কলেজ রোডের জার্নাল-২ ॥ মামুন মুস্তাফা



পিতা অধ্যাপক মুহম্মদ গোলাম রসূল, মা হামিদা রসূল, বোন মাসরুরাতুল আসফিয়া (পুতুল) আর আমি-এই চারজনের এক ছোট অথচ এক শান্তির নীড় গড়ে তুলেছেন আমার জনক-জননী ওই মফস্বল মহাকুমা শহর বাগেরহাটে (বর্তমানে জেলা শহর)। কিন্তু জীবন ও জীবিকার তাড়নায় সেই সংসারের অভিন্ন চারটি ফুল আজ ছিন্নভিন্ন। সে কথা আমার দ্বিতীয় কাব্য কুহকের প্রত্নলিপি’র অনেক কবিতায় বলেছি। কুহকের প্রত্নলিপি অনেকটাই আমার, মুখ্যত আমার বাবার জীবনের কিছুটা রেখাপাত। চাকরি শেষ করে আমার জন্মশহর বাগেরহাট ছেড়ে তাঁর পিতৃভূমি মাগুরায় প্রত্যাবর্তনের কথামালা এ কাব্যে ধ্বনিত হয়েছে। কিন্তু আমার মা! আজ তিনি মহাকালের রথে চড়ে অন্য কোনো লোকে। সদ্য প্রয়াত মাকে যখন অতল মাটির গহ্বরে নামিয়ে দেই, তখনও তাঁর হিম, শান্ত মাথাটি আমার বুকের কাছে ধরা। তিনি কি কিছু বলতে চেয়েছিলেন? বুঝিনি। আজও বুঝি না, মা আমার সংসারনামক বিষধর যন্ত্রের চাকায় কীভাবে পিষ্ট হয়েছিলেন! মুখে হাসি নিয়ে সেবা দিয়ে গেছেন। অর্থকড়ির নিশ্চয়তা হয়নি বলে আমার জন্যে দুঃশ্চিন্তা শেষ বয়সেও তার থামেনি। আমার স্ত্রীকে বার বার ফোন দিয়ে ছেলের চাকরির নিশ্চয়তা সম্পর্কে বুঝতে চাইতেন। আমার এই মধ্যবয়সেও কোথায় যাব, কোথাও যাব না, সন্ধ্যার আগেই যেন ঘরে ফিরি কিংবা পশ্চিমবঙ্গ সফরেও প্রতি রাতে তাকে ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করা- এ যেন জীবনের একটি পাঠ। আমাকে না পেলে ওপারে আমার বন্ধু, বড় ভাই কবি গৌতম গুহ রায়কে ফোন দিয়ে মা জানতেন। গৌতম দা-ও আপন সন্তানের মতো মাকে বলতেন। সঙ্গে আমাকেও ফোন দিয়ে জানাতেন, এখনি যেন মাকে ফোন দেই। মা আমার এখন কোন হিসেবের খাতায় নিজেকে মেলাচ্ছেন? অথচ পৃথিবীর সব হিসেবের খাতার ভুল অঙ্কে টিক চিহ্ন দিয়ে তাঁকে সোঁদা মাটির গন্ধে শুইয়ে দিয়েছি।

জীবনের ধারাপাত আজও শিখিনি। শিখিনি বলেই কলেজ রোডের নিয়ন বাতির নীচে নিজেকে খুঁজি, মেলে ধরি। সেখানে কার কার মুখ ভেসে ওঠে! যে রেল স্টেশনের হুইশেলে জ্বলেছিল জীবনের সবুজ বাতি, তারই হাতল ধরে একদিন ঝুলছি বাগেরহাট শহরে যাব বলে।
তখন ক্লাস টু/থ্রি-তে পড়ি। এমন সময় আমি ‘নাজু’ নামে একজনকে ডেকে বললাম আমি বাগেরহাট যাই। নাজু ট্রেনে ঝুলে থাকা আরেকজনের সহায়তায় আমাকে নামিয়ে নিয়ে বাড়িতে দিয়ে যায়। মার কী বকুনি! বিধিনিষেধ আরোপ হলো রেল স্টেশনে যাওয়া যাবে না।

