জাপানীরা কেমন- ৪ ॥ আরশাদ উল্লাহ্‌



আজ বাসায় একজন জাপানী মহিলা এসেছেন। আমরা একত্রে লাঞ্চ করলাম। মহিলার বয়স ৭৫ বৎসর। কিন্তু তার চলাফেরা দেখলে মনে হবে না যে তিনি পঁচাত্তর বৎসর বয়সের বৃদ্ধা। এই বয়সে প্রতিদিন তিনি দু’ তিনশ কিলোমিটার ড্রাইভ করেন। যখন তার মনে চায় তখন দূর দূরান্তের জেলা ও বিভাগগুলিতে চলে যান। কখনো একা যান আবার কখনো কয়েকজন মিলে যান। থাকেন জাপানী মিন্‌সুকু হোটেলে। কোন বিভাগের কোন শহরে কম খরচে হোটেলে থাকা যায়- এমন সস্তা মিনসুকু হোটেলের নাম তার কণ্ঠস্থ। মহিলার নাম নজিতা, তিনি সাইতামা বিভাগের একটি শহরে থাকেন। শহরটি আমার বাসস্থান থেকে পনের কিলোমিটার দূরে। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা তাকেসহ চারজন। মহিলা তিন বার বিবাহ করেছেন। প্রথম স্বামীকে পরকীয়ার জন্যে তালাক দিয়েছেন। তারপর তিনি তার মেয়ে সন্তানটিকে নিয়ে নিজ ঘরে ফিরে আসেন। ঘরটি তার পিতা তৈরি করে দিয়েছেন। সুন্দর দোতলা কাঠের ঘর। কোন একদিন তার পিতা একজন পাত্রের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন। তার বাবার পরিচিত বলে পরে সে পাত্রের সাথে তার বিয়ে হয়। নজিতা একদিন বলেছিলেন, ‘আসলে তাকে আমার মোটেও পছন্দ হয়নি। বাবার বন্ধু বলেই বিয়ে করেছি’।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল বছর না গড়াতেই। নজিতার দ্বিতীয় স্বামী একজন জুয়ারি। জুয়া খেলার নেশা তার প্রচণ্ড। মাসিক বেতনের টাকা জুয়া খেলে উড়িয়ে দেন। তারপর বিভিন্ন মাফিয়া গ্রুপের দ্বারা পরিচালিত (জাপানীতে ‘সারাকিন’) থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে এসে জুয়া খেলেন। একদিন মহিলার চরম দুর্দশা দেখা দিল। মাফিয়ারা পাওনা টাকার জন্যে তার ঘরে এসে হাজির। প্রায় প্রতিদিন টাকার জন্যে আসে এবং চিল্লাচিল্লি করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। একদিন তারা প্যাম্পলেট ছাপিয়ে তার আবাসিক এলাকার প্রতি ঘরে বন্টন করল। তাতে মহিলা পরম লজ্জাতে পড়লেন। এই ধরনের লোকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়াতে নজিতা তার পিতাকে দোষারোপ করলেন। এই সময়ে আরেকটি ঘটনা ঘটালেন তার স্বামী। কাঠের তৈরি ঘরটি মহিলার নামে। সে ঘরের দলিল ও সীলমোহর মহিলার অজান্তে নিয়ে স্বামীটি সেটি দেখিয়ে ‘লোন শার্কে’র কাছ থেকে বড় অঙ্কের লোন নিয়ে জুয়া খেলে সব উড়িয়ে দিলেন। এদিকে বেচারি নজিতা লজ্জা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যে তার আবাসিক এলাকার নব্বইটি ঘরে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে বললেন, এ পরিস্থিতি তার স্বামীটির কারণে হয়েছে। সে জন্য তিনি লজ্জিত এবং তার স্বামীকে তালাক দেবেন। এলাকার সবাই তাকে বিশ্বাস করে। এতে তাকে এলাকার কেউ বাঁকা চোখে দেখেনি। তবে এই স্বামীটির ও তার মাঝে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

