কলেজ রোডের জার্নাল-৩০ ॥ মামুন মুস্তাফা




কলেজ রোডের জার্নাল একজন ‘বেন্টিঙ্ক’ থেকে ‘মামুন মুস্তাফা’র কথা বলছে। বলছে একজন বালকের মনের মাঝে লুকায়িত স্বপ্ন ‘লেখক’ হয়ে ওঠার গল্প। সেই গল্পে নানা প্রান্তের মানুষ ঠাঁই করে নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। গত শতকের সেই সাত ও আটের দশকের সুদূর মফস্বল শহর বাগেরহাটের শ্যামলিমা, প্রফুল্লচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের উদার সাংস্কৃতিক পরিবেশ ওই বালকটিকে ‘লেখক’ হতে সাহায্য করেছিল নির্মোহ ভাবে। সেই ঋণ স্বীকার করে কলেজ রোডের জার্নালে আমি বলবো আজ আমার সময়ের কিছুটা অগ্রজ, গত শতকের নয়ের দশকের তিন কবি মাহবুব কবির, বায়তুল্লাহ্ কাদেরী ও আহমেদ স্বপন মাহমুদের কথা ও কবিতা সম্পর্কে।

মাহবুব কবির। পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। এখন স্বেচ্ছায় অবসরে। তাকে আমি প্রথম জানি আমাদের নব্বইয়ের দশকের কবিদের কবিতা নিয়ে যে প্রথম সংকলনটি বের হয় ১৯৯৯ সালে, তার সম্পাদক হিসেবে। এই সংকলনের সম্পাদক ছিলেন মাহবুব কবির। এই দুঃসাধ্য কাজটি সব ধরনের পক্ষপাতিত্বকে তুড়ি মেরে তিনি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। এ বইটি আমাদের গবেষকদের কাজে সহায়তা করছে। কাজে লাগবে আগামীতেও। মাহবুব ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় তার একদা কর্মক্ষেত্র দৈনিক ভোরের কাগজের অফিসে। তার কবিতা চাইতে গিয়েছিলাম আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ ‘লেখমালা’র জন্যে। মাহবুব ভাই আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, ‘মামুন, বিজ্ঞাপন না পেলে এ কাজে হাত দেবেন না’। কিন্তু ‘লেখমালা কখনো বিজ্ঞাপনের দ্বারস্থ হবে না’ এই শ্লোগান দিয়ে অবশেষে বের হয়। সে প্রসঙ্গে অন্যত্র কথা বলা যাবে। শুধু বলবো, তারপরেও মাহবুব ভাই ‘লেখমালা’ ও কবি মামুন মুস্তাফাকে সহজেই কাছে টেনে নিলেন।

আমি তাকে আমার সময়ের উল্লেখযোগ্য একজন কবি মনে করি। আধুনিক বাংলা কবিতায় দুরূহতা এসেছে কবিতার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলের জন্য। যে কবিতা উষ্ণ আবেগের কাছে সহজে আত্ম উন্মোচন করে, যার লক্ষ্য উপভোগ্য রস আস্বাদন, আধুনিক কবি তা মেনে নিতে বাধ্য নয়। সুতরাং এ সময়ের কবিকর্ম ততটা হৃদয় উৎসাহ খুলে দেয় না, যতটা বুদ্ধির মুক্তি ঘটায়। আধুনিক কবিতার এই নতুন লক্ষ্যে নব্বইয়ের শক্তিমান উজ্জ্বল কবি মাহবুব কবিরের কবিতায় মননের ভূমিকা প্রধান হয়ে উঠেছে। আমাদের খুব চেনা পরিবেশের ভেতরে কিছু অমীমাংসিত শূন্যতা থাকে। যা নিয়ে আমরা কখনো ভাবনার অবকাশ পাই না। এমন কি তাকে আলাদা ভাবেও দেখতে চাই না। অথচ মাহবুব কবির সেই শূন্যস্থানগুলোতে বিবেককে জাগ্রত করে এক ধরনের সাংকেতিক কবিতা নির্মাণ করেন। এই রূপক কবিতাগুলোর ভেতরেই আছে পরিশীলিত ভাষায় নিচু লয়ে বিপ্লবের ধ্বনি। এখানেই সার্থকতা কবি মাহবুব কবিরের।

‘একটা বিষাক্ত জীবন কাটিয়ে গেলাম পৃথিবীতে-/আরও বিষ ছড়িয়ে গেলাম সবখানে।/বিষমন্ত্র শিখে নিয়ো সবাই।’ (বিষ : আয়নার দিকে); অথবা ‘উন্নয়ন হয়েছে খুব দিকে দিকে-/আমাদের উঁচু উঁচু মানুষেরা স্থানে স্থানে/নিচু নিচু পাকা ব্রিজ বানিয়েছে।/ফলে লঞ্চঘাট উঠে গেছে সেই কবে…।/আমাদের নদীটি খালের মধ্যে ঢুকে গেছে।’ (উন্নয়ন : ফুলচাষি মালি যাই বলো)।

