জাপানীরা কেমন – ২ ॥ আরশাদ উল্লাহ্‌


মি. ইশিদা বিয়ে করবেন। বললেন, তলে তলে নাকি মেয়ে দেখছেন। জিজ্ঞাসা করলাম, বিখ্যাত কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়র এবং মহাশূন্য গবেষক আপনি। আপনার জন্যে যথেষ্ট সুন্দরী মেয়ে রয়েছে। বিয়ে করার জন্যে আপনাকে চিন্তা করতে হবে কেন?
আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আমি সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবো না’!
ইশিদা হ্যান্ডসাম। দেখতেও অন্যান্য জাপানীদের চেয়ে সুদর্শন। জীবনে এই প্রথম শুনলাম যে কেউ সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে চান না। এমন ব্যক্তিও পৃথিবীতে আছেন, তাও জানলাম!

বললাম, সুন্দরী মেয়েতে আপনার আপত্তি কেনো?
বললেন, ‘সুন্দরী মেয়ে সহজে পোষ মানে না। একজনকে স্ত্রীর মতো স্ত্রী হতে হবে। এক ঘরে দু’জন স্বামীতে কি সংসার হয়’?
তার কথা শুনে অনেকক্ষণ চিন্তা করলাম। জাপানীদের ধর্ম ভিন্ন। সংস্কৃতি ভিন্ন। কিন্তু তাদের সমাজ সবার নিকট খোলা। মেয়েরা স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করছে। তাদের স্বাধীন মতামত আছে। ছেলেরাও তাই। সুন্দরী মেয়ের ঘাটতি নেই অথচ ইশিদা সুন্দরী মেয়ে বিয়ের পাত্রী হিসাবে চান না। আমার স্ত্রীকেও অনুরোধ করলেন, তেমন কোন মেয়ে থাকলে ম্যাচ মেকিং করতে। কিন্তু মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ হতে হবে। এদেশে আবার বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে অনেক মেয়ে ম্যাচ মেকারের মাধ্যমে উপযুক্ত ছেলেও খোঁজে। অনেকে প্রেম করেও বিয়ে করছে। বললাম, ‘ছাত্র জীবনে কি এমন কাউকে পান নি’?
ইশিদা বললেন, অনেক ছিল। কিন্তু তখন আমার বিয়ে করার যথার্থ সময় হয়নি। পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
‘তাহলে তো আপনার জন্য মেধাবী মেয়ে দেখতে হবে’?
আমার কথা শেষ না হতেই ইশিদা ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘ না! তেমন মেধাবী মেয়েও আমি চাই না’!
আবার অবাক হলাম। মনে মনে বললাম, ‘বলে কি লোকটি? মেধাবী মেয়েও তার পছন্দ নয়’!
অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিনি আমাকে বুঝিয়ে বললেন, ‘গৃহিণী হওয়ার মতো মেয়ে চাই, এবার বুঝলেন’?

আধুনিকতারও একটা সীমা আছে। অতি আধুনিক সমাজে গিয়ে অনেকে বিব্রত বোধ করেন। অতি আধুনিক সমাজের মহিলাদের ঠাঁটবাট অনেকের পছন্দ নয়। ইশিদা বিচক্ষণ লোক। তার মনের কথা বুঝলাম। সেদিন তার সঙ্গে মি. আদাচিও ছিলেন। তিনি এবার মুখ খুললেন। বললেন, তিনিও বিয়ে করার জন্যে পাত্রি খুঁজছেন। তিন চারজন মেয়ের সঙ্গে ডেটও করেছেন, কিন্তু মনের মিল হয়নি। মি. আদাচি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন। তিনি আবহাওয়া বিশারদ। স্যাটেলাইট থেকে রিমোট সেন্সিং এর মাধ্যমে যে ফটোগুলি তার সেন্টারে রিসিভ করা হয় সেগুলি এনালাইসিজ করে আবহাওয়ার সঠিক বার্তা তৈরি করেন। ইশিদার গবেষণাগারটি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে তার বিল্ডিং। সে বিল্ডিংটির পাশে বিশাল দু’টি সাদা ডিশ এন্টেনা আকাশের দিকে হা করে আছে। সেগুলি স্যাটেলাইট থেকে ডাটা রিসিভ করে ল্যাবে পাঠায়।

