চেনাশোনার কোন্ বাইরে-৭ ॥ সুশীল সাহা


সাগরদাঁড়ির স্মৃতি


খুলনা থেকে যশোরের সাগরদাঁড়ির দূরত্ব তেমন কিছু নয়, তবু সেখানে যেতে আমাকে পেরোতে হয়েছে জীবনের প্রথম ঊনিশটা বছর। কলেজের পাঠক্রমে মদুসূদনের মেঘনাদ বধ্য কাব্য পড়তে পড়তেই এক প্রবল কৌতূহল জন্মেছিল মনের ভেতর। তারপর অধ্যাপক নুরুল ইসলাম সাহেবের উদাত্ত গলায় পড়ানো এবং সেইসঙ্গে প্রথম জানা মধুসূদনের জন্মভূমির কথা। সেটা যে এত কাছে কে জানত। যা হোক ১৯৬৬’র এক নির্দয় শীতের সকালে আমরা কয়েকজন রওনা দিয়েছিলাম ওই সাগরদাঁড়ির উদ্দেশ্যে। খুলনা থেকে ট্রেনে যশোর, তারপর যশোর থেকে সড়কপথে সাগরদাঁড়ি যাওয়া। সেই সবুজ গ্রামের আলপথ পেরিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের সীমানার ওপারে সাগরদাঁড়ি নামের এক গণ্ডগ্রামে আমরা প্রায় ভরদুপুরে পৌঁছেছিলাম। একে ওকে জিজ্ঞেস করে মধুসূদনের জন্মভিটেতে আমরা পৌঁছে যাই। তখন চারদিকে কাঁটা ঝোঁপঝাড়। তারই মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে প্রাসাদোপম কয়েকটি বাড়ি। চারদিক শুনশান জনমানবহীন। ঠিক তার আগের বছরেই পূর্ব পাকিস্তান সরকার অধিগ্রহণ করেছে ওই বিশাল ভূ-সম্পত্তি। অধিগ্রহণ করলেও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া তখনো সেইভাবে শুরু হয় নি। জঙ্গলাকীর্ণ এক পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক জায়গায় দাঁড়িয়ে মনে পড়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের সেই অমোঘবাণী, যা তিনি রচনা করেছিলেন মধুসূদনের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই বঙ্গদর্শনে (১২৮০ বঙ্গাব্দ)।

“সুপবন বহিতেছে দেখিয়া, জাতীয় পতাকা উড়াইয়া দাও তাহাতে নাম লেখ ‘শ্রীমধুসূদন’। বঙ্গদেশ বঙ্গকবির জন্যে রোদন করিতেছে । বঙ্গ কবিগণ মিলিয়া বঙ্গীয় কবিকুলভূষণের জন্য রোদন করিতেছেন। কবি নহিলে কবির জন্যে রোদনে কাহার অধিকার?” সেদিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘মৃত মাইকেল মধুসূদন দত্ত’ প্রবন্ধে যে হাহুতাশ করেছিলেন তা যেন সমস্ত বাঙালি হৃদয়ের কথা। এই প্রবন্ধ রচনার অল্প কিছুদিন আগে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন রবিবার দুপুর দুটোয় অতি সাধারণ এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে বাংলার এই অসামান্য প্রতিভাধর কবির। নিদারুণ অসুস্থতা, প্রবল অর্থাভাব, পাহাড়প্রমাণ দেনা এবং নিজের মৃত্যুর ঠিক তিন দিন আগে স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর খবরে ভেঙ্গে পড়া মানুষটা যেন এক পাথরচাপা প্রাণ। রোগে শোকে জর্জরিত এক ধংসস্তুপ। মৃত্যুর এতগুলো বছর পরেও যেন বাঙালির হৃদয় বিদীর্ণ হয় এই অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যতিক্রমী এবং সম্পূর্ণত এক বিদ্রোহী কবির জন্যে যিনি মাইকেল হয়েও শেষ পর্যন্ত শ্রীমধুসূদন, বাঙালি অন্তরাত্মার প্রতিভূ।
তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়ার মধ্যে যে উচ্চাকাঙ্খা নিহিত ছিল অচিরেই তা অলীক স্বপ্নে পর্যবসিত হয়। তাই তো ‘ক্যাপটিভ লেডি’ ও ‘রিজিয়া’ এই দুটি গ্রন্থ ইংরেজিতে ছদ্মনামে প্রকাশ করার পর তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন, মাতৃভাষাতেই যে তাঁর আজন্ম অধিকার- সেই চেতনাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করল বাংলা ভাষাতেই লিখতে তাও প্রকাশ পেল এক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে গিয়ে। রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী পড়ে তিনি এতই বিরক্ত হন যে বাংলার মানুষকে ‘অলীক কুনাট্য রঙ্গ’ থেকে রেহাই দিতে নিজেই লিখে ফেললেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকটি। সেই নাটকের প্রবল জনপ্রিয়তা তাঁর আত্মবিশ্বাস প্রবলভাবে বাড়িয়ে দিল। বেথুন সাহেবের পরামর্শে ইংরেজির মোহ আবরণ ঘুচিয়ে মধুসূদন লিখতে থাকলেন একটার পর একটা কালজয়ী কাব্য, নাটক ও প্রহসন। জন্ম হল তাঁর বৈপ্লবিক কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘনাদবধ কাব্য’। পাশাপাশি প্রহসন লিখে তিনি তৎকালীন সমাজকে তীব্র ব্যাঙ্গবিদ্রুপে বিদ্ধ করলেন। মেঘনাদ বধ কাব্যের অসাধারণ বিষয়বৈচিত্র্য ও অনন্য ভাষারীতি তাঁকে পৌঁছে দিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের দরবারে এক অনন্য চালকের আসনে। তাঁর ঠাঁই হল ইতিহাসের এক সম্মাননীয় উচ্চাসনে। ইংরেজিতে পাঁচটি এবং বাংলায় মাত্র বারোটি গ্রন্থ প্রকাশ করেই তাঁর এই দিগবিজয়।

