চেনাশোনার কোন বাইরে-৩০ ॥ সুশীল সাহা



কথাসাহিত্যের অঙ্গনে একজন নিঃসঙ্গ পথিক



সেই কবে নব্বই দশকের একেবারে গোড়ার দিকে সুরঞ্জন প্রামাণিকের ‘অনুপ্রবেশ’ শিরোনামের একটি গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম ‘অনুষ্টুপ’ পত্রিকার দপ্তরে। আমি তখন ওই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। সেই সময় ডাকে আসা বা দপ্তরে জমা দিয়ে যাওয়া অনামি লেখকদের রাশি রাশি গল্প পড়ে আমাকে মতামত দিতে হত। সম্পাদকীয় সহযোগী হিসেবে ওটা ছিল আমার অনেক কাজের মধ্যে একটি। সেই সময়ে আমার বিচারে সুরঞ্জনের ওই গল্পটি নির্বাচিত হলেও ওটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্টুপে ছাপা হয়নি। অবশ্য গল্পটি পড়ার আগে থেকেই সুরঞ্জনকে আমি চিনতাম। খুব সাদাসিধে সহজ সরল একটা মানুষ হিসেবে তাঁকে আমার খুব ভাল লাগত। নিজের হাতে মাঠের কাজ করতে অভ্যস্ত এই মানুষটা কতখানি মাটির কাছাকাছি বাস করেন, তখন থেকেই ভাল করে জানতাম। বছর দুই বাদে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নীলরতন’ আমার হাতে আসে। পরিচিত হই ‘অন্যধারা’ প্রকাশন সংস্থার স্বত্বাধিকারী কুশল নাগের সঙ্গে, বলাবাহুল্য সুরঞ্জনেরই সৌজন্যে। ‘অন্যধারা’র ‘হন্যমান’ উপন্যাসের জন্যে জয়া মিত্রের আনন্দ পুরস্কার পাওয়া – এ সবই বলতে হয় শঙ্খ ঘোষের ভাষায় ‘এখন সব অলীক’। কিন্তু সেসব তো একেবারেই অন্য প্রসঙ্গ। তবে সেই সময় সুরঞ্জনের ওই বইটার একটা সমালোচনা যে আমি লিখেছিলাম, সে কথা এক্ষণে উল্লেখ করা সম্ভবত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বাংলা গল্পে একটা নতুন পদধ্বনি যে শুনতে পাচ্ছিলাম সে কথা আমার লেখায় জানাতে একেবারেই কসুর করিনি। বছর পঁচিশেক আগে ওই বই সম্পর্কে আমার সেই অপটু হাতের দু’চারটি কথা বলার অহঙ্কার আমি আজ ছাড়তে নারাজ।

দেখাসাক্ষাৎ অনিয়মিত হলেও সুরঞ্জনের লেখালিখির খবর নিয়মিতই রাখতাম। ভাল লাগত জেনে যে, সুরঞ্জন ঘর সংসার চাকরির দায় মিটিয়ে সারাক্ষণ নিমগ্ন থাকে লেখালিখিতে। তাঁর একটার পর একটা গ্রন্থপ্রকাশের খবর শুধু পাই না, সুরঞ্জন পরম আদরে তার অনেকগুলোই আমাকে উপহার দেয়। বিনামূল্যের দানকে আমি কখনওই হেলাফেলা করি না। সুযোগ পেলেই পড়ি। তাই সাহিত্যের অঙ্গনে সুরঞ্জনের একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়ায় গর্ব অনুভব করি। ভাল লাগে আমার প্রত্যাশাকে ও দিন দিন শুধু সত্যি করে তুলেছিল বলেই নয়, ভাল লাগে একেবারে প্রচারবিমুখ এই মানুষটারও পায়ের তলার মাটি কতখানি শক্ত এই ভেবে। আমার এই ভাবনাচিন্তাকে সে একেবারে পাকাপোক্ত করে দেয় জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে এপিক উপন্যাস ‘সোনালি ডানার চিল’-এ। বলতে দ্বিধা নেই এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে জীবনীনির্ভর কথাসাহিত্যে একটি অন্যতম সেরা সংযোজন।

