কামরুল বাহার আরিফ-এর কবিতা


স্বাধীনতা শুধু মানবের জন্য

যে ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা শোনেনি
সে ব্যক্তি অনুভূতিহীন মৃত
যার একটি মাথা আছে
কাঁধের উপর সে মাথাটি চেপে আছে
নিজে নিজে সে মাথাটা ঘুরতে পারে না
মাথার কোনো কাজও নেই- গোল্ডফিস মেমোরি

তার কাছে মৃতদের কিছু কণ্ঠস্বর
বারবার ফিরে ফিরে আসে
চাবুকের মত সপাং সপাং শব্দে
তার হাসি ও কান্না একই রকম শোনা যায়
মৃত কিছু অতৃপ্তির শব থেকে উঠে আসা
বীভৎস রঙের প্রজাপতি দেখে সে
সেখানে ফুল নেই, ফুলের রঙ ও সুগন্ধি নেই

সে স্বাধীনতার নামে দীর্ঘশ্বাসের পলেস্তরা খসা
শ্যাওলাঘেরা দেয়ালের ভেতরে বন্দি হয়ে
সরীসৃপ আর বৃশ্চিকের সাথে বসবাস করে।
সে বেরোনোর কোন দরজা চেনে না
ভুল করে দরজার কাছে এলে অজস্র মৃতদের
খুলি এবং রক্তবৃষ্টির আর্দ্র দুর্গন্ধে ডুবে যায়।
তার কাছে আলো ও অন্ধকার দিন ও রাত সমান
তার শিশ্ন কিংবা যোনি আছে
কিন্তু প্রেম জানে না, জানে না সঙ্গমর সুখ
শুধু জিহ্বা দিয়ে লালা ঝরায় লোভী পশুদের মত
তার জীবনের অস্তিত্ব কিংবা জীবনের স্বপ্ন নাই
সে ঘুমায় না, তার ঘুম নেই,
ঘুমের স্বাধীনতা জমা আছে
সরীসৃপ আর বৃশ্চিকের পিঠে
সে পান করে মিথ্যার মল ও সরীসৃপ বিষ
সে বধির, অন্ধ ও পাপী,
তার কাঁধের ওপর শুধু একটা মাথা আছে
মাথার মগজটা ভয়ানক সাম্প্রদায়িক মেনিনজিসে আবৃত
আর শরীরটা দগদগে ঘায়েপূর্ণ মারণাস্ত্রের জীবাণুতে ভরা
কখনোই সে স্বাধীনতা কী জানতে পারে না
স্বাধীনতা শুধু মানবের জন্য।



সকল গাছেরাই কবি

গাছেরা কবিতা লেখে- জন্মগতভাবেই তারা কবি
জ্বলজ্বলে অক্ষরে অক্ষরে শব্দে- বর্ণে সাজানো সব কবিতা।
সকলেই সেসব কবিতা দেখে না
কেউ কেউ দেখে।

অতি শীতে গাছেরা অভিমান করে; তখন
তারা কোনো কবিতা লেখে না। বরং তাদের সঞ্চিত
কবিতার পাতাগুলো মাটিকে উপহার দেয়
মাটিও বোঝে সেই কবিতার কথা
কেননা মাটি যে গাছেদের মাতা।

বসন্তই তাদের কবিতা লেখার শ্রেষ্ঠ সময়
তখন কোকিলেরা কবিতায় ছন্দ বোনে
আর নানা রঙের পাখিরা
কবিতা পড়তে আসে গাছেদের বাড়ি
বৃষ্টির রিমঝিমে কবিতারা গান বাধে
সে গানে সকলেই সুরলিত হয়- মানুষ বাদে!

মানুষ তো হত্যা করে- কবিরা কি পারে…?



সুন্দর পাপ

আমার সুন্দর পাপগুলো কখনোই হাপ ধরেনি
তোমাকে দেখতে দেখতে
জলে নামি, ধেয়ে আসা জলের নহরে- তুমি;
আকাশেও উড়ি, পাখির পাখায়- তুমি;
মৃত্যুকে ভাঙি কক্ষরেখায়, সেখানেও তুমি! আর
তোমাকেই দেখি; দেখে দেখে নিরন্তর পাপ করি।

এই কুসুমিত পাপ, পল্লবিত পাপ
বাগানের ঈর্ষার গোলাপ হয়- সুন্দর সাহসে।
কখনো তোমার নির্জন উপস্থিতির ভাঁজ খুলে খুলে
পাপ বাগানের সিক্ত পাপড়ির গালিচায়
রাম-সীতার বাসর হয়!

আর তোমার নির্মীলিত চোখ থেকে ঈশ্বরের
গাঢ়পূণ্যি রঙ নিয়ে পাপেদের ঘরের দেয়াল গড়ি।
আমার সুন্দর পাপগুলো সেই পূণ্যির দেয়ালে
বন্দী করে আবারো পাপের সেই সুন্দর সাহসে
ঈশ্বরের ইচ্ছায় ইচ্ছায় পল্লবিত করি।
ঈশ্বর! কেন এতো সুন্দর পাপ দিলে!