আদাচির এই অফিস শনিবার ও রোববার সাধারণের জন্য খোলা থাকে। অনেক জাপানী পর্যটক ছুটির দিনে তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে সেখানে যান। যে সকল স্যাটেলাইট আকাশে রয়েছে সেগুলির রেপ্লিকাগুলি পর্যটকদের দেখানোর জন্য অভিনব ভাবে সেট করা আছে। আর স্যাটেলাইট থেকে তোলা অনেক ফটো বড় করে এনলার্জ করা হয়েছে। দূরের কোন শহরে যদি কারো ঘর থাকে তা এই ফটোগুলিতে সনাক্ত করা যায়। আনুষাঙ্গিক আরো অনেক কিছু এখানে রয়েছে যা দেখলে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার কথা নিজস্ব ভাবনায় চলে আসে।

আদাচি একদিন বললেন, ‘আজ আমার নাইট ডিউটি। রাতে অফিসে আসুন চমকপ্রদ অনেক কিছু দেখাবো’। আমি খুশি হয়ে তার প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। সেদিন রাত দশটায় তার রিমোটসেন্সিং ল্যাবে গেলাম। তিনি যা দেখালেন তা আজ অব্দি মনে আছে। সেগুলি আমার জন্য এক বিস্ময় ছিল। তার ল্যাবে নিয়ে গিয়ে আমাকে একটি বড় কম্পিউটারে চোখ রাখতে বললেন। তাতে দেখলাম রাশিয়ার ভ্লাডিভোশটক সী-পোর্টে ভাসমান রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজগুলির গতিবিধি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এমন কি কোন জাহাজের কি নাম তাও পড়া যায়! কতো হাজার মাইল দূরের বন্দরের যুদ্ধ জাহাজগুলির মনিটরিং এখান থেকে করা হচ্ছে তা ভেবে অবাক হলাম। তিনি আরেকটি স্ক্রিনে চোখ রাখতে বললেন। সেটিতে হাওয়াই দ্বীপের আমেরিকান নৌঘাঁটির জাহাজগুলি দেখা যাচ্ছে। তারপর তিনি অন্য আরেকটি স্ক্রিনে চোখ রাখতে বললেন, দেখলাম চট্রগ্রাম শহরসহ বন্দরের সবকিছু দেখা যাচ্ছে। থাইল্যন্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার বন্দরগুলিও দেখলাম।

এবার মি. আদাচি বললেন, ‘আপনাদের বাংলাদেশের আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় ও ফ্লাডের পূর্বাভাস এখান থেকে নির্ভুল ভাবে দেওয়া সম্ভব। তার কথা শুনে আমি আনন্দে আপ্লুত হলাম। সেটি ছিল ১৯৮৭ সাল। তিনি বললেন, আপনার দেশের সরকার যদি অনুরোধ করেন, তাহলে আমরা সে ব্যবস্থা করে দেব। তখন জেনারেল এরশাদের আমল। টোকিওর বাংলাদেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। সে সময়ে আমি ছিলাম ‘বাংলাদেশ সোসাইটি, জাপান’-এর সভাপতি।

বললাম, ‘কি কি করণীয় আমাকে বলেন। আমি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলবো’!

মি. আদাচি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে দিয়েছিলেন। সেটি একদিন রাষ্ট্রদূতের হাতে দিলাম। তিনি খুব ব্যস্ত ছিলেন। বললেন, ‘পলিটিক্যাল মিনিষ্টারের হাতে ফাইলটি দেবেন।

কয়েক সপ্তাহ পরে আদাচির সাথে দেখা হওয়াতে তিনি আমাদের সরকার সে ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিয়েছে কি না জানতে চাইলেন। পরে আমি দূতাবাসে গিয়ে পলিটিক্যাল মিনিষ্টারের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি যা বললেন তা শুনে আমি হতাশ হলাম! ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশে তো কক্সবাজারে একটি আছে। সেটি দিয়ে কাজ তো চলছে’!
তার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম। বললাম, ‘আপনি বলছেন কি? এটি যে এডভান্স টেকনোলজি। পাকিস্তান আমলে স্থাপিত সেকেলে যন্ত্রপাতি জাপানেও ছিল। সেগুলি তারা অনেক আগে স্ক্রেপ করে ফেলেছে। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের এডভান্স টেকনোলজির অত্যন্ত প্রয়োজন। এই ব্যাপারে কি যে বলবো পলিটিক্যাল মিনিস্টার মিজানুর রহমান সাহেব একটিবারের জন্যেও বললেন না যে তিনি গিয়ে ল্যাবটি একবার দেখতে চান!

