কয়েকটি কবিতা ॥ সিয়ামুল হায়াত সৈকত


সাময়িক

ভালোলাগা-সখ মেঝেতে পেতে বসি
আমার বেড়ানো চোখ ঘুরপথে থাকে
দূরবর্তী শৈশব যেকোন লম্বা নদী
প্রেমের মতো বইতে থাকে।

ঘুমের নামে সিঙ্গারা কিনতে যাই
চায়ের হাতে রাখি নিজেকে, দাঁড়িয়ে
ক্লান্তির মেমসাহেব ছোঁয়াচে অসুখ হয়ে আছে
মাঝেমধ্যে তুমিও বইতে থাকো

মাঝরাস্তায় ঘুম ভাঙে


সমস্তদিন সমস্তরাত

আমার সমস্ত দিন চোখ বন্ধ করে আছে
দ্বিতল বিদ্ধবাহু, আদলে প’রে কুয়াশা-চাদরের
দিনতারিখ বদল করে ঘুরে আসার অবসর
আশ্চর্য বাড়ি ফেরার সময় যেনো

শ্রাবণের মতো, এলোপাথারি বারান্দা ইটের দেয়াল
শুকনো চুনকাম দুটো পাখির বাসা বোনে
ঠোঁট আবৃত পোতাশ্রয়,
কেবল নীল জলের যৌথচক্করে দখল চাইতে থাকি।
তোমার চোখ আমার চোখ থেকে দূরে-
প্রচণ্ড জড়ভিক্ষে সবটুকু তুলে রাখে

সাহস নিয়ে বেঁচে থাকার বালিশে তুলো ভরিয়ে রাখি।


অবচেতন


শহুরে সখের আলাপ।
ঢেউ চোখে বুনোফুল কাঁচা কাগজের
আত্মসমর্পণ করে এমন কতোদিন—আলাপসহ পোটলা স্তুপ করে।
বালিশের ঠোঁটে
সেদিন সব মনে থাকে।

জমতে থাকে ঝাঁক দেয়া কাঠালের ডাঁট
পুঁইশাক যেমন করে জায়গা দেয় পাতে..
আলাপ বাড়ে, কবিতা পড়ায় স্তুবক।

কিরকম জানা নাম অজানা থাকে ভুলে।