কিন্তু চরম আত্মলাঞ্ছনা, সমাজের নিদারুণ বঞ্চনা এবং দারিদ্রের তীব্র কশাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তাঁর ব্যতিক্রমী জীবন। পঞ্চাশ না পেরোতেই স্তব্ধ হয়ে গেল প্রাণস্পন্দন। কেন এমন হয়? সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা মানুষদের ভাগ্য বিড়ম্বনার ইতিহাস আমরা জানি অনেকভাবে। যে ভ্যান গগের ছবি কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে মৃত্যুর পরে সেই ভ্যান গগকেই সহ্য করতে হয়েছে দারিদ্র এবং হতাশার দীনতাভরা জীবন। আজ মধুসূদনের সাহিত্যকৃতি যে সম্মানে ভূষিত হচ্ছে তার আভাস তিনি তাঁর জীবৎকালে অনুভব করে গেলেও একদিকে দেশ-গাঁ, পাড়া-প্রতিবেশী ও বাবা মা থেকে উচ্ছিন্ন এক জীবন, ধর্মান্তরণের কঠিন পথ বেছে নেওয়া, নিজের পারিবার নিয়ে আকাশচুম্বি দুশ্চিন্তা সর্বোপরি মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের আসক্তি এবং পরিশেষে সিরোসিস অফ লিভারে মৃত্যু। এ যেন এক মহাকালের অমোঘ বিধান। তবু এক অন্য রকমের জীবন। প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে এক নিরুচ্চারিত বিপ্লব। সত্যি সত্যি এমন বর্ণময় জীবন ক’জন পায়? যদিও তা অসহ্য দারিদ্রপীড়িত, প্রবল কষ্টের অনন্ত তমসায় ঘেরা। পদে পদে বাধা ও যাতনা তবু তার মধ্যেও সৃষ্টিশীলতায় মুখর।

সেদিন খুব কষ্ট নিয়ে আমরা ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। সারা পথ কেউ কারোর সঙ্গে কথা বলি নি। অদ্ভূত এক বিষণ্ণতায় ভরা ছিল আমাদের ফিরতি যাত্রাপথ। তারপর এক অদম্য উৎসাহে পাঠক্রমের বাইরে মধুসূদনের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে থাকলাম এবং অচিরেই আবিষ্কার করলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য পুরুষকে। অবশ্য লেখালিখির অনন্যতার উপলব্ধির পাশাপাশি যখন তাঁর জীবনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি তখন যেন কষ্টের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে।

