চেনাশোনার কোন বাইরে-২০ ॥ সুশীল সাহা


বৃত্তাবদ্ধ জীবন ও বৃত্তের বাইয়ের কিছু ছকভাঙ্গা প্রাপ্তি-২



প্রথম মুদ্রিত বইয়ের কথা ভোলা যায় না সহজে। বহু অপেক্ষার পরে আমার প্রথম বইটা বেরিয়েছিল ১৯৯৯ সালে অর্থাৎ প্রথম উদ্যোগ নেবার প্রায় তিরিশ বছর পরে। সেও এক ইতিহাস। বইয়ের নাম, ‘অনাথাশ্রমে কবিপ্রণাম’। সম্ভব হল শ্রদ্ধেয় হাসান আজিজুল হক সাহেবের সৌজন্যে। তিনিই ঢাকার ‘জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন’ সংস্থার কর্ণধার কমলকান্তি দাশের হাতে আমার পাণ্ডুলিপি পৌঁছে দিয়েছিলেন। প্রায় আদেশ করেছিলেন ওঁকে এই অজ্ঞাতকুলশীল লেখকের কবিতার বইটা প্রকাশের জন্যে। কমল সেই আদেশ পালনে কোনও কার্পণ্য করেন নি।

যথাসময়ে আমার প্রথম বই বেরোয়। সেটা ১৯৯৯ সালের বইমেলা। ভাবলে অবাক লাগে প্রথম উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে এসে দ্বিতীয় উদ্যোগকে সফল করতে লেগে গেল প্রায় তিরিশ বছর। সুন্দর একটি প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছিলেন সুখেন দাস। এঁর আঁকা ছবি কিন্তু আমি আর দেখি নি। হাসানভাই আমার অনুরোধে একটি ভূমিকাও লিখে দিয়েছিলেন। আজ মনে হয় তাঁকে এই অনুরোধটা না করলেই ভাল হত। প্রথম মুদ্রিত বই হাতে পাবার আনন্দই আলাদা। বছর চারেকের মাথায় আমার দ্বিতীয় কবিতার বই বেরিয়েছিল ওই জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন থেকেই ২০০৩ সালে। একটা ঘোরের মধ্যে ওই কবিতাগুলো লিখেছিলাম। আজ এতদিন পরে ওই বইদুটো নিয়ে আমার আর কোনও মাথাব্যথা নেই। খানিকটা লজ্জা ও সংকোচ আছে। কিন্তু ওই বইদুটোর স্বত্ব তো অস্বীকার করতে পারব না। কিন্তু ভেবে অবাক হই, পরিণত বয়সেও অমন ছেলেমানুষী কাজ কেন করতে গিয়েছিলাম। ভেবে সত্যিই কষ্ট পাই। পরে কবিতা লিখেছি অনেক। কিন্তু বই বের করার কথা আর ভাবি নি। এখন আমার কাজের ক্ষেত্র একেবারেই আলাদা। কবিতাকে ছুটি দিই নি, কিন্তু ছাপার অক্ষরে দেখার আগ্রহবোধ করি না। আর কবিতার বই প্রকাশ তো এখন স্বপ্নেরও অতীত।

পরবর্তীকালে আমার অন্য ধরনের কিছু বই বেরোয়। সেগুলো সবই করেছি প্রকাশকের অনুরোধে। সেগুলো উৎসর্গ করেছি আমার প্রিয় মানুষদের। তবে সবাই যেমন বাবা মাকে নিজেদের বই উৎসর্গ করে, আমি তেমনটা করে উঠতে পারি নি আজও। ওঁদের উৎসর্গ করার মতো বই আজও হয়ত নির্মাণ করে উঠতে পারি নি। বইগুলো নানাজনকে উৎসর্গ করেছি। পরম সৌভাগ্যের কথা আমাকেও অশেষ করুণা আর অপার ভালবাসায় অনেকে তাঁদের বই উৎসর্গ করেছেন।
‘অনুষ্টুপ’ থেকে হাসান আজিজুল হকের শ্রেষ্ঠগল্প বেরোয় ১৯৯৫ সালে। গল্প বাছাই, সাজানো এবং লেখকের অনুমতি নেয়া, সবই করলাম, বই বেরোলে দেখা গেল সম্পাদক হিসেবে নাম ছাপা হয়েছে অনিল আচার্যর। মেনে নিয়েছিলাম মুখ বুজেই। তবে বইটি হাসানভাই আমাকে উৎসর্গ করেন। এই প্রথম কেউ একজন, তাও আবার হাসানভাইয়ের মতো মানুষ আমাকে ওটা দিয়েছেন, এই প্রাপ্তিই ছিল পরমানন্দের। তবে চৌদ্দ বছর বাদে যখন ওই বইয়ের পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ ওঁরা প্রকাশ করে তখন আমার নামটা যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দিয়েছিল। অবশ্য গল্পগুলো বাছাই করা ছাড়া দীর্ঘ একটি ভূমিকাও লিখেছিলাম। তখন আর আমি ওঁদের সঙ্গে নেই, ২০০৬ সাল থেকেই বিচ্ছেদ।