আজ মাঝেমধ্যেই মনে হয় নাজুর কথা। এই নাজুকে বাগেরহাটবাসী জানতো মেয়ে বলে। কিন্তু তার সাজসজ্জা ছিল পুরুষের মতো। কাজও করতো পুরুষদের। রাজমিস্ত্রী, ইট ভাঙা, রিকশা চালানো, মুটেগিরি-এ সবই ছিল নাজুর কাজ। মনে আছে সে-সময় একবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের কোনো এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে রিকশা চালানো নাজুর স্থির চিত্র দেখিয়ে তার সম্পর্কে প্রতিবেদনও প্রচার হয়েছিল। ২০১৪ সালে পি সি কলেজের কলেজ কোয়ার্টারে থাকা শিক্ষকদের সন্তানদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কলেজসংলগ্ন গ্রাম হরিণখানার অনেক লোকজনই এসেছিল দেখা করতে। কিন্তু নাজুর কোনো হদিস করতে পারিনি। জানি না সে কোথায় আছে, কেমন আছে? নাজু পুরুষ নাকি মহিলা- সে চরিত্র উন্মোচনের আর কোনো চেষ্টাও হয়নি কখনো। কিন্তু পৃথিবীতে সে মানুষ হিসেবে মর্যাদা পাক, এটাই আজ কামনা।

এমনই হাজারো চরিত্র আজ ঘুরেফিরে মনের মাঝে উঁকি দেয়। ‘চৈতে পাগলে’র কথা ভুলি কি করে! শাদা ধুতি, কখনো খালি গায়, কখনো শাদা হাতাকাটা গেঞ্জি গায়ে দিয়ে সে কলেজের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের সামনে গিয়ে ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলে চলে। আবার শিক্ষকদের কোয়ার্টারগুলোতে এসে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ইংরেজিতে বক্তৃতা দেয়া শুরু করে। আমরা উৎফুল্ল হতাম, হাসতাম, তাকে নিয়ে মজা করতাম। বালকবয়সের যা স্বভাব। কিন্তু চৈতে পাগলের ইতিহাস জানার চেষ্টা করিনি তো কখনো! এ জগতসংসারে কত মানুষ উন্মাদ হয়েছে কত শত কারণে, সেসব আমাদের অজানা। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘নগর দর্পণে’ উপন্যাসে বড় ভাই যখন সংসারের সব দায়িত্ব সম্পন্ন করলো, ছোটদেরকে প্রতিষ্ঠিত করলো, তখন সেই আপন ভাইয়েরা নিজেদের স্বার্থে বড়ভাইকে পাগল বানিয়ে পাঠিয়ে দিল পাগলা গারদে। সে-সময় বড় ভাইয়ের একমাত্র পুত্র সন্তান খুব ছোট। সে যখন বড় হয়ে পিতাকে আনতে যাবে, ততদিনে সত্যি বড় ভাই পাগল হয়ে গেছে। চৈতে পাগলের জীবনে তার কোনো ছায়া ছিল কি? তখনকার পি সি কলেজের এই যে উদারতা- পাগল কিংবা জীবিকার তাড়নায় মেয়ের ছেলে সাজা, শ্রমজীবী মানুষ অথবা দার্শনিক, শিক্ষাবিদ- সবাইকে সে স্থান দিয়েছিল তার বিশাল সীমানার চৌহদ্দিতে।

ওই বিশাল সীমানার চৌহদ্দিতে কচি বয়সের বালক আমি হারিয়েছিলাম বলেই প্রথম রচনা করি ‘চলো দরগায় যাই’। তার রেশ ধরেই আজও আমার সাহিত্যক্ষেত্রে পথ হাঁটা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন। লিখে ফেললাম প্রথম নাটক। কিন্তু নাটকের নাম আর দিতে পারছি না। আব্বাকে সে কথা জানাতেই তিনি খুশি হয়ে গেলেন। সন্ধ্যায় তখন ইলেক্ট্রিসিটি যাওয়া ছিল নিত্য ব্যাপার। হারিকেনের আলোয় বাবার কোলে বসে আমি নাটক পড়া শুরু করলাম। পড়া শেষে আব্বা নামকরণ করলেন ‘চলো দরগায় যাই’। বাগেরহাটের ঐতিহাসিক নিদর্শনের ভেতরে খানজাহান আলী দরগা উল্লেখযোগ্য। ষাটগম্বুজ মসজিদ তার আরেকটি নিদর্শন। কথিত যে, পীর খানজাহান আলী ধর্ম বিস্তারের উদ্দেশেই এ অঞ্চলে এসে আবাস গাড়েন। তাঁর খননকৃত দরগায় দুই কুমির ধলা পাহাড় আর কালা পাহাড় আজ ইতিহাস। ষাটগম্বুজ এখন বিশ্বঐতিহ্যের অংশ।