যাঁর নাম উচ্চারিত হলে যে বাক্যবন্ধটি অবশ্যম্ভাবীভাবে উঠে আসে, তা হল ‘আশার ছলনে ভুলি’। কিসের আশা? কিসের ছলনা? আশাহীন মানুষ তো দেখা যায় না, আর ছলনার শিকার কে না হয়? তবু মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতায় লেখা নিজের এই হাহুতাশ যেন তাঁর সমগ্র জীবনের নির্যাস। বিলেতে গিয়ে ইংরেজিতে লিখে কবিখ্যাতি অর্জন করবেন, সারা পৃথিবীতে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়বে, এই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াল স্বয়ং পিতৃদেব। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে তাঁর পায়ে শিকল পরাতে চেয়েছিলেন তিনি। বিয়ে এড়াতে এবং বিলেত যাবার সুযোগ নেবার জন্যেই তাঁর খৃষ্টধর্ম গ্রহণ এক হটকারী সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিনা জানি না। তবে ব্যতিক্রমী মানুষদের জীবন তো আর দশজনের মতো হয় না। তাই তাঁর স্বপ্ন দেখা এবং স্বপ্নভঙ্গের তাৎক্ষণিক রেশ কেটে যেতেই ভেতরের কবিসত্তা জেগে উঠল। তিনি বুঝলেন মাতৃভাষা, কেবল মাতৃভাষাতেই আছে তাঁর পূর্ণ বিকাশের অধিকার। তাই বাংলা কাব্যে তিনি নিয়ে এলেন সম্পূর্ণ এক নতুন ধারা। অন্যদিকে ইংরেজি সনেটের অনুসরণে বাংলায় ‘চতুর্দশপদী কবিতা’ রচনা করে রীতিমত সাড়া ফেলে দেন। ওদিকে ‘পদ্মাবতী’ নাটকে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করে বাংলা কাব্যের ধারায় এক অভিনব রীতির প্রচলন করেন। ‘ব্লাঙ্ক ভার্স’-এর অনুকরণে তিনি যে বাংলাকাব্যের মুক্তি ঘটালেন, সেটা সম্ভব হয়েছিল যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের সঙ্গে এক বিতর্কের জবাবে ‘তিলোত্তমাসম্ভবকাব্য’ রচনার মধ্যে দিয়ে। ক্রমে ‘ব্রজঙ্গনাকাব্য’, ‘বীরাঙ্গনাকাব্য’ এবং অবশেষে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করে দেখিয়ে দিলেন গদ্যরীতির মুক্তছন্দে কীভাবে কবিতা রচনা করা যায়। এখনকার বাংলা কবিতার জগতে গদ্যকবিতার যে যথেচ্ছ ব্যবহার তার পথপ্রদর্শক ছিলেন মধুসূদন, সেকথা আমরা ভুলে গেলেও ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অবশ্য এ কথা ঠিকই যে আজকের দিনে কেউই মধুসূদনের ভাষায় কাব্যরচনা করবেন না। কিন্তু তিনি যে সাহস করে গদ্যরীতিকে কাব্যের উপযোগী করে সুবিশাল ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করে দেখালেন তা শুধু লেখনরীতির অভিনবত্বে নয়, বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে বাংলা সাহিত্য তাঁকে অমরত্ব দান করেছে। বাংলা কাব্যে তাঁর এই অবদান কেবল অভিনবই নয়, বৈপ্লবিক। মাত্র ১৭টি গ্রন্থ (তারমধ্যে আবার পাঁচটি ইংরেজিতে) প্রকাশ করে এমন মর্যাদা, এমন অর্জন খুব কম কবিরই ভাগ্যে জোটে।