তরুণ বয়সে দেশগড়ার কতো স্বপ্নইনা দেখেছি। সবকিছু ভেস্তে গেছেস্বার্থান্বেষীদের কার্পণ্যতায়।

আধুনিক দেশগুলির সিটি মেয়র অন্য দেশের সিটি মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন। উভয় পক্ষ সিটি দেখতে গিয়ে ‘সিস্টার সিটি রিলেশন’স্থাপন করেন। আন্তরিকতা বাড়ে। পর্যটনও বাড়ে। পর্যটন শিল্প যে জাতীয় অর্থনীতিতে কত বেশি প্রভাব রাখে তা হয়তো অনেকেই জানেন না। পাশের সিটির সাথে অস্ট্রেলিয়ার একটি সিটির “সিস্টারসিটি রিলেশন’ কাগজে পত্রে করা হয়েছে।

সে সিটি দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সে সেটির পার্বত্য এলাকায় বিশাল এরিয়া নিয়ে একটি Children Zoological Park-এর কাজ চলছে। সেখানে অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘কোয়ালা’ এনেছে এই খবর সকল মাস মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ লোক সমাগম হচ্ছে। কাছের রেল স্টেশনটির নাম তাকাসাকা। পার্ক থেকে চার কিলোমিটার দূরে। সেই রেল স্টেশন থেকে বাস চলাচল রয়েছে। বাস একটার পর একটা চলছে। কিন্তু পর্যটক এত বেশি যে বাসে কুলান দিতে পারছে না। পর্যটকদের অধিকাংশ পায়ে হেঁটে পার্কে যাচ্ছে। রেল স্টেশন থেকে পার্ক পর্যন্ত শত সহস্ত্র লোক যাচ্ছে। যারা নিজেদের গাড়িতে এসেছে তারা ৫০০ ইয়েন দিয়ে পার্কিং ইয়ার্ডে গাড়ি রেখে পার্কের টিকেট কিনে প্রবেশ করছে। এই Children Zoological Park টিতে পৃথিবীর পশুপাখী যেগুলি শিশুদের প্রতি ফ্রেন্ডলি, সেগুলি এনে রাখা হয়েছে। তারমােঝ জিরাফ থেকে ছাগল পর্যন্ত রয়েছে। প্রায় সকল প্রকার পাখি এবং ময়ূর রয়েছে। সেগুলির কাছে শিশুরা যেতে পারে। ঘোড়া রয়েছে। সেগুলিতে শিশুদের চড়ার ব্যবস্থা গাইডসহ আছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্যাংগারু এবং কোয়ালা ছাড়াও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। কোয়ালাগুলির জন্য ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো হয়েছে। কারণ, কোয়ালা ইউক্যালিপটাসের পাতা ছাড়া অন্য কিছু খায় না। একটি এলাকাতে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী ডাইনোসারসদের পাথরের মূর্তি বানিয়েছে। সেগুলি দেখেও শিশুরা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির পূর্বের প্রাণীদের উপর ধারণা নিতে পারে। পার্কটি হেঁটে দেখতে পুরো একদিন লেগে যায়। তাই ভেতরে ছোট ট্রেন চলছে। ফ্রী। টিকেট কিনতে হয় না। এই পার্কের আকৃতি একটি গ্রামের সমান। ভেতরে রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অনেকে লাঞ্চ প্যাকেট কিনে খায়।

যেখানে এই পার্কটি করেছে। আশির দশকের প্রথম দিকে সেখানে ছোটবড় পাহাড় ও জঙ্গল ছিল। এখন সে এলাকা একটি ট্যুরিষ্ট স্পট। সেটা দেখে আমার মাথায় ‘সিস্টার সিটি রিলেশন’ বাংলাদেশের কোন নগরের সাথে জাপানের কোন নগরের বা শহরের অনুরূপ বন্ধনের জন্য কিছু করার আগ্রহ বেড়ে যায়। তখন জাপানে ‘বাবল ইকোনমির যুগ’। অর্থাৎ অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। পৃথিবীতে আমেরিকার পরে জাপান ছিল ‘ইকোনমিক জায়ান্ট’। আমি একটি শহরের মেয়রকে প্রস্তাব দিলাম। অনুরোধ করলাম বাংলাদেশের সাথে সিস্টারসিটি রিলেশন করতে। বাংলাদেশ সোসাইটি জাপানের সভাপতি ছিলাম বলে তিনি আমার অনুরোধে রাজি হলেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেন। আমাদের সোসাইটি ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ দূতাবাসও স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও একুশে ফ্রেব্রুয়ারি পালন করতে টোকিওতে আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট সহযোগিতা করত।

