কয়েকটি কবিতা ॥ বীথি রহমান



বেঁচে আছি অভ্যাসবশত

একসময় মনে হতো তোমাকে ছাড়া বাঁচবোই না
কেউ বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিলেই হয়ে যেতো চোখের বালি
এখন-
কী দারুণ বেঁচেবর্তে আছি
কবিতা লিখছি
অফিস করছি
চাল-ডাল কিনে দিব্যি হাঁড়ি বসাচ্ছি
জগতের যতো বাতাস, যতো সমুদ্র, যতো জোছনা, যতো বৃষ্টি
সব আমার ঘরে এসে বসে থাকে।

তুমি কি ধ্বংসস্তূপ থেকে দেখতে পাও, একমাত্র বেঁচে যাওয়া নারীটিকে?


বৃষ্টি তোমার জন্য

বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে করতে
চোখে মরচে ধরে গেছে
আমার আঙুলে পড়েছে কড়া
শরীর চৌচির শস্যহীন মাঠের মতো
বুক থেকে তৃষ্ণার্ত পাথর নামছে না

খরায় জোটে না জল, বিরহকালে স্নেহ
অসুখে গলা শুকায়ে যায়
বৃষ্টির কেন এই অনাগ্রহ?


পরিত্যক্ত চুম্বন

আমাদের একমাত্র চুম্বন
বহুদিন পরিত্যক্ত, ছুঁয়ে দেখি না
যা ছিল আয়োজনহীন, এক অন্ধ সকালের
নিপুণ নিবেদন
ওটা কি আমারই ঠোঁট- যা পড়ে আছে তোমার লেখার ডায়েরিতে?
তাকে বুক সেলফে তুলে রেখেছো কেন?
তাকে নামিয়ে আনো, চুবিয়ে দাও আচ্ছামত
তোমার অম্লমধুর ঠোঁটে
তুমিও যে দারুণ খরায় নখ খুঁটছো
জানি না বুঝি?