তিনটি ওয়াকা ॥ অনুবাদ : আরশাদ উল্লাহ



ফুজিওয়ারা নো সানেকাতা (Fujiwara no Sanekata)

(ফুজিওয়ারা নো সানেকাতার জন্ম সাল অজ্ঞাত, মৃত্যু ৯৯৮ সালে। তিনি ছিলেন ওয়াকা কবি। সানেকাতা তৎকালীন জাপানের মুৎচু প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। অনেকে মনে করেন বিখ্যাত মহিলা সাহিত্যিক মুরাসাকি শিকিবুর লেখা বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাচীন গল্পগ্রন্থ ‘গেঞ্জি মনোগাতারি’র ‘হিকারু গেঞ্জি’ চরিত্রটি সানেতাকার। জাপানের মধ্যযুগের ছত্রিশ জন অমর কবিদের তিনি একজন। তার নিজস্ব একটি ‘ওয়াকা সংকলন’ গ্রন্থ আছে।)


কেমনে বলি তারে
কত যে ভালোবাসি
অনলে জ্বলি
সে কি জ্ঞাত একথা
মনের এ অনুভূতি



মিচিৎচুনা (Fujiwara no Michitsuna no Haha)


(‘মিচিৎচুনা’র মাতা নামে তিনি পরিচিত। জন্ম ৯৩৫ সালে এবং মৃত্যু ৯৯৫ সালে। তিনি জাপানের হেইয়ান আমলের একজন ওয়াকা কবি। সে আমলের ‘বিখ্যাত অমর কবিদের ওপর যে গ্রন্থটি আছে সেটির সদস্য তিনি। তাছাড়াও তিনি ‘কাগেরি নিক্কি’ ডায়েরি গ্রন্থটি লিখেছেন। সেটিতে তার দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমূহকে কেন্দ্র করে লিখেছেন। তার স্বামী ফুজিওয়ারা নো কানেইয়ে একজন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন। )


একা শায়িত
রাতে প্রতিটি ঘন্টা
প্রাত পর্যন্ত
অনুভবে আছে কি
রাত্রির একাকিত্ব

(প্রেমিকাকে প্রচণ্ড ভালবাসেন। কিন্তু প্রেমিক তাকে সে কথা বলতে পারছে না। প্রেমের আগুনে পুড়ছে অথচ ব্যক্ত করতে পারছে না। প্রশ্ন করছে তার মনের কাতর অনুভূতি কি প্রেমিকা অনুধাবন করতে পারছে?)


ফুজিওয়ারা নো কিন্‌তো (Fujiwara no Kinto)


ফুজিওয়ারা নো কিন্‌তো জাপানের হেইয়ান আমলের একজন প্রশাসক এবং বিখ্যাত কবি ছিলেন। তার জন্ম ৯৬৬ সালে এবং মৃত্যু ৪ ফেব্রুয়ারী, ১০৪১ সালে। তিনি সম্রাটের দরবারে এবং আমলা মহলে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। তার পিতা ফুজিওয়ারা নো ইয়োরিতাদা একজন প্রশাসক ছিলেন। কবি কিন্‌তোর নাম সে আমলের গ্রন্থগুলিতে স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।



জলপ্রপাতে
প্রবাহ আগেই স্তব্ধ
নিঃশব্দ মৃত
পূর্ব প্রবাহ ধ্বনি
শুনিতে পাই আজো

(এখানে অতীতে একটি গিরিপ্রপাত ছিল। প্রবাহিত জলের ধ্বনি দূর থেকে শোনা যেতো। কিন্তু বর্তমানে কালের আবর্তনে তা মৃত। বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু তার নামটি এখনো লোকের মুখে মুখে আলোচিত হয়। এখানে কবি বলছেন, যখন তিনি বিলুপ্ত জল প্রপাতটির কাছ দিয়ে যান তখন তার জলপ্রবাহের ধ্বনি শুনতে পান।)