তখন তো বুঝিনি বিশ্বঐতিহ্যের অংশ হয়ে বাগেরহাটও একদিন বদলে যাবে! পি সি কলেজের উদার জমিন কথিত উন্নয়নের নামে সীমানা প্রাচীরে ছোট হয়ে আসবে! ঐতিহ্যবাহী কয়লার ট্রেন বন্ধ হয়ে যাবে! রেলপথের সীমানা মুছে ফেলা হবে জ্বলন্ত পীচের আগুনে! অথচ একবার আমাদের বাড়ির দেয়াল ও রেল স্টেশনের পাশের জায়গাটিতে ক্ষিরাই খেত করা হলো। প্রচুর ক্ষিরাই হয়েছিল সেবার। ইচ্ছেমতো খেতে ঢুকে ক্ষিরাই খেতাম, সঙ্গে কাঁটার আঘাত। লাউ এত হতো যে, আত্মীয়স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে দিয়েও নিজেরা খেয়ে পারা যেত না। আমাদের এক দুধঅলা দুধ দিত। মা তার মাধ্যমে লাউ বাজারে বিক্রি করাতেন। সবজি বাগানের পাশাপাশি এই বাড়ি ফুলের বাগানে পরিণত হলো। এমন কোনো ফুল গাছ ছিল না, যা নেই আমাদের বাগানে। আব্বা কোনো কাজে ঢাকা এলে তখন রাজধানী থেকেও ফুলের চারা নিয়ে যেতেন। একবার ঢাকায় চলতি পথে এক বাড়ির আঙিনায় একটি অজানা ফুল দেখে পছন্দ হলো, তিনি সেই অচেনা বাড়ির গৃহকর্তার সঙ্গে দেখা করে ওই গাছের চারও সংগ্রহ করেন। নানা রঙের বুগেনভিলিয়া, গোলাপ, টগর, হাস্নাহেনা, সূর্যমুখী, চেরী, রক্তজবা ফুলসহ আরও অসংখ্য রকমের ফুল গাছ ছিল বাড়িতে।

আমাদের বাড়ির নাম হয়ে গিয়েছিল ফুলগাছঅলা বাড়ি। আর এই ফুলের কারণে সাপও বাসা বেঁধেছিল বেশ। আমরা অসংখ্য সাপও মেরেছি সে-সময়। একবার একটি গাছের ডাল কাটতে গিয়ে আব্বা একবার ডোরা সাপের মুখে পড়েছিলেন, কেবল সাপের মুখে আহার ছিল বলে তিনি বেঁচে যান। কিন্তু আমার ছোট চাচা ঠিকই বিষধর কেউটে সাপের কামড় খেয়েছিলেন। বাসায় তখন সাপুড়ে ডাকা হলো। সারারাত সে মন্ত্র পাঠ করে কলাপাতায় বিষ নামিয়ে তা গুড় দিয়ে খেয়ে ফেলে। সে এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। কিন্তু এই ফুলের বাগান এক সময় আপনাআপনি ভেঙে পড়লো অযত্ন অবহেলায়। কারণ আব্বার পায়ে এলার্জি দেখা দিল। কোনো কিছুতেই সারছে না। তখন খুলনায় এক ডাক্তার ছিলেন আজিজুল হক। আব্বা তাঁকে দেখালেন। তিনি আব্বার হাতে দাড়িয়াবান্ধার মতো কিছু ঘর এঁকে সেখানে মেডিসিন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলেন। তিনদিন পরে তিনি তা দেখে আবিষ্কার করলেন ফুলের রেণু থেকে আব্বার এলার্জি। এরপর তিনি আব্বার দুই পায়ে ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে বললেন, একমাস পরে তা খুলে পা ধুয়ে ফেলতে। তখন রমজান মাস। রমজানের শেষে ডাক্তারের পরামর্শ মতো মা আব্বার সেই পায়ের ব্যান্ডেজ খুলে দুই পা ধুয়ে দিলেন। আমরা দেখলাম সাপের খোলস পাল্টানোর মতো পায়ের চামড়া খসে খসে পড়ে যাচ্ছে আর নতুন পায়ের জন্ম হচ্ছে। এরপর থেকে ফুলের বাগানে সাপ বাসা বাঁধলো ঠিকই কিন্তু তা গাঢ় হলো না। গন্ধে মউ মউ করা ফুল বাগান ধীরে ধীরে ন্যাড়া হতে থাকলো। ওর প্রতি আমাদের ভালবাসা স্বার্থপরের মতো উড়ে গেল। তারপরই বোধহয় এই বাসা থেকে আমাদেরও শেকড় উপড়ে ফেললাম।