১৯৯৭ সালে ‘অনুষ্টুপ’ থেকেই বেরোয় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পের বই ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’। ওঁর একেবারে শেষ দিককার পাঁচটি গল্প নিয়ে একটি সংকলন। এই বইয়ের ব্যাপারে ইলিয়াসভাইয়ের সঙ্গে আমিই প্রথম কথা বলি। গল্পগুলো তিনিই বাছাই করে দেন। যথাসময়ে বইটা বেরোয়। সব্যসাচী দেব ভূমিকা লেখেন। বইতে ছাপার অক্ষরে আমার কাজের কোনও স্বীকৃতি ছিল না। এই বই নিয়ে পরে লেখকের সঙ্গে প্রকাশকের অনেক মনোমালিন্যের কথাও কানে আসে। চিকিৎসার জন্যে ইলিয়াসভাই তখন কলকাতায়। প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। অথচ প্রকাশকের তরফ থেকে সেদিন কোনও ঔদার্য দেখানো হয় নি। তাতে অবশ্য ওঁর চিকিৎসাপর্ব থেমে থাকে নি। আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্তি এই সমস্যার অনেকটাই
সমাধান করে দেয়। যদিও পুরস্কার গ্রহণ করা নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করেছিল ওঁর মনে। শারীরিক কারণে তিনি অবশ্য অনুষ্ঠানে যান নি। সুরাইয়াভাবী গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন। ডাক্তার স্থবির দাশগুপ্ত ওঁর চিকিৎসা করেছিলেন। তাঁর অসীম চেষ্টা বিফল করে দিয়ে ইলিয়াসভাই আমাদের ছেড়ে চলে যান। তাঁর একটি পা এই দেশে রেখে গিয়েছিলেন। এটা হয়ত এক ধরনের প্রতীকি সমাপতন।
২০০০ সালে সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে প্রকাশ করেছিলাম ‘উজান’ নামে একটি পুস্তিকা। ওই নামে হাসান আজিজুল হকের গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে করেছিলাম এই নির্মাণ। হাসান অনুরাগী এই বঙ্গের কিছু মানুষের গদ্য পদ্যের এই সংকলন সেই সময় অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। শঙ্খ ঘোষ, মহাশ্বেতা দেবী, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, মনোজ মিত্র প্রমুখেরা সানন্দে লেখা দিয়েছিলেন। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় একটি নেতিবাচক লেখা দিয়েছিলেন, সেটি ইচ্ছে করেই ছাপি নি। এই ‘উজান’ স্মারক পুস্তিকা নিয়ে এই ধারাবাহিকেই আলাদাভাবে বিস্তৃত লিখেছি।

আমার প্রথম বই উৎসর্গ করেছিলাম ‘রাকা’, আমাদের একমাত্র সন্তানকে। উৎসর্গপত্রে লিখেছিলাম, ‘আমার যে সব দিতে হবে সে তো আমি জানি’। কী ভেবে এই কথাক’টি লিখি তা আর এখন মনে নেই। দ্বিতীয় বই বেরোয় ২০০৩ সালে। নাম দিয়েছিলাম ‘চলে যেতে যেতে’। এটাও কবিতার বই। উৎসর্গ করি অরুণিমাকে এই ক’টি কথা লিখে– ‘তুমি জানো না, আমি তোমারে পেয়েছি অজানা সাধনে’। এই বইও বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। এর মালিকানা আমি অস্বীকার করতে চাই।

