গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

রেলগাড়িটা

হুইসিল শুনলেই চঞ্চল হইও না!
রেলগাড়িটা কোথায় পৌঁছাতে পারবে?

রেলগাড়িটা পৌঁছে যায়-
সেইসব পুরনো স্টেশনে!
নতুন নতুন স্থানে পৌঁছাতে পারে না-
সেই কবে হয়েছে যমুনা সেতু
তার ওপর সে চাকা রেখে নদী পার হয়!

সে নতুন লাইন না পেলে
নতুন জায়গায় যেতে পারে না কখনো!
রেলগাড়িটা সেই পুরনো স্টেশন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়-
সপ্তাহের সাতদিন- বছরের বারোমাস!

নতুন জায়গায় যাওয়ার কোনো শক্তি নেই-
চাকা ও লাইন দু’টোই নিবিড়ভাবে শৃঙ্খলিত!

রেলগাড়িটা যতই ঐতিহ্যে ঐশ্বর্যশালী
ততটাই তার সীমাবদ্ধ চলাচল,
সে হয়তো দ্রুত কিংবা ধীরে চলতে পারে-
কিন্তু কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর চোখ নিয়ে
বনবাদাড়, গিরিখাত, পাহাড় পেরিয়ে-
বিষ্ময়ব্যঞ্জক যাত্রাপথকে আলিঙ্গন করতে পারে না!


ঠোকর

একটা সাপ মানুষকে একটার পর একটা ঠোকর দেয়-
একসাথে দশটি ঠোকর দিতে পারে না!
কিন্তু একটা মানুষ
একটা মানুষকে দশ থেকে একশ’টা ঠোকর
একসাথে দিতে পারে!
সে-কারণে সে সাপের চেয়েও ভয়ংকর
সে গাণিতিক ও জ্যামিতিক জ্ঞান রাখে,
সাপ শুধু যোগ-বিয়োগ জানে!
সাপের লেজে পাড়া দিলে-সাপ কামড়ায়
মানুষ মানুষের হাতে হাত রাখলেও
-একসাথে হাঁটলেও
কিংবা গলাগলি করে থাকলেও;
কখন যে কী কারণে ঠোকর দেবে
বুঝতেই পারবে না!
মানুষ কপট বেশ নিয়ে ছলনায়
গলা খাঁকার দিয়ে বোঝাবে-বুকে কফ জমেছে,
কিন্তু জমেছে প্রতিহিংসাপরায়ণতার শ্লেষ্মা-
তা জানতেই পারবে না।
সাপের বিষ-তার বিষথলিতে থাকে
মানুষের বিষ কোথায় না থাকে!


ফোস্কাপড়া সময়

দক্ষিণের জানালাটা খুলে রেখে
ঘুমাবো রত্রিতে,
নিরিবিলি!
তা হচ্ছে না! পাশের বাড়ির ঘর থেকে
প্রায় প্রতিদিন এক দম্পতির
ঝগড়ার ডামাঢোল-দ্রিমিদ্রিমি!
এই ঝগড়ার মধ্যে তো ঝিঁঝিঁ পোকাও
থাকতে পারে না!
আমি থাকছি।
তারাই বা কেন টিকে আছে
সংসার নামক ফসিলে!

ওদের কথাও বাদ দিলাম
আবারও অন্যদিকে অন্য ফ্লাটে
অন্য বাসিন্দার কাণ্ড!
বেশি ভলিউমে টিভির সাউন্ড-
অন্যের কী সুবিধে-অসুবিধে কোনো খেয়াল নেই!

শেষমেশ জানালা বন্ধ করে দিয়ে
প্রকৃতির প্রকৃত বাতাস থেকে
নিজেকে দূরত্বে রেখে-
পলায়নপর ভঙ্গি নিয়ে,
নিজেকে নিজেই প্রত্যাহার করে নিই
ফোস্কাপড়া এই এক সময়ে!