কয়েকটি কবিতা ॥ শিহাব শাহরিয়ার



পূর্ণিমা

পূর্ণিমা, অনন্তনাগ, সন্ন্যাসী চাঁদ, বাড়ি ফিরি
হলুদ, শাদা খরা। বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়। পূর্ণিমা পড়ে; ধবল
বছর এক কুড়ি। ভাঙা, মরচে পড়া ঘর, চৌকাঠ। বর্বর
স্বপ্নের ভেতর হাঁটি। দড়ির মতো এক ফুট দীর্ঘ-বিবর্ণ পথ
শামুক সন্ধ্যা দাঁড়িয়ে থাকে। অন্ধকার আস্তর খোলে
নেই শব্দ। শব্দ নেই। পাতা ছেঁড়া। ছেঁড়া পাতা। অনন্তনাগ
সন্ন্যাসী চাঁদ। চাঁদে সন্ন্যাসী। পুঁথি, আলো, ঈশ্বর
‘হাওড়া থেকে বর্ধমান, বোলপুর’। স্বপ্ন যাত্রা। মনে পড়ে
ট্রেন, ট্রেন। অনন্তের বাঁশি বাজে…ক্লান্ত বাড়ি ফিরি


মানচিত্র

জ্যামিতিক বৃষ্টিপাতে
ভিজে যায় অরণ্য উঠোন
ভেতরের বারান্দা অলিন্দ ছাদ
শামুকের শরীর খয়েরি রাত
অবিন্তার অসুস্থ আঙুল
ঘরের হলুদ অন্ধকারে
সবুজ রক্ত ঝরে গোপনে নীলিমার

এই শহর বাবার ছেঁড়া ছাতা যেন
ফাঁক দিয়ে ঢুকে যায়
মা’র বুকের কষ্ট হলুদ বমি
প্রত্যাশায় পোড়ে চিলেকোঠা
ঘর্মাক্ত রাতে তবু প্রয়োজন
জ্যামিতিক বৃষ্টিপাত


খতিয়ান

মাছরাঙা বিকেল পেরোলে- নদীর চোখ।

শীর্ণ নদী চেয়ে চেয়ে চেয়ে দ্যাখে
সমুদ্রের নীল নীল দীর্ঘশ্বাস।

এপাশে অন্ধকার; ওপাশে থাকে
চাকমা রমণী, শকুনি হাওয়া।

ওপাশে বাতাস, বাতাসের সুর

বাতাসের পঞ্চস্বর মুদ্রিত হয়
চন্দ্রকলা রাতে, অদৃষ্টের হাতে।


শীতনিদ্রা : শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে

একবার গুলি ছুঁড়ি নক্ষত্রের চোখে
একবার বুকের নিঃসঙ্গ চিবুকে

অতঃপর কুয়াশার বুক। বুক যেন
সকালের নান-রুটি মাংসের থকথকে ঝোল

ডুকরে ডুকরে কাঁদে নিদ্রাহীন ঘড়ি
মস্তিষ্কের খড়ি পোড়ে কার্তিকের রোদে

সন্ধের সোডিয়াম আলোয় যিনি
হেঁটে বেড়ান। ক্লান্ত করেন ফুটপাত

‘সমস্ত বাগান জুড়িয়া নামিয়াছে পূর্ণিমা
ফুটিয়াছে গাছে সত্তরটি রসিক গোলাপ’

তার হাত ফুল না ছুঁয়ে, ছুঁয়ে দিল কাঁটা
এই খানে শ্যামের বাঁশি এইতো রাধার আঁচল পাতা