বাংলাদেশের নব্বইয়ের কবিতায় উঠে এসেছে নিজস্ব মৃত্তিকা, জলহাওয়ার ধর্ম-দর্শন-ঐতিহ্য, অতীত এবং ভবিষ্যতের প্রণোদনার সঙ্গে বৈশ্বিক-চেতনা, শ্রমশিল্পের সংগ্রামিতা ও মহানাগরিক আত্মা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় চেতনার উৎকর্ষ সংশ্লিষ্টতা। সর্বোপরি এই সময়ের কবিরা যুগপৎ ভাবে কড়া নাড়ছে শিল্পের দরজায়, কণ্ঠে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত ধারাবাহিক উত্তরণের অধ্যয়ননিষ্ঠ পরিশীলন। কবি মাহবুব কবির এদেরই সারথি।

জীবনের হাওয়া প্রসারিত হয়ে জীবনবেদকেই পূর্ণতা দেয়, যা অপূরণীয় মনে হয়, হয়তো তার ক্ষতিপূরণ অন্যভাবে জীবনের কাছেই মেলে। আর তাই মাহবুব কবির জীবননিষ্ঠ কবিতার অঙ্গনে মানব-শুশ্রুষা খুঁজে ফেরেন। এই কবি তার জীবনাভিজ্ঞতার বিনিময়ে কবিতায় কখনো স্নিগ্ধ প্রসন্নতার প্রসাদ, আবার কখনো-বা নিঃস্ব, নিরবলম্ব বেদনার সঙ্গী করে তোলেন তার পাঠককে। অনুভূতির এই বর্ণ পরিবর্তনে মূলত ‘জীবনই’ একমাত্র মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। আশা-আকাঙ্ক্ষা, পাওয়া-না পাওয়ার চরিতার্থতায় মানুষের যে বৈকল্য- তারই সারাৎসার ‘স্যাটায়ার’ হয়ে ধরা দেয় মাহবুব কবিরের কবিতার বলয়ে। অবশ্য জীবনবাদী এই কবির কবিতাসমগ্রে ‘স্যাটায়ার’ একটি প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রিক ও সামাজিক জীবনের দুষ্ট ক্ষতগুলোকে তিনি স্যাটায়ারের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। যার ভেতরে দ্বান্দ্বিক সমাজের ক্ষত উপশমের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা এবং সর্বোপরি জীবনবোধের বীক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরলপ্রজ অথচ লাজুক এই কবি নিজেকে আড়াল করেছেন স্বভাবগত চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্যে। এই সময়ের তথা নব্বইয়ের ভীষণ জনপ্রিয় কবিদের তালিকায় তাকে পাওয়া যাবে না, কিন্তু বাস্তবতা এই- বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতায় মাহবুব কবির এক অনিবার্য কবিনাম।

২.
বাংলাদেশের কবিতায় যে নতুন ভাবনাদর্শন নব্বইয়ের দশকে লক্ষ করা গেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যেই আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই সময়ের যেসব কবিরা কবিতায় স্বাতন্ত্র্য ও নতুনত্বের রূপরেখা নির্মাণ করলেন তাঁদেরই অন্যতম কবি বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। নব্বইয়ের দশকের কবিতাকে সংহতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদানে যে গুটিকয়েক সৃজনচঞ্চল কবি ভুমিকা রেখেছেন, তাদের অন্যতম কবি বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতায় তিনি একজন প্রাজ্ঞ কবি হিশেবেই চিহ্নিত।

আর এ জন্যেই বোধহয় কাদেরী ভাইয়ের কবিতার নিষ্ঠ পাঠক হয়েই তার সংস্পর্শে আমি যেতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আমার সম্পাদিত ছোটকাগজ ‘লেখমালা’য় তিনি স্থান করে নিয়েছেন। আমিও তাঁকে ‘লেখমালা সম্মাননা’ জানাতে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। রোমান্টিকতা, গীতিময়তা, চিত্রল কবিতার এই সনাতন ধারণাকে সঙ্গী করেই তিনি নির্মাণ করেছেন সম্পূর্ণ আধুনিক ও নিজস্ব এক কবিতাভাস্কর্য। বায়তুল্লাহ্ তার কবিতার ভিতরে শিল্পগুণ সমৃদ্ধ পঙক্তিগুচ্ছকে ব্যক্তিমানুষের প্রাত্যহিত বাস্তব জীবনের অনুষঙ্গ করে তোলেন। আর এর মাধ্যমে কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী গ্রহণযোগ্য কিংবা ভাল কবি নয় বরং হয়ে উঠেছেন নতুন কবি, নতুন কণ্ঠস্বরে ভাস্বর আমাদের কবি।

