কয়েকটি কবিতা ॥ অলোক সেন


আত্মকথা

– জান তো, ভালোবাসে
তবে, ততটা নয় যতটা –
তোমার ইয়ের দিব্যি,
কাঁটা মুণ্ড আর পচা দ্রব্য

ঘোর বর্ষায় যখন আকাশ ভাঙল।

মিথ্যে যত আরামের
তত সুখ নেই সত্যে,
তাই চাঁদের মহিমামাখা এই হামাগুঁড়ি
স্নেহে, ভালবেসে— তোমাকেই মাতৃজ্ঞানে

হায়রে, বসন্তে সেই আগুন লাগল।

সত্য বলে, বুকে হাত—
দণ্ড টানটান,
পরিচয় নেই বলে আগুন নেয়নি
তবু, পুড়িয়ে করেছে ছাই, যজ্ঞ অন্তে হোম

-সে মজেছে নিজেরই সন্ধানে;

চাইনি তো, হাটে তবু হাড়িটি ভাঙল

খণ্ড জীবন

যেই হাত ধরলাম
চাঁদ ফেটে জ্যোৎস্না নামল;
উফস, তক্ষুনি গায়ে হলুদ
ঠিকরে উঠে আলো অন্ধ।

সত্যি বলতে এমন কানকি দিল ঘোমটার আড়াল
বিনিময় হল না ভাবের, চুরিও ঠেকাতে না পেরে
অন্ধকারও মাতাল হল নিজ পুণ্য ফলে।

ঘোর কাটে কই, হাই তুলতে সই
এ জীবন কানা হল, চক্ষু মুদে রই।


ইশারা

তুমুল ইশারা
শব্দের নীচে লুকোন আগুন
মায়া ও মোহিনী ছত্রে ছত্রে
তুমি তার দাহ্যতা,
কামজ কুসুম ফোটে কবির বাসায়।

বলো, কী সংগীত রচিত হবে
সুর মেজর বা মাইনর
কিংবা শংকরের ঝালার মতো
আহা, উথালপাথাল
হৃদয় কাননে বসন্তের কবিতা মুকুল।

ও ভ্রমর,
হুল বিদ্ধ চোখের পাতায়
সে ইশারা পড়ে
মূক ও বধির হাওয়া—
হে কুসুমকলি, কবিকুল দিশাহারা।

জিংসেন, কৃত্রিম ভায়াগ্রা- জ্ঞাত তথ্য
পতন চিহ্ন নিয়ে অস্থির কবিতা শরীর—
তবুও, সে কপট হাতে কামসূত্র

বাম চোখ বন্ধ, ডান চোখ খোলা
তৃতীয় নয়ন শুধু একা আত্মহারা।


ক্ষুধার্ত

অক্ষর জেনেছ তুমি, জান শব্দমালা,
ভাষা পৃথিবীর উপাসনা গৃহে ঢুকে
প্রতিহিংসায় রক্ত নিয়েছ
শিখিয়েছ অবহেলা

শিখেছে সেসব কুহেলি, প্ররোচনাময়
জেনেছে অক্ষর মায়া জানে
তবু খেলা নিরন্তর পাতায় পাতায়

শোন, জাতক কথা,
মূর্খ বড়,
লেখে, শেখে নিরক্ষরের বর্ণমালা
আঁচড় কাটে মেঘের গায়।


নানা কথা

আগানবাগান ভেঙ্গে ছুটে এলো
‘ও দাদু, কেমন আছ, বলও’।

কি জাদু সে জানে, ‘দাদু’ বলে চিনে নিল আমারে!

কমেছে চোখের জ্যোতি,
তা’বলে আমাকে ঠোনা দেবে!

কথা আধো আধো, দাঁতের কারসাজি
তাই বলে কথায় কথায় ঠাট্টার জুলুমবাজি!

হাতে হাতে কাল যে ছিল কালো
ফাঁকা মাঠে হায়, পিছলে যায় আলো।

জমে ওঠে অভিমান,
তরল আবেগ—
দাদুকে আড়ালে ডেকে ফিসফিস

কথা তাদের কিছু আছে,
বলবে ভোরের আলোয় ধীরে—

দাদু, দ্যাখো ওই যে শিশির
ভিজতে ভিজতে মাটিতেই মেশে।


বকমবকম

আমার সমস্যা বহু
বহুত্বে নয়,
মাত্র সংখ্যায়

কোনদিকে যাব!

একদিকে নব্য স্কুল, অন্যপথে
গুরুগৃহ,
ধর্ম ও অধর্মে টানাটানি

কোনদিকে থাকি!

পথ দুদিকেই
বাঁয়ে শ্লোক, বিপরীতে
রেডবুক,

এইদিকে তাই বকমবকম!

আমার সমস্যা বহু
কথা কম।