চেনাশোনার কোন্ বাইরে-৬৪॥ সুশীল সাহা



একটি ব্যর্থ চেষ্টার ইতিবৃত্ত



মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু
ত্রিপুরা রাজ্য
ভারত

বিষয় : প্রয়াত কবি সম্পাদক অধ্যাপক সত্যেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত পুরস্কার প্রবর্তন

সবিনয় নিবেদন,
আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে গত ৩০.১০.২০০১-এর প্রত্যুষকালে কবি সম্পাদক অধ্যাপক সত্যেন বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় তাঁর বাসগৃহে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে তাঁর এই অকাল প্রয়াণে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। সাহিত্য ও শিক্ষাঙ্গনে তাঁর অভাব বোধ করছেন আমাদের আরো অনেকে। জন্ম আসামে বা পড়াশোনা কলকাতায় হলেও শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমগ্র কর্মজীবন ত্রিপুরাতেই কেটেছে। তাঁর দক্ষ সম্পাদনায় ‘স্পন্দন’ পত্রিকায় দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের লেখকদের পাশাপাশি সমান মর্যাদায় ত্রিপুরার লেখকেরাও স্থান পেয়েছেন।
নবীন প্রতিভা অন্বেষণে তাঁর নিরলস প্রয়াস মনে রাখার মত। এমনকি ককবরক ভাষায় রচিত সাহিত্যের অনুবাদও তিনি ‘স্পন্দন’ও-এ ছেপেছেন। বলাবাহুল্য বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে ‘স্পন্দন’-এর ক্রমাগত আত্মপ্রকাশ সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর খ্যাতি সুবিদিত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি তাঁর কর্মস্থলের (ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ) দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র ও শিক্ষক তাঁর জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয় ছিল।
তাঁর এই স্মরণীয় কর্মসমূহের স্বীকৃতি স্বরূপ ত্রিপুরা সরকার যদি কোনও পুরস্কার প্রবর্তন করেন তাহলে আমরা অত্যন্ত খুশি হই। অর্থমূল্য যাই হোক না কেন শ্রী সত্যেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মময় জীবনের মূল্যায়নে সেটিই হবে যথার্থ দায়িত্বপালন।
আশাকরি আমাদের প্রস্তাব সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

(তারিখ : এপ্রিল ২০০২,কলকাতা)

ধন্যবাদান্তে
অমিতাভ দাশগুপ্ত– কবি, সম্পাদক : পরিচয়
অমিয় দেব– প্রাক্তন উপাচার্য : বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়
অর্ঘ্য সেন– সংগীত শিল্পী
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত– কবি, অধ্যাপক
অশোক দাশগুপ্ত– সম্পাদক : আজকাল
আবদুর রাউফ– সম্পাদক : চতুরঙ্গ
কার্তিক লাহিড়ী– লেখক, অধ্যাপক
জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়– লেখক, অধ্যাপক
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী– কবি, ঔপন্যাসিক
প্রদীপ ঘোষ– আবৃত্তিকার
বাদল সরকার– নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা
বেলাল মোহাম্মদ– বাংলাদেশের কবি ও মুক্তিযোদ্ধা
মহাশ্বেতা দেবী– লেখক ও সমাজকর্মী
রামকুমার মুখোপাধ্যায়– কথাসাহিত্যিক
শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়– লেখক ও সমালোচক
শুভেন্দু মাইতি– সংগীত শিল্পী
সাধন চট্টোপাধ্যায়- কথাসাহিত্যিক
সুধীর চক্রবর্তী– লেখক, অধ্যাপক
সুদিন চট্টোপাধ্যায়– শিক্ষাবিদ
হায়াৎ মামুদ– বাংলাদেশের প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক

যথাসময়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উপরোক্ত আবেদনপত্র যথাস্থানে পাঠানো হয়েছিল। কিছুদিন বাদে ত্রিপুরা রাজ্যের তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং শিক্ষামন্ত্রী অনিল সরকারকে উক্ত আবেদন পত্রের অনুলিপিসহ আলাদাভাবে আবেদন করেছিলাম।
ফলাফল যে একেবারে শূন্য হয়েছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কে সত্যেন? কি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়? এইসব প্রশ্নের ভিড়ে হয়তো চাপা পড়ে গিয়েছিল আমার মতো একজন অতি সাধারণ মানুষের উদ্যোগ। কিন্তু অতি সাধারণ এক প্রত্যাশা ছিল মনের মধ্যে। অন্তত প্রাপ্তিস্বীকার করবেন ওঁরা। সেটাও জোটেনি আমার।

সত্যেন চলে যাবার কিছুদিনের মধ্যে চলে গেছে মীনাক্ষী। রয়ে গেছে ওঁদের কিছু লেখাপত্র। কারো চোখে পড়ে কি পড়ে না। আগামীদিনের কোনও অনুসন্ধিসৎসু পাঠকের অপেক্ষায় রয়ে গেছে সেসব।
পুরনো কাগজপত্রের স্তূপের মধ্যে ধুলোমলিন একটা ফাইল খুঁজে পেলাম অনেকদিন বাদে। দুই দশক আগের এক ব্যর্থ প্রয়াসের কথা নতুন করে মনে পড়ল। হোক না ব্যর্থ। যে মন নিয়ে ওই কাজে ব্রতী হয়েছিলাম, সে তো আর মিথ্যে নয়। আজ এতদিন বাদে অনতি অতীতের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আমার গর্ব হয়। একা একা কত কাজই না করেছি। এই জীবনে ব্যর্থতার তালিকা যেমন দীর্ঘ, সাফল্যের খতিয়ানও তো কম নয়। তবে সেসব নিয়ে আত্মতুষ্টিময় জাবর কাটতে চাই না আজ।
এখনও যে অনেকটা পথচলা বাকি!