আরো অনেক পরে, আমি যখন পাকাপাকিভাবে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা তখন আরেকবার ওই সাগরদাঁড়ি যাবার সৌভাগ্য হল আমার। সেটা ১৯৮৮ সালে। যশোরের এক প্রভাবশালী মানুষের সৌজন্যে ওখানে গেলাম। এবার গিয়ে দেখি বাইশ বছর আগে সেই সাগরদাঁড়ির অনেক পরিবর্তন। চারপাশে তখন এক পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ওখানে তখন অনেক দর্শনার্থী মানুষের সমাগম। ভাল লাগল একজন অতি সাধারণ গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত গাইডের ভূমিকা দেখে। বুঝলাম মানুষটি অশিক্ষিত নয়। কোথায় যেন এক অলিখিত দায়িত্ববোধ তাঁকে এই কাজে উদবুদ্ধ করেছে। তাঁর সেদিনের সেই সুললিত ভাষণ আজও আমার কানে লেগে আছে। কবিখ্যাতির জন্যেই তো মধুসূদনের এই বিলেত গমন। কিন্তু যে কবিখ্যাতির জন্যে ধর্মত্যাগ, বিলেতে গিয়ে ইংরেজ হবার আকাঙ্খা, ইংরেজিতে লিখে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানোর স্বপ্ন, তা অতি শিঘ্রই ভেঙ্গে যায়। আগেই লিখেছি বেথুন সাহেবের পরামর্শে তিনি তাঁর মাতৃভাষাতেই লিখবার সংকল্প করেন। তাঁর প্রতিভা সম্পর্কে কেউই দ্বিমত পোষণ করেন না। আর যা ছিল তা হল এক ধরনের জেদ এবং আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসের জোরে যে কোনও চ্যালেঞ্জকে তিনি গ্রহণ করেছেন অক্লেশে। তবে ওই ধর্মত্যাগ ও বিদেশিনীকে বিবাহ ইত্যাদি নানান বিতর্কের জন্ম দিলেও পারিবারিক জীবনে মধুসূদন অসুখী হন নি। কিন্তু তিনি খৃষ্টান মিশনারিদের সুনজরে পড়েন নি কোনওমতেই। যদিও ধর্মত্যাগের পরে খৃষ্টধর্মের অনেক জয়গাথা তিনি রচনা করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে খৃষ্টান কবরস্থানে তাঁর কবর দেওয়া নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়। খৃষ্টান হয়ে হিন্দু মিথলজি নিয়ে তাঁর কাজকে হয়ত তাঁরা সুনজরে দেখেন নি। কলকাতার খৃষ্টান সমাজের ঘোর আপত্তি ছিল, তাঁদের সমাধিক্ষেত্রে স্থান দেওয়া নিয়ে। এমনকি আংলিকান চার্চে তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়া হবে কিনা তা নিয়েও যথেষ্ট জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিশপের অনুমতিতে লোয়ার সার্কুলার রোডের সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় স্ত্রী হেনরিয়েটার পাশেই। প্রিয়বন্ধু গৌরদাস বসাকসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে কয়েক বছর বাদে ওখানে বসান সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিফলক। তাতে লেখা ছিল মাইকেলরই লিখে যাওয়া সেই অবস্মরণীয় এপিটাফ “দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব বঙ্গে, তিষ্ঠ ক্ষণকাল”। সেই এপিটাফ দেখে আজও প্রায় সব দর্শনার্থীর চোখে জল আসে অবধারিতভাবে।

কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলের সেই সমাধিক্ষেত্র আজও আছে, যেখানে চিরনিদ্রিত আরো অনেকের সঙ্গে দীনবন্ধু, এন্ড্রুজ। প্রায় ঢিল দূরত্বে কলকাতার প্রাচীনতম সমাধিক্ষেত্রে (সাউথ পার্ক স্ট্রিট সিমেট্রি) রয়েছেন ডিরোজিও, হিন্দু স্টুয়ার্ট ও উইলিয়াম জোনসের মতো দিকপালেরা। সেই সমাধিক্ষেত্র এখন পর্যটকদের দ্রষ্টব্য। রীতিমতো টিকিট কেটে ঢুকতে হয় সেখানে। কিন্তু মধুসূদনের সমাধিক্ষেত্র এখনও অবারিত দ্বার। পথ চলতি মানুষজন রাস্তা থেকেই দেখতে পান বিশাল বড় সেই সমাধি ফলক। সেখানেও ‘দাঁড়াও পথিকবর’ কবিতাটির পুরোটাই পাথরে খোদাই করা। সবার চোখে পড়বেই। অনেক কৌতুহলি মানুষ ওটা দেখেই ঢুকে পড়ে ওই বিউরিয়াল গ্রাউন্ডে। চারদিকে সবুজ আর সবুজের সমারোহর মধ্যে হঠাৎ হারিয়ে যায় নাগরিক কোলাহল। মধুকবির সমাধি হাতছানি দিয়ে ডাকে। রীতিমতো তির চিহ্ন দিয়ে নির্দেশিত সেই পথ। সেই পথ বেয়ে কখন যে আপনি এসে পৌঁছে যাবেন মধুসূদনের সমাধিক্ষেত্রে, টেরও পাবেন না। চারপাশ ঘিরে এক অতলান্ত নৈঃশব্দ। অথচ মধুসূদনের জীবন তো ছিল চির অশান্ত। পঞ্চাশ না পেরোতেই (১৮২৪-১৮৭৩) যে জীবন চিরস্তব্ধ হয়ে গেছে তাঁর সেই স্বল্প আয়ুস্কালেই ঘটে গেছে কত না অঘটন। অল্প বয়সে বিয়ে ঠেকাতে গৃহত্যাগ, ধর্মত্যাগ করে বিলেত যাবার স্বপ্নদেখা। ইংরেজিতে কাব্যগাথা লিখে উচ্চাসনে বসার স্বপ্নচয়ন। ধনী পিতার একমাত্র পুত্রের দারিদ্র্যের সঙ্গে অসম যুদ্ধ, মদ্যপানের চরম আসক্তি, ধারে দেনায় আকণ্ঠ নিমজ্জন– এ সবই এখন ইতিহাস। এবং সেইসঙ্গে ইতিহাস বিদ্যাসাগরের অসামান্য বদান্যতা। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে এখন বিদ্যমান তাঁর রচনাসমূহ, বাংলা ও বাঙালিকে যা এগিয়ে দিয়েছে সামনের দিকে। এখনও তাতে চোখ বোলালে মনে হবে কত আধুনিক কত প্রাসঙ্গিক সেইসব রচনা।

গত বছর (২০২০) হঠাৎ করেই একেবারে সরকারিভাবে আমন্ত্রণ পেলাম ওখানে যাবার। কবির ১৯৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি প্রত্যেক বছরের মতো সেখানে আয়োজন করেছিলেন সপ্তাহব্যপী এক মধুমেলার। এ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়। প্রায় কোমরবেঁধে তৈরি হয়ে গেলাম। সঙ্গে যাবে আমার স্ত্রী ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর খোকন কুমার বাগ। বাংলাদেশের এমন মেলা সম্পর্কে আমার কিছু পূর্ব ধারণা আছে। সরকারি এইসব আয়োজনে মানুষজন উপচে পড়ে। এ যেন এক বাঁধভাঙ্গা বন্যা। রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহিতে দেখেছি জনসমাবেশের এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য। কবিকে ততটা বুঝুক আর না বুঝুক মানুষজনের ওখানে আসার স্রোত অবিরল। কিন্তু বিশৃঙ্খলা কোথাও নেই। একদিকে মঞ্চে চলেছে অনুষ্ঠান অন্যদিকে নাগরদোলা আর পাঁপরভাজা-জিলিপির মহোৎসব। অনেক ভেবেচিন্তে আমি গালভরা ভাষণের বদলে একটা অডিও ভিসুয়াল প্রস্তুতি নিলাম। হাতের কাছে ছিল গৌতম হালদারের অবস্মরণীয় একক অভিনয় সমৃদ্ধ ‘মেঘনাদ বধ কাব্যে’র ডিভিডি। তারই কিছু নির্বাচিত অংশ পেন ড্রাইভে তুলে নিলাম। সঙ্গে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা বলার প্রস্তুতি নিলাম। আমার বরাদ্দ পঁচিশ মিনিটের ১৮ মিনিট দেখাব ওই অসামান্য অভিনয়ের নির্বাচিত অংশ আর বলব পাঁচ মিনিট। আগেই জেনে নিয়েছিলাম ওখানে জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রজেকশনের ব্যবস্থা থাকবে।

