কে বলে দাঁড়িয়ে আছি তোমার অপেক্ষায় ॥ বঙ্গ রাখাল


কে বলে দাঁড়িয়ে আছি তোমার অপেক্ষায়

১.
বাড়ির ঝুপড়ি ঘরে বসে-পায়রা
পেখম তুলে উড়িয়ে দেয়-হৃদয় মন্থনস্মৃতি
সর্ষের মলন- দাদার অপশাসন বিরোধী আন্দোলন
মাটিতে পড়ে থাকা লাশের- নিথর দেহ
নিজের রক্তকেই চিনিয়ে দেয়- কান্নায় নিমজ্জিত চোখ

২.
দেশান্তরী ঘরের ছেলে-ট্রেন যাত্রী
সূর্যাস্ত। একদিন লাপাত্তা। আসমান মাথায় করে
শুনেছি কবিতাও লিখত- আন্ডার গাউন-টাউন মনে হয় করত
কঠিন বৃষ্টির দিনে-উষ্কখুষ্ক উজবুক পেয়ালা বাজাত
আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা
হায়েনার ন্যায় হিংস্রতাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনত

৩.
কে দাঁড়িয়ে ওপারে- একলা পথ
অপেক্ষায় তুমি-ভিতরে জং ধরা মর্মান্ত বেহালায়
-বিষাদী কুড়িয়ে পাওয়া মরালী সুর।
মুরগীর যমজ মেয়ে- বুকে চেপে ধরে
ঈশ্বর বাসনায়-জীবনের কষ্টার্জিত লালভাত
নিজেও জানে- বন্যা, খরার কালে
তুমি দাঁড়িয়ে নেই তবুও বুকের শিশু
প্রতীক্ষায় চুষে খায়- শুষ্ক স্তনরস


৪.
এমন কথা ছিল না। কাঁপবে বুকের কাপড় খুলে
ঘুমের ঘোরে জ্বালিয়ে দিবে-ফুল পতনের তেজ
ক্ষুধার শরীর-পাঁজরের হাড়ে হাড় বাজে
তবুও
লাশের চোখে মাখিয়ে দিবে-কস্তুরী ঘ্রাণ আর রাষ্ট্রের
ডাল-ভাত মেখে খাবে-কিছু শাবকের দল
প্রাইভেট গাড়ি-বাড়িতে= তুমি সাজিয়ে তুলবে চারিপাশ
কখনো বন্ধু বা পিতার কথা ভেবে- ভেব না সর্বনাশ হবে
গ্রাম থেকে
হেঁটে আসা
তোমারই পিতার দিকে তাকিয়ে– ভেব না
বাবার ব্যর্থতা আর মায়ের সেক্সহীনতায়
তোমার অপক্কতা…


৫.
এই নিঝুম রাতের গভীর অন্ধকারে
আমি লুকাতে চাই-শুকাতে চাই
নিজেকে-জীবনের গভীরতায় রেখে
চিনে নিতে চাই- জীবনের অন্তিমকালের বেসুরো স্বাদ
তবে
আত্মহত্যা বলে যে মহর্ষীকে চিনি
সেই আত্মাবলির আগে- কিছুক্ষণ কবিতা পড়ি বা মাখি
মাদুলি করে রাখতেও পারি হাতের বাহুতে
এসব ভাবলেও-তোমার কথা ভেবে অপেক্ষায় দাঁড়াতে চাই না।


৬.
এতদিন যাকে ভালোবাসা বলে জানি- তোমার ছলনা
সবুজ মেখে শরীরে – রবীন্দ্রনাথ
চিবাতে থাকে কাশফুলের নরম ডাটা- তুলতে পারে
নিষিদ্ধপল্লিতে পতিতার ঘর-সাজতে পারে বর
ভেবনা হাঁটতে হাঁটতে – চলে গেছি ঝিনাইদহ
কালীগাঙ, বেগবতী কিংবা কুমারের চরে
-অন্য রমণীর ঘরে…
রাজার নগরে এখনো থাকে – নিভুতার ঘর


৭.
কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করো না
হারিয়ে যাওয়া দিন বা সময় হাতড়ে একাকি
তুফান হবে- কুণ্ডুলী পাকাবে ভিতর

ক্লান্ত দুটি দেহ- অবসর এখন
প্রান্তিক জনপথ- ভুলে গেছে কপাল ব্যথায়
মেখে নেই টাইগার ব্যাম, পেটের পীড়ায় তুমি
অবসন্ন-বিরহসুখ-খানিকটা মলিনতায়-
নির্জনতায় ডুবে আছে আমাদের গ্রাম


৮.
দেনদরবার নিয়ে তুমি হাজির হলে
পূর্বে ঘাসের শরীর-উল্লাসে নাচে পাইথন
কথার বাথানে তুমি- সাজাও বেনারসি
ঝলমলে আমি-কথা গেঁথে ফুল তুলি

ভেব না দাঁড়িয়ে আছি-কেবলি তোমার অপেক্ষায়
আমি নিজেকে চিনি-হারিয়ে সময়, লাজুক মন
কথা বলি-কবিতা লিখি আর নিরবতায়-নির্জনতা খুঁজি…