তবু কেন এমন একাকী ॥ ড. রমজান আলি


নটী বিনোদিনী তার শেষ জীবনে বড্ডো একাকিত্ব অনুভব করেছিলেন। তার নিজের শরীরের বিনিময়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজস্ব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা হলেও তার একাকিত্ব আরো গভীর হয়। একজন বড়োলোক ব্যবসায়ীর বিছানার সঙ্গী হয়ে থাকাটা একজন প্রকৃত শিল্পীর কাছে একাকিত্ব ছাড়া আর কী? তাই ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায় তার জীবনীভিত্তিক যাত্রাপালা লিখতে গিয়ে তার মুখে একটা গানে বলেছেন, ‘ভাবি একা দাও হে দ্যাখা প্রাণ সখা..’ একসময় বীণা দাশগুপ্ত এই গান গেয়ে গ্রাম বাংলার আকাশ বাতাসকে ভক্তি রসে প্লাবিত করেছিলেন। এই একাকিত্বের সান্ত্বনা পেতে মীরাবাঈয়ের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণ অনুসন্ধানে ব্যাপৃত থেকেছেন। প্রাক-চৈতন্য যুগের অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতিও লিখেছেন- ‘মাধব তুচ্ছ বিনা গতি নাহি আরা’। চণ্ডীদাসের রামী রজকিনী সামাজিক বাধায় রাধার প্রতীকে যৌবনে যােগিনী হয়েছিলেন। আর বড়ু চণ্ডীদাসের মিলনাক্লান্ত রাধাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে কৃষ্ণ মথুরায় চলে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। রাধার কী হলো সে সন্ধান কবিরা আর দেননি। গভীর দার্শনিক চেতনা থেকে মধুসূদনের অন্তরাত্মা বলে উঠলো- কি ফল লভিনু হায় !

স্বভাবতই মানুষ একা। সবার মাঝে থেকেও আমরা মননের তাড়নায় একা হয়ে যাই। গুঢ়চেতনার এই বিষয়টিকে কবিতায় আনলেন জীবনানন্দ দাশ। তিনি তার ‘বোধ’ কবিতায় সরাসরি উচ্চারণ করলেন- ‘তবু কেন এমন একাকী’। বিদ্যাসাগর অথবা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ জীবনে একা হতে চেয়েছিলেন। একাকিত্বের ইতিবাচক দিক হলো তা শিল্পসাহিত্যের জন্ম দেয়। বলিউডে গানের কথা রচনার জন্য গুলজার সাহেব দ্বীপে চলে যেতে চান। কিংম্বা চলচিত্রে থিম মিউজিক তৈরির জন্য নওশাদ সাহেব একা বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আরব সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ সবই তো বোধের একটা স্তর।

‘বোধ’ কথাটির সাধারণ অর্থ হল চেতনার জাগরণ। এর এক আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাও আছে। এই প্রসঙ্গে মনের রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে দার্শনিকেরা চৈতন্যলোকের কথা বলেছেন। যেখানে জড় এবং জীবকে সমানভাবে দেখা হয়। এছাড়াও আমি কেন পৃথিবীতে এসেছি। জীবনে আমি কি করতে পারি? এবং কতটা করেছি? এই সব চেতনার জাগরণকেই আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় বোধ বলা যায়। কিন্তু জীবনানন্দ ‘বোধ’ এর আধুনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে ‘বোধ’ হল যন্ত্রণা, যার ফলে মানসিক সচেতনতা গড়ে উঠে।

