ডাকো ডাকনাম ধরে ও অন্যান্য ॥ সুমাইয়া বিনতে শওকত



ডাকো ডাকনাম ধরে

তোমার আফটার সেভের ঘ্রাণে আমি বিভোর,
বৃষ্টির গন্ধে ময়ূরের মতো পেখম মেলে-
তুমিও ছড়াও রংধনুর পালক।
লোমশ বুকে কোমল ঘাসের পরশ-
সিগারেটের ধোঁয়া আমাকে নম্র করে নিয়ে যায় ধুম্রজালে।
সিংহের মতো, ময়ূরের মতো অথবা বাকবাকুম ডাকে
আমাকে ডাকো ডাকনাম ধরে; স্পর্শ করো।
এসো, আমরা একে অপরকে বিলিয়ে দেই-
নিজেদের সুবাসটুকু।


আনন্দের ইলেকট্রনিক স্পর্শ

সবুজ ঘাসে শুয়ে যখন তুমি,
রাতের নক্ষত্রালোকিত আকাশ দেখবে-
তারাগুলো বৃষ্টির ফুল হয়ে তোমার দিকে ছুটে আসবে,
তোমার গা ছুঁয়ে, তোমার চোখের সে বিস্ময়
আমি দেখতে চাই।
আমি তরঙ্গায়িত হতে চাই-
তোমার আনন্দ ইলেকট্রনের মতো স্পর্শে।
তোমার চোখে চেয়ে পাঠ করতে চাই
দুর্লভ কিছু নিষিদ্ধ বই।
আমি চাই তোমার শিশুতোষ চঞ্চলতা
আমাকেও স্পর্শ করুক,
যখন তুমি ঝর্ণা জলে পা ডোবাবে-
আদিগন্ত হলুদ সর্ষের মাঠে ছুটে বেড়াবে।
সকালের শিশির ছুঁয়ে দেবে গভীরতায়।
আমি সেই নদীটি হতে চাই,
তুমি যাকে কুয়াশা হয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখো।
আর তুমি সেই সূর্য, যাকে অগ্রাহ্য করা যায় না
কোনভাবেই।


তিন শতাব্দী পরে

এক হাজার বছর পরে
এক নির্জন সন্ধ্যায় তোমার সঙ্গে ময়ুরাক্ষীর তীরে বসব,
একদিন একটি সদ্য বৃষ্টিভেজা সাদা ফুল ফুটে থাকা
কামিনীতলায় দাঁড়াব দু’জনে-
তুমি দুষ্টু ছেলের মতন শাখা আন্দোলিত করতেই-
বৃষ্টির এক একটি ফোঁটায় অনুভব করব
পূর্ণ নিখাদ ভালবাসা,
আমি জানি এমন একটি সন্ধ্যা আসে
হাজার বছরের প্রতীক্ষার পরে।
তোমার কাছে আমি দেখতে চাইব দোলনচাঁপা,
শত রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তুমিই আমায় প্রথম দেবে দোলনচাঁপার ঘ্রাণ-
আর আমি তোমায় তা দিতে
কি ভয়ংকর কাজ করব ভাবতেও পারবেনা তুমি,
মূহুর্তেই যেতে পারি আমাজানের অজগরের সামনে,
তোমার হাসির বিনিময়ে দিতে পারি অযুত বিনিদ্র রজনী।
একটি দীর্ঘ রাত আমরা হেঁটে বেড়াব নিয়ন আলোর রাস্তাগুলোতে,
কথা বলব ঘাসফুলদের সাথে-
আমি জানি তখন পৃথিবীতে থাকবে সমতা,
দিন কি রাত আমাকে নিয়ে তোমার শংকা থাকবে না।
ইচ্ছে হলেই অতিথি পাখিদের সাথে সমুদ্র পাড়ি দেব,
যাব হিমালয় থেকে আল্পস, আমাজান থেকে প্রেইরি,
জলপ্রপাত থেকে গিরিখাত, রাইন থেকে অলকানন্দা-
দেখব তোমার সাথে শিশির থেকে বৃষ্টি,
একটি ধূলিকণা থেকে নীল আকাশ, কিচ্ছু বাদ দেব না
দাপিয়ে বেড়াব পুরো পৃথিবী।
দেখো তখন কোনো সীমান্ত, কোনো কাঁটাতার,
কোনো প্রহরী থাকবেনা।
দেখো মানুষের তৈরি সংস্কার,
স্বভাববিরুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া সব নিয়মের বেড়াজাল
কিচ্ছু থাকবেনা তিন শতাব্দী পরে-
তাই নিয়ম ভাঙার ও কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না।
সেদিন তুমি আমার থেকো,
বলে দিলাম মনে রেখো,
কিচ্ছু চাইনা-
শুধু তুমি এমন করেই হেসো।