‘দুষ্পাঠ্য দুটি চোখ’ অসহায়ত্ব, কাতরতা ও সমাজের প্রতিরূপ ॥ ফেরদৌসী রুম্পা


আক্তারুজ্জামান লেবু, উদীয়মান কবি, মাত্র সাতাশ বছর বয়সেই দুটো কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। তার কবিতার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে বেদনার আলতো প্রলেপ কিংবা অনেককিছুই না পাওয়ার যন্ত্রণা বা ব্যর্থ প্রেমের অনাকাঙ্ক্ষিত সমাপনি বার্তা। কবি আক্তারুজ্জামান লেবু’র দ্বিতীয় কবিতাগ্রন্থ ‘দুষ্পাঠ্য দুটি চোখ’’। বইয়ের উৎসর্গপত্র পড়লেই বইয়ের নামকরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়-
‘যিনি আমায় পড়তে শিখিয়েছেন প্রথম,
কিন্তু সারাজীবন তার চোখদুটোই পড়তে পারিনি আমি।
আমার বাবা’।
‘বাবার দুষ্পাঠ্য দৃষ্টিতে পৃথিবী চেনার আগেই নির্মম বাস্তবতায় তিনি পৃথিবীর অদেখা সত্যগুলোকে চোখ বন্ধ করে দেখে নিয়েছেন।
‘আমি তো ভাই কবরের উপর বেড়ে ওঠা ঘাস
আমায় তুমি শেখাতে এসো না লাশের দীর্ঘশ্বাস’।

‘বাবাকে বেচে খেয়েছি অনেক দিন
তার দুষ্পাঠ্য দুটি চোখ আর অসহায় দুপুগুলোকে
আমি আর কারোর কাছে বেচবো না ভেবে চুপ করে থাকি’।
উপরোক্ত লাইনগুলোর মতোই কবি তার বইয়ের উর্বর ভূমিতে দুঃখ-কষ্টের বীজ বপন করেছেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম; বেকার যুবক সন্তান যখন ব্যথায় ঘুমহীন রাত্রিযাপন করে তখন কবিতায় দুঃখ রূপকতা থাকবে একটাই স্বাভাবিক। যার রক্তে-মাংসে কবিতার রস ছোটাছুটি করে তার দুঃসময়ে কবিতা থাকবে না এমনটা কি করে হয়? কবি আক্তারুজ্জামান লেবুকে যদি কোনো ব্যক্তি হিসেবে না দেখে সমাজ বা রাষ্ট্রের বিবেক হিসেবে কল্পনা করা যায়, তখন খুব সহজেই আমাদের দেশের বাস্তব চিত্র প্রতীয়মান হয়।
‘মা, আমার সামনে তোমার চোখদুটো কি গোপন করা যায় না?
আমার কাছে ওই চোখদুটো যে তোমার বেদনা দেখার আয়না’।
কবিতাগুলোয় আপাতভাবে ব্যক্তিগত অসহায়ত্ব, কাতরতার কথা থাকলেও এই ব্যর্থতা আমাদের সমাজের নয় কি?


দুষ্পাঠ্য দুটি চোখ : আক্তারুজ্জামান লেবু ॥ প্রচ্ছদ : কিংশুক ভট্টাচার্য ॥ প্রকাশনী : সবুজ স্বর্গ ॥ মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা।