জোবায়ের মিলন এর কবিতা


প্রেম

প্রেয়সী জানে
অপেক্ষার কত বেদনা,
পাতা জানে মাটির বুক কত শান্তির …
মাটি ও পাতা এক হলে হয় যৌথ মিলন।
বীজ ফেটে জেগে ওঠে
নতুন সংসার।


অনুতাপ

শব্দগুলো তোমার কর্ণ পর্যন্ত পৌঁছবে কিনা
জানি না।
মাটির সোঁদা গন্ধে পাগল; মাটিতে চুমু দিয়ে
রচনা করি সকাল- সন্ধ্যা হয়ে ফিরে আসি
একটি দিনের অবসানে। এভাবে দীর্ঘ দিন, রাত।
মাটির স্পর্শহীন ফসলের বন্ধা মাঠ, মজা এক পুকুরের কালচে শামুক
কেঁপে ওঠে পা, গুঁটিয়ে আসতে চায় ভেতর;
প্রতিদিন পাপী মনে হয় নিজেকে।

যে মাটি তোমায় ধরেছে বুকে, যার কাদাজলে
তোমার দ্যুতি, ঘুমাও চিন্তার অতল বিছানায়-
সে মাটিতে কী করে রাখি পা? পাপিষ্ঠ পায়ে
হেঁটে যাই কোন্ সাহসে?
পবিত্র জলে ধৌত হই, শুরু করি যাত্রা, যেহেতু উপায়হীন।
তবু অপরাধ রোধ গীর্জায় বেজে ওঠা ঘন্টা
অনন্তে বেজে চলে, এই মাটিতে কী করে রাখি পা,
হেঁটে যাই কোন্ সাহসে?
অনুতাপে জ্বলি, অপরাধে পুড়ে হই ছাই;
ক্ষমা চোখে দেখো এই অপারগ; নিয়তি আমার।


আবিষ্কারের নেশায়

তোমার যত’ই ভেতরে যাই তত’ই বিস্মিত হই- বিস্ময়ে,
পদে পদে আবিষ্কার করি আরেক তোমাকে!
তুমি দেখ কিনা, দেখি তোমাকে
এ দেখা অন্য দেখা।

কলার খোলের মতো এক খোল খুলি তো
আরেক খোল,
আরেক খোল খুলি তো
আরেক খোল,
আরেক খোল খুলি তো
আরেক খোল …

শেষের শেষ নেই
অশেষ করে-কী তবে তোমাকে বানিয়েছে কেউ-
শেষ খুঁজতে নামবে যে’ই সে’ই হারাবে
অসীমান্তে,
না-হয় বিস্ময়ে ভিরমি খেয়ে মরবে নিজেরই অযোগ্যতায়?
যদিও মরি
এই খোল খুলতে খুলতে একদিন নিশ্চয় পেয়ে যাবো
শেষ খোল, যার পর আর- আর নাই।