‘সোনালি ডানার চিল’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৯ সালে অর্থাৎ বছর বারো আগে। তাঁর লেখক জীবনের পরিণত বয়সেই বলা যায়। এই অসামান্য উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনায় আসার আগে তাঁর লেখালিখির শুরুটা কেমন ছিল সেটা নিয়েই একটু চর্চা করা যাক। সে কথা জানতে চেয়েছিলাম তাঁর কাছে। আমার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “ তখন আমার ১৫/১৬ বছর বয়স। মায়ের সঙ্গে আমাদের চাঁদপাড়ার শ্রীদুর্গা হলে মা ও ছেলে ‘বই’ দেখতে যাই। সিনেমাটা দেখার পর, ওই নামেই একটা গল্প লিখি। আমাদের স্কুলের দেওয়াল পত্রিকায় সেটা প্রকাশিত হয়। তারপর আর কোনও গল্প লিখিনি । বই পড়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ‘বই’ অর্থাৎ সিনেমা দেখতাম খুব। আর কবে একদিন আমার নিজেরই ‘বই’ লেখা শুরু হল। মানে বড় লেখা। তখন আমি গোবরডাঙ্গা কলেজে ‘পি ইউ’- তে পড়ি… আমাদের চাঁদপাড়া স্টেশনে একটা দেওয়াল পত্রিকা শেডের নিচে ঝুলত। একটা ক্লাবের তরফ থেকে প্রকাশ করা হত। আমার লেখা এখানে প্রকাশ হতে পারে ভেবে আমি ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাকে বলা হয় ছোট করে লিখতে। যাই হোক বই লেখা বন্ধ হয়ে গেল। সম্ভবত সেটা ১৯৭৬ সাল। তবে মছলন্দপুর থেকে প্রকাশিত ‘ক্যানিয়ন’ পত্রিকায় আমার প্রথম ছোট গল্প, ‘দর্পণে প্রতিবিম্বিত মুখ’ মুদ্রিত হয়।”
সুরঞ্জনের লেখালিখির জনমুখীনতা নিয়ে স্বভাবতই কিছু প্রশ্ন জাগে মনে। তাঁর লেখার মধ্যে দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সর্বোপরি সাধারণ মানুষ সম্পর্কে তাঁর যে ঝোঁক ও আগ্রহ লক্ষ করা যায় তা নিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, “ এক ক্ষুধার্ত সময়ে অপুষ্ট হয়ে আমার বেড়ে ওঠা। কীভাবে যেন সি পি আই (এম)-এর মিছিলে হাঁটা শুরু করেছিলাম, সেও আমার ওই ১৫/১৬ বছর বয়সে। ক্রমে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নটা মাথার মধ্যে ডালাপালা ছড়ায়। যৎসামান্য রাজনৈতিক সাহিত্য পড়ার সুযোগ ঘটে ওই সময়ে । ১৯৭৭-এ বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কতকগুলি ঘটনার প্রেক্ষিতে, তার মধ্যে ডক শ্রমিকদের উপর গুলি চালনা ও মরিচঝাঁপির ঘটনার কথা আজও মনে পড়ে, এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়। তার মধ্যে ‘অপারেশন বর্গা—যার জমি বর্গা হওয়ার কথা নয়, তা বর্গা হয়ে যাওয়ায় এক ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমিও সামিল হই। ‘দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ নামে একটি আঞ্চলিক গণসংগঠন গড়ে ওঠে। এই সময় নকশাল আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারি। এবং ওই সময়ে সি পি আই (এম এল)-এর শুদ্ধিকরণ চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলের গণসংগঠন মিলে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয় গণফ্রট। এই পর্বে আমার গল্পে নাকি পারটিজান দোষ দেখা যায়, আবার অন্তর্মুখী স্বভাব সংগঠক হওয়ার ক্ষেত্রে একেবারেই অচল। আমার এক কবিবন্ধু, অগ্রজপ্রতিম ‘শিস’ পত্রিকার সম্পাদক স্বপন চক্রবর্তীর পরামর্শে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসি। কিন্তু ততদিনে আমার রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করে দিয়েছে সমাজ। এটা বুঝেছি— সাহিত্য রাজনীতির বাইরে নয়, ‘রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ-এর অন্যতম মাধ্যম সাহিত্য। এই প্রেক্ষিতে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং আমার রাজনীতি-ধারণা ক্রমে ‘মানবিক’ (humane) বিশেষণ গ্রহণ করেছে, তারই ফসল ‘মানবিক রাজনীতির ধারণা’ ও ‘মানবিক সমাজের দিকে’ গ্রন্থদুটি।”