বায়তুল্লাহ্ কাদেরীর ‘ত্রিনাচিকেতের নাচ’ কাব্যের কথা আমি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে চাই। নব্বইয়ের দশকের উত্তরাধুনিক-অনাধুনিক বাকপ্রতিমা আঙ্গিক নিয়ে সরব বায়তুল্লাহ্ ‘ত্রিনাচিকেতের নাচ’ কবিতাগ্রন্থটি। এ কাব্যে আবেগ, উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণের ধ্রুপদী কৌশল বোধসম্পন্ন পাঠকের মনে স্বস্তি আনে। তথাপি স্বাদ-বিষাদের বিবেচনায় মৃত্যুর কাবিননামার ঈষদাভাস কখনো কখনো ছলকে ওঠে বায়তুল্লাহর কবিতায়। ফলে তার কবিতা অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্যক্তি’ অনন্ত বিষাদের অনুবাদ হয়ে ধরা দেয় পাঠকের কাছে। ‘ত্রিনাচিকেতের নাচ’ কাব্যে সময়পাবককে যাপিত জীবনের অনুষঙ্গ দিয়ে সাজিয়ে সূক্ষ্ম দার্শনিক বোধের স্বাক্ষর রেখেছেন কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী। সমষ্টির ভাবনাকে প্রকাশ করা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সময়ের অভিঘাত, ঘটনার নানামুখি প্রতিক্রিয়া গোটা বইয়ে ধারণ করেছেন কবি বিমূর্ত প্রকাশভঙ্গির ভিতর দিয়ে। বায়তুল্লাহর কবিতার অর্থ ও সৌন্দর্য নৈঃশব্দনির্ভর।

বায়তুল্লাহ্ কাদেরীর কবিতায় এক ধরনের অবদমনের চাপ দেখা যায়। গভীর মর্মমূলে লুকিয়ে আছে মানবিক অবদমনের এক রহস্যময় দেয়াল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় বায়তুল্লাহ্ সেই অবদমনকেই শিল্পিত বাক্যের বাঁধনে গেঁথে তৈরি করেন কবিতা। এই অবদমন মনের নিরীক্ষায় সময়, চিন্তা এবং আবেগের এমন সমন্বয় এই কবির কবিতায় পাওয়া যায়, যা পাঠককে আবিষ্ট করে রাখে এবং পাঠের পরেও ভাবনার ঘুড়ি উড়তে থাকে আরো কিছুক্ষণ। ফলে বায়তুল্লাহ্ কাদেরী আমাদের সময়ের অনিবার্য কবি হয়েই ধরা দেন।

বিশ্বদ্যিালয়েরর অধ্যাপনা, ছাত্র পড়ানো আর নিবিড় গবেষণাকর্মের ভেতরে সাম্প্রতিক সময়ের কবিতার অকারণ হৈ-হুল্লোড় থেকে কাদেরী ভাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখেন। তাই ‘জাতকবি’ হিশেবেই তিনি বর্তমান সময়ের কবি ও কবিতায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন বলেই মনে করি।


৩.
কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্তাব্যক্তি হয়েও একজন কবির যাপনচিত্র ধরা পড়ে তাঁর জীবনযাপনে। মার্জিত স্বভাবের আপনভোলা মানুষ কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ। তার আন্তরিক প্রীতি আমাকে তার কাছে টেনে নিয়ে যায়। তার চরিত্রের মতো তার কবিতাও এক ধরনের মিস্টিক অনুভূতি বপন করে পাঠকের মনে। স্বপন সাম্প্রতিক জীবনের শুষ্কতা, দীনতা ও ফাঁকির কথা খুব স্বাভাবিক স্বরে উপস্থাপনে পারদর্শী। অনেকটা আত্মকথনের স্বরে জীবনের এই ছবিগুলো তিনি আঁকেন গল্পের বীজ বপনের মধ্য দিয়ে। আবার এই গল্প বলতে গিয়ে তিনি যে গদ্য নির্মাণ করেন সেখানে মানুষের প্রতিদিনের জীবনচরিত ধরা পড়ে খুব সহজ ভাবে। কোনো কৃত্রিমতা তাকে ছুঁতে পারে না। ফলে তার কবিতায় গল্প বলার ভাষাও নিরাভরণ বাস্তবতা দিয়ে সাজানো।

কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ নগর-সমাজ জীবন চারিত্র্যের বৈশিষ্ট্য ও বিভাবকে ধারণ করেছেন। তার শিল্পের পটভূমি জুড়ে নগর এবং শুধুই নগর। এই নগর মানসতা কখনো কোনভাবে বিপর্যস্ত হয়নি। এখানেই সম্ভবত স্বপনের কবিতার একটি সফল দিক উন্মোচিত হতে দেখি। তার ভাষা নিবিড়, গভীর সতত নির্মিতিসাপেক্ষ, তার অন্তঃভূমিতে এক ধরনের সূক্ষ্মতার সম্মিতি এবং সহজতার সহস্থিতি বিদ্যমান। একজন খাঁটি কবির মতো স্বপন পরিপার্শ্ব সচেতন। মানব জীবনের খুঁটিনাটি এবং যাপিত জীবনের নানা ক্ষেত্রকে তিনি কবিতার বিষয় করে তুলেছেন। তার সে দেখার চোখ ক্রমশ তীক্ষ্ণ হয়েছে, তিনি ডিটেল থেকে সূক্ষ্মতর ডিটেলে চলে গেছেন। উপলব্ধির কথা বলেছেন তীর্যক ভাষায়। সেখানে প্রয়োজনীয় অনাবশ্যক উপমা বা অন্যবিধ অলঙ্কার ব্যবহারে তিনি উৎসাহী ছিলেন না। প্রগলভতাকে এড়িয়ে চলেছেন আবার মূলধারার প্রধান প্রধান চিন্তা-চেতনাকে শিল্পরূপ দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হননি।

আধুনিক কবিতা যে নিঃসঙ্গতা ও বিষণ্নতাকে কেন্দ্র করে বেড়ে উঠেছে, কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ তাকে সম্পূর্ণ পরিহার করে তার ভেতরের কার্যকারণ অনুসন্ধানে প্রয়াসী। একজন শিল্পীর সাফল্য নির্ভর করে নিজের পথ বেছে নেয়ার মধ্যে নয়, বিবেকী দৃষ্টি দিয়ে সত্যকে অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের মধ্যেই। স্বপন সেই কাজটি করেছেন সমাজজীবনের স্থানিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভেতরে। এ কারণেই বোধহয় স্বপনের কবিতায় অমিয় চক্রবর্তী ও সমর সেনের নাগরিক অবসাদ টের পাওয়া যায়। অস্তিচেতনার পাশাপাশি সময়ের অস্থিরতা ও মানসিক যন্ত্রণা প্রধান হয়ে উঠেছে কবির অধিকাংশ কবিতায়। বর্তমান, ভবিষ্যত আর অতীত সময় আর মহাসময়ের ধারণাকে লীন করে মানবের সৃষ্টি, কাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতার এক জাদুকরী মহাসম্মিলন ঘটেছে স্বপনের কবিতায়। গভীরতর উপলব্ধির আনন্দ ও বেদনা, জীবনের অপার দ্বন্দ্ব, আলো ও অন্ধকার, প্রেম-বিরহ, হতাশা-উচ্ছ্বলতা, আকর্ষণ ও বিবমিষা- এসবই একই সঙ্গে ঠাঁই পেয়েছে তাঁর কবিতায়। ফলে বাস্তবতা ও কল্পলোকের সময়-ইতিহাসের বেদীমূলে এই পৃথিবীর চিরকালীন ‘মানুষ’ সত্যাসত্য হয়ে ধরা দেয় আহমেদ স্বপন মাহমুদের কবিতায়। নব্বইয়ের দশকের সৃজনচঞ্চল এই কবি কবিতাযাপনে সতত নিষ্ঠ এবং বাংলাদেশের কবিতায় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন, এ কথা বলা যায় দ্বিধাহীন চিত্তে।

৪.
নব্বইয়ের দশকের নগরকেন্দ্রিক দৈনিক ও লিটলম্যাগ-এর থেকে একদল তরুণ কবির অভ্যুদয় বহুমাত্রিকতায়। সেই বহুমাত্রিক অগ্রগামী চেতনা ও শিল্পোত্তীর্ণ চমৎকারিত্বে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নতুন কাব্যভঙ্গি মেলে ধরেছেন আলোচিত তিন কবি- মাহবুব কবির, বায়তুল্লাহ্ কাদেরী ও আহমেদ স্বপন মাহমুদ। বাংলাদেশের কবিতায় নিজস্ব স্বরূপের বিকশিত দিকনির্দেশক হিশেবে বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের এই তিন কবি আগামীতেও সমান ভাবে উচ্চাারিত হবেন বলেই আমার বিশ্বাস।