গত বছরের পঁচিশে জানুয়ারি আমি, খোকন আর আমার স্ত্রী পৌঁছে গেলাম হরিদাসপুর- বেনাপোল সীমান্তে। ওখানে গাড়ি নিয়ে অনেক আগে থেকেই অপেক্ষমান যশোর সরকারি কলেজের অধ্যাপক সবুজ শামীম আহসান। বাংলাদেশের ছেলে আমি। দেশ ছাড়ার পরও কতবার ওই দেশে গেছি। কিন্তু এবারের যাওয়া যেন একটু অন্যরকম। সরকারি ছাপ মারা গাড়ি আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। পথে কতই না সমাদর। নিজের দেশে সম্মাননীয় এক অতিথির মর্যাদা আমাদের। চট করে পৌঁছে গেলাম যশোর সার্কিট হাউসে। আমাদের যে ঘরে রাখা হল, তার নাম অপরাজিতা। দেখলাম আশেপাশের ঘরগুলোর নাম ওই নানারকম ফুলের নামে। দোলনচাঁপা, বাগানবিলাস, করবী কিংবা কাঁঠালচাঁপা। রাতেই আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এলেন যশোরের সহকারি কমিশনার প্রীতম সাহা। এক তরতাজা যুবক, অল্প কিছুদিন হল বিসিএস পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে এই পদে যোগ দিয়েছেন। হাসিখুশি মানুষটাকে দেখেই ভাল লেগে গেল। কথা দিতে হল, পরদিন তাঁর অফিসে একবার যাব বলে। আরো অনেকে দেখা করতে এলেন আমাদের সঙ্গে। ঠিক হল আমরা পরদিন যশোর শহরটা ঘুরব। সাগরদাঁড়ি যাব ২৭ তারিখ দুপুরে। ওই দিন সন্ধ্যায় আমাদের উপস্থাপনা। সেদিন আর বেশি জেগে থাকলাম না। অতিথিশালার চমৎকার সব দেশি আহারে আপ্যায়িত হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম এবং চলে গেলাম ঘুমের দেশে।

পরদিন গেলাম প্রীতম সাহার অফিসে। আমাদের তিনি শুধু আপ্যায়নই করলেন না। উপহার দিলেন ইংরেজিতে লেখা ‘জয়ফুল যশোর’ নামাঙ্কিত পোর্সিলিনের কফি মগ। এর আগে ওই যশোর নিয়েই দেখেছি একটি অনন্যসাধারণ স্লোগান ‘মুকুলিত যশোর’। তার জায়গায় এই ইংরেজি দেখে একটু আশ্চর্য হলেও বুঝলাম বিদেশি অনেকেই তো আসেন ওখানে। হয়ত তাঁদের কথা ভেবে এসব করা। যা হোক, যশোর আমার অতি পরিচিত শহর হলেও এবার যেন তাকে ঠিক চিনতে পারছিলাম না। চারদিকে নগরায়নের ছোঁয়া লেগেছে। যেদিকে তাকাই, কেবল আকাশচুম্বি বাড়িঘর। রাস্তায় যানবাহনও অনেক। গেলাম একটু বই পাড়ায়। দেখলাম সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো সব দোকান। প্রচুর পাঠ্য আর ধর্মীয় বই সেখানে। তবে অন্য ধরনের বইও আছে। কলকাতার বইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের অজস্র বই। তবে কী এক অজানা কারণে ভারতীয় বইয়ের দাম লিখিত মূল্যের আড়াই গুণ। শো-কেসের এক কোণে আমার একটা বই দেখে একটু পুলকিতই হলাম। পরিচয় দিতেই দোকানি খুব খাতির করলেন। চা খাওয়ালেন। এখানে আসার কারণ জানতে পেরে খুব খুশি হলেন। তাঁকে খুশি করতে একটা বই কিনলাম। হুমায়ুন আজাদের ‘আমার অবিশ্বাস’।

