চেনাশোনার কোন্ বাইরে-৩৪ ॥ সুশীল সাহা


ডেভিড ম্যাককাচন : এক মৃত্যুহীন প্রাণের কথা

১৯৭০ সালের জুলাই মাসের কোনও একটা দিন। আমি গিয়েছিলাম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের ডেমোনেস্ট্রেটার তরুণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে। তরুণ আমার নতুন বন্ধু। মাস চারেক আগে দেশান্তরী হয়ে এখনকার বিধাননগর অর্থাৎ উল্টোডাঙ্গায় ছোটমামার কাছে আশ্রয় নিয়েছি। মামাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ওখানকার এক ছোট পত্রিকা ‘নবাহ’র বন্ধুদের সঙ্গে। পরিচিত হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমি ওই পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হয়ে গেছি। সেই সম্পাদক মণ্ডলীর এক সদস্য তরুণবাবুই আমার নবজাত বন্ধু। যা হোক সেদিন তরুণবাবু আমাকে চা খাওয়াতে নীচের এক দোকানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওখানেই দেখলাম রোদে পোড়া তামাটে রঙের এক বিদেশিকে। তিনিও ওখানে চা খেতেই এসেছিলেন। আমরা পৌঁছাবার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ওখান থেকে কোথায় যেন গেলেন। তিনি চলে যাওয়ার পরে অতি সম্ভ্রমের সঙ্গে তরুণবাবু বললেন, এই মানুষটার নাম ডেভিড ম্যাককাচান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে বাংলার মন্দির নিয়ে অসাধারণ সব কাজ করেছেন। বাংলার পথে প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন সেইসব মন্দিরের নানা উপাত্ত। ছবি তুলেছেন অজস্র। এই বঙ্গে নবাগত এক গ্রাম্য মানুষের মনে তখন অনেক জিজ্ঞাসা। প্রাণমন ভরে তখন আমার কেবল নতুন নতুন মানুষ দেখার পালা। সেই মানুষের তালিকায় সেদিন যুক্ত হলেন ওই মানুষটি। কিন্তু ওঁকে আর দেখিনি, সান্নিধ্য পাওয়া তো দূরের কথা। বছর দুয়েক পরে তো তিনি অকালপ্রয়াত হলেন। বলা যায় তাঁর মৃত্যুর পরেই তাঁকে সেইভাবে জানতে পারি। বুঝতে পারি কী অসীম নিষ্ঠাভরে ছোট্ট জীবনের ওইটুকু পরিসরে কত কাজ তিনি করে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পরে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক সুরঞ্জন মিদ্দের সুসম্পাদনায় মুদ্রিত একুশ শতক প্রকাশনার সেই বইটি হাতে আসায় নতুন করে ওঁকে জানবার প্রয়াস পেলাম। একত্রিশটি সুচয়িত লেখার মধ্য দিয়ে ওঁকে নতুন করে জানলাম। শিরোনাম ‘ডেভিড ম্যাককাচন চর্চা’ থেকেই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে যায়। সেগুলো নিয়ে কিছু লেখার আগে এই অকালপ্রয়াত বঙ্গপথিকের জীবনবৃন্তান্তের এক সংক্ষিপ্ত অবলোকন সম্পন্ন করি। বিয়াল্লিশ পূর্ণ হবার আগেই যাঁর জীবন থেমে গেছে, সেই বর্ণময় কর্মময় জীবনকে জানা যে বড় দরকার তাঁর সম্পর্কে অন্য গুণীজনদের মূল্যায়নের প্রবেশক হিসেবে।

ডেভিড জন্মেছিলেন ১৯৩০ সালের ১২ অগাস্ট ইংল্যান্ডের কভেন্টির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। ১৯৪৮ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে দেশের রীতি অনুযায়ী আঠারো মাস মিলিটারি সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন ১৯৫৭ সালে। ইংরেজি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা ও সাহিত্যে কেম্ব্রিজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হন। কর্মজীবনের শুরুতে দক্ষিণ ফ্রান্সের দুটি স্কুলে ইংরেজির শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বিশ্বভারতীর ইংরেজির শিক্ষক হন, ১৯৬০ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৭২ সাল অর্থাৎ আমৃত্যু অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেখানে কাজ করেছেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর দক্ষতা যতই সুবিদিত হোক না কেন, তাঁর প্রকৃত পরিচয় বাংলার মন্দির ভাস্কর্যের একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। নিজের দেশে থাকাকালীন তিনি ভারতবর্ষ ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যথেষ্ট আগ্রহী, কৌতূহলী ও ওয়াকিবহাল ছিলেন। এদেশে এসে তিনি ভারতশিল্পের একজন অনুরাগী হন, বিশেষ করে তাঁর গভীর অনুরাগ জন্মে। বাংলার পথে প্রান্তরে অনাদর অবহেলায় ধংসোন্মুখ মন্দিরগুলো সম্পর্কে তিনি নানারকম তথ্য সংগ্রহ ছবি তোলার কাজে ব্যাপৃত হন। এজন্যে দিনের পর দিন রোদ ঝড় বৃষ্টি মাথায় করে তিনি বাংলার গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নানা জায়গায় যান। কোন কোন জায়গায় তিনি একাধিকবারও যান। সেই বাংলার মধ্যযুগের প্রায় সমস্ত মন্দিরের তথ্যাদি তাঁর গোচরে আসে। এইভাবে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে পরিব্রাজকের মতো ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। তাঁর ক্যামেরাবন্দি বাংলার মন্দিরের অজস্র ছবি পরবর্তীকালের গবেষকদের প্রভূত কাজে লেগেছে। আর তাঁর জ্ঞানগর্ভ সন্দর্ভ যতটুকু তিনি সম্পন্ন করে যেতে পেরেছিলেন, তা একজন জ্ঞানতাপসের নিষ্ঠা ও গভীরতার পরিচয় বহন করছে। এদেশে আসার পর থেকেই তাঁর প্রবল সখ্য হয় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে। সেই সখ্যের সুবাদে তিনি শ্রী রায়ের অনেকগুলো ছবির সাব টাইটেল তৈরি করে দিয়েছিলেন। একজন প্রকৃত শিল্পবোদ্ধা না-হলে এই কাজ সম্ভব হত না। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সম্পর্কে এক গভীর অনুরাগ নিশ্চয়ই তাঁর ছিল। কিন্তু তাঁর মনপ্রাণ জুড়ে ছিল অসাধারণ এক শিল্পানুরাগ। তাই নিজের মনের খোরাক যোগাতে তিনি ছুটে ছুটে গেছেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। অকৃতদার এই মানুষটির জীবনে বিলাসিতার কোনও স্থান ছিল না। অতি সাধারণ যাপনে কাটিয়ে গেছেন আজন্ম, যাঁর মন জুড়ে ছিল সৃজনের নানা উদ্ভাস। তবে তাঁর এই সৃষ্টিশীলতার মেয়াদ দীর্ঘায়ত হয়নি। বিয়াল্লিশ বছর পূর্ণ হবার আগে তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায় দুরারোগ্য পোলিও রোগের আক্রমণে। যে টেরাকোটা মন্দিরের জন্যে ডেভিড তাঁর সমগ্র জীবনের একটা বড় সময় উৎসর্গ করেছিলেন, মৃত্যুর পরে সেই টেরাকোটা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয় তাঁর কবর। অকালপ্রয়াত এই ছাত্রবৎসল মানুষটির স্মৃতি বহন করে চলেছেন অনেকেই। তাঁর সান্নিধ্যধন্য অনেকেরই মনে চির জাগরূক নিঃস্বার্থ এই কাজপাগল মানুষটির অজস্র কর্মকৃতি।