‘বোধ’ কবিতায় বোধের তাড়নায় কবি নেতিবাদের শিকার হয়েছেন। এই বোধ বা চেতনার জাগরণে কবির সবকিছুকে তুচ্ছ এবং অসাড় বলে মনে হয়। প্রবল শূন্যতা তার মনকে ঘিরে ধরে। কবিজীবন অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। জীবনের প্রতি বিরক্তি আসে আর এই বিরক্তির থেকেই জন্ম নিয়েছে বোধ। কবি অনুভব করেছেন যে, পৃথিবীতে আর পাঁচজন মানুষের থেকে তিনি আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। জীবনের যাবতীয় সুখ ভােগের উপকরণ থাকলেও তিনি সুখি হতে পারেন না। তাই ক্রমশই কবি অস্তিত্ব বোধের জটিলতায় প্রবেশ করেছেন। ফলে কবি মানসিকতার তীব্র দাহ ও প্রশ্নের ভূমিতে বোধ কবিতাটি জটিল থেকে জটিলতম হয়ে উঠেছে। কবি এই বোধের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করতে চান মড়ার খুলির মতোই। কিন্তু তবুও এই যন্ত্রণা কবির জীবন্ত মাথার, চোখের ও বুকের চারপাশে ঘুরতে থাকে। এই আলো-আঁধারের দ্বন্দ্ব থেকে কবির মনে জন্ম নিয়েছে দ্বিধা, স্পষ্ট-অস্পষ্ট, সত্যমিথ্যা, ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ যার কোনটাকেই কবি নির্বাচন করতে পারছেন না। ফলে তার অস্তিত্বের গভীরে জন্ম নিচ্ছে আর একটি সত্তা। তাই তিনি বলেছেন-
‘কোনো নিশ্চয়তা
কে জানিতে পারে আরৎ’?
এই বোধের জন্যই কবি সহজ সরল লোকের মতো সহজভাবে অন্যান্য কাজকর্মে নিজেকে নিযুক্ত করতে পারছেন না। তাই তিনি বলেছেন- ‘তবু আমি এমন একাকী’। অর্থাৎ বোধের যন্ত্রণার জন্যই কবি একাকী হয়ে যাচ্ছেন। তাই শেষ পর্যন্ত কবির অস্বাভাবিক আচরণ তার মনে সংশয় নিয়ে আসে-
‘আমি নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা’?

একা হয়ে পড়াটা সাধারণ মানুষের কাছে মুদ্রাদোষ। এই মুদ্রাদোষই হল কবির চেতনা অর্থাৎ বোধের যন্ত্রণাদায়ক অস্তিত্বের বিপন্নতা।
রোমান্টিক চেতনাসম্পন্ন মানুষেরাই কি একাকিত্ব অনুভব করে? যদি করে তা হলে সহজ উত্তর তারা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো কর্মীসত্তাকে অনুভব করে না বা শ্রম-বিমুখ বলেই তাদের এই একাকিত্বের যন্ত্রণা। পৃথিবীতে সৃষ্টির জন্য কঠিন শ্রমজীবী মানুষদের বীজখেতের চাষী, সন্তানের জন্ম দিতে দিতে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটা মানব-জীবন কাঠামাের সঙ্গে কবির কোন তফাৎ নেই। সেইভাবনাও যে ঠিক নয় তার কথা বলতে গিয়ে জানানো হয়েছে তিনি জনজীবনের সংযােগ এবং প্রাত্যহিক কাজ-কর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তাহলে কেন একা? হয়তো বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে তার কোনো প্রেম সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি সে কথার উত্তরও কবি দিয়েছেন। ঘৃণা ও উপেক্ষা দিয়ে শেষ পর্যন্ত কবির মন যে ভালোবাসা জন্মেছিল তার পরিণামী ফল ধুলো আর কাদা। তাই একসময় কবি তার হৃদয়ের এই ভাবাবেগ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে কর্মজগৎ, আর প্রেমজগতে আবদ্ধ থাকাই যথেষ্ট নয়, তাই-
‘আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি’
কেননা কবি জানেন যে, বাস্তব জীবনে ‘চোখোকালো শিরার অসুখ’, ‘বধিরতা’, ‘কুঁজ’, ‘গলগণ্ড’, ‘নষ্টশসা’, ‘পচা চালকুমড়ো’ সব গেছে। অর্থাৎ এইরকম সমাজে যা জন্মানো সমস্ত কিছুই অসার। তাই হৃদয়ে একমাত্র বোধের যন্ত্রণাই তীব্র হয়ে উঠেছে।
ষরভব রং ফবধঃয তৎকালীন দর্শনে সারা বিশ্বজুড়ে এই তত্ত্ব প্রচলিত। তোমার জীবনে সমস্ত প্রকাশের মৃত্যু আছে। তুমি কখনো বলতে পারো। কখনো পারো না। কখনো স্বীকার করতে পারো, কখনো পারো না। জীবনানন্দ দাশ প্রেম ভাবনার সঙ্গে মৃত্যুবোধকে অন্বিত করতে চাইছিলেন আট বছর আগের একদিন-এ পরিপূর্ণতা পেয়েছে। আট বছর আগের একদিন-এর বিপন্ন বিস্ময় হল বোধ। একাকিত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ‘লোকটা জীবনে মৃত্যু ছাড়া কিছু জানতেন’? এ প্রশ্ন হতেই পারে।

যুগের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত মননশীল মানুষের মন থেকে মুছে যাচ্ছে প্রাচীন মূল্যবোধ, প্রেম, সৌন্দর্য এমনকি প্রকৃতির অনাবিল আনন্দের অনুভব। গভীর শূন্যতা বোধ, যান্ত্রিকতা আর হৃদয়হীনতার বেদনা কবির মনে হতাশার জন্ম দিয়েছে। কল্লোল যুগের অন্যতম স্বকীয়তায় উজ্জ্বল কবি ছিলেন ছিলেন এক স্বতন্ত্র দীপ্তমান নক্ষত্র। অনেকের মতে রবীন্দ্রোত্তর আধুনিক কবিদের মধ্যে তিনি ছিলেন বাঁক নির্দেশক কবি। রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় ঈশ্বর, প্রকৃতি ও মানুষকে এক করে ফেলেছেন, আর জীবনানন্দ কল্লোল গােষ্ঠীর অন্যান্য কবিদের মতো মানুষকে প্রধান করে তোলেননি। তিনি ঈশ্বর ও প্রকৃতিকে একটি বিন্দুতে মিলিয়ে মূলত প্রকৃতিকেই তার কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জীবনানন্দ সমকালীন যুগের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করলেও সমগ্র কল্লোল যুগ জুড়ে তার একক অস্তিত্বকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না।

‘আট বছর আগে একদিন’ কবিতায় দেখানো হয়েছে ক্লান্তি ও বিপন্নতা নিয়ে কিভাবে মানুষ বেঁচে আছে। মৃত্যুই কি এর সমাধান? জীবন সম্পর্কিত এই সমস্ত অনুভূতি কাজ করেছিল কবি জীবনানন্দের মননে?
‘আট বছর আগের একদিন’-এ এরকম জীবনানন্দ দাশের প্রত্যয় দৃঢ় প্রকাশের অভিব্যক্তি। ‘শোন/তবু এ মৃতের গল্প,’- একটি আত্মঘাতী মৃত মানুষের গল্পই হল কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু। আত্মঘাতী নায়ক মানুষটি বসন্ত সমৃদ্ধ ফাগ্লুনের রাতে যখন পঞ্চমীর চাঁদ যখন ডুবে গেছে তখনই এই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এই আত্মহত্যা উচিত কিনা- এই প্রশ্ন সামনে রেখে কবিতায় যে চরিত্রগুলি উঠে এসেছে সেগুলি হলো- মননশীল মানুষ (আত্মহত্যাকারী) ও কবি (মধ্যস্থতাকারী)। মনুষ্যতর। প্রাণি হিসাবে এসেছে- পেঁচা, ব্যাঙ, মশা, মাছি, ফড়িং কীট এবং উদ্ভিদ হিসাবে এসেছে অশ্বথ গাছ।

প্রকৃতি যখন মানুষকে বাঁচার পথ দেখায় তখনই কবিতার নায়কের মৃত্যু- ‘মরিবার হল তার সাধ’। প্রশ্ন হতে পারে তাহলে মানুষটি কি প্রকৃতস্থ ছিল না? তার উত্তরও কবি দিয়েছেন- “বধু শুয়ে ছিলো পাশে-শিশুটিও ছিলো; / প্রেম ছিলো, আশা ছিলো- জ্যোৎস্নায়-‘ কোনো আর্থিক অনটন ছিল না। তাছাড়া ‘হাড় হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে তার জীবন কোনদিন কেঁপে উঠে নাই’। অর্থাৎ জীবনের পূর্ণ আস্বাদ নেওয়ার সব উপাদানই তার হাতের কাছেই ছিল।

তবুও সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল কেন? কবি বলেছেন ‘অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল- তাই লাশকাটা ঘরে ঘুমায় এবার। ঘুম কেন হয়নি কারণ ‘বোধ’ তাকে স্থির হতে দেননি। বোধের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার জন্যই সে স্বেচ্ছা মৃত্যু বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তাই বলে ‘রক্ত ফেনা মাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি’-এ মৃত্যুর শান্তির নয়। কারণ মনন বা চিন্তা। ক্রিষ্টতার উর্ধে উঠতে চেয়েছিল সে। তাই এই আত্মহনন গৌরবের নয়।

বাস্তব পৃথিবীর এই ছবিতে প্রবল জীবনাকাঙক্ষা। মৃত্যু নয়, ডুবে যাওয়া অন্ধকারে জেগে ওঠে জীবনের দুর্দান্ত নীল রক্ত। জমে ওঠে কাঙ্ক্ষিত জীবনের প্রতি নৈকট্য। সেখানে মনুষ্যতর প্রাণি হিসাবে
পেঁচা ও ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে-
‘… পেঁচা জাগে-;
গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায়-অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে’।
শুধু তাই নয় মশাও জীবনের অনুরাগে জীবনের স্রোত ভালোবাসে- ‘মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে’। মনুষ্যতর প্রাণির বাঁচার গভীর সাধের ‘আরও উদাহরণ জীবনানন্দ দিয়েছেন-
‘রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্র ফের উড়ে যায় মাছি
সোনালী রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কত দেখিয়াছে’।
অথবা মনুষ্যতর প্রাণি ফড়িং-
‘দুরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ
মরণের সাথে লড়িয়াছে’,
ব্যাপ্ত জীবনে খেলা ও বাঁচার আশায় এই যে মিছিল- এরাই হলো মনুষ্যতর প্রাণি। এদের প্রতিনিধিত্ব করেছে ‘থুরথুরে অন্ধ পেঁচা’। আত্মহননের প্রতিবাদী স্বরে জীবনের জয়গান এদের মুখে ভাষা পেয়েছিল। তাই সকল জাগতিক প্রত্যাশা মিটে যাওয়া এক জীবন তৃষ্ণাহীনতার বিষ্ময়কর ক্লান্তির শিকার হয়ে রাতের অন্ধকারে একগাছা দড়ি হাতে অশ্বথের কাছে যখন গিয়েছিল একা একা তখন অশ্বথের শাখা করেছিল প্রতিবাদ। সােনালি ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে’, মাখামাখি করা জোনাকির ভিড়, তাকে আবার রোমান্টিক জীবনে ফেরাতে চেয়েছিল। বেঁচে থাকার দৃঢ় বাণী শুনিয়ে ছিল পেঁচা ‘তুমুল গাঢ় সমাচার–এ বেঁচে থাকার গভীর সাধ।

মানুষ ও মনুষ্যতর প্রাণির মধ্যস্থতা করেছেন দ্বিতীয় পক্ষে কবি স্বয়ং। দ্বিতীয় পক্ষ কারণ উক্ত দুই পক্ষের মধ্যে দ্বৈত্যসত্ত্বা নিয়ে কবির অবস্থান। বর্তমান জটিল বৈচিত্র্য ও দুর্বোধ্য জগতের এবং জীবনের সামনে ঐ আত্মঘাতী মানুষটির মতোই মৃত্যু চিন্তায় আচ্ছন্ন কবির মননে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্থান পতন হয়েছে। জীবন কি? কোথায়? এই জীবন? প্রশ্নের যন্ত্রণায় জর্জরিত একাকী মানুষ কিন্তু আত্মঘাতী মানুষটির মতো পলায়নবাদী নন।

একাকিত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিষ্ঠুর আত্মহত্যা নিরর্থক। তবুও লাশকাটা ঘরে শুয়ে থাকা মানুষটি ভাবায়। আবার পেঁচার মতো জৈব প্রবৃত্তি জৈবিক ক্ষুধা এবং এর বিরুদ্ধে অহরহ সংগ্রামের নেশা। কিন্তু পেঁচা কেবল জৈব প্রবৃত্তিতে বশীভূত, যে কোন মূল্যে সে বাঁচতে চায়। এই যে কোন মূল্যে বাঁচার ক্ষেত্রে কবিকেও ‘ক্লান্ত করে’- কিন্তু পেঁচাকে করে না। আমাদেরকে একাকিত্বের যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে হয়। পেঁচাটি আত্মহত্যায় বাধা দেয়নি কিন্তু জীবিতের কানে সে অবিরল জপে যায় তার প্রাণ সত্তার আদিম আনন্দ। তাই কবি উদ্বুদ্ধ হলেন- ‘আমরা দুজনে মিলে শুন্য করে চলে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার’। শেষ পর্যন্ত জীবনের জয়ধ্বনি করলেন কবি।

একাকিত্ব আমাদের জীবনে স্বাভাবিক হলো। একটা কবিতা দিয়েই জটিল যুগ-যন্ত্রণা ও আধুনিক জীবনবোধ দৃঢ় প্রত্যয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন জীবনানন্দ দাশ। জীবন নির্মম কঠিন হলেও বেঁচে থাকতে হবে। তাই মানুষও থাকবে একাকিত্বও থাকবে। জীবনের তীরে হতাশা অবসাদ এ তার থেকে একাকিত্ব এলেও আত্মহত্যা নয়।