আমি রাষ্ট্রদূতকে অবগত করলাম। একদিন মেয়র রাষ্টদূতকে নিমন্ত্রণ করলেন। আমরা একটি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ খেতে খেতে আলাপ করলাম। মেয়র রাষ্ট্রদূতকে বললেন, ‘আমরা প্রথমে গিয়ে দেখব কোন শহরের সাথে রিলেশন করা যায়। আপনারা যে শহরের কথা চিন্তা করেছেন সে শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে চাই’। রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করে জানাবেন বললেন। তারপর একদিন দূতাবাসে আমরা আলাপ করলাম। আমরা মানে রাষ্ট্রদূত এবং আমি। তিনি বললেন যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাথে সিস্টারসিটি রিলেশন হোক।

আমি বললাম যে কুমিল্লা অনেক ঐতিহ্যবাহী শহর। আট শতাব্দীর সভ্যতার নিদর্শন ও অনেক প্রাচীন স্থাপত্য রয়েছে। যারা পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন, তারা শহরটির গোড়াপত্তন ও ঐতিহ্য দেখবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল রাষ্ট্রদূতের বাড়ি। আর আমার জন্ম কুমিল্লায়। কিন্তু তিনি চাইলেন সম্পর্ক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে হোক। আমি বললাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যদি ঐতিহ্যবাহী শহর হয় সে ব্যাপারে আপনি একটি রিপোর্ট লিখে মেয়রকে দেন। আমি ইচ্ছা করেই বাড়াবাড়ি করতে চাইলাম না। কারণ, আমি চাইছিলাম একটি সূচনা হোক। রাষ্ট্রদূত যথযথ ভাবে রিপোর্ট লিখে মেয়র অফিসে পাঠালেন। তাতেই মেয়র সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা করলেন যে কুড়ি জন কাউন্সেলর নিয়ে তিনি বাংলাদেশ যাবেন। আয়োজন মিটিং চলতে লাগল। উদ্যোগে কোন ব্যতিক্রম হল না। এই সময়ে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধী দলগুলির সম্মিলিত আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। একই সময়ে বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে মেয়র তার প্রস্তুতির কথা আমাকে বলেছেন। আবার প্রশ্ন রেখেছেন, দেশের বন্যা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। আমি চিন্তায় পরে গেলাম। রাষ্ট্রদূতকে মেয়রের কথা বললাম। তিনি আশ্বাস দিয়ে বললেন, সেটা কোন ব্যাপার নয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরকার শীঘ্রই কব্জা করবে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুলেটিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। এই সময়ে জাপানীদের বাংলাদেশ ভ্রমণের উপর সাবধানতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করেছে। মেয়র তা জানতে পারেন। তিনি একদিন আমাকে দেখা করতে বললেন। দেখা করার পর তিনি আমাকে বললেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণ আমরা স্থগিত করেছি। বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাও জেনেছি। আমরা যে অর্থ ব্যয় করে ভ্রমণে যাব ভেবেছিলাম। সে অর্থ সরকারের বন্যা-ফান্ডে দান করতে চাই। একথা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। এতদিন যাবত যে দৌড়ঝাঁপ করছি- সেকথা ভেবে দুঃখ পেলাম।

মেয়র বললেন, ‘আমরা দূতাবাসে গিয়ে এই চেকটি রাষ্ট্রদূতকে দিব’। তিনি চেকটি আমাকে দেখতে দিলেন। এক দশমিক ত্রিশ মিলিয়ন ইয়েনের চেক। আমি সেটা মেয়রের হাতে ফেরত দিয়ে বললাম, ‘কখন যাবেন’?
তিনি ক্যালেন্ডারে একটি তারিখ দেখালেন। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি দূতাবাসে যোগাযোগ করে সে তারিখে রাষ্ট্রদূত থাকবেন কিনা তা আপনাকে জানাব।
রাষ্ট্রদূত সব কথা শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে। তাদের আসতে বলেন’!

তখন দূতাবাসে দোভাষীর কাজে নিয়োজিত ছিলেন একজন সুন্দরী জাপানী যুবতী। তার সঙ্গে আমার স্ত্রীর অন্তরঙ্গতা ছিল। তিনি দু’বার আমার বাসাতেও এসেছিলেন। নির্দিষ্ট দিনে মেয়র সহ চারজনকে নিয়ে দূতাবাসে গেলাম। কিছুক্ষণ কথা বলে মেয়র চেকটি রাষ্টদূতের হাতে দিলেন।
এক সপ্তাহ পরে জাপানী যুবতী দোভাষী আমার স্ত্রীকে ফোনে জানান, চেকটি সরকারি কোষাগারে রাখা হয়নি।
লজ্জায় একথা মেয়রকে জানাতে পারিনি।