এই মাটির কাছাকাছি বাস করেন যে মানুষটা, তাঁর বলিষ্ঠ কলম দিয়ে একটার পর একটা গল্প লেখা হতে থাকে, লিখতে থাকেন প্রবন্ধ এবং ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে আবহমান’ শীর্ষক একটি দুঃসাহসিক উপন্যাস। হিন্দু মুসলমানের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দীর্ঘ সময়ের গবেষণালব্ধ এই উপন্যাসটি সেইভাবে জনাদৃত না হলেও সুরঞ্জন থেমে যান নি। লোক পরম্পরায় তাঁর নতুন উপন্যাসের বিষয় ‘জীবনানন্দ দাশ’ শুনে একটু অবাকই হয়ে যাই। এ নিয়ে প্রচুর সংশয় ও দ্বিধা শুরু হয় আমাদের মধ্যে। সমাজের কাছে, মানুষের কাছে দায়বদ্ধ কথাসাহিত্যিক একজন কবিকে নিয়ে লিখবেন। যে কবিকে নিয়ে তখন পর্যন্ত সেই অর্থে তেমন মর্যাদা দেননি তথাকথিত বামপন্থীরা। আমার একরাশ কৌতূহলভরা প্রশ্নের জবাবে তিনি লিখিতভাবে জানালেন, “প্রেম আর বিপ্লব— মানুষের জীবনের এই দুই আকাঙ্ক্ষা সমাজ ও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়— এরকম এক ধারণা আমার মধ্যে জন্মেছিল, আমিও তাকে লালন করেছি—এও জেনেছি, খুব কম মানুষের জীবনে আকাঙ্ক্ষাদুটি সফল হয়। হয়তো সে কারণে বেঁচে থাকায় এক ধরনের অবসাদ অনুভব করেছি। তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমি আপাত অসফল বিপ্লবী আজিজুল হক ও ‘অচরিতার্থ প্রেমের কবি’ জীবনানন্দ দাশের লেখাপত্রের মধ্যে ঢুকে পড়ি। তারপর একটা জীবনী-উপন্যাস লেখার কথা ভাবনায় আসে। আমার এক বন্ধু, তুলনামূলক সাহিত্যের ছাত্র, তাঁর পরামর্শে আমি জীবনানন্দ দাশের জীবনী পড়া শুরু করি। তারপর প্রায় সাত বছর পর ‘সোনালি ডানার চিল’ লেখা হয়। জীবনানন্দ দাশ তাঁর নিজের ভাষায় এক ‘শান্ত বিপ্লবী’ সাম্রাজ্যবাদী আধুনিকতার বিরুদ্ধে তিনি এক মূর্ত প্রতিবাদ, তাঁর কাছে ‘প্রেম মানে আলো, মানুষের তরে এক মানুষীর গভীর হৃদয়’ — তার চেয়েও বড় কথা তিনি ‘বিষাদের ব্যবহার শিখিয়েছেন… আত্মহত্যা-হত্যা প্রবণ পৃথিবীর বিরুদ্ধে তিনি এক ‘আইকন’— ‘ মহাপৃথিবী’র স্বপ্ন দেখা মানুষ। সচেতনভাবে এটুকু বলা যেতে পারে, এই মানুষটিকে নিয়েই আমি লিখতে চেয়েছি।”

‘সোনালি ডানার চিল’ পড়ার পর সুরঞ্জন সম্পর্কে আমার ধারণা একেবারেই পালটে যায়। তথাকথিত আগুনখেকো বিপ্লবীর যাপন নয় সুরঞ্জনের জীবন, এই ধারণা আমার আরো পোক্ত হয়। তিনি কলম ধরেছেন সাধারণ মানুষের জন্যে। জীবনযুদ্ধে পরাজিত মানুষের কথা বলতে চেয়েছিলেন জীবনানন্দ নিজেই। তাই তাঁর লেখায় অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে, সংশয় থেকে আস্থায় উত্তরণের কথা আছে। জীবনযুদ্ধে আপাত পরাজিত একজন মানুষ জীবনের কথা, আশার কথা বলতে চান। সুরঞ্জন সেই বিশ্বাসে ভর করে অমন একটি বিশালাকায় উপন্যাস লিখতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমার এই সদর্থক প্রতিক্রিয়া ওঁকে যথাসময়ে জানাতে ভুলিনি। ভাল লাগে অচিরেই এই উপন্যাসের দ্বিতীয় সংস্করণ বার হয়ে যায়, বড় কাগজের জয়ধ্বনি কিংবা পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন ছাড়াই। বাঙালি পাঠক এইভাবেই হয়ত নীরবেই তাঁর জবাব ছুঁড়ে দেন মহাকালের কাছে।

