদ্বিতীয় কথাকার আবুবকর সিদ্দিক। বিশেষণের পরে বিশেষণ দিলেও এই ব্যক্তির অধ্যাপনার গুণকীর্তন কিংবা লেখকসত্তার ধী-শক্তি বর্ণনা করা সম্ভব হবে না। তাঁর ছাত্র, সমকালীন চিন্তক ও প্রাবন্ধিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল এক সাক্ষাৎকারে আবুবকর সিদ্দিক সম্বন্ধে বলেছেন, ‘সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে তাঁর নখাগ্র স্পর্শ; কল্পনা ছাড়া আমার জন্য আর কিছু নয়’।

এই মানুষটিকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি ছেলেবেলা থেকে। প্রথম জীবনে বর্তমান বাগেরহাটের সরকারি প্রফুল্লচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ে আমার পিতার সহকর্মী ছিলেন তিনি। তারও আগে পাঁচের দশকে আব্বা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে এলেন, থাকতেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তথা আজকের এস এম হলে। তখন আবুবকর সিদ্দিক বাংলা বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র। আমার পিতার ৩/৪ বছরের সিনিয়র। ওই এস এম হলেই তাঁদের পরিচয়, সাক্ষাৎ। পরবর্তীতে চাকরিসূত্রে, সহকর্মী হিশেবে সে সম্পর্ক রূপ নেয় বন্ধুত্বে- গাঢ়, অন্তরঙ্গ, হরিহর আত্মা। পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহ, আধুনিক কাব্যধারার অন্যতম কবি আবুবকর সিদ্দিকের যাতায়াত আমাকে ওই বালকবয়সে কবি হওয়ার পথে ডেকে নেয়। কী মোহন বাঁশি ছিল সেটি! জানি না, কিন্তু তখনও আবুবকর সিদ্দিকের একখানাই কাব্য ‘ধবল দুধের স্বরগ্রাম’ না বুঝেই পড়ে চলতাম অহোরাত্র।

তবে এটা বুঝেছি পারিবারিক বন্ধু তিনি। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ে বাংলার অধ্যাপক। জন্মসূত্রে বাগেরহাটের মানুষ। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের বৈটপুরে। যখনই বাগেরহাটে আসতেন, প্রায়ই সময় আমাদের বাড়িতে রাত্রিযাপন করতেন। সে রাতে দুই বন্ধু- আব্বা ও সিদ্দিক চাচা (চাচা বলেই ডাকতাম) সাংসারিক জীবন থেকে শুরু করে বাংলা সাহিত্য, বিশ্ব সাহিত্যকে নামিয়ে আনতেন দুজনের শয়ন-শিয়রে। বালক আমি চুপচাপ বসে বসে শুনতাম, আর নিজেকে গড়ে নিতাম। আমি লিখি জেনে একবার তিনি আমার জন্যে কিছু ছড়া লিখে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আমার লেখা কবিতা শুনে তিনি বললেন, ‘চাচু, তুমি তো বড়দের কবিতা লেখ। আমি যে ছড়া লিখে নিয়ে এসেছি’। আমি তখন সম্ভবত পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। সেই প্রথম তাঁর সঙ্গে আমার কবিতা বিনিময়।

এরপর তাঁর উৎসাহ, উপদেশ; আব্বার সঙ্গে সাহিত্য-সংলাপ, বিশ্ব সহিত্য সম্বন্ধে জানা ইত্যাদি আমাকে আমারই অজান্তে কবি করে তুলছে। ক্লাশ এইট-এ পড়াকালীন আমার ‘মা’, ‘ট্রেন’সহ আরও কিছু কবিতা আবুবকর সিদ্দিক নিয়ে গেলেন এবং তাঁরই হাত দিয়ে রাজশাহীর তৎকালীন দৈনিক বার্তা, ছোটদের পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত নবারুণ ও কিশোর কথা’য় প্রকাশ পায়। আব্বা তখন খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজে। আব্বার কলেজের ঠিকানায় সিদ্দিক চাচা পাঠালেন। সেই প্রথম কাগজে ছাপার অক্ষরে নিজের নাম, নিজের লেখা দেখে যে আনন্দ, সেই অনুভূতি প্রকাশ করার নয়। লেখকমাত্রেই তা সবাই অনুধাবন করতে পারেন। এ ভাবেই আবুবকর সিদ্দিক হয়ে উঠলেন আমার জীবনের অনুষঙ্গ।

