‘গীতাঞ্জলি’র আধ্যাত্মিকতা প্রসঙ্গ ॥ অনুপম হাসান



কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) নাম ছড়িয়ে দিল স্ক্যাণ্ডিনেভিয়া থেকে জাপান এবং আর্জেন্টিনা পর্যন্ত এক ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১০)। অনেকে মনে করেন এই ‘গীতাঞ্জলি’ পর্বের রচনাই রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম। রবীন্দ্রনাথ আমাদের মতই শৈশব, কৈশোর ও যৌবনে পা দিয়েছে এবং তখন আমাদের মতই ইন্দ্রিয়ানুভূতির সাহায্যে জগৎ জীবনকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর এই ইন্দ্রিয়ানুভূতি ক্রমশ ‘প্রভাত সঙ্গীত’, ‘সন্ধ্যা সঙ্গীত’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে। প্রথম বারের মতো ‘মানসী’ কাব্যের ‘সুরদাসের প্রার্থনা’য় কবির মোহভঙ্গ ঘটে। এখান থেকে তিনি অনুভব করেন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতই সব নয়, তার বাইরেও আরো কিছু আছে। তাঁর ‘সীমা থেকে অসীমলোকে যাত্রা’ যাত্রা শুরু হয় ‘সোনার তরী’-তে। তবে ‘সোনার তরী’-তে কবির যাত্রা নিরুদ্দেশের পানে কিন্তু ‘চিত্রা’য় এসে কবি সীমা ও অসীমের মিলনে ‘জীবনদেবতার খোঁজ পেলেন’। এরপরে ‘গীতাঞ্জলি’-তে কবিগুরুর জীবনদেবতা আধ্যাত্মিক লোকে উন্নীত হয়েছে। তাঁরই উদ্দেশ্যে কবি ‘গীতাঞ্জলি’র নৈবেদ্য-অর্ঘ্য নিবেদন করেছেন : ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার/ চরণ ধূলার তলে।’ (১নং) এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ‘গীতাঞ্জলি’ পর্বের পরে কবি কর্ম তথা সংসার সীমায় ফিরে এসেছেন কিন্তু আর ফিরে যান নি তিনি ‘আধ্যাত্মিকলোকে’। জীবনের শেষপর্যন্ত তিনি মাটি মানুষের নিকট থেকে কাব্যচর্চা করেছেন। দুটি প্রধান ভাবধারা ‘গীতাঞ্জলি’-তে আত্মপ্রকাশ করেছে একটি জীবনের প্রতি আশা-আকাঙ্ক্ষাথে জগতের প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির মধ্যে ভগবানকে পরিপূর্ণ ও নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করার জন্য আকুল আগ্রহ প্রকাশ, অপরটি এই অবস্থা সম্ভব করার জন্য চিত্ত শুদ্ধির আয়োজনের কাহিনী। পরিপূর্ণ ভগবদুপলব্ধি সহজে সম্ভব হচ্ছে না বলে বেদনা, নৈরাশ্য ও বিরহের আকুল কান্না। এই দুঃখ ও বেদনার দাহশুদ্ধ পথে ভগবানের সাথে মিলনের প্রচেষ্টাই প্রধানত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের মূল বিষয়।

রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ পর্বের রচনা সম্পর্কে আবু সয়ীদ আইয়ুব লিখেছেন : ‘দুঃখ ও অমঙ্গলকে রবীন্দ্রনাথ যেভাবে গ্রহণ করেছেন তা এই পর্বেরই বৈশিষ্ট্য। এদিক থেকে তিনি দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছেন বলা ভুল হবে; কিংবা জাগতিক দুঃখ-দুর্দশারূপ তমসায় একেবারে পরপারে আদিত্যবর্ণ মহান পুরুষকে দেখতে পাচ্ছেন, তাও ঠিক নয়।’ কেননা দুঃখের বেশেই দেবতা নেমে আসেন ভক্তের দ্বারে : ‘দুঃখের বেশে এসেছ বলে/ তোমারে নাহি ডরিব হে।/ যেখানে ব্যথা তোমারে সেথা/ নিবিড় করে ধরিব হে॥’- কথাবাহুল্য, এই দুঃখ জীবননাথের দেওয়া দুঃখ নয়; তাঁকে না-পাওয়ার দুঃখ। এ প্রসঙ্গে নীহার রঞ্জন রায় মন্তব্য করেন :
গীতাঞ্জলিতে দেখিতেছি এই উন্মুখর অধীর প্রতীক্ষা বিরহের ক্রন্দনে যেন গুমরিয়া গুমরিয়া উঠিতেছে। বিরহের বেদনা দেবতাকে একান্ত না-পাওয়ার দুঃখ গীতাঞ্জলির গানগুলির উপর সুগভীর ছায়াপাত করিয়াছে।

