চেনাশোনার কোন্ বাইরে-২৬ ॥ সুশীল সাহা



ব্যথাসমুদ্রের গাথা


প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তপন সিনহার ‘অতিথি’ ছবিতে একটি গানের ব্যবহার ছিল। গেয়েছিলেন স্বনামখ্যাত উৎপলা সেন ও সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। গানটির প্রথম লাইনটি এইরকম-
‘মাঝে নদী বহে রে, এপারে তুমি শ্যাম এপারে আমি।’
সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন,
‘ওপারে যে বাংলাদেশ, এপারে সেই বাংলা।’
একই ভাষা, একই ঐতিহ্য, একই সাংস্কৃতিক পরম্পরা, অথচ দুটো দেশের মাঝখানে কাঁটাতার। র‌্যাডক্লিফের লাইন আমাদের মাঝখানে টেনে দিয়েছে বিভেদের সীমারেখা।
আমরা তো সব মেনে নিয়েছি। তবু তো হৃদয়ের মাঝে অবিরত হয়ে চলে যে রক্তমোক্ষণ তার তো কোনও নিরাময় নেই। দেখতে দেখতে তিন তিনটে প্রজন্মের কাল শেষ হতে চলল, তবু তো দেশভাগের কষ্ট আমরা ভুলতে পারলাম না। বয়স্ক মানুষের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, কিন্তু এই প্রজন্মের একজন যদি দেশভাগ নিয়ে ব্যথাদীর্ণ হয়, প্রশ্ন তোলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন সত্যি আমরা মুখোমুখি হই এক নির্মম সত্যের। জবাব তো আমাদের জানা নেই। কারা এর জন্যে দায়ী। কাদের সংকীর্ণ স্বার্থের বলি হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ তার জবাবও আমাদের অজানা। কেবল এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে আমাদের নির্বাক থাকতে হয়। সুচিত্রা সরকারের ‘র‌্যাডক্লিফ লাইনের গল্গ’ সেই রকমই একটি বই, যা আমাদের নিয়ে যায় বাঙালি জাতিসত্তার সেই কঠিনতম বাস্তবের কাছে।
চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল দেশভাগ দেখেন নি, কিন্তু দেখেছেন তাঁর প্রতিবেশী বন্ধুদের হঠাৎ হঠাৎ দেশান্তরী হতে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমার বন্ধুরা, প্রতিবেশী কাকা জ্যাঠারা তাঁর ছেলেবেলায় তাঁদের ছেড়ে চলে গেছেন হঠাৎ করেই, একেবারে না বলে কয়ে। শুনতাম তাঁরা গেছে কলকাতায়, আর কোনওদিন ফিরবে না। তখন তাঁর মনে হত কলকাতা বোধহয় এক বড় মাপের শহর যেখানে কেবল থাকে ছেলেধরারা।’ তাই সেই বয়সে কলকাতাকে তিনি ভাল জায়গা বলে মানতেন না। তাঁর ‘চিত্রা নদীর পারে’ ছবি শেষ হয়েছে যশোর রোড ধরে কলকাতা কলকাতা শব্দধ্বনি দিয়ে অপসৃয়মান সীমান্তগামী একটি বাসের ফ্রিজ শট দিয়ে।
আলোচ্য গ্রন্থের লেখক যখন একটার পর একটা পরিবারকে ওপারে চলে যেতে দেখেছেন তখন তাঁকেও এই ভারত ভাগ কাঁদায়। তাই তাঁর কাছে র‌্যাডক্লিফ লাইন এমন একটি বিভেদরেখা যা তাঁর জীবনে মিশে আছে কান্না হয়ে, প্রিয়জন বিচ্ছেদের করুণ আর্তনাদ হয়ে। তাই হঠাৎ চলে যাওয়া তাঁর ‘ভাইবন্ধু’ পানতুসের (প্রাণতোষ) হঠাৎ বিচ্ছেদের কথা পড়তে পড়তে আমাদের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তার দিদিমা অনেকদিন পরে দেশে ফিরে যখন বলেন, ‘বইন গো, পরের দ্যাশে সুখ আছে নি…? বাড়ি-ঘর অচিনা। মানুষগুলা অচিনা। মনটা চায় আইয়া পড়ি।’ আমরা জানতে পারি তাঁর চন্দনমামার কথা। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পারা মানুষটা যেন, ‘বদলে গেল দ্রুত। মামা আমার চন্দনমামা, ধবধবে সাদা রাজপুত্র মামা, স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগী হয়ে গেল।’ দেশভাগ মেনে নিতে পারা অজস্র মানুষদের মত ওই মানুষটার ছবি আমরা দেখতে পাই ঋত্বিক ঘটকের মত একজন সৃজনশীল মানুষের মধ্যে। তিনি তবু তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীনতার মধ্যেও কিছু সৃষ্টিশীল কাজ উপহার দিয়ে যান, কিন্তু চন্দনমামার মত অসংখ্য মানুষজন কোথায় যে হারিয়ে যান। তার খোঁজ আর কে রাখে। বেঁচে থাকার, টিকে থাকার অদম্য লড়াইয়ে বেশিরভাগ মানুষই তো হেরে যান, হারিয়ে যান। আমাদের সাহিত্য শিল্প এইসব হেরো মানুষদের কথা ধরে রাখে না। অদম্য কৌতূহল মনে পুষে রেখে লেখিকা দেখেছেন উঁচু উঁচু কাঁটাতারে ঘেরা সীমান্ত, দাদুর সঙ্গে গেছেন ‘জাফলং’, যার অনতিদূরে ভারতের ‘মেঘালয়’ রাজ্য। তামাবিল হয়ে ভারত সীমান্তে গিয়ে নিয়ে আসেন তাঁর ‘নিষিদ্ধ ফল’ ভক্ষণের অভিজ্ঞতা। খানিকটা বে-আইনীভাবেই তাঁর ভারত দর্শন ঘটে, কুষ্টিয়ার মেহেরপুর থেকে সীমান্ত পেরোনো, দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের অভিজ্ঞতায় জারিত হয়ে তাঁর এবার সত্যি সত্যি এক সুযোগ আসে ভারতে বৈধভাবে ঢোকার। তাঁর কর্মস্থলের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্বল্পকালের এক শিক্ষাসফর। গন্তব্য রাজধানী দিল্লি আগ্রা ইত্যাদি। বস্তুত গ্রন্থে এর পরের বৃহদাংশটাই এই ভ্রমণবৃত্তান্ত। যার শিরোনাম তিনি দিয়েছেন ‘র‌্যাডক্লিফ লাইন পেরোনোর গল্প’।
এই পর্বটি একটি সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত হতেই পারত। কিন্তু লেখক অত্যন্ত সচেতনভাবেই তাঁর দেখার ভঙ্গিটাকে একটু অন্যরকম করে রেখেছিলেন শুরু থেকেই। পূর্ব নির্ধারিত মুগ্ধতা কিংবা আরোপিত ধারণা দিয়ে তিনি কিছুই দেখতে চান নি। প্রসঙ্গত গ্রন্থের ভূমিকায় বিশিষ্ট ভ্রামণিক অধ্যাপক অরুণাভ দাসের একটি উক্তি এখানে উদ্ধৃত করা থেকে বিরত হতে পারছি না। তিনি লিখেছেন, ‘এ বই নিছক ভ্রমণকে ছাপিয়ে এক অন্য বোধে উত্তরণের আলেখ্য, যার প্রত্যেক প্যারাগ্রাফে স্বদেশ ও বিদেশের সীমারেখা মুছে দিয়ে খণ্ডিত হৃদয় জোড়া লাগানোর প্রচেষ্টা ও আকুতি। সঙ্গে কূট রাজনীতি ও সংকীর্ণতার জালে জড়ানো দেশ, কাল সম্পর্ক, পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিষয়ক কিছু অমোঘ প্রশ্ন, যার উত্তর কেবল সময় দিতে পারবে।’ বস্তুত এক কথায় এই ব্যাপারটাই এই গ্রন্থের মর্মার্থ ।
লেখকের আসল গন্তব্য ভারতের রাজধানী দিল্লি-আগ্রা এবং তার সঙ্গে প্যাকেজ ট্যুরের বাড়তি প্রাপ্তি মথুরা বৃন্দাবন। এবং অবশেষে শান্তিনিকেতন। কিন্তু ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে যাবার বাড়তি বৃত্তান্তটুকু আমাদের গ্রহণ করতেই হয়। এত কাছের দেশ অথচ এখনও সীমান্তের বেড়া টপকাতে কত রকমের অভিজ্ঞতা যে হয়। তবে প্রথম যাঁরা আসেন তাঁদের কাছে তো অভিনবই লাগবে। একই ভাষা, একই রকম মানুষজন, একই সবুজাভ প্রকৃতি অথচ ভিন্নদেশ।
