চোখ ও অন্যান্য ॥ শুক্লা গাঙ্গুলি


চোখ

নারকোল গাছের ফাঁকে মস্ত বড় চাঁদ
আকশী বিঁধে হোঁচট খায়-
একজোড়া চোখ তাড়িয়ে ফেরে সারাটা
জীবন- এপার থেকে ওপার না দেখা বিলে
বঙ্কিম গ্রীবায় সাদা হাঁস- অথবা গাঙঢুপীর ঝুপ করে জলে নামায়-

ছোট্ট ঢেউ দোলায়িত বড় ঢেউয়ের ছোঁয়ায়
হাওয়ার আলিঙ্গনে প্রেম ভাসে হৃদয় জুড়ে।
যন্ত্রণা কিংবা আনন্দে দেখি-
চোখ দুটি সাথেই
একেবারে বুকের মাঝে-

সঙ্গোপনে
লুকিয়ে-প্রানপণে…


আড়কাঠি

আমি এখন আকণ্ঠ নিমজ্জিত প্রেমে
কথা বলো না এ ঘোর ভাঙ্গার নয়-
অনুভবে হৃদয়ের খেলায়-
অথৈ জলে পাড় না ভেবে-
কুল না দেখে শুধুই ঢেউ বিলাসে-

জাগতিক সুখ-দুঃখ বিসর্জনে- খেদহীন
এক তমশুক যেন কেঁদে কাঁদাই
বেজে বাজাই। প্রগলভ হই- চুপ করে থাকি-

আমি এখন সত্যি নিমজ্জিত প্রেমে-
ডুবে ভেসে
ধরা-অধরায়
পূর্ণে- অপূর্ণে-
শেষ বা অশেষে…


উল্লেখিত

কখনোবা রাত জাগা তিতির হই
কি জানি কি প্রত্যাশায়… আড়মোড়া
ভেঙ্গে নামে সূর্য
মন জুড়ে পরে থাকে- অন্ধকার

সেবার বোলপুরের মেলায় কে একজন
গান শোনালো বেতারের শিল্পী- খুব নাম
ডাক। আমি স্বরবর্ণের গানটি গুনগুন করি
-বাতাসে ছড়ায় ভালো লাগা

দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছাতাটি হাতের মুঠোয়-
বেলীরোডের ব্যস্ততায় পথচারী, রিকসা
কে যে কখন হাতে রাখে বইখানি-

কবিতার লুকোচুরিতে দেখি-
‘পাগলি তোমার সঙ্গে’- আজন্মকাল
মন কেমন করায় কিম্বা আনন্দে-

আমায় মানে আমায় বলছে কি?