সমালোচকের কথায়, সুগভীর কিন্তু একইসঙ্গে সুমধুরও বটে; এই বিরহ চিরন্তন হলে তা দুঃখ দুর্বিষহ হতো নিঃসন্দেহে। কিন্তু যে বিরহ মিলনেরই সম্ভাবনায় মদির, তা মিলনেরই পূর্বাস্বাদন, তিক্ত হলেও তা সুস্বাদু। সেকথা রবীন্দ্রনাথ স্বীকারও করেছেন অবলীলায় : ‘তুমি যদি না দেখা দাও/ করো আমায় হেলা/ কেমন করে কাটে আমার/ এমন বাদল বেলা।’ ভক্তের এ অনুযোগ ব্যর্থ হবার নয়; এ ধরনের আশঙ্কাও করে না ভক্ত।

‘খেয়া’, ‘গীতাঞ্জলি’, ‘গীতিমাল্য’, ‘গীতালি’র যুগ এক অর্থে রবীন্দ্রকাব্যের ইতিহাসে ‘ভগবদরসলীলাযুগ’ হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারে। সম্ভবত এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ পরিকল্পিতভাবে এপর্বে দীর্ঘ কবিতা না লিখে ছোট ছোট সুরপ্রধান কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি এপর্বে কাব্যানুভূতি প্রকাশের বাহন হিসেবে ‘গান আশ্রয় করেছেন।’ অতি নিগূঢ়, আধ্যাত্মিক অনুভূতি প্রকাশের উপযুক্ত বাহনই গান, সুরের অতি সূক্ষ্ম কম্পনই ভাব প্রকাশে অধিকতর শক্তিশালী। তাই এ-যুগের কাব্যে গানই হয়েছে ভাবের শক্তিশালী বাহন। যেমন করে অনেক মরমী কবি গানকেই তাঁদের অতীন্দ্রিয় অনুভূতি প্রকাশের উপযুক্ত বাহন মনে করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমত কবি যিনি জগজ্জীবনের রস-সাধক, দ্বিতীয়ত ভগবৎপ্রেমিক ও অতীন্দ্রিয়ের সাধক। তাঁর এই সাধনার অমূল্য রত্ন ‘গীতাঞ্জলি’। এটা মূলত ভগবানের লীলাবাদের অনুভূতি। ভগবান অসীম, অনন্ত ও অনাদি হলেও বিশ্বের মধ্যে প্রকৃতি ও মানবের নিয়ত আত্মপ্রকাশ করছেন। তিনি অনন্ত হলেও অন্তের মাঝে এবং অখণ্ড হলেও খণ্ডের মাঝে প্রেম ও ভক্তির কাছে ধরা দিচ্ছেন। আর তাই কবির হৃদয় মাঝে অনন্তের বাঁশী বাজে, সীমার মাঝে অসীমের সুর অনুরণিত হয় :
সীমার মাঝে অসীম তুমি
বাজাও আপন সুর
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ
তাই এত মধুর।
বাজে তোমার বাজে বাঁশী,
সে কি সহজ গান।
সেই সুরেতে জাগব আমি,
দাও মোরে সেই কান। (৭৪নং)
‘গীতাঞ্জলি’র কবিতা পাঁচটি ভাবধারায় বিভক্ত :
এক. ভগবানকে সহজে না পাবার জন্য হতাশ-ভাব ও প্রবল বিরহ-বেদনার অনুভূতি।
দুই. অহংকার ত্যাগ করে দুঃখ-বেদনার দাহে হৃদয়কে নির্মল করে ভগবদুপলব্ধির উপযোগী করা ও তাঁর দয়া প্রার্থনা।
তিন. প্রকৃতি ও মানবের বিচিত্র রূপ-রসে ভগবানের আভাস ও ক্ষণস্পর্শের অনুভূতি।
চার. দীন-দরিদ্রের মধ্যে, হীন অস্পৃশ্যদের মধ্যে পতিত পাবন ভগবানের অবস্থান ধরণীর ধূলায় ভূমির আসনের অনুভূতি।
পাঁচ. অসীম-সসীমের লীলাতত্ত্বের অনুভূতি।
কবির ‘গীতাঞ্জলি’র এই পাঁচটি ভাব-ধারাই আধ্যাত্মিক চিন্তাপ্রসূত এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। বর্ষায় যে অকারণ বিরহ বেদনা আমাদের হৃদয় উতলা করে, উচ্ছ্বসিত ও চঞ্চল করে সেই পটভূমিতে কবি-হৃদয়ে ভগবান বা সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিরহ-বেদনা উৎসারিত হয়েছে এভাবে :
গগন তল গিয়েছে মেঘে ভরি,
বাদল জল পড়িছে ঝরি ঝরি।
এ ঘোর রাতে কিসের লাগি
পরাণ মম সহসা জাগি
