জলমোহনার গান ও অন্যান্য ॥ ফারহানা ইলিয়াস তুলি


জলমোহনার গান

আমাদের প্রতিদিন কাটে স্বর ও শক্তির ভেতর। আমাদের আয়ু
কমে নাকি বাড়ে, তা নিয়ে বিতর্ক না করেই বলা যায়-
ভোর হচ্ছে, সন্ধ্যা পাড়ি দিচ্ছে সমুদ্র- ফিরে আসবে বলে।

আমাদের স্বপ্নগুলো জাগে বন্দি আর সন্ধি’র ভেতর। যে বৃক্ষ
বীক্ষণের সূত্র শিখে মানুষের কল্যাণ সাধন করেছিল,
আমরা তাকেই কেটেকুটে উপড়াই শিকড়, জ্বালাই চুল্লিতে।

আমরা জলের গান গাইতে গাইতে যে মোহনা পাড়ি
দেবার কথা ছিল, তার কথা ভুলে যাই। ভুলে যাই
অনেক কিছুই, আমাদের ঠিকানা, ঠিকুজি-
আমরা ভুলে যাই; আমাদের মানুষ হয়ে ফিরে আসা
আর না’ও হতে পারে ভুবনপাঠের বাঁকে বাঁকে ।


পৃথিবীর কাছে পত্রশিশির

জোনাকীদেরও একটি গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে আরও
মানুষ যারা বসবাস করত; তারা পায়ে পায়ে বিতরণ
করত শিশির। কিংবা বলা যায়, ঘন পৌষের রাতে যে
মনবাষ্পের ছায়া, চিঠি লিখে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে-
সেই চিঠি পাঠ করত পরবর্তী মাঘের ভোর, ভালোবেসে।

আমি তোমার লেখা প্রেমপদ্যগুলো পড়তে পড়তে
ডুবে যেতাম ইস্ট-রিভারের মোহনায়। তখনও যে নদীটি
আমার দেখা হয়নি -সেই হাডসন নদীর তীরের দিকেই
উড়িয়ে দিতাম আমার হাতে লেখা চিঠি।

চিঠিগুলো চিরদিন দলিল হয়েই থাকে। মানুষ তার
স্বপ্ন গুলোকে বাঁচিয়ে রাখে সেই অক্ষরের স্রোতে।
চিঠির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
মানুষই রচনা করে যুগল চন্দ্রসন্ধ্যা।


বরাদ্দের মোহমাত্রা

আমার জন্যে বরাদ্দ করো কয়েকটি পাতার ভ্রমণ
যারা উড়ে যাবে এবং বদলাবে রঙ, তারপর
ঝরে পড়বে এই মাটিতে-
যেখানে আমি একদিন ছুঁয়েছিলাম মমি, অথবা
অনেক বিশ্বাসে গড়তে চেয়েছিলাম তৃতীয় বসতি।

আমার জন্যে সংগ্রহ করে রাখো, কয়েকটি বিকেল
যে ক্ষণটুকু কেবল আমারই হবে-
শুধুই আমারই,
যেখানে ভাগ বসাবে না কোনো পাখি, কোনো পতঙ্গ।
শুধু এই ঝরে পড়া লাল-হলুদ পাতাগুলো
আমার দিকে তাকিয়ে লিখবে পত্র। আমি পড়বো
কেবল পড়েই যাবো- কোনো উত্তর দেবো না।

আমার আঁচলে এঁকে রাখো এই ভাসমান রোদ,
হেমন্তের উজ্জ্বল দুপুরে যে সূর্য একাকী দাঁড়িয়ে থাকে-
আর জমা রাখে নিজের কিরণ,
এতটুকু ভালোবাসা পেলে আবার ভ্রমণে বেরোয় প্রাকৃতজন।