একদিন প্রথম স্বামীর মেয়ে সন্তান ও বর্তমান স্বামীর পুত্র সন্তানটিকে গ্রহণ করে তিনি তার দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিলেন। এদিকে ঘরের দলিল দেখিয়ে স্বামীটি দশ মিলিয়ন ইয়েন লোন নিয়েছিলেন। সে কারণে নজিতা বড় বিপাকে পড়লেন। এই ঘরটি এখন হাতছাড়া হয়ে যাবে এমন জটিল অবস্থার উদ্ভব হল। এই সময়ে তার পিতা এসে তার সঞ্চিত টাকা সব দিয়ে সুদে আসলে কুড়ি মিলিয়ন ইয়েন পরিশোধ করে নজিতার ঘরটি রক্ষা করেন। এখন স্বামীটিকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু তার কোথাও যাবার পথ খোলা নেই। মাস তিনেক বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে একদিন নজিতার কাছেই ফিরে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন।

এখন নতুন আরেক সমস্যায় পড়লেন নজিতা। সে এখন কি করবে তার বাবার কাছে পরামর্শ নিতে গেলেন। বাবা বললেন, ‘ঠিক আছে তোমার একটি কামরা কিছুদিনের জন্যে তাকে দাও। পরে অন্য কোথাও চলে যেতে বলব’।

কথামত তাই হল। মহিলার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্বামীকে ভিন্ন একটি কামরায় থাকতে দেওয়া হল। তারা একই কিচেনে আলাদা খাবার রান্না করেন।

নজিতা তার প্রথম স্বামীর মেয়ে সন্তান ও দ্বিতীয় স্বামীর পুত্র সন্তানটিকে নিয়ে যখন আলাদা সংসার শুরু করেন, তখন তার বয়স মাত্র একত্রিশ বৎসর। তিনি পার্ট টাইম কাজ করে সন্তান দুটির স্কুলের পড়াশোনার কাজ ঠিক মতো চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিন পাশের শহরে একটি পুরুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথম পরিচয়ে পুরুষ লোকটি নজিতাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। সে লোকটি সরকারি অফিসার। কিছুক্ষণ ভেবে নজিতা বললেন, ‘আমাকে যদি বিয়ে করতে চান তাহলে আমার সন্তানদ্বয়ের দায়িত্ব ও তাদের পড়াশোনার খরচ আপনাকে বহন করতে হবে’।

এই ভদ্রলোকটি পূর্বে বিবাহিত ছিলেন। তার সে স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয় তার পরকীয়ার কারণেই। তাদের মধ্যে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে তার স্ত্রী তাকে তালাক দেন। কিন্তু যার সঙ্গে পরকীয়া ছিল সে মহিলার নাকি আরেকজন প্রেমিক ছিল। তাই সে মহিলাকে তিনি বিবাহ করতে পারেন নি। বছরখানেক একা থেকে নজিতাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।

নজিতার শর্তাবলি মেনে লোকটি নজিতাকে বিয়ে করতে রাজি হন। একথা নজিতা তার বাবাকে বলে পরামর্শ চাইলে, সব কথা শুনে তার বাবা লোকটিকে বিয়ে করতে পরামর্শ দিলেন। তারপর একদিন তাদের বিয়ে হয়ে গেল।

তৃতীয়বার বিয়ে করার পর নজিতা তার তিন নম্বর স্বামীকে নিয়ে একই ঘরে উঠলেন। ঘরে গিয়ে নজিতা তার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্বামীকে অন্যত্র চলে যেতে বললেন। কিন্তু সে লোকের কোথাও যাবার জায়গা ছিলনা। সব কথা শুনে নজিতার তৃতীয় স্বামী এক অভাবনীয় প্রস্তাব দিলেন। তিনি বললেন, ‘যদি নজিতার দ্বিতীয় স্বামী মাসহারা বাবদ নির্দিষ্ট এমাউন্টের কিছু টাকা দেন, তাহলে তিনি তার দ্বিতীয় স্বামীকেও এই ঘরে এক রান্নায় থাকতে ও খেতে দেবে’। হিসাব নিকাশ করে সবকিছু ধার্য করা হল। নজিতার দ্বিতীয় স্বামী মাস প্রতি কতো করে পেমেন্ট করবেন সে ঘোষণা করে কাগজে স্বাক্ষর করলেন।

