তাজিমুর রহমানের কবিতা


পিতা

পিতা কাহাকে বলে? আর পিতৃত্ব
ইহাকে কি সত্যিই লেখা যায় অক্ষরের মাহাত্ম্যে!

তুলনায় তাহার পাশে কাহাকে কাহাকে রাখা যায় জন্মেঞ্জয়
আকাশ
সমুদ্র
অতলান্ত জ্যোৎস্না, না
কেবল ছায়াহীন একটা জলজ সংসার, অবৈতনিক

এ জিজ্ঞাসা অন্তহীন মূহুর্তের মতো সুচারু বিন্যাসে
অতন্দ্র থাকে মহাকালের ডানায় ডানায়
তবুও কোন এক জৈবধর্ম নিয়ে আবহমান
চরাচর পাড়ি দিতে হয় পিতার, অথচ

সমস্ত পিতৃত্ব কেমন নিয়মতান্ত্রিকতার শিকার হইয়া
সর্বনাম থাকিয়া যায়।


প্রয়াণদিবস

ঈশ্বর হেসে উঠলো অন্তরালে! চকিত হাত থেকে
ছলকে পড়ল জলজ অহংকার
আর সমস্ত আলো ছাপিয়ে উঠে আসা অন্ধকারে
ভেসে থাকল একটি নিবিড় মুখ, জোনাকময়
দৃষ্টির বিহ্বলতা জুড়ে শুধু অশ্রুহীন বেদনাবিষাদ

এখন কোন মন্ত্রপাঠ নয়, বরং শোকহীন আলোয়
মেখে নিতে দাও অঙ্গার
যাতে বিনম্র অধিকারে জেনে নিতে পারি
পিতৃহত্যার যথার্থতা
সোচ্চারে না হোক, অন্তত অনূঢ়া স্বরে বলতে পারি
নির্লজ্জ সেই রাষ্ট্র প্রধানের কথা
যে কিনা আকাশ কিনতে গিয়ে বিকিয়ে দেয় দেশজ কৌমার্য
আর রাত্রিকালীন কারফিউ শিথিল হলে
এলোমেলো পড়ে থাকে অজৈব লালাস্রোতে

এখন পরম্পরা দূরে থাক, এসো লিখে রাখি সীমাহীন বিশুদ্ধতা,
মায়ের অশ্রুভেজা একাকিত্ব,
যার ছোঁয়ায় প্রিয় নারকেল গাছের পাতাগুলোও
কেমন আকুল হয়ে ফিরে যেতে চায় মেঘেদের দেশে
আর অক্ষরের নীরবতা নিয়ে জলজ ধ্বনির মতো
বিবৃত হতে থাকে পিতার হত্যাদিবসের সফেদ সংবাদ


ভিত

কখনোও তাকিয়ে দেখনি মেঘভাঙা আকাশের নীল! কেবল অক্ষরের মতো সাজিয়েছ গৃহলালিত অনুরাগ
আর ভেজা হরফে লিখেছো ভাতকাপড়ের কড়চা

তোমাকে নিয়ে আমার লেখার কিছু নেই, ছিল না কখনো
যেমন করে রোদবৃষ্টির আবহমান নিয়ে মাথা ব্যথা থাকে না কারো

অথচ এখন সকাল হলে বুঝতে পারি কিভাবে আগুন
ভিজিয়ে দেয় বড়দালানের পোক্ত ভিত…