২০০৬ সালে একটি অভিনব বই প্রকাশ করি ‘শুক্লা ত্রয়োদশী’ নামে। যদিও এই বইয়ের নেপথ্যে আমিই ছিলাম প্রথম থেকে। কারণটা খুবই সঙ্গত। বইটি করেছিলাম কন্যা রাকাকে সামনে রেখে। আগের বছর রাকা তেরো পূর্ণ করেছে। নারী হয়ে ওঠার সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে তোলার এটা ছিল এক অভিনব উদ্যোগ। রাকা নামটি ছিল প্রতীকি। ওই বয়সের মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের ব্যথা বেদনা আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনা সুখানুভূতির এ এক অভিনব প্রয়াস। দুই বাংলা আসাম ও ত্রিপুরার ১০৪ জনের কবিতায় সমৃদ্ধ এমন কবিতা সংকলন এর আগে প্রকাশিত হয় নি। আগামী দিনে কেউ বার করবে কিনা জানি না। নামকরণ করেছিলেন রাজশাহীর সনৎকুমার সাহা। প্রচ্ছদশিল্পী যুধাজিৎ সেনগুপ্ত। লিখেছিলেন শঙ্খ ঘোষ, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, শামসুর রাহমান, আলোক সরকার, অমিতাভ দাশগুপ্ত, কবীর সুমন প্রমুখ। সম্পাদনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছিল কবি মোহাম্মদ কামাল। আর প্রকাশক ছিলেন আমাদের বহুদিনের বন্ধু নিশাত জাহান রানা। এই বই কিন্তু ওই সময়ে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

২০০৬ সালেই নির্মাণ করেছিলাম ‘আরণ্যক দীপাবলি’। আমার শিক্ষাগুরু মুহম্মদ কায়কোবাদ ও তাঁর স্ত্রী মুক্তি মজুমদার এই দু’জনের প্রতি অনেকের শ্রদ্ধার্ঘ্যের এ এক অনুপম সংকলন। উপলক্ষ ওঁদের গৃহাঙ্গন ‘আরণ্যক’-এর দশম বর্ষপূর্তি। এই গ্রন্থপ্রকাশে অনেকেই আমাকে সাহায্য করেছিলেন। যথাসময়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থপ্রকাশ আমার জীবনের এক অন্যতম সুকৃতি বলে আমি মনে করি। এই গ্রন্থেরই সুবাদে আমার মধ্যে ওঁদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে সেই ছবিটি কিছুদিনের মধ্যে করেও ফেলি। নাম দিয়েছিলাম ‘একটি গৃহের কথা’। সূচনা সংগীত গেয়েছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ধারাভাষ্য রচনা ও কণ্ঠ দিয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক। অনেক কষ্টে ক্যামেরার সামনে দিদি ও স্যারকে আনতে পেরেছিলাম। দিদি আর নেই আমাদের মধ্যে। স্যারও চলে গেছেন। বিপুল ব্যয়ভারের এই কাজেও সাফল্য এসেছিল ঠিকই, কিন্তু বেশি মানুষকে দেখাতে পারি নি। আমি জানি এই ছবির কদর একদিন হবেই। এই জীবনে এমন বহু উদ্যোগ নিয়েছি আমি। অসফল যেমন হয়েছি, তেমনি সাফল্যও কম আসে নি। তবে সবার ওপরে ছিল আনন্দ, নির্ভেজাল আনন্দ। আজ পিছন ফিরে দেখতে গিয়ে মনে সব যেন অলীক। কিন্তু জানি অলীক হলেও এ ছিল একসময়কার কঠিন বাস্তব।

ইতমধ্যে নির্বাহী সম্পাদকের গুরুভার আমার স্কন্ধে ন্যস্ত হয়ে ‘রিভিউ প্রিভিউ’ নিয়মিত বেরোতে শুরু করেছে। দ্বিমাসিক কাগজ, তবু পরিকল্পনামাফিক লেখা সংগ্রহ করা আর সাক্ষাৎকার নিতে নিতেই সময় ফুরিয়ে যায়। মনে আছে এই পত্রিকার জন্যে প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়ের। খুব অল্প সময়ের নোটিসে কাজটা করতে পেরেছিলাম। নাচ আর ওই শিল্পী সম্পর্কে আমার সামান্য কিছু পূর্ব ধারণা ছিল। কাজটা করে যথেষ্ট তৃপ্তি পেয়েছিলাম। পত্রিকা প্রকাশ করতে করতে এসে গেল মারুফের প্রতিষ্ঠান ‘অভিযান’ থেকে আমার প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের সম্ভাবনার ব্যাপারটা আমার কাছে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব মাখা এক সুখ দুঃখের ইতিহাস। এ একটু বিস্তারিত করে না লিখলেই নয়। জীবনে অনেক প্রাপ্তির পিছনেই হয়ত লেগে থাকে এমন কিছু হাসিকান্না হীরাপান্নার বেদনামাখানো দ্যুতি।