পরবর্তীতে আর আব্বাকে নয়, আমাকেই তিনি তাঁর প্রকাশিত প্রতিটি নতুন বই পোস্ট করে পাঠাতেন। তাঁর অনেক লেখাই তখন আমার জন্যে বোধগম্য ছিল না। তবু প্রিয় মানুষের বই অন্য আনন্দ বয়ে আনতো। আব্বা বলতেন, “সিদ্দিক ভাই, তিরিশের সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং জীবনানন্দ দাশের সংমিশ্রণ। তাঁর কবিতার ধার বাংলাদেশে বোঝার মতো সমালোচক গড়ে ওঠেনি। যেমন- সব এমএ পাশই রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে পারে না।” তাই বুঝি বাংলাদেশের সাহিত্যে যেভাবে তাঁকে নিয়ে আলোচনা হবার কথা ছিল, তা হয়নি। তাঁর উইট, ধী-শক্তি বোঝার ক্ষমতা কার আছে? আবুবকর সিদ্দিক- ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই মানুষটির সাহিত্যকৃতির বোধ ও বোধিকে ছুঁয়ে দেখার সক্ষমতা তৈরি হয়নি পাঠককুলের। আবার তিনি নিজেকে বাজারচলতি করেননি কখনো। সে স্পর্ধাও নেই আজকের মিডিয়াবাজদের।

তিনি বহুলপ্রজ নন, বিরলপ্রজ। যা লিখেছেন, তাই এপিক। কী কবিতা, কী কথাসাহিত্য! তা না হলে, যখন আবুবকর সিদ্দিকের কোনো বই-ই প্রকাশ হয়নি, সেই তখন ষাটের দশকে তিরিশের পঞ্চপাণ্ডব হিশেবে খ্যাত কবি বিষ্ণু দে তাঁকে কেন বই উৎসর্গ করবেন? বাংলা সাহিত্যের অনন্য শীর্ষ কবি বিষ্ণু দে তাঁর ‘সংবাদ মূলত কাব্য’ কবিতাগ্রন্থটি আবুবকর সিদ্দিককে উৎসর্গ করলেন, সঙ্গে শামসুর রাহমান। আমাদের কাব্যযাত্রার এ এক দুর্লভ ইতিহাস। বাংলাদেশের অন্যতম যশস্বী কবি নির্মলেন্দু গুণ আবুবকর সিদ্দিকের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বলেছিলেন, “কবি আবুবকর সিদ্দিক সম্পর্কে এখানে আমি কিইবা বলতে পারি। যাঁকে বিষ্ণু দে বই উৎসর্গ করেন, তাঁকে নিয়ে বলার কিছু নেই।”

আমাদের দুর্ভাগ্য জাতি হিশেবে আমরা আমাদের প্রকৃত গুণিদের মূল্যায়ন করতে জানি না। এ কথা সত্য যে, জাতি হিশেবে আমরা বিস্মৃতিপ্রবণ, অকৃতজ্ঞ এবং আত্মঘাতী। সেই মানুষই কেবল অন্যের গুণপনাকে মুক্ত মনে স্বীকার করতে পারেন, যিনি নিজে একাধিক বিষয়ে গুণময়। দুঃখদায়ক সত্য এই, আমাদের চারপাশে এমন মানুষের বড় আকাল। এই চাটুকারতাড়িত সমাজে এটুকুই আশার কথা যে, মিডিয়া কবি আবুবকর সিদ্দিককে নিয়ে ব্যবসা করতে চায়নি কিংবা পারেনি।

’৪৭-এর দেশভাগের সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের ফলে ব্রিটিশশাসিত বাংলাদেশ পরিণত হল নতুন উপনিবেশে। সেখানে জনজীবনের বিচিত্র, জটিল ও বহুভঙ্গিম আবর্ত-সংর্ঘষ-গতি ও সংগ্রামের অভিঘাতে বাংলাদেশের কবিতাও হয়ে উঠলো সেই বৈরী বাস্তবতার অনুসঙ্গী। এই প্রেক্ষাপটে কবি আবুবকর সিদ্দিকের কবিতার চেতনা ও প্রকরণও হয়ে উঠেছে রক্তাক্ত, জটিল, দ্বন্দ্বক্ষুব্ধ অথচ জীবন্ময়। আবুবকর সিদ্দিকের কাব্যবৈশিষ্ট্যের প্রধান দিকদর্শন তাঁর বহুমাত্রিকতা। সামাজিক দায়বদ্ধতা, আধুনিকতা, পরিশিলীত কাব্যচিন্তা, ঘূর্ণায়মান জীবনের দৈশিক ও বৈশ্বিক টানাপোড়েন, ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার; এ সব কিছুই কবির কাব্যবৈশিষ্ট্যের অন্যতম চরিত্র। যদিও স্বতন্ত্রভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে ওঠে কবির নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার ও শব্দ নির্মাণের সূক্ষ্মতা।