দুপুরে অধ্যাপক সবুজের আতিথ্য গ্রহণ করতেই হল। বাংলাদেশের আতিথ্য মানেই এক ধরনের ভুড়িভোজের আয়োজন। এ নিয়ে অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন। আমি আর তার পুনরাবৃত্তি করব না। সবুজ আবার ভাল গান গায়, আবৃত্তি করে। দুপুরটা তাই বেশ গানে গল্পে আড্ডায় কেটে গেল। বিকেলে আমারই আগ্রহে যাওয়া হল নৃত্যবিতানে। ওটা হল সঞ্জীব চক্রবর্তীর নাচের স্কুল। সঞ্জীবকে অনেকদিন আগে থেকেই চিনি। যশোরে ওর অনেক ছাত্র ছাত্রী। দূর দূরান্ত থেকে ওঁর কাছে সবাই আসে নাচ শিখতে। আমাকে দেখে তো ও খুব খুশি। আরো খুশি হল যখন জানল আমরা এসেছি মধুমেলায় যোগ দিতে। ওঁর ছাত্র-ছাত্রীরা পরম উৎসাহে তাদের নাচ দেখাল। তাদের কারো নাম পরমা, কারো সুচরিতা, কেউবা মধুরিমা, লাবণ্য, অনুপম, সৌজন্য, অধিরথ, সুপর্ণ। প্রত্যেকের কত সুন্দর সুন্দর নাম। কে হিন্দু কে মুসলমান আর কেইবা খৃষ্টান, বোঝার উপায় নেই। এই হল আজকের বাংলাদেশ। নামের আড়ালে নিজের ধর্মপরিচয়কে আড়াল করতে ওঁরাই জানে। পদবীর অহঙ্কার তো দূর অস্ত। ওখানকার আমার এক কবিবন্ধুর ছেলের নাম ‘শস্য আবহমান’, আহা কী অপরূপ।

ধান ভানতে শিবের গীতের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাই আর ভ্রমণ বৃত্তান্তের খুঁটিনাটির মধ্যে না গিয়ে মধুমেলার প্রসঙ্গেই ফিরে আসি। পরদিন অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি আমরা দুপুরের খাওয়া সেরেই রওনা হলাম সাগরদাঁড়ির উদ্দেশ্যে। পিচঢালা সুন্দর রাস্তা। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত। গ্রামের পর গ্রাম পেরিয়ে আমরা অবশেষে পৌঁছালাম সাগরদাঁড়িতে। ওখানে পৌঁছাবার বেশ আগে থেকেই দেখছিলাম সারি সারি মানুষের মিছিল যাচ্ছে ওই দিকে। যত উদ্দিষ্টের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি ততই যেন ভিড় বাড়ছে। কাছাকাছি পৌঁছে দেখলাম গাড়ি এগোতে পারছে না মানুষের ভিড় ঠেলে। যা হোক কোনওরকমে যথাস্থানে পৌঁছে তো আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। এতো মানুষ এক জায়গায়। সত্যিই অভাবনীয়। আমার দক্ষিণডিহির অভিজ্ঞতাকে ম্লান করে দিল এক লহমায়। আমরা গাড়ি থেকে নেমে চারদিকটা একটু ঘুরে ফিরে দেখলাম। কপোতাক্ষ আরো শুকিয়ে গেছে। এখনো কিছুটা নাব্যতা থাকলেও আর কতদিন থাকবে জানি না। নদীর খুব কাছেই মধুসূদনের বিশাল এক মূর্তি। খুব একটা ভাল ভাষ্কর্য নয়। কেবল দাড়ি আর চুল দিয়ে কোনওরকমে চিনে নিতে হবে। এহ বাহ্য। সেই মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সবাই ছবি তুলছে পটাপট মোবাইল ক্যামেরায়। আমার একটু ইচ্ছে করলেও তাকে দমন করলাম। বরং কপোতাক্ষ নদের (এখন অবশ্য খাল বলা যায়) তীরে গিয়ে খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। দেখলাম সেখানে নৌকা বিহারের ব্যবস্থা রয়েছে। অনেকেই তাতে চড়ে বেশ হৈ হৈ করে ঘুরছে এদিক ওদিক। শিশুদের হাতে বেলুন আর সস্তা চাইনিজ পুতুল খেলনা ইত্যাদি। চতুর্দিকে বেশ উৎসবের আমেজ। কিছুক্ষণ ওখানে থেকে মেলার মধ্যে ঢুকলাম। যথারীতি পাঁপড়ভাজা আর জিলিপির অঢেল আয়োজন। আর নানাবিধ আধুনিক খাবারের ব্যবস্থা। চাও মিন ছাড়া দেখলাম মোমোও পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ নিয়ে এসেছে হাঁস মুরগির ডিম, নানারকম দেশি ফল। তাছাড়া মাটির খেলনা তো ছিলই। তারমধ্যে চুল আর দাড়িগোফের বহরওয়ালা মধুসূদনের মূর্তিও ছিল। অনেকেই দেখলাম কিনছেন।

