কয়েকটি কবিতা ॥ দিপংকর মারডুক



রোদের মন্দিরে চৈত্রমাস

কালো কখনো। রঙ আর তুলি
হাহাকরে দাঁড়িয়ে থাকে স্রোতের অভিযান
যতটা সর্তক চলে যাওয়া আচার পর্বে-
এখানে হয়তো মুখোমুখি
উত্তাল শিবের মতোন রোদ।

কেন যেন পূর্ণ হলো প্রতিমাগ্রহণ।
অথচ আজ তরুণ বৃক্ষের কিনারে
মানুষ অবরোধ।
কতটুকু শোক থেকে ভুলতে পারে ফলের অস্তিত্ব।

একদিন তরমুজের নিপুণতা নিয়ে আপনফুল ঝরে পড়ে
আমাদের দিকে।
তারপর সূচনা হয় বিষ্যুদবার
এবং পায়ের ক্লান্তিতে মিশে যায় সেইদিনের চৈত্রমাস।


অবয়ব নেই

যেন বুকফাটা রোদ মাঠের কিনারে
ফুলকার মতন শূন্য থেকে অতীতে অনর্গল।

যে দিকে নিশি-ডাকে ছোট ছোট ইরিক্ষেত
যদি আলতা পায়ে হেঁটে যায় অপেক্ষার কাছে,
জানি না ও’মচারী বিশালতা
তখনও শুকনো মর্মরের দিকে ধানচাষীদের হুংকার

কি তার সত্য। সমূহ ছিঁড়ে ফেলে বিস্ময়চিহ্নের মতো
সূর্য ও মন্দির, হয়তো প্রথম অণুর বৃষ্টি
পাতার স্পর্শে মিলিত হয় নয়নতারা স্রোত

দূর হতে বহুদূরে, সহজমান্য প্রেমিকার নিরিখে
মর্ধণ্যদুপুর। শুধু জীবন জড়ানো অবয়ব
সে যেন দেখাশোনার পায়ে পায়ে কয়েকটি চলাফেরা।


মেঘ ও মোম

আজ যদি উত্তর কোণের নক্ষত্র
মোমের পরিচর্যা পায় কিংবা একরাতের ছায়া
তাদের পালানো সম্পর্কের কুটিরে ভেসে উঠে ভোরের হিজল

যে-তার সরল প্রেমিকা,
অর্ধেক রজনীগন্ধার শরীরে ফোটা ফোটা মেঘ
বৃষ্টির ঈর্ষায় চেয়ে থাকে আমাদের অভাববোধের দিকে

আরো নীল, একবিন্দু কাছাকাছি
অশেষ জীবন যেমন রেল লাইনের পাশে
ঝরে পড়লে ভারী হয় মৃদুশয্যা।
অথচ তখন মৃত্যুর মতো দ্যোতনা
সাজিয়ে রাখে ময়ূরাক্ষী ক্যালেন্ডার


অসংখ্য আর্তনাদ

ক্ষতচিহ্ন চিরকাল মরে যাবে
রোদ আর কুসুমের প্রতিজ্ঞা নিয়ে

আরো এক বহুদূরে
পরস্পরের কাছাকাছি
ছোট নদীর উপকূলে
কালকূট ভ্রমণ করে পাথরের সভ্যতায়

যেভাবে পড়ে আছে বৈশাখের নবজাতক
হৃদের নিচে কলমিলতা
কবে-যে ফুটে উঠে ডালে ডালে জ্যৈষ্ঠমাস

অসংখ্য মহাকাশ,
আর্তনাদ ফেলে জেগে থাকে শ্যাওলা জড়ানো বিদ্রোহ