জোড়া হাঁস আর কিং কোবরার গল্প ॥ জুনান নাশিত



আশংকা

জানালাগুলো বন্ধ, দরোজাও
ভেতরে গুমোট!

নীলগিরি থেকে ভেসে আসা স্বরে বিদ্ধ হলো একাকী দর্পণ
ঢেউ ভাঙে, ঢেউ খেলে
ঘঠাৎ সূর্যটাও লোপাট;

চন্দ্রাবতীর ক্ষোভে রামায়ন পাল্টালেও
ভেতরের গুমোট আরো রুক্ষ, ঝনঝন
যেন সে তীব্র বিনাশীক্ষুর
গভীরে আঁচড় কাটে
রক্তপাতহীন।

দরোজাটা বন্ধ, জানালাও
কার্ণিশের পেয়ালায় ঠোঁট রেখে পাখিগুলো স্থির
চোখ রাখে চন্দ্রাবতীর চোখে
আশংকায় কাঁপে..

কাল হবে তো সূর্যোদয়?


জোড়া হাঁস আর কিং কোবরার গল্প

পানিতে ভাসছে জোড়া হাঁস
পাশে পদ্মকলি একাকী দুলছে
শ্যাওলায় জমা হরিৎ সন্ত্রাস কলিটির কাঁধ ছুঁয়ে
নেমে গেল গভীর নীলাভ জলে।

অনেক বছর পরে
ছায়ার ভেলায় চড়ে শালুক খোঁজার দিন শেষ হলে
সেই নীলাভ সন্ত্রাস উঠোন পেরিয়ে ঘরের পিঁড়িতে
কিং কোবরার মতো পেঁচানো শীসের ডগায় হাই তোলে।

জোড়া হাঁস ঘরে ফেরে
মধ্যরাতের কিনার ছেড়ে চাঁদের গোপন শ্বাস ভোরের বাতাসে মিশে গেলে
হাঁস দুটো খাবি খায় অঘোষিত সুনামির তোড়ে।

একদিন হাঁস, সোনালি সন্ত্রাস আর কিং কোবরার গল্প
আরব্য রজনী ছেড়ে ঠাঁই নেয় অচেনা গলির মোড়ে
যেখানে দূরের তালগাছ শুধু স্বপ্নময় মায়া, আক্ষেপের তোতলানো সুর
যার মিহি গুঞ্জরণ থামে না কখনো
শুধু সব গল্প আয়েশে লোপাট হয়ে যায়।


কান্না

মৃত্যুকে দু’ভাগ করেছি কাল
এক ভাগ উড়ে গেছে বুকের পাঁজর ভেঙে
অন্য ভাগ শীতল দু’চোখে।

দু’চোখের জল অবিরল নিম্নগামী
ধুয়ে দেয় অলিখিত সারগাম, সূর্য চেরা ঘাট
গভীর গোপন ঘুম আর ধুলো জমা কাঁচ।