এমন কেন করিছে মরি মরি। (১৭নং)
আবার, গভীর রাত্রে ব্যাকুল বেদনায় তাঁর অধীর চিত্ত :
নয়নে ঘুম নিল কেড়ে,
উঠে বসি শয়ন ছেড়ে
মেলে আঁখি চেয়ে থাকি
পাইনে দেখা তার। (৬০নং)
সমস্ত প্রাপ্তি মধ্যে পরম অপ্রাপ্তির বেদনা কবি ভুলতে চান না :
ওগো যতই গৃহ সাজাই আয়োজনে,
যেন তোমার ঘরে হয়নি আনা
সে-কথা রয় মনে।
যেন ভুলে না যাই, বেদনা পাই
শয়নে, স্বপনে। (২৪নং)
কবির আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য অহংকার, আত্ম-প্রচার ও স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে, দুঃখের আগুনে মন পুড়িয়ে প্রস্তুত হতে চলেছে কিছু কবিতায়। এই শ্রেণীর কবিতার অধিকাংশই কাব্যাংশে নিকৃষ্ট রবীন্দ্র-সমালোচক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন। যেমন :
অন্তর মম বিকশিত করো
অন্তরতর হে।
নির্মল করো, উজ্জ্বল করো
সুন্দর করো হে। (৫নং)
অথবা,
দয়া দিয়ে হবে গো মোর
জীবন ধুতে
নইলে কি আর পারব তোমার
চরণ ছুঁতে। (৭৫নং)
কবি তাঁর পরম-দয়িতের যে ইঙ্গিত ব্যঞ্জনা, যে ক্ষণিকের স্পর্শ পেয়েছেন, প্রকৃতির বিচিত্ররূপের মধ্যে যে আভাস তাঁর চিত্তকে উতলা করছে তার বহিঃপ্রকাশ কতকগুলো কবিতায়। যে মন কিনা কবি শরতের শিশির ভেজা, শিউলি-ঝরা, আলো-ছায়ায় মায়াময়, লঘু, শুভ্র রূপের মধ্যে তাঁর প্রিয়তমের আগমন সংবাদ শুনেছে :
আমার নয়ন ভুলানো এলে।
আমি কি হেরিলাম হৃদয় মেলে।
শিউলি তলার পাশে পাশে,
ঝরা ফুলের রাশে রাশে,
শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে,
অরুণ রাঙা চরণ ফেলে,
নয়ন-ভুলানো এলে। (১৩নং)
আবার রাত্রি বেলা গভীর নিদ্রাচ্ছন্ন কবির শয্যাপার্শ্বে তার প্রিয়তম এসে বসেছিল, জেগে উঠে কবি তাঁর দেহ-সৌরভে তা বুঝতে পেরেছেন। এই পরম মিলন-ক্ষণ অবহেলায় নষ্ট হওয়ায় কবি অনুতপ্ত :
সে যে পাশে এসে বসেছিল,
তবু জাগিনি।
কী ঘুম তোর পেয়েছিল
হত ভাগিনী। (৬১নং)

রবীন্দ্রনাথ ভগবত সাধনা সংসার বিরাগী কোন তপস্বীর সাধনা নয়। কেননা তিনি কোনদিনই বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি কামনা করেননি এবং সংসারের সহসুবন্ধনের মাঝেই তিনি বৈরাগ্যের আস্বাদ পেতে চেয়েছেন। এই সংসারের সর্বত্র তাঁর দেবতাকে তিনি অনুভব করতে চান। এই দেবতা কোন মন্দিরে আবদ্ধ নয়, কোন বিশিষ্ট সম্প্রদায়ের নিজস্ব সম্পত্তিও নয়। মানুষ রচিত সমাজে যারা অধঃপতিত, নির্যাতিত ও হীন, যারা দরিদ্র, নিঃস্ব, সর্বহারা, তাঁদের মধ্যেই তাঁর ভগবানের আসন। ‘গীতাঞ্জলি’তে কবি এই সর্ব মানবের ভগবানকে চেয়েছেন। সকলের সঙ্গে তাঁর প্রেম লাভ করে তিনি ধন্য হতে চেয়েছেন :
বিশ্ব সাথে যোগে যেথায় বিহারো,
সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারো।
নয়কো বনে, বিজনে,
নয়কো আমার আপন মনে,
সবার যেথায় আপন তুমি, হে প্রিয়,
সেথায় আপন আমারো। (৯৪নং)
ভগবানের চরণ জগতের দীন-দরিদ্রের মধ্যে, রিক্ত ভূষণ নিঃস্বের বেশে তিনি চাষী মজুরদের সঙ্গে মিশে গেছেন। কবি সেখানেও তাঁর সাথে মিলতে চেয়েছেন :
যেথায় থাকে সবার অধম দীনের হতে দীন
সেইখানে যে চরণ তোমার রাজে