আবার বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে ভাষা, চরিত্র এবং এর বিষয়-প্রকরণ নিয়ে যে অল্প কয়েকজন কথাসাহিত্যিক নিরীক্ষা চালিয়েছেন, তাঁদেরই একজন কথাশিল্পী আবুবকর সিদ্দিক। বিরলপ্রজ অথচ সময়ের সহচর সাম্প্রতিক ও একই সঙ্গে চিরকালীন আবেদনের চিহ্ন স্বাক্ষরিত ঋদ্ধ কথাসাহিত্যের অনন্য রূপকার আবুবকর সিদ্দিক তাঁর নিরীক্ষার শেকড় প্রোথিত করেছেন প্রধানত দলিত ব্রাত্যজনকে নিয়ে। সেই সাবল্টার্ন সমাজের এক নতুন প্রকাশ দেখতে পাই আবুবকর সিদ্দিকের গল্প ও উপন্যাসের ভেতরে। যিনি পাঠকের মননে, বোধে ও অনুভবে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন দেশজ মৃত্তিকালগ্ন অস্তিত্ব, বাঁচন-মরণ ও মনুষ্যজন্মের মহিমা। আবুবকর সিদ্দিক কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে কট্টর বস্তুবাদী, সমাজনিষ্ঠ শিল্পী। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ বাংলাদেশের এই দুই প্রত্যন্ত এলাকার মৃত্তিকা ও মানুষ সম্বন্ধে বিপুল অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই লেখক। যার ফলে খুব সাবলীল লেখনীতে তিনি দুই প্রান্তের জীবনাচরণের তৃণমূলে চলে যেতে পেরেছেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের শোষণ-ক্ষেদ-বিরাগ বয়ানে একটি রীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

তাঁর এই দু’ধারী কলমের শক্তিকে ভয় মেনে দূরে রেখেছেন আমাদের পাঠক-সমালোচক-লেখক, সবাই। এমনকি ঘনিষ্ঠ ছাত্ররাও তাঁর কাছ থেকে মধু আহরণ শেষে নিঃশব্দে কেটে পড়েছেন আড়ালে। তারা জেনে গেছেন, এই প্রত্যয়দীপ্ত ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে অমূলক, অনির্ণিত, অশোভন কিছু পাওয়া যাবে না, যা তাদের ওপরে ওঠার সিঁড়ি তৈরি করে দিতে পারে। অতএব তারা চাটুকার তাড়িত সমাজের মাথায় ঘি ঢালতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন। কবিরা তাঁকে এড়িয়ে গেছেন তাঁর কবিত্বশক্তির কারণে, গদ্যকাররা কাছে টেনে নেননি তাঁর কথাসাহিত্যের ভাষারীতি ও অমিয় তেজের কারণে। কবিতার ক্ষেত্রে যেমন ধবল দুধের স্বরগ্রাম, হে লোকসভ্যতা, মানুষ তোমার বিক্ষত দিন, হেমন্তের সোনালতা, মানবহাড়ের হিম ও বিদ্যুৎ, কংকালে অলঙ্কার দিয়ো, রাভী’র কথা বলা যায়, তেমনি কথাসাহিত্যে চরবিনাশকাল, মরে বাঁচার স্বাধীনতা, কুয়ো থেকে বেরিয়ে, খরাদাহ, জলরাক্ষস কিংবা একাত্তরের হৃদয়ভস্ম ইত্যাদির নাম করতে হয়।

নিজ দেশে সেভাবে সমাদৃত না হলেও আবুবকর সিদ্দিকের মেধার স্ফূরণকে স্বীকার করেছে পশ্চিমবঙ্গ। সেই ষাটের দশকে যেমন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি বিষ্ণু দে তাঁকে কাব্য উৎসর্গ করেছেন; আবার শক্তিমান কথাকার সরোজ বন্দোপাধ্যায় চিঠিতে আবুবকর সিদ্দিককে তাঁর খরাদাহ উপন্যাস পড়ে জানান, “টোপোগ্রাফির উপর আপনার দখল অনন্যসাধারণ। তবে তার থেকেও বড়ো ব্যাপার আপনার মানবিক বাস্তবতা সম্বন্ধে অভ্রান্ত জ্ঞান। সোনার দ’ত কলম হোক- এ শুভেচ্ছা আপনাকে জানাবো না। শুধু বলবো-আপনার লোহার দ’ত কলম অটুট থাকুক।” অন্য একজন লেখক কর্তৃক এভাবে সম্মানিত হওয়া একজন লেখকের জন্য এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।