“আমাদের বাড়ির কাজে যিনি সহায়তা করেন তার কাছে তিনি ছিলেন ‘দেবেশবাবু’, আমাদের গাড়ির চালকের কাছে তিনি ছিলেন ‘সাইকেল সাহেব’। সম্প্রতি দেখা হওয়া এক ঔপন্যাসিক ও তাঁর স্ত্রীর কাছে তিনি ছিলেন ছেলের মতো। আবার ব্রাহ্মসমাজের এক শিক্ষকের কাছে তিনি ছিলেন ছোটো ভাই। তবে রাজা বসন্ত রায় রোডের যে স্টূডিওতে এ বাংলার গ্রাম্য হিন্দু-মন্দিরের প্রায় হাজার দু’য়েক নেগেটিভ থেকে ফটো ছাপতে দিয়েছিলেন, সেখানকার এক টেকনিশিয়ানের কাছে তিনি ছিলেন ‘টেরাকোটা –বাবু’।” পি লালের একটি লেখার ছোট্ট উদ্ধৃতি দিয়ে মানুষ ডেভিডকে সবার সামনে আনতে চাই। ওই সামান্য কয়েকটি কথার মাধ্যমেই একজন কর্মিষ্ঠ মানুষের এক উজ্জ্বল পরিচয় ব্যক্ত হয়েছে। সবটা মিলিয়ে তিনি যে সত্যিই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব।
কাজপাগল এই মানুষটি এমন একটি বিষয়ে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন যার দিকে আমাদের গুণীজনেদের নজর পড়েনি। বাংলার পথে প্রান্তরে চরম অবহেলায় পড়ে থাকা ক্ষয়িষ্ণু মন্দিরশৈলী তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। মধ্যযুগের এই সমস্ত স্থাপত্যকলার প্রতি আমাদের নজর ফিরিয়েছেন তিনি। হীতেশরঞ্জন সান্যাল তাঁর লেখায় ডেভিডের এই অনন্য বৈশিষ্টকে সামনে রেখেছেন। তাঁর অসাধারণ গবেষণা পদ্ধতির এক সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েন তিনি। কাজ করতে করতে কাজের পদ্ধতি নির্মাণ করেছিলেন ডেভিড। সেই নির্মাণের এক অনুপুঙ্খ বিবরণ এই লেখায়। অনাগত কালের গবেষকদের নতুন নতুন অনেক পথ দেখিয়েছে তাঁর এই সমস্ত কাজ।
দেবকুমার চক্রবর্তী ডেভিডের একটি লেখার উপসংহারকে সবার গোচরে এনে টেরাকোটা মন্দির সম্পর্কে আগ্রহী শিক্ষাব্রতীদের চৈতন্যে কিছুটা আলোড়ন তুলতে চেয়েছিলেন। প্রাসঙ্গিক বিধায় পাঠকের জ্ঞাতার্থে ডেভিডের সেই লেখাটুকু এখানে উদ্ধৃত করছি। “One thing is certain : that as one tours through the village, one sees many an actual temple that could be saved by comparatively little effort. Is there no enthusiastic youth, no enlightened educaionist to collaborate in that effort? If as a result of this article even one of the temples I mention could be repaired, it would be worth the attempt.” (‘Temples of Bengal – some rescue proposals’. Published in Now, 1967)

আঞ্চলিক ইতিহাসে বিশেষভাবে দক্ষতা অর্জনকারী অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছেন,”…তাঁর অকাল মৃত্যু ঠিক সেই মুহূর্তে যখন তিনি উচ্চতর পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁর প্রিয় এই গবেষণা ক্ষেত্রে এমন শূন্যতা তৈরি করল যা পূরণ করা, যদি অসম্ভব নাও হয় তবু অত্যন্ত কঠিন।” এই আক্ষেপের স্বর আরো অনেকের লেখায় ছড়িয়ে আছে। সত্যি সত্যি যখন তিনি তাঁর কাজের সঠিক সরণি খুঁজে পেয়েছেন তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটল। যাকে প্রকৃত অর্থেই বলা যায় ‘ইন্দ্রপতন’।
সত্যজিৎ রায়ের লেখার মধ্যে আমরা ব্যক্তি ডেভিডকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ফুটে উঠতে দেখি। গ্রাম বাংলার পথে পথে ঘুরে ডেভিড নিত্যদিন যে উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন তার এক মনোজ্ঞ বর্ণনা তাঁর লেখায়। কীভাবে একজন প্রকৃত গবেষক একটি নিরস বিষয়কে আকর্ষনীয় করে তুলতে পারেন তার প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ ডেভিড। তাঁর কাজে কোন ফাঁকি ছিল না। শুধু অধ্যয়ন নয়, দিনের পর দিন ‘ফিল্ড ওয়ার্ক’ করে একটি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে তাকে নিজের মতো করে বিবৃত করতেন। শ্রী রায় অবাক বিস্ময়ে কয়েকবার শুনেছেন ডেভিডের সেই নিজস্ব বয়ান, যার পরতে পরতে মিশে ছিল তাঁর বিস্ময়কর মেধা আর প্রজ্ঞা।