রিক্ত ভূষণ দীনদরিদ্র সাজে
সবার পিছে, সবার নীচে
সব হারাদের মাঝে। (১০৭নং)
মানুষের সঙ্গে ভগবানের প্রেমলীলা চলছে অনাদি কাল হতে। অসীম নিজেকে সসীম করেছেন পরম ভাব রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন, নিজেরই আত্মোপলব্ধির জন্য অসীম প্রেমানুভূতির জন্য। আবার সীমাও তার পরম সার্থকতার জন্য অনুক্ষণ অসীমের মিলন কামনা করছে। এই লীলা চলছে অনাদি কাল হতে অনন্ত ভবিষ্যৎ জুড়ে বিস্তৃত। কবি জন্মে জন্মে তাঁর প্রিয়তমের কত রূপ দেখেছেন, কত অমৃত আস্বাদন করেছেন সেকথাও জাতিস্মরের ন্যায় ব্যক্ত করেছেন :
জানি জানি কোন অনাদি কাল হতে
ভাসালে আমারে জীবনের স্রোতে,
সহসা, হে প্রিয়, কত গৃহ পথে
রেখে গেছ প্রাণে কত হরষণ। (২১নং)

কবি একই শুধু মিলনের আকাক্সক্ষা করেছেন, তা নয়, তাঁর দয়িত ও তাঁর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য অনন্ত অভিসার যাত্রা করেছেন ‘আমার মিলন লাগি তুমি/ আসছ কবে থেকে।/ তোমার চন্দ্র গূর্য তোমার/ রাখবে কোথায় ঢেকে।’ (৩৪নং) মানুষের সীমাবদ্ধ জীবনের মাঝে অসীম তাঁর ব্যাকুল বাঁশি বাজাচ্ছে, তার বিচিত্র বর্ণ, গন্ধ, গানে, সেই অপরূপের লীলায়, মানবজীবন হয়ে উঠেছে পরম মনোহর। কবির কথায় :
সীমার মাঝে অসীম তুমি
বাজাও আপন সুর।
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ
তাই এত মধুর। (১২০নং)
মানব জীবনের সমস্ত কর্ম, অনুভূতি সবই অসীম ও অপরূপের রূপলীলা ‘তোমার আমার মিলন হলে/ সকলি যায় খুলে/ বিশ্ব সাগর ঢেউ খেলায়ে/ উঠে তখন দুলে।’ (১২০নং) সেই রূপলীলার জন্যই তো জীবন, এর মধ্যেই কবিগুরু জীবনের পরিপূর্ণ সার্থকতাও দেখেছেন :
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে,
তাইতো আমি এসেছি এই ভবে।
মরে গিয়ে বাঁচব আমি তবে,
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে। (১৩০নং)
আবু সয়ীদ আইয়ুব বলেন : ‘গীতাঞ্জলি’তে তো ঈশ্বর বিষয়ক কোন মত বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হচ্ছে না, ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে একজন কবির একটি বা একাধিক অনুভূতি মাত্র ব্যক্ত করা হয়েছে।’ কবির এই অনুভূতিই আধ্যাত্মিক। অর্থাৎ তিনি অতীন্দ্রিয় ভুবনের মধ্যে নিমগ্ন ‘গীতাঞ্জলি’তে। ‘গীতাঞ্জলি’র রবীন্দ্রনাথ ভক্ত-হৃদয়কে দূর থেকে সকৌতুকে বা সকরুণায় অবলোকন করছেন না, সে ভক্ত হৃদয় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজেই। তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’ সাধারণ মানুষকে নিয়ে যায়, আধ্যাত্মিকতার এক আনন্দময় জগতে।