এমন কথা জীবনের প্রথম এই পচাত্তর বৎসর বয়সের নজিতার মুখে শুনে বড় অবাক হলাম। এমন ভাবে যে একটি পরিবার চলতে পারে জানা ছিল না। আর, অন্য কোথাও এমনটি আছে কিনা আমার সন্দেহ – যা আমার কল্পনার বাইরে। নিরবতা ভঙ্গ করে নজিতা। বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এখন একই ঘরে থাকি। শুধু তাই নয়। নজিতার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্বামী তার প্রথম স্বামীর মেয়ে সন্তান ও দ্বিতীয় স্বামীর ছেলে সন্তানটিকে আমেরিকাতে পড়াশোনা করার সব খরচ বহন করেছেন। এমন লোকও যে পৃথিবীতে থাকতে পারে জানা ছিল না। এই কথা শোনার পরে নজিতার পরিবারের প্রতি আমার এবং আমার স্ত্রীর আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
একদিন আমার স্ত্রী বললেন, ‘আপনাকে নিয়ে ভাল একটি গল্প লেখা যাবে। শুধু তা নয়, দারুণ নাটকও হবে’।
নজিতা বললেন, ‘হ্যাঁ, আপত্তি নেই। লিখতে চাইলে লিখুন। যা সত্য তাই বললাম’। ‘আমার স্বামী কিন্তু গল্প ও উপন্যাস লেখেন। আপনাকে নিয়ে যদি লেখেন পরে আপত্তি করবেন কি?
মহিলা হাসলেন। বললেন, ‘লিখুন, লিখুন, আমার কোন আপত্তি নেই’।

নজিতা একদিন বলেছিলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন আমার নাকি ডায়াবেটিস। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা ও নিয়মিত ঔষধ সেবন করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমার দিকে তাকিয়ে নজিতা বললেন, ‘সে ডাক্তারের কথা আমি পাত্তাই দেইনি। আমি বরং আরো বেশি বেশি খাই। রেষ্টুরেন্ট এর খাবার তৈলাক্ত, কিন্তু দিনে একবার রেষ্টুরেন্টে গিয়ে খাই’।

তিনি কোন কোন দিন দুবেলাও রেষ্টুরেন্টে খান। এতোদিন মেলামেশা করে আমরা তা দেখেছি। নজিতা রাত দুটা পর্যন্ত ঘরের কাজ করেন। ধোয়ামোছা এবং রান্নাও করেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে তিনি একত্রে বসে খান না। তিনি কিচেনের ভেতরে খান। আর তার বর্তমান স্বামী, তালাকপ্রাপ্ত স্বামী ও তার বর্তমানে ৪০ বৎসর বয়সের পুত্র সন্তানটি একসঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসে খায়।

অবাক হলাম তার কথা শুনে। পৃথিবীতে কতো রকমের মানুষ যে আছে- তাদের জীবনযাত্রা যে কতো বিচিত্র হতে পারে একজন মানুষের পক্ষে সব জানা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষের জীবন একটি নাটকের মতো। যারা প্রকৃত উপন্যাসিক – তারা কিন্তু লেখেন কোন না কোন মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করেই। উপন্যাসেও বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। উপন্যাসকে শুধু উপন্যাস ভাবা ঠিক নয়।

একদিন নজিতা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে তার বাড়িতে দাওয়াত করেছিলেন। কোন জাপানী সাধারণত পরিচিত কেউ, কোন বন্ধু, হোক সে জাপানীজ বা অজাপানীজ, বন্ধুত্ব বজায় রাখবে অথচ পরিবারের সঙ্গে বন্ধুকে দাওয়াত করে পরিচয় করিয়ে দেয়না। তবে তা শূন্য পারসেন্ট নয়। অপ্রিয় হলেও কথাটি কিন্তু সত্য। কিছু ব্যতিক্রমও আছে। একটি অভিজাত আবাসিক এলাকায় দশ বৎসর ভাড়া ছিলাম। এক সারিতে পঞ্চাশটির বেশি বাড়ি। আমাদের সবচেয়ে নিকটস্ত দুপাশের বাড়ির কর্তা ও তাদের স্ত্রীকে অভ্যাসবশত অনেকবার দাওয়াত করেছি। তারা খুশি হয়ে এসে খেয়ে যাবার সময় বলতেন, ‘এখন যাই, আবার একদিন আসব’।