যা হোক, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাঁদের প্রকৃত যাত্রাশুরু। এবং ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’-এর ইস্কাবনের দেশে তাঁদের স্বাগত জানানো হয় যথার্থই বিজাতীয় ভাষায়। যদিও জানতাম দূরদর্শন তথা হিন্দি ছবির কল্যাণে বাংলাদেশের বহু মানুষই কমবেশি এই ভাষাটি বোঝেন। তাই লেখকের হিন্দি বুঝতে না পারার ব্যাপারটা একটু খটকা লাগায় মনে। তাছাড়া বাংলা, হিন্দি, উর্দু, মৈথিলী, ভোজপুরি, অসমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি ভাষার উৎস কিন্তু এক। এক কথায় উত্তর ভারতীয় ভাষার মধ্যে এমন কিছু শব্দ ও ধ্বনিগত মিল আছে, যা একটু চেষ্টা করলেই মোটামুটি বুঝতে পারা যায়। তাই বুঝতে না পারা বা বুঝতে না চাওয়ার একটা প্রশ্নচিহ্ন কিন্তু থেকেই যায় মনের মধ্যে। তবে এও বাহ্য। অচিরেই লেখক তাঁর মেধা ও মনন দিয়ে দিয়ে সব ব্যাপারটাকে জয় করেছেন এবং অশেষ বৈদগ্ধ্যের সঙ্গে তাঁর এই স্বল্প সময়ের ভ্রমণবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেছেন মর্মস্পর্শী ভাষায়। গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ প্রকৃতপক্ষে লেখকের অসাধারণ এক নির্মোহ ইতিহাস পর্যালোচনা। আশ্চর্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, মেধাবী তাঁর পর্যবেক্ষণ। আর দশটা পর্যটকের মত এলাম দেখলাম, স্মৃতির পাতায় টুকে রাখা একটি ঐতিহাসিক জায়গা দেখার সংখ্যাবৃদ্ধি নয়, বরং যা দেখছি তার মধ্যেকার ইতিহাস ছেনে তুলে আনা এক দুঃসাধ্য কাজ তিনি করেছেন। এই কারণেই এই বইটি অত্যন্ত আদরণীয় হিসেবে গণ্য হবার যোগ্য।
বইটির বিষয় নিয়ে লেখকের নিজস্ব কিছু বক্তব্য জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ‘আমার বইটা একটা ভ্রমণকাহিনি ঠিকই কিন্তু আঙ্গিকটা নতুন। আর নামটা র‌্যাডক্লিফ লাইন পেরোনোর গল্প দেবার কারণ, এই লাইনটার প্রতি আমার দুর্বলতা, রাগ ও ক্ষোভ জমে আছে। এই লাইনটা আমার কাছ থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। এর জন্যে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তাই ইচ্ছে ছিল ওই লাইনটা পেরোনোর। আর ওই দাগ পেরোনোর স্বাদ অংশে আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছি – যে কেন আমি ওই লাইন পেরোতে চাই বা অন্য দেশভ্রমণের সঙ্গে ভারতভ্রমণ কেন ভিন্ন। …দেশভাগের কার্যকারণ বের বা খুঁজে দেখা আমার বইটার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না। দেখাতে চেয়েছি, স্বাধীনতার পরে একজন এই প্রজন্মের মানুষ, যে ওই র‌্যাডক্লিফ লাইনটা পেরোচ্ছে, তার দহনটা পাঠককে স্পর্শ করুক। দেশভাগের সামগ্রিক মূল্যায়ন বা ফলাফলকে আমি টানতে চাই নি। দেশভাগের ফলে আমার ভেতরে যে পীড়ন ও দহন তৈরি হয়েছে, তারই খানিকটা পাঠককে জানানো।’ লেখকের এই অকপট উক্তি আমাকে বইটি সম্পর্কে অনেক বেশি আগ্রহান্বিত করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে একজন ইতিহাস সচেতন সংবেদনশীল লেখককে আমি আবিষ্কার করে ফেলি অবলীলায়।
গ্রন্থটির প্রধান বৈশিষ্ট লেখক যাই দেখছেন তার বর্ণনাত্বক ধারাভাষ্যে না গিয়ে তার ভিতরের কান্না ঘাম আর অশ্রুর ইতিহাসকে নির্মোহদৃষ্টি দিয়ে তুলে আনার মুন্সিয়ানা। বস্তুত চলমান এই বিবরণ একজন দ্রষ্টার এক মেধাবী সত্তাকে আমাদের আমাদের সামনে নিয়ে আসে। আর সেটাই হল এই গ্রন্থের মূল আকর্ষণ। কোনও স্বকল্পোকল্পিত স্বপ্নাদেখা নয়, পুর্নিধারিত বিবেচনা নয়, এমনকি আপাত মুগ্ধতার জোয়ারে ভেসে যাওয়াও নয়– এই বৈশিষ্ট্যগুলি এই বইটিকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছে।
দিল্লি থেকে কলকাতা– রাজধানী এক্সপ্রেসের বিলাসবহুল যাত্রা। একটার পর একটা খাবার, লেখকের জানা ছিল না মনে হয়, ওই খাবারের দাম যাত্রীর টিকিটের দামেই ধরা আছে। যা হোক শিয়ালদহ মানেই বরিশাল এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ মানেই রাণাঘাট – গেদে হয়ে দর্শনা – শিলিগুড়ি এবং তারপর দার্জিলিং। দেশভাগের ফলে ফারাক্কা ব্রিজ, আর ওই ব্রিজ মানেই বাংলাদেশের সঙ্গে আরেক অশান্তি । সেই শিয়ালদহে পা দিতেই লেখকের দেশভাগের স্মৃতি তাড়ানিয়া অনুভূতি স্বভাবতই এসে পড়ে । এবং তারপর মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেল পাড়া। লোকেদের মুখে মুখে ওই নামটা ফিরলেও ওর নাম যে মুস্তাক আহমেদ স্ট্রিট সেটা অনেকের মত লেখকও জানেন না। আর জানেন না বলে অবলীলায় কটাক্ষ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাই, কলকাতায় যতই ব্রিটিশ ভারতের চিহ্ন থাকুক না কেন, সব রাস্তার নাম বদলে গেছে। সেগুলো চালু করার দায়িত্ব মানুষের, লেখকদের তো বটেই। হ্যারিসন না মহাত্মা গান্ধি রোড সে বিতর্ক একান্তই অবান্তর।
লেখক বইপাড়ায় যান, কফি হাউস হয়ে প্যারামাউন্টে যান, আসেন কল্পতরু পানের দোকানে। চোখে পড়ে না মহাবোধি সোসাইটি, স্টুডেন্টস হল, থিওসফিকাল সোসাইটি। তাঁর সঙ্গী নিয়ে যান না খুব কাছের ফেভারিট কেবিনে। তাই তো লেখক কেমন অনায়াসে লিখে দেন, ‘তবে কলকাতা শহরটা চলে স্টারডম শাসনে।’ সম্পূর্ণ ভুল একটা ধারণা। একটা পুরোনো শহরের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকে ইতিহাস। তিনি যেখানে ছিলেন তার ঢিলছোড়া দূরত্বে আছে ১০ নম্বর সদর স্ট্রিট, যেখানে জন্ম ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতার। ক’জন তার খবর রাখে? লেখকের গাইড রৌরব (এমন নামও তাহলে মানুষের হয়!) যদি সেখানে তাঁকে না নিয়ে যান তাহলে আর কী করা যাবে?
কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন। সেখানকার জলে স্থলে রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের চিন্তাচেতনা থেকে কতদূরে চলে গেছে শান্তিনিকেতন, সে কথা আর কারো অজানা নয়। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবৎকালেই বুঝে গিয়েছিলেন তাঁর স্বপ্নের শান্তিনিকেতন স্বপ্নেই থেকে গেছে। তাঁর লেখাতেই এই আক্ষেপের কথা তিনি ব্যক্ত করে গেছেন এক সময়। তাই ওই প্রসঙ্গের চাপান উতরে না গিয়ে লেখকের যাত্রাশেষের শামিল হয়ে আমরাও যেন ঘুরে আসি দেশভাগের স্মৃতিভারাক্রান্ত এক দুখ জাগানিয়া অভিজ্ঞতা থেকে ।
লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি গ্রন্থ উপহার দেবার জন্যে। নতুন প্রজন্মের চোখ দিয়ে আমরাও যেন নতুন করে মুখোমুখি হই আমাদের ক্ষমতালোভী পূর্ব পুরুষের ক্ষমার অযোগ্য এক অবিমৃশ্যকারীতা সঙ্গে। র‌্যাডক্লিফ লাইনের দাগ মোছা যাবে না। কিন্তু দুই বাংলার মানুষের মধ্যকার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে তো বাধা নেই। দুই দেশের যাতায়াত, ভিসা ব্যবস্থা আরেকটু সরল হলে ক্ষতি কোথায়?
খাঁচার পাখি আর বনের পাখির জীবনযাত্রার তফাৎ তো আমরা এতদিনেও না বুঝলে আর কবে বুঝব?