কিন্তু এই বাসাতেই আমার পিতামাতা অভাব আর অনটনকে জয়ী করে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। সারারাত তালপাতার পাখার বাতাস দিয়েছেন আমাদের দু-ভাইবোনকে। তাঁদের সেই দুঃখ-সময়ের ভেলায় চড়ে আমরা কখনো প্রত্যক্ষ করিনি অভাব কি? এখন উপলব্ধি করি- আমার মাকে দেখেছি একটি ব্লাউজ শুকিয়ে গায়ে দিতে, বাবাকে দেখেছি মায়ের শাড়িকে লুঙ্গি করে পড়তে। কিন্তু তাঁরা সন্তানদের জন্যে সবটুকু উজাড় করে হয়েছেন নিঃশেষ। তখন পি সি কলেজের প্রতিটি শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই একই গল্প বিরাজমান। বিনোদন বলতে ছিল পিতার বড় একটি রেডিও যা ট্রানজিস্টার হিসেবে খ্যাত। ওখানে কলকাতার নাটক, পুরনো দিনের গান আর ঢাকাই ছবির বিজ্ঞাপন শোনা। মাঝে মাঝে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ‘টাউন হলে’ মায়ের সিনেমা দেখা। আর আমাদের কলেজের মাঠে-প্রান্তরে ছুটে বেড়ানো। বোনেদের পুতুল খেলা। মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখন পৌঁছে যাব মাঠে, সেই ভাবনায় দুপুরে না ঘুমিয়ে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকা। সবাই ঘুমিয়ে গেলে ধীর পায়ে অতি সন্তর্পণে খালি গায়ে দে ছুট। মা পরে লোক পাঠিয়ে জামা পৌঁছে দিতেন মাঠে। স্টাচু প্রফুল্ল বাবু (কলেজ প্রাঙ্গনে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের মূর্তি) তখন মুচকি হাসতেন বোধহয়।

ধীরে ধীরে কলেজ কোয়ার্টারে আমাদের প্রথম এ বাড়ি ছেড়ে দেবার সময় হলো। একটু পরিশীলিত ঘর, উন্নত জীবনব্যবস্থার আশায় আমরা ছেড়ে দিলাম কলেজ কোয়ার্টারে আমাদের প্রথম বাসাটি। উঠে এলাম কলেজের সুখসরোবরনামক পুকুরের পাড়ে আবারও দু’কামরার একটি বাসায়। কিন্তু প্রথম ওই গৃহ-ব্যবস্থা ভুলে যাবার নয়। আমাদের জীবনের সব সম্ভাব্যতা জুড়ে আছে এখানেই, সর্বত্র। এর দেয়ালে, খিলানে জড়িয়ে আছে আমাদের অনেক উত্তরিত গরিমা। তাই আমাকেও লিখতে হয়েছে, ‘ওই বাড়িটার রমণে ছিল নারীর আর্তস্বর/ভাঙা চুড়ির ক্রন্দন। নিশিত চুলের হাহাকার। …শরীরবাঁধ ভেঙে যায় হাওয়ায় কাটা ঘুড়ির/ মতো। বাড়িটার দেয়ালে উত্তুঙ্গ ফসিলের হাড়।’

তবু জীবন নামক গাড়ির চাকা গড়িয়ে চলে। কথায় আছে ‘সময় ও স্রোত কারো জন্যে অপেক্ষা করে না’। নিঃশব্দ সে ঘূর্ণায়মান চাকার গতির ভেতরে হারিয়ে যেতে থাকে সময়পাবক। ফেলে আসা কৈশোর স্মৃতিতে আজও অমলিন বাগেরহাট আর সেই কলেজ চত্বরের সবুজ প্রকৃতি। কলেজসংলগ্ন রেল স্টেশন, আর তার চারপাশে ছোট ছোট চায়ের দোকানঘর ঘিরে নানা সমাজের নানা বর্ণের মানুষের যে কোলাহল, সেখানেও তদানীন্তন বাগেরহাট মহাকুমা শহরের এক সমীক্ষা উঠে আসে যেন। আমাদের যাতায়াত ও পর্যন্তই। স্টেশন-লাগোয়া ওই দোকনঘরগুলোতে আমাদের দাবি ছিল অনেক। শিক্ষকদের সন্তান হিসেবে আমাদের প্রতি তাদের স্নেহ, ভালবাসাও ছিল অপ্রতুল। সুলতান, কলেজেরই পিয়ন ছিলেন। স্টেশনের পাশেই ছিল তার চায়ের একটি প্রশস্ত দোকান। ওখানেই শিক্ষকদের আড্ডা চলতো নিয়মিত। সেসব আড্ডা ছিল শিক্ষার, সমাজ গঠনের, কখনো পারিবারিক সুখ-দুঃখের জীয়ল মাছের গল্প। এই দোকানগুলোতে ঘুরে ঘুরে আমরা ছোটরা পাঁচ পয়সা, দশ পয়সার রঙিন স্বপ্নগুলো কিনতাম!