মালদার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিনারে যাবার সুযোগ ঘটেছিল বন্ধু অধ্যাপক বিকাশ রায়ের সৌজন্যে। সম্প্রতি বিকাশের আকস্মিক প্রয়াণ সংবাদে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এত অল্প বয়সে এই মৃত্যুকে মেনে নেওয়া কঠিন। ওঁদের দু’দিনের আয়োজনে তানভীর মোকাম্মেলের ‘চিত্রা নদীর পারে’ দেখানো হয়। ছবি দেখানোর আগে বাংলাদেশের ছবি নিয়ে আমার কিছু বলার কথা। প্রচুর পড়াশুনো করে একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ লিখি। ওটা ওখানে পড়ে যথেষ্ট সাড়া পেয়ে উদ্দীপ্ত হই। একসময় মঞ্চে দাপিয়ে বেড়ালেও সেমিনারে কিছু বলাতে আমার চিরকালই অনীহা। মানুষজন কি শুনতে চান, বুঝতে পারি না। তাছাড়া বক্তার বাচনভঙ্গি তেমন ভাল না হলে শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় না। অধিকাংশ সেমিনারেই দেখেছি ব্যাপারটা খুব একটা জমে ওঠে না। যা হোক সেদিন মনে হয় পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম। তবে আশ্চর্য হলাম যখন জানতে পারলাম মালদার ওই প্রবন্ধ পড়ার কথা কলকাতায় পৌঁছে গেছে।

আমাকে অবাক করে দিয়ে প্রকাশক গুণেন শীল (পত্রলেখা) আমাকে প্রস্তাব দিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে একটা বই করার। প্রস্তাবটা আমার পক্ষে লোভনীয় ছিল নিঃসন্দেহে। কিন্তু যাঁর কাছ থেকে প্রস্তাবটা এসেছিল তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণা খুব একটা স্বচ্ছ ছিল না। তবু কাজটা করতে চাইলাম। গুণেনবাবুর কাছে দুশো টাকা চেয়ে নিলাম বিভিন্ন পত্র পত্রিকা আর বই থেকে নানাজনের লেখার ফটোকপি করব বলে। তিনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই টাকাটা দিয়েছিলেন। কাজটা শুরু করে দিলাম মহানন্দে। একদিন কথাচ্ছ্বলে ব্যাপারটা মারুফ জানল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ও আমাকে বলল কাজটা অভিযানের ব্যানারে করার জন্যে। মহাসংকটে পড়লাম আমি। গুণেন শীলের সঙ্গে অলিখিত এক চুক্তিভঙ্গের ব্যাপার ঘটবে। অথচ মারুফ নাছোড়। মনে মনে ভাবলাম, কাজটাই তো আসল। মারুফের ওখানে করলে অনেক স্বাধীনতা পাব। গুণেনবাবুকে প্রথম থেকেই তেমন পছন্দ করি নি বলে সিদ্ধান্ত বদলাতে খুব একটা দ্বিধা হয় নি আমার। তবু বলব জীবনে অনেক মিথ্যাচারের সঙ্গে এই ঘটনাটা জড়িয়ে থাকবেই। যথাসময়ে একটি চিঠি লিখে গুণেনবাবুকে তাঁর দেওয়া দু’শো টাকা ফেরৎ পাঠাই। এই ঘটনার জেরে বলাবাহূল্য গুণেনবাবুর সঙ্গে আমার নড়বড়ে সম্পর্কটা একেবারেই ভেঙ্গে যায়। কী আর করা।

সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে গেলে তো আমাকেই পথে বসতে হবে। অনেককিছুই যে টিকটিকির লেজের মতো আপনিই খসে পড়ে। আজ আর তাই কোনওকিছুই ধরে রাখার চেষ্টা করি না। যারা থাকার এমনই থাকে, অন্যেরা ঠিকই চলে যায়।