তবে এদেশে আবুবকর সিদ্দিকের উইটকে ঠিকই ধরেছিলেন সিকান্দার আবু জাফর, হাসান হাফিজুর রহমান, শওকত ওসমান, শওকত আলী প্রমুখজন। সিকান্দার আবু জাফর সেই পাঁচের দশকে সম্পাদনা করতেন সাহিত্য পত্রিকা ‘সমকাল’। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। এই ‘সমকাল’ নামে সিকান্দার আবু জাফরের একটি প্রকাশনাও ছিল। তিনি বহুবার আবুবকর সিদ্দিককে কবিতার পাণ্ডুলিপি দেবার কথা বলেছিলেন, তাঁর ‘সমকাল’ প্রকাশনী থেকে বের করবেন। কিন্তু পালিয়ে গেছেন আবুবকর সিদ্দিক। কবিতার বই, দুঃসাহস। আর আজ আমরা দু’কলম না লিখতেই অস্থির হয়ে উঠি বই প্রকাশে, কবি সাজতে। ১৯৫৭ সনে দুরু দুরু বক্ষে আবুবকর সিদ্দিক দুখানি কবিতা ‘সমকাল’ দপ্তরে হাসান হাফিজুর রহমানের হাতে দিয়ে আসেন। রাশভারী হাসান ফিরেও তাকাননি কবির দিকে। অথচ পরের সপ্তাহে প্রকাশ পেল সমকালে তাঁর দুটি কবিতাই। এই হাসান হাফিজুর রহমানই গদ্য লিখতে উৎসাহ দিয়েছেন আবুবকর সিদ্দিককে। কবিতার পাশাপাশি আমরা পেয়েছি একজন অদ্বিতীয় কথাকার আবুবকর সিদ্দিককে।

তাঁর জলরাক্ষস উপন্যাস সম্পর্কে প্রথিতযশা সাহিত্যিক শওকত ওসমান লিখেছেন, “আবুবকর সিদ্দিক যে অমিত তেজ এবং সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন-ধারার আলেখ্য তুলে ধরেছেন, তা মনে রাখার মত ঘটনা।” আর কলকাতা থেকে সাহিত্যিক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাস প্রসঙ্গে শওকত ওসমানের উক্ত কথার প্রসঙ্গ টেনে আবুবকর সিদ্দিককে লেখেন, “তার সঙ্গে আমি আর একটি কথা যোগ করতে চাই। তেজ ও সাহসের সঙ্গে আছে অন্তহীন প্রেম। উপদ্রুত, অবহেলিত, ধূসর মানুষগুলি আপনার ভালোবাসার আতপ্ত স্পর্শে পঙ্ক-শয্যা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে নতুন অস্তিত্বের সন্ধানে। সার্থক হোক, ফলবান হোক, অনাগত জীবনের সর্বতোভদ্র বার্তা বহন করে আনুক আপনার লেখা।”

জীবনব্যাপী তিনি দেখেছেন, ঘুরেছেন। শৈশব কেটেছে তাঁর বাবার চাকরিসূত্রে পশ্চিমবাংলার হুগলি ও বর্ধমানে। তাঁর এই রাজনীতি, সমাজনীতির দিকদর্শন ও সাংস্কৃতিক ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল ওখানেই। ’৪৭-এর দেশভাগের পরে ১৩/১৪ বছরের কিশোর আবুবকর সিদ্দিক ফিরে এলেন তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশে। শুরু হলো তাঁর নতুন যাত্রা। আবুবকর সিদ্দিকের ভাষায় বলি, “এই বিপুল বৈভব ভরা অফুরন্ত পুঁজি, অন্য আর কী সম্ভব হতে পারত আমার পক্ষে লেখক না হয়ে উঠে? …সারা জীবন ঘুরেছি, দেখেছি, পড়েছি আর মনের মধ্যে পাহাড় জমিয়ে তুলেছি। আমার ভবিতব্য ছিল লেখক হওয়া। যে সংবেদী সাহিত্যবীজ পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধরে এনেছিলাম, দেশে এসে তাই উদ্গত হয়ে উঠতে থাকে।”

বাংলা সাহিত্যের এমন একজন মহীরুহের সঙ্গে আমার সম্পর্কের এখানেই শেষ নয়, জানি না কোথায় তার পরিণতি। হয়তো এও এক অন্যরকম অনন্তযাত্রা, অনাদিকালের…।