ভুলেও তারা বলতেন না, যে আপনারাও একদিন আমাদের ঘরে চা খেতে আসবেন।
দশটি বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তাদের ঘরে এক কাপ সবুজ রঙের চা খেতেও বলেন নি। এমন উদাহরণও কিছু আছে।
এইরকম যে শুধু আমাদের পরিবারের সঙ্গে করেছে তা নয়। তাদের কাছাকাছি অন্য বাড়ির কেউ আসলে দেখেছি ঘরের গেটের সামনে ঘন্টার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলছেন অথচ ঘরের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে না।
এর উপর গভীর চিন্তা করেছি এবং ভাল রেজাল্ট পেয়েছি। তা হলো, বাইরের কেউ ঘরে গিয়ে তার থালা বাসন নষ্ট করুক তা তারা চায় না। কারণ, ধোয়ামোছার ঝামেলা। অনেকে নিকটস্থ রেষ্টুরেন্টে গিয়ে কফি কিংবা চায়ের অর্ডার দিয়ে তিন ঘন্টার অধিক কথা বলে আলাদা কফির পয়সা দিয়ে বের হয়ে আসে। এমন ব্যাপার জাপানে অনেক দেখেছি। কিন্তু নজিতা আমাদের তার ঘরে যেতে বলেছেন। কথাটি আমরা স্মরণে রাখলাম। কিন্তু আরো দু’তিন দিন যখন তিনি আমাদের যেতে বললেন। তখন ব্যাপারটিকে গুরুত্ব না দিয়ে পারলাম না। বললাম, সামনের রবিবার যাবো।

নজিতা বললেন, ‘যাবো বললে হবে না- অবশ্যই আসবেন কিন্তু’।

নজিতা ধর্মে বিশ্বাস রাখেন। এক সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করেন। একদিন কথায় কথায় জানতে পারলাম তিনি একজন ক্যাথোলিক খ্রিস্টান। জাপানীরা ধর্মকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে না। মৃত্যু হলে প্রথামতো তাদের বৌদ্ধ মন্দিরে দাফন কাফন করা হয়। তবে শিন্তো প্রথামতোও করা হয়। কিন্তু সংখ্যায় কম। জাপানীদের অরিজিন্যাল ধর্ম হল শিন্তো ধর্ম। সম্রাটকে তারা প্রফেটের মতো ভাবে। প্রতি শহর ও গ্রামে বৌদ্ধ মন্দিরের পাশাপাশি শিন্তো মন্দিরও রয়েছে। বৌদ্ধ মন্দিরে মহামতি গৌতম বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে কিন্তু শিন্তো মন্দিরে কোন মূর্তি নেই। এদেশে যতো উৎসব পর্ব হয়, প্রায় সবই শিন্তো ধর্মের উৎসব। এক কথায় বললে তা হবে- জাপানীরা দুটি ধর্মের প্রথাকে গ্রহণ করেছে। তবে সিরিয়াসলি কোনটাকেই গুরুত্ব দেয় না। মরার সময় বৌদ্ধ ধর্মের প্রথাকে স্মরণ করে। আর উৎসব পর্বগুলি শিন্তো প্রথামত উৎযাপন করে।

নজিতার বর্তমান স্বামী ও পূর্বের স্বামী দুজনের কেউই খ্রিস্টান নয়। ক্যাথোলিক গির্জাটি তার বাড়ি থেকে বেশ দূরে। প্রায় কুড়ি কিলোমিটার হবে। জানতে চাইলাম নিয়মিত প্রার্থনা করতে যান কি না।
বললেন, ‘দূরে বলে সেখানে বড় বেশি যাওয়া হয়না। কাছের প্রোটেসটেন্ট গির্জাতে মাঝে মধ্যে প্রার্থনা করতে যাই’।

জাপানে ‘সোকা গাক্কাই’ নামে একটি ধর্ম আছে। ধর্মটি প্রাচীন ধর্ম না হলেও তার ভিত বেশ শক্ত। এই ধর্ম বিশ্বাসীদের একটি রাজনৈতিক পার্টিও আছে, নাম ‘কোমেই-তো’। কোমেই-তো লিবারেল ডিমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে কোয়ালিশন করে ক্ষমতায়ও ছিল। এই ধর্মের অন্তর্গত তত্ত্ব কথা তেমন জানিনা। তবে নজিতা এই ধর্ম বিশ্বাসীদের পছন্দ করেন না।
সোকা গাক্কাই ধর্মে বিশ্বাসী অনেকের সাথে আমার বন্ধুত্ব আছে।
দালাইলামা একবার জাপানে এসেছিলেন। তাঁর সম্মানে যে পার্টি দেওয়া হয়েছিল সে পার্টিতে আমার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বাসায় ফিরে আসার পর দালাইলামা কি বক্তব্য রেখেছেন সামান্য বুঝিয়ে বলতে অনুরোধ করলে আমার স্ত্রী বলেন, ‘তাঁর একটি কথা শুনে আমার ভাল লেগেছে’।
দালাইলামা বলেছেন, ‘আজকের সভায় আপনারা অনেকেই এসেছেন, আপনাদের মাঝে অনেকে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী। আমি আপনাদের ধর্ম পরিবর্তনের কথা বলব না। আমি বরং বলব আপনারা নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসে অটুট থাকুন। ধর্মে বিশ্বাস স্থাপনের মাঝে শান্তি আছে। ধর্ম মানুষকে মহৎ হতে শিক্ষা দেয়’।
দালাইলামার এই কথাটি শুনে তার প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হলাম। মনে করলাম নোবেল শান্তি পুরস্কার যথার্থ ব্যক্তিকেই দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথার মধ্যে মহত্তের সে প্রমাণ পাওয়া যায়।

এক রবিবার নজিতার ঘরে দাওয়াত খেতে গেলাম। গিয়ে দেখি মহা ব্যাপার। প্রায় বার চৌদ্দ রকমের আইটেম তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছেন। তন্মধ্যে ৯০% বিভিন্ন ফল ও সবজি থেকে পিকলস তৈরি করা হয়েছে। মহিলা নিজ হাতে এতোকিছু তৈরি করেছেন ভেবে আমরা দুজন অবাক হলাম। প্রতিটি আইটেম ভিন্ন ভিন্ন প্লেটে রেখেছেন। যেমন, মুলা, বেগুন, শসা, প্লামফলকে তারা ‘ওমে’ বলে। সে ওমের পাতা ও ওমে দিয়েও পিকলস তৈরি করেছেন। সবগুলির মাঝে স্বাদে ভরপুর। তন্মধ্যে বীফ রোষ্ট, মুরগীর রোষ্ট রয়েছে। স্মোকড্‌ ফিশও কয়েক রকম আছে।
যখন খেতে বসলাম অবাক হলাম তখন। বললাম, ‘আপনার স্বামী ও পুত্র কোথায়? আজ তো বাসাতে থাকার কথা’।
নজিতা বললেন, তারা দুজন অন্য এক শহরে হট স্প্রিং স্পা- তে গিয়েছেন। আজ ফিরবেন না। আর ছেলেটি কাজের খোঁজে বের হয়েছে। সে আলসের মতো ঘরে বসে থাকে। সকালে বকা দিয়ে বের করেছি। বলেছি, ড্রাইভারের কাজ পেলেও কর। অথচ তার ছেলে ‘কেইসুকে’ আমেরিকাতে পড়াশুনা করেছে। চাকুরি পেলেও দীর্ঘদিন করে না।
বললাম, স্কুলে ইংলিশের টিচার তো হতে পারে।
নজিতা বললেন, একবার টেস্ট দিয়ে পাশও করেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে কাজে যোগদান করেনি।
কেন কাজে যোগদান করল না?
বললেন, তার নাকি শিক্ষকতার কাজ ভাল লাগে না।