ব্যক্তি ডেভিডকে বাদ দিয়ে তো তাঁর কাজকে বোঝা যাবে না। তাই কয়েকজনের অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে একজন কর্মিষ্ঠ মানুষ। মীনাক্ষী দত্ত লিখেছেন, “…কোন মেয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দেখিনি; অনেক মেয়েই উদ্গ্রীব ছিল তাঁর জন্যে। আমরাও একে-ওকে তাঁর সঙ্গে ভাব করাবার চেষ্টা করতাম। ডেভিড বলত, ‘এমন মেয়ে চাই যে বেন হুর দেখেনি।’ তখন ‘বেন হুর’ নামের হলিউডের জমকালো ছবিটি এসে মাতিয়ে দিয়েছে কলকাতা। সারা শহর একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিল। অতিকায় পর্দায় চলচ্চিত্র, জাঁকজমক, চাকচিক্য, তথাকথিত ও ঐতিহাসিক সাজসজ্জা, দারুণ সেট, রথের রেস – সবার মনে হয়েছিল ছবি দেখতে হয় তো এই। ডেভিডের কাছে সেটাই হয়ে গেল কষ্টিপাথর – কে ভালগারিটির পূজারি আর কে নয় তার নিকষ হয়ে গেল বেন হুর দেখা-না-দেখায়।”

ডেভিডের একদা ছাত্র, পরে অন্তরঙ্গ বন্ধু সুহৃদকুমার ভৌমিক ডেভিডের অনেক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর লেখায় মূর্ত হয়ে উঠেছে ডেভিডের বাঁশি বাজানো। বাংলার লোকগীতির প্রতি তাঁর আগ্রহের কথাও আমরা জানতে পারি এই লেখায়। যে মানুষটা তাঁর উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভালভাবেই জীবন কাটাতে পারতেন সেই তিনিই অত্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। জীবনযাত্রা ছিল অতি সাধারণ। মিতব্যয়িতা ছিল তাঁর স্বভাবজাত। তাঁর অর্জিত অর্থ মূলত ব্যয়িত হত তাঁর নিরলস গবেষণার কাজে। পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল চড়ে তিনি মাইলের পর মাইল পরিভ্রমণ করেছেন। এক কথায় এমন মানুষ আজকের দিনে একান্তই বিরল।

অধ্যাপক সুরঞ্জন মিদ্দেকে ধন্যবাদ এমন একটি গ্রন্থ নির্মাণের জন্যে। তাঁর এই নির্মাণে পরিশ্রম ও আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট। ইতিহাস বিমুখ আমাদেরকে তিনি প্রায় বাধ্য করেছেন একজন প্রকৃত বঙ্গপথিককে শ্রদ্ধা জানাতে। ডেভিডের আরব্ধ কাজ এখনও শেষ হয়নি। বাংলার পথে ও প্রান্তরের মন্দিরগুলো ক্রমশ ধ্বংসের মুখে। এই গ্রন্থ আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে সামান্য নাড়া দিতে সম্পাদকের এই প্রয়াস প্রশংসার দাবিদার। আশাকরি আগামীদিনের একজন প্রকৃত গবেষক এই দুরূহ কাজের ভার স্বেচ্ছায় কাঁধে নিয়ে সুদূর ইংল্যাণ্ড থেকে আসা সেই অগ্রপথিককে শ্রদ্ধা সম্মান জানাবেন তাঁর অসমাপ্ত কাজকে শেষ করার মানসতায়।