সবুজের তাড়ায় আমরা এবার মূল মঞ্চের দিকে পা বারালাম। এবার আমাদের ডাক পড়বে। মঞ্চে ওঠার আগে এক প্রস্থ আপ্যায়ন। অনেক অভ্যাগতর মধ্যে আমরা একটু আলাদা মর্যাদা পেলাম। সরকারি আমলা এসেছেন অনেকে। পরিচয় হল সবার সঙ্গে। তারমধ্যে কয়েকজন আমার পূর্ব পরিচিতও ছিলেন। জানলাম সরকারিভাবে আয়োজিত এই উদ্যোগে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ থাকে। কবির বাড়িঘরের সুন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া ওখানে বেশ কিছু বেতনভূক কর্মচারি আছেন, সারাবছর দেখভাল করার জন্যে। মেলা কমিটি সুন্দর একটি মুদ্রিত সুভেনির বার করেছে। তার ছাপা বাধাঁই বেশ ভাল। অনেক ভাল ভাল লেখাও আছে তাতে।

অনুষ্ঠান যা হবার হল। উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু একেবারেই গোলমাল নেই। সবাই বসে আছে আমাদের কথার কচকচানির পরে ওখানে অনুষ্ঠিতব্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্যে, যা শেষ হবে শ্রীপুর মাগুরার অন্তরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর যাত্রা পালা ‘স্বামী ভিক্ষা দাও’ দিয়ে। আমাদেরও আমন্ত্রণ ছিল দেখার। ইচ্ছে থাকলেও রাত জেগে পরদিন দেশে ফেরাটা একটু মুশকিল হবে বলে মন থেকে সেই ভাবনা দূর করলাম। অনুষ্ঠান শেষে আবার আপ্যায়ন। হাঁসের মাংসের সঙ্গে ছিটা পিঠে। এই অভিজ্ঞতা এই প্রথম । ব্যগভর্তি উপহার আর অনন্য এক আনন্দ সম্ভার মনের মধ্যে সঞ্চয় করে আমরা ফিরে চললাম। ফেরার পথে নানারকম কথা মনের মধ্যে উঁকি মারছিল। এই যে এত উৎসবের ঘটা, এতে কি সত্যি সত্যি মধুসূদনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হয়? বেশিরভাগ মানুষই তো বদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতে আসে মেলার ভিড়ে। খেলনা, বেলুন আর চিরচেনা কিছু খাদ্যসম্ভারের আয়োজনে মুখর বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে ক্রেতা আর বিক্রেতার এই মেলবন্ধন তো আমাদেরই এক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। হোক না তা মধুসুদনের ১৯৬ তম জন্মজয়ন্তী পালন। একটু একটু করেই তো জানবার আগ্রহ জেগে ওঠে মানুষের মনে। নইলে কেন ওই আলোচনা সভায় সবার কথা তো উপস্থিত সবাই মন দিয়ে শুনেছে। আড়াই ঘন্টা এমন চুপ করে বসে থাকে এমন বিশাল জনতা, এমনটা আমি আগে কখনো দেখি নি। গৌতম হালদরের অসামান্য অভিনয় সমৃদ্ধ মেঘনাদ বধ কাব্য যখন পর্দায় প্রতিফলিত হচ্ছিল সমবেত দর্শকদের তখনকার প্রতিক্রিয়া আমি ভুলব না কোনওদিন। মঞ্চ থেকে ওখানে মধুসূদনের নামাঙ্কিত এক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উঠল। শুলনাম এই দাবি নাকি বিগত কয়েক বছর ধরেই উত্থাপিত হয়ে আসছে। হয়ত একদিন শুনব শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও তৈরি হয়ে যাবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধুসূদন এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, যার দীপ্তি ও উত্তাপ আমরা সারাজীবন ধরেই অনুভব করে যাব। তাঁর কীর্তি চির অম্লান, চির ভাস্বর। তিনি আমাদের সাহিত্যের নিভু নিভু প্রদীপে তেল সিঞ্চন করেছেন, সলতে পাকিয়ে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করেছেন। আমরা সেই আলোয় পথ দেখি, সামনের দিকে এগিয়ে যাই। তিনি আমাদের প্রাণের প্রিয়তম সখা, আত্মার চিরশান্তি, তিনি চিরপ্রণম্য।
সাগরদাঁড়ির মধুমেলার স্মৃতি তাই আমার মনের মণিকোঠায় জ্বলজ্বল করবে সারাজীবন।