‘সোনালি ডানার চিল’ উপন্যাসের পর পরই সুরঞ্জন নিমগ্ন হয়ে পড়েন চা শ্রমিকদের জীবন নিয়ে কিছু একটা লেখার মধ্যে। ততদিনে (২০১৫) তিনি তাঁর সরকারি চাকরির দায় থেকে মুক্ত হয়ে গেছেন। উপাত্ত সংগ্রহ করতে ছুটে ছুটে গেছেন উত্তরবঙ্গের চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায়। দেখতে চেয়েছেন ওখানকার জনজাতির মানবেতর জীবন। চা –শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য নারী পুরুষের যাপনবৃত্তান্ত নিজের চোখে দেখে এসে লিখেছন অন্য আরেকটি উপন্যাস। কয়েক বছর আগে প্রকাশিত সেই উপন্যাস এখনও যথার্থ মূল্যায়নের অপেক্ষায়।

প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে লেখলিখির জগতে থাকলেও তাঁর সেইভাবে লেখালিখির সময়কাল বছর তিরিশের কিছু বেশি। গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস ও প্রবন্ধ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর পনেরটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। পুরস্কার পেয়েছেন বেশ কয়েকটি। সরকারি পুরস্কার গ্রহণ করা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া তিনি ব্যক্ত করেন এইভাবে, “ আমি ঘোষিতভাবে লিটল ম্যাগাজিনের লেখক-কর্মী। লিটল ম্যাগাজিন— এক আন্দোলন। এই আন্দোলনের সূত্রে আমার লেখা ও জীবনাচরণে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ছাপ পড়েছে। কিন্তু চাকরি-ক্ষেত্রে আমার অসুবিধা হয়নি। আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থেকেছি। বরং অফিসের সহযোগিতা পেয়েছি। ‘সোনালি ডানার চিল-এর জন্য কয়েকটি লিটিল ম্যাগাজিন আমাকে পুরস্কৃত করেছে ও কেবলমাত্র ছোট গল্পের জন্য ‘সত্যপ্রিয় ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছি। এবং বাংলা ‘কথাসাহিত্যে সামগ্রিক কৃতি’র জন্য পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, সরকারি পুরস্কার নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি কি দ্বিচারিতা করলাম কিনা? না, আমি আমার লেখার অভিমুখ বদল করেছি বলে পুরস্কার পেয়েছি, এমন তো নয়। পুরস্কার দেওয়ার মধ্যে রাজনীতি আছে, উদ্দেশ্য শাসকের পক্ষে ‘বুদ্ধিজীবী’ তৈরি করা তবু আমার মনে হয়নি, শাসক আমাকে চাইছে। মনে না হওয়ার কারণ আমার‘মানবিক রাজনীতির ধারণা’— রাষ্ট্রকে যখনি ‘নেগেটিভ’ দেখার রাজনৈতিক চর্চার কথা মনে পড়েছে তখনি ‘বিজ্ঞান’কে মনে রেখেছি, ‘পজিটিভ’-এর অস্তিত্ব অনুভব করেছি।”
যে সুরঞ্জন একসময় ‘অনুপ্রবেশ’ গল্প দিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সেই মানুষটা এখন অনেক পরিণত। তাঁর ত্রিশ- বত্রিশ বছর আগে লেখা গল্প আজও সমানভাবে প্রসঙ্গিক। আজ যখন সারা দেশ জুড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এন আর সি’র ভূত যখন তার কালোছায়া বিস্তার করছে তখন জীবন ও জীবিকার তারণায় দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া মানুষদের হয়ে এক মানবিক বার্তা আমাদের কাছে পৌঁছে দেয় এই গল্প । লেখকের দূরদৃষ্টি আমাদেরকে কেবল মুগ্ধই করে না, করে তোলে অপার শ্রদ্ধাশীল।
এমন মানুষকে কুর্নিশ না করে উপায় কি। যাত্রাপথের আনন্দগানে ভরপুর সুরঞ্জনের লেখকজীবন। এইভাবে তিনি আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবেন, এই শুভকামনা জানাই আমার প্রিয় লেখককে, প্রিয় মানুষটিকে।