তিথি আফরোজের কবিতা


পিপাসা

তোমার যাবতীয় পিপাসা আমিই মিটাবো; জানো তো, এখানে কুসুম তিথিতে শেফালীর ডালে ডুমুর ফুল ফোটে। লতানো রক্তজবার রেণু দুলে উঠলেই লক্ষ্মীপ্যাঁচাটা স্থির তাকিয়ে থাকে মঙ্গলের আশায়।
আমি আকাশ থেকে মঙ্গল প্রদীপ নামাবো বলেই
খনার জিহ্বা গজিয়ে ফেলেছি পুনঃবার।

তোমার সকল সাধ অবলীলায় শুধু আমাকেই বলো;
আমি শখের তোলা আশির উর্ধ্বে ক্রয় করে রেখেছি পরম যত্নে। এক জীবনের সকল অবগাহনে ফুরাবার নয় প্রলম্বিত সমুদ্র স্রোত। অবগুণ্ঠন খুলে সূর্য উঠার আগেই জেগে আছে তোমার মহাপৃথিবীর স্বর্গ। সুরার পেয়ালা তৈরি আছে ইস্কের ভাণ্ডারে: সুবেহ-সাদিকের আগেই পান করে নাও, মেটাও পিপাসা।


সম্রাট

চেয়ে দেখো- নিরব কুঠিরে
নিবিড় যত্নের রত্ন জেগে আছে।

প্রলম্বিত রাত্রির আঁধারে শোভিত তাজ
তারর ফুলকি ফুলে খচিত কারুকাজ;
অপেক্ষার প্রহরে হাঁটছে মহল,
মহীয়সী যমুনা:
ভোরের বাতাসে বাজায় মোহবাঁশি।

ছুঁয়ে তোল মাথায় অলৌকিক আলোয়
জেগে যাবে তুমিও
প্রলুব্ধ প্রবালে;
মমর গভীরে তুমিই
অবিনশ্বর সম্রাট।


প্রণয়ঘ্রাণ

এক একটা মন খারাপের বাক্য বারুদ করে ছুঁড়ে দিই বকুল ডালে:
সহস্র সুগন্ধি হয়ে ফুটিয়ে তোলে বকুল প্রিয় হাসনা হেনা
মনের আনাচেকানাচে ছুঁয়ে থাকে তার প্রণয়ঘ্রাণ।

অসম্ভব প্রাণ আর বোধে লেপ্টে থাকে সেই অবিনশ্বর;
পাগল করে, উন্মাদ করে, ফানা হই তাতে
“পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি বুঝবি শেষে”
আওয়াজ করি, আর বুকের গলিপথে ঝুলিয়ে দিই
সেই ফুলেরই মালা।

প্রতিদিন প্রণয়ঘ্রাণ বাড়ে
আর বাক্য ভেঙে